তারাবীহ

তারাবীহর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা না করলে কি নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৪৪) : এই রযমানে একদিন তারাবীহর নামাযের পূর্বে সিজদার আয়াতের কথা বলতে ভুলে যাই। সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা সত্ত্বেও বিশৃঙ্খলার ভয়ে আর সিজদা করিনি। এখন জানতে চাই, আমাদের উক্ত নামায কি আদায় হয়েছে? যদি আদায় না হয়ে থাকে তবে এখন কী করণীয়?

তারাবীহর নামাযে তিলাওয়াতের সিজদা আদায় না করলে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৯২) : এবার রমযানে একদিন তারাবীহর নামাযের পূর্বে সিজদার আয়াতের কথা ঘোষণা করতে ভুলে যাই। সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা সত্ত্বেও বিশৃঙ্খলার ভয়ে সিজদা করিনি। এরপর স্বাভাবিকভাবে নামায শেষ করেছি। জানতে চাই, আমাদের উক্ত নামায কি আদায় হয়েছে? যদি আদায় না হয় তবে এখন আমাদের করণীয় কী?

অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি কি মাকরুহ?

প্রশ্ন (১৩৫১৯) : আমাদের এলাকায় একটি বড় মাদরাসা আছে। মাদরাসার মুহতামিম সাহেব একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম। তিনি সবসময় আমাদের জামে মসজিদে জুমআ, দুই ঈদ ও তারাবীহর নামায পড়ান। কিছুদিন আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এখনও তিনি আমাদের জামে মসজিদে জুমআ, ঈদ ও তারাবীহর নামায পড়ান। আমি শুনেছি, অন্ধ ব্যক্তির পেছনে নামায মাকরূহ হয়। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত ইমামের পেছনে নামায মাকরূহ হবে কি?

তারাবীহর নামায পড়িয়ে হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫০৬) : আমি তিন বছর যাবৎ গ্রামের একটি মসজিদে তারাবীহ পড়াই। মসজিদের কমিটি আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে অল্প কিছু হাদিয়া দিয়েছে। আর আমার ছোট ভাইও দু’বছর একটি বাসায় তারাবীহ পড়িয়েছে এবং একইভাবে তাকেও হাদিয়া দেওয়া হয়। আর একজন মুসল্লি তাকে একটি পাঞ্জাবির কাপড়ও দিয়েছেন। জানার বিষয় হল, এই হাদিয়া কি আমাদের জন্য বৈধ হবে?

তারাবীর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত না করে সিজদা আদায় করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৮৫) : তারাবীহ নামাযে প্রথম রাকাতে হাফেয সাহেব সিজদার আয়াত না পড়েই সিজদা দেন। সিজদা থেকে উঠে সিজদার আয়াতের পর থেকে শুরু করে যথানিয়মে দুই রাকাত শেষ করেন। অর্থাৎ সিজদার আয়াতটুকু পড়া হয় নাই। নামায শেষে সিজদার আয়াত ছুটে গেছে জানানো হলে তিনি পরের দুই রাকাতের প্রথম রাকাতে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা দেন। অতপর যথানিয়মে বাকি নামায শেষ করেন। এখন প্রশ্ন হল, প্রথম রাকাতে সিজদার আয়াত না পড়েই যেহেতু সিজদা দেওয়া হয়েছে তাই ঐ দুই রাকাত নামায সহিহ হয়েছে কি? সহিহ না হলে আমাদের করণীয় কী?

তারাবির নামাযের শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফ ও দুআ মাছূরা না পড়লে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রশ্ন (১৩১১৩) : আমাদের মসজিদে দুইজন হাফেজ খতম তারাবি পড়ান। তারা অধিকাংশ সময় কেবল আত্তাহিয়্যাতু পড়ে সালাম ফিরিয়ে দেন। একবার জিজ্ঞাসা করা হলে তাদের একজন বললেন, খতম তারাবিতে দরূদ শরীফ ও দুআ মাছূরা না পড়ার অনুমতি আছে। জানতে চাচ্ছি, তাদের এ কথা কি সঠিক?

