পশু জবাই করা ও বিসমিল্লাহ বলার মাঝে কথা বললে কি উক্ত পশু খাওয়া হারাম হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩১৯৭) : আমি একদিন মুরগি জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহ বলার পর একজনকে বললাম, ‘ভাল করে ধর’ জবাইয়ের পর উপস্থিত একজন বলে উঠল, বিসমিল্লাহ বলার পর কথা বলার কারণে বিসমিল্লাহ বাতিল হয়ে গেছে। আর নতুন করে বিসমিল্লাহ না বলে জবাইয়ের কারণে মুরগিটি খাওয়া হালাল হবে না। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? এই মুরগিটি কি খাওয়া যাবে না?

মদীনা যিয়ারতের পর ইহরাম ছাড়া মক্কায় এসে দেশে চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৯৫) : হজ্বের পর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনায় গিয়েছিলাম। এরপর সেখান থেকে ইহরাম না বেঁধেই মক্কায় চলে এসেছি। এবং দেশেও চলে এসেছি। এখন উপায় কী?

কুরবানীর পশু জবাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে গোশত দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৭৫) : আমাদের এলাকায় জনৈক ব্যক্তি কুরবানীর পশু জবাইয়ের বিনিময়ে গোশত নেন। এখন আমাদের প্রশ্ন হল, ১. কুরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে কুরবানীর পশু জবাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে গোশত নেওয়ার বিধান কী? ২. যদি কোনো ব্যক্তি কুরবানীর পশু জবাই করে গোশত নেয় তাহলে উক্ত জবাইকৃত পশুর কুরবানী কি সহিহ হবে? এর বিধান সবিস্তারে জানতে চাই। ৩. জবাইকারীকে পশু জবাইয়ের বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে টাকা দেওয়ার পর স্বেচ্ছায় গোশত দেওয়া যাবে কি? কুরআন-হাদিসের আলোকে উক্ত মাসআলাগুলো জানিয়ে বাধিত করবেন।

একাধিক মুরগি এক সাথে জবাই করলে কি সবগুলোর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০০৭) : আমি একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করি। এখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রোগ্রাম হয়। তাই প্রতিদিনই প্রায় বিশ-ত্রিশটি মুরগী জবাই করতে হয়। বড় কোনো আয়োজন থাকলে তো আরো বেশি। আমার জানার বিষয় হল, একসাথে অনেক মুরগী জবাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটির জন্য পৃথকভাবে বিসমিল্লাহ বলতে হবে, নাকি শুরুতে একবার বিসমিল্লাহ বলে নিলেই চলবে?

কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী ইসলাম গ্রহণ করার পর কি তার মা-বাবার সাথে সম্পর্ক রাখতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৯৯৬) : একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছেলে যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে তাহলে সে কি তার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারবে? এবং তার মায়ের হাতে রান্না করা জিনিস খাওয়া বা জবাই করা মুরগির মাংস রান্না করলে কি খাওয়া জায়েয হবে?

পথ হারিয়ে ফেলার কারণে তাওয়াফে যিয়ারত যথাসময়ে করতে না পারলে কি দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২৫৩১) : আল্লাহর রহমতে আমার গত বছর হজ্বে যাওয়ার সুযোগ হয়। ১২ই যিলহজ্ব মাগরীবের পর রাস্তায় এক বৃদ্ধের সাথে দেখা হয়। তিনি বললেন, বাবা, আমি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি। আমার বাসাটা একটু খুঁজে দেবে? তার বাসা খুঁজতে খুঁজতে আলাপচারিতায় জানতে পারলাম তিনি তখনও তাওয়াফে যিয়ারত করেননি। মিনা থেকে ১২ই যিলহজ্বের কংকর মারার পর কাফেলার সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু ভিড়ে কাফেলা থেকে বিছিন্ন হয়ে যান। কাফেলাকে খুঁজে না পেয়ে শেষে একাই মাগরীবের সময় মক্কায় এসে পৌঁছান। আমি বললাম, ১২ই যিলহজ্ব সূর্যাস্তের আগে তাওয়াফ না করার কারণে আপনার উপর তো দম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তিনি বললেন, আমি তো বিকালের আগেই তাওয়াফ করার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু পথ ও কাফেলা হারিয়ে ফেলায় দেরি হয়ে গেছে। এখন এশার সময়ই তাওয়াফ করে নিচ্ছি। তাহলেও কি আমার দম দিতে হবে? আমি জানতে চাচ্ছি, এধরনের ক্ষেত্রেও কি দম ওয়াজিব হবে? কাফেলা খুঁজতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে তাওয়াফে যিয়ারত না করতে পারলে যদি পরে করে নেওয়া হয় তাহলেও কি দম দিতে হবে?

হায়েয অবস্থায় তাওয়াফে যিয়ারত করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৫) : আমার ফুফু এবার হজ্বে যান। ইহরাম অবস্থায় ৯ যিলহজ্ব তার হায়েয শুরু হয়। তার ফিরতি ফ্লাইট প্রথম দিকে হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে এই অবস্থায় ১২ তারিখ তাওয়াফে যিয়ারত ও ১৩ তারিখ তাওয়াফে বিদা করে দেশে চলে আসেন। এখন তার করণীয় কী? তার কি তাওয়াফে যিয়ারত আদায় হয়েছে?

অগ্রিম টাকা নিয়ে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৩৭) : আমাদের এলাকায় সাধারণত শবে বরাত, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের দিন গরু জবাই হয়ে থাকে। যারা জবাই করেন তারা পেশাদার কসাই নয়; বরং অন্যান্য পেশার হয়ে থাকেন। তারা গরু কেনার পর এলাকার লোকজন থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে নেয়। আবার কারো থেকে শুধু গোস্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নেয়। সে সময় তারা শুধু এতটুকু বলে যে, ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। ৮০ ভাগ করব। প্রতি ভাগ এক হাজার টাকা করে