ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী

ইদ্দতরত অবস্থায় কোনো মহিলা ঘর থেকে বের হতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৩৫) : কিছুদিন পূর্বে আমার এক প্রতিবেশী ইন্তেকাল করেন। তার আট-দশ বছর বয়সী দুটি ছেলে আছে। উভয়ে মাদরাসায় পড়াশোনা করে। এছাড়া সংসারে কর্মক্ষম কোনো পুরুষ নেই। লোকটির স্ত্রী এক মহিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। মাদরাসাটি বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। মহিলাটি প্রতিদিন বিকেলে বাড়িতে চলে আসেন। আর বর্তমানে উক্ত মহিলার সংসারের খরচ চালানোর জন্য তার এ চাকরি ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রশ্ন হল, উক্ত মহিলার জন্য ইদ্দতের সময় এ চাকরি করা জায়েয হবে কি না?

জমির ফসল থেকে পারিশ্রমিক দেওয়ার শর্তে শ্রমিকদের সাথে চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০৩৪) : ধান কাটার বা অন্যান্য ফসল তোলার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সাথে আমরা উক্ত ফসলেরই একটা অংশ দেওয়ার চুক্তি করি। অর্থাৎ কথা থাকে, তারা ক্ষেতের ধান বা ফসল তুলে বাড়িতে এনে দেবে। বিঘাপ্রতি তাদেরকে সেখান থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান বা ফসল দেওয়া হবে। তো ধান বা ফসল তোলা শেষ হলে তা বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে সেখান থেকে তাদের অংশ নিয়ে যায়। এক ভাই বললেন, এটা নাকি জায়েয নয়। কিন্তু আমি তার কথার কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না। তাই আমি জানতে চাই, এ বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক সিদ্ধান্ত কী?

লন্ড্রিতে জামা দেওয়ার পর পুড়ে ফেললে তার বিধান কী হবে?

প্রশ্ন (১৩০৩৩) : আমি লন্ড্রিতে আমার একটি নতুন জুব্বা আয়রন করতে দিয়েছিলাম। কাপড় আনার পর দেখি, সেটির ৭/৮ জায়গা পুড়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। সেটি ছিল পাতলা সুতি কাপড়ের। হালকা টান লাগলেই ছিদ্র বড় হয়ে যেতে থাকে। ফলে এখন আর সেটি পরার উপযুক্ত নেই। দোকানের মালিককে বিষয়টি জানানো হলে বলল, নতুন লোক কাজ করতে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে। তো জুব্বাটি বানাতে যত টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক টাকা আমি দিয়ে দেব। কিন্তু আমার কথা হল, তার তো সেটির পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা উচিত। কারণ, সেটি ছিল নতুন কাপড়। তো শরীয়তের দৃষ্টিতে এ ব্যাপারে কী বিধান? তা জানতে চাই।

পিতা তার সচ্ছ্বল সন্তানদের পক্ষ থেকে কুরবানী আদায় করে দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৩২) : আমরা তিন ভাই এক বোন । আমার বড় দুই ভাই চাকরি করেন। তারা সচ্ছ্বল। আর আমি পড়ালেখা করছি। আমার বোন বিবাহিতা। তার পরিবারও সচ্ছ্বল। আমার পিতা নিজের পক্ষ হতে সকলের ওয়াজিব কুরবানী আদায় করতে চান। শরীয়তে কি এর অনুমতি আছে?

অযুতে কোনো অঙ্গ শুকনো থেকে গেলে পাশের পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিলে কি অযু সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩০৩০) : কিছুদিন ধরে এ বিষয়টি আমার অভ্যাসের মত হয়ে গেছে যে, অযু শেষ করে হাত বাঁকিয়ে কনুইয়ের দিকে তাকাই। কনুইয়ের উপরের অংশে কোথাও শুকনো দেখলে নতুন পানি না নিয়েই আশপাশের পানি দিয়ে ডলে ঐ জায়গা ভিজিয়ে দেই।এভাবে আমার অযু সহিহ হচ্ছে কি?

ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবীর বলবে নাকি নিম্নস্বরে?

প্রশ্ন (১৩০২৯) : ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে তাকবীর বলবে না নিম্নস্বরে? অনেকে বলে, ঈদুল ফিতরে নিম্নস্বরে আর ঈদুল আযহায় উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে হয়। উক্ত কথাটি কি ঠিক?

প্রস্রাবের চাপ নিয়ে নামায আদায় করলে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১৩০২৮) : কখনো কখনো নামাযের পূর্ব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও জামাত শুরু হওয়ার পর প্রস্রাবের প্রয়োজন দেখা দেয়। তখনো আমি প্রয়োজন দাবিয়ে জামাতসহ নামায আদায় করি। এতে কি আমার নামাযের কোনো সমস্যা হবে?

কোনো মুসল্লীর রাকাত পাওয়ার জন্য ইমাম সাহেবের রুকুতে দেরি করা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১৩০২৭) : আমি এক মসজিদে ইমামতি করি। অনেক সময় রুকুতে যাওয়ার পর কোনো কোনো মুসল্লীর দ্রুতগতিতে মসজিদে প্রবেশের শব্দ শোনা যায়। এমতাবস্থায় আমি যদি উক্ত মুসল্লীর রাকাত পাওয়ার জন্য রুকুতে একটু দেরি করি তাহলে এতে শরয়ী কোনো সমস্যা হবে কি?