তারাবীর নামাযে প্রতি চার রাকাত পর পর দুআ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৮৮৪) : আমাদের এলাকায় প্রায় সকল মসজিদে তারাবির নামাযে চার রাকাত অন্তর অন্তর একটি দুআ- سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ... পাঠ ও তারপর মোনাজাতের রীতি রয়েছে। গত বছর আমাদের মসজিদে তারাবীহ পড়ানোর জন্য একজন নতুন হাফেজ সাহেব আসেন। তিনি এভাবে মোনাজাত করতে দেখে এটাকে অনুত্তম বলেন এবং তা না করার কথা বলেন। এতে মুসল্লিরা দুই পক্ষ হয়ে যায়। ফিতনার আশংকায় কেউ কেউ মোনাজাত করার পরামর্শ দেন এবং তিনি তাই করেন। এ প্রেক্ষিতে একজন মুসল্লি বললেন, অনেকে এ মোনাজাতকে মুস্তাহাব পর্যায়ের বলে থাকে। অথচ তারাবির এ মোনাজাত সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন কেউ করেননি; তাহলে মুস্তাহাব সাব্যস্ত হয় কীভাবে? এখন জানার বিষয় হলো, এই দুআর ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী? দালীলিক সমাধান দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

তারাবীহর নামায বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৯৫) : রমযানে অনেককে দেখা যায় কোনো প্রকার ওযর ছাড়াই বসে বসে তারাবীহর নামায আদায় করে। হযরতের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি যে, কোনো ওযর ছাড়াই তারাবীহ বসে পড়া জায়েয আছে কি?

বিতিরের নামায পড়ার পর তারাবীহ পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৮১) : গত রমযানে একদিন এশার পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করার পর রমযানের কথা স্মরণ না থাকায় গতানুগতিকভাবে আমি ভুলে বিতিরও পরে ফেলি। বিতির শেষ হওয়ার পর তারাবীহ শুরু হলে আমার রমযানের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু তখন আমার সংশয় হতে থাকে যে, তারাবীহ তো বিতিরের আগে পড়তে হয়। আমি তো বিতির পড়ে ফেলেছি, এখন কি আমার তারাবীহ হবে? এই দোদুল্যমান অবস্থা নিয়েই আমি তারাবীহ আদায় করি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত তারাবীহ কি শুদ্ধ হয়েছে? না হলে এখন আমার করণীয় কি?

ইমাম সাহেব বসে তারাবীহর ইমামতি করলে তার পিছনে ইক্তিদা করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৫৫) : গত রমযানে একদিন আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। অসুস্থতার কারণে তিনি বসেবসেই রুকু-সিজদার সাথে তারাবীহর ইমামতি করেন। এবং আমাদেরকে উনার পিছনে দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করতে বলেন। উনার কথা মত আমরা দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমার বেশ সংশয় হচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের ঐ দিনের তারাবীহ কি সহিহ হয়েছে?

মাজুর ব্যক্তির পিছনে তারাবীহের ইক্তিদা করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১৮৭) : গত রমযানে তাবলীগের এক সফরে আমি ইন্ডিয়া ছিলাম। রোখের এক মসজিদে আমরা দেখলাম, একজন বৃদ্ধ হাফেজ হুইল চেয়ারে বসে তারাবীহ পড়াচ্ছেন। আর মুক্তাদীগণ সকলেই তার পিছনে দাঁড়িয়ে তারাবীহ পড়ছেন। এমন অবস্থার সম্মুখীন আমরা প্রথম হলাম। তাই কী করব- এ নিয়ে আমরা বেশ সংশয়ে ছিলাম। এবং শেষ পর্যন্ত আমরাও এলাকার ভাইদের মতই তার পিছনে তারাবীহ আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে হুইল চেয়ারে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের উক্ত দিনগুলির তারাবীহ কি সহিহ হয়েছে?

বিতরের নামাযে দুআয়ে কুনূত উচ্চ স্বরে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৬৯) : আমি নিউইয়র্ক থাকি। প্রতি রমযানে সাধারণত মসজিদে তারাবীহ পড়ানো হয়। এ রমযানে যে মসজিদে তারাবীহ পড়াচ্ছি, সেখানকার অধিকাংশ মুসল্লীই বিভিন্ন আরব দেশের নাগরিক। তারা ফিকহে হানাফীর অনুসারী নয়। তাদের আবদার হচ্ছে, বিতর নামাযে দুআয়ে কুনূতটা যেন উচ্চ স্বরে পড়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, হানাফী মাযহাবের কারো মতে কী দুআয়ে কুনূত উচ্চ স্বরে পড়ার সুযোগ আছে?

তারাবীহর নামাযে কুরআন দেখে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৬৭) : আমি আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। সেখান পুরো দুইশ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র একটি মসজিদ। দূর-দূরান্ত থেকে লোক এখানে নামায পড়তে আসে। রমযান মাসে কোনো হাফেয না পাওয়াতে সূরা তারাবীহ পড়তে হয়। সেখানকার কিছু মুসল্লীর পীড়াপীড়ি, উৎসাহ প্রদান ও সাহস যোগানোর কারণে আমি এ বৎসর আল্লাহর উপর ভরসা করে কুরআন হেফজ করা শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ প্রায় আঠারো পারা মুখস্থ করা শেষ হয়েছে। আমার ইচ্ছা হল, এবারের রমযানে এ আঠারো পারা দিয়ে নামায পড়াব। কিন্তু কিছু লোক আমাকে অনুরোধ করছে, অবশিষ্ট বারো পারা কুরআন শরীফ যেন দেখে পড়ে নিই। যাতে খতম পূর্ণ হয়। প্রশ্ন হল, দেখে দেখে নামাযে এভাবে কুরআন পড়া জায়েয হবে কি না? বিশেষত এক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবের মতামত কী?

কোনো মহিলা কি ইমামতি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২১৪২) : আমার মেয়ে এ বছর হিফয শেষ করেছে। আমরা কয়েকজন মহিলা মিলে নিয়ত করেছি, আমার মেয়ের পেছনে খতম তারাবীহ পড়ব। যাতে ওর হিফ্জ মজবুত হয়ে যায় এবং আমাদেরও খতম হয়ে যায়। কিন্তু আমার এক ভাশুর বলেছেন, মহিলাদের পেছনে তারাবীহ পড়া যায় না। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

বিতিরের নামাযের পর কি ছুটে যাওয়া তারাবীর নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২০২৭) : রমযান মাসে একদিন এশার জামাতে হাজির হতে দেরি হয়। ফলে আমার এশার নামায ও দুই রাকাত সুন্নত পড়তে পড়তে চার রাকাত তারাবীহ ছুটে যায়। আমি দ্রুত এশার ফরয ও সুন্নত আদায় করে তারাবীতে শরীক হয়ে যাই। পরবতীর্তে বিতির নামায পড়ার পরে ছুটে যাওয়া তারাবীহ আদায় করি। এখন এভাবে বিতিরের পরে তারাবীহ আদায় করা সহিহ হয়েছে কি?

তারাবিহ নামাজের ফজিলত

প্রশ্ন (১১৪৬৭) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,যদি কেউ ওজর ছাড়া তারাবীর নামাজ ছেড়ে দেয় তাহলে কি তার গুনাহ হবে? আর তারাবীর নামাজের হুকুম কি? দয়া করে দলিলসহ জানাবেন।

বেতেরের আগে নফল পড়াতে বাধ্য করা যাবে কি

প্রশ্ন (১১৩৪৫) : আমাদের এলাকায় রমযানের শেষ দশকে তারাবির পর বেতেরের আগে ইমাম সাহেবকে চার রাকাত নফল পড়াতে বাধ্য করা হয়। জানতে চাচ্ছি, উক্ত কাজটি কতটুকু শরিয়ত সম্মত?