নামাযরত অবস্থায় ঘড়ির দিকে তাকালে কি নামাম নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩০২৫) : এক ব্যক্তি ফজরের নামায অবস্থায় সূর্যোদয় হয়েছে কি না তা দেখার জন্য নিজের হাত ঘড়ির দিকে দেখে এবং কয়টা বাজে তাও মোটামুটি বুঝে ফেলে। এখন জানার বিষয় হল, নামাযে এভাবে ঘড়ি দেখার কারণে নামায নষ্ট হয়েছে কি?

আসরের নামাযে ভুলে তিন রাকাতের পর সালাম ফিরিয়ে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০২৪) : গতকাল আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আসরের নামাযে তিন রাকাত পড়ে ভুলে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। সাথে সাথে পিছন থেকে কিছু মুসল্লী বলে উঠল, নামায তিন রাকাত হয়েছে। তা শুনে ইমাম সাহেব সোজা দাঁড়িয়ে যান। অবশিষ্ট রাকাতটি পূর্ণ করে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরিয়ে দেন। জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেবের উক্ত নামাযটি সহিহ হয়েছে কি?

জানাযার নামাযে ফটোসেশন করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০২৩) : প্রায়ই দেখা যায়, বিশিষ্টজনদের জানাযার নামায কিংবা ঐতিহাসিক কোনো ঈদগাহে ঈদের নামাযের দৃশ্য কাভারেজ করতে ফটোসাংবাদিকদের ফটোসেশনের হিড়িক পড়ে। এতে অজ্ঞতাবশত কিংবা অবচেতনে কোনো কোনো মুসল্লি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এখন প্রশ্ন হল, তাদের নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি?

মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০২২) : আমাদের এলাকায় লাশ দাফন শেষে কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া হয়। আমার জানার বিষয় হল, এ কাজটি কি শরীয়তসম্মত? এ সংক্রান্ত সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।

নখ, চুল কাটার পর এগুলোর হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩০২১) : মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, যেমন- নখ, চুল ইত্যাদি কাটার পর এগুলোর হুকুম কী? এগুলো কি মাটিতে দাফন করে ফেলবো নাকি ফেলে দিব?

ক্রয়কৃত শেয়ারের যাকাত আদায় করার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩০২০) : আমার বাবা কিছু শেয়ার ক্রয় করেছিলেন। কিছু দিন আগে তিনি মারা যান। বাবার ক্রয়কৃত শেয়ারগুলো এখন আমার তত্ত্বাবধানে আছে। আমি যাকাত হিসাব করার সময় ঐ শেয়ারগুলোর তাৎক্ষণিক বাজারমূল্য ধরে যাকাত দেই। বর্ণিত পদ্ধতিতে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবে কি না? উল্লেখ্য, শেয়ারগুলো ক্রয়-বিক্রয় করা হয় না; বরং কোম্পানী কর্তৃক প্রদত্ত বাৎসরিক ডিভিডেন্ড গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে বর্ণিত শেয়ারগুলো এজমালী অবস্থায় আছে। এজমালী অবস্থায় শেয়ারগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২,৯০,৬৮০ টাকা। কিন্তু প্রত্যেক অংশীদারকে যদি অংশ দেওয়া হয় তাহলে- প্রত্যেক ভাই পাবে- ৫০৮৬৯.০০ প্রত্যেক বোন পাবে- ২৫৪৩৪.৫০ মাতা পাবে- ৩৬৩৩৫.০০ উল্লেখ্য, আমরা ৪ ভাই, ২ বোন এবং মাতা জীবিত আছেন।

বাবা-মার চাচা ও মামা মেয়ের জন্য এবং বাবা-মার খালা ও ফুফু ছেলের জন্য মাহরাম হবে কি?

প্রশ্ন (১৩০১৯) : বাবা-মার চাচা ও মামা মেয়ের জন্য মাহরাম নাকি গায়রে মাহরাম? এমনিভাবে বাবা-মার খালা ও ফুফু ছেলের জন্য মাহরাম নাকি গায়রে মাহরাম?

মসজিদ ফান্ডের টাকা নিজ প্রয়োজনে খরচ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০১৮) : আমি একটি মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। মসজিদ ফান্ডের লাখ লাখ টাকা আমার কাছে থাকে। আমি এ টাকাগুলো মসজিদের নামেই ব্যাংকের একটি কারেন্ট একাউন্টে জমা করি এবং প্রয়োজনের সময় উত্তলোন করে খরচ করি। গত কয়েকদিন আগে আমার একটি ব্যক্তিগত কাজে লাখ দেড়েক টাকার প্রয়োজন হয়। তখন আমি শীঘ্রই ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়তে দেড় লাখ টাকা মসজিদের একাউন্ট থেকে উত্তোলন করে খরচ করে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, আমার এ কাজটি কি ঠিক হয়েছে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০১৭) : আমাদের মসজিদের দেয়ালে ‘মসজিদে দুনিয়াবী কথা হারাম’ বাক্যটি টাইলসে খোদাই করে লেখা। জানার বিষয় হলো, নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার পর কখনো দুনিয়াবী কথাবার্তাও হয়ে যায়। একারণে কি গুনাহ হবে?

বাসায় টুপি খুলে রাখলে কি সুন্নতের খেলাফ হবে?

প্রশ্ন (১৩০১৬) : টুপি কি সবসময় পড়ে থাকা জরুরী? আমি সাধারণত বাইরে গেলে সবসময় মাথায় টুপি রাখি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু বাসায় রুমে আসলে টুপি খুলে রাখি। এটি কি সুন্নতের খেলাফ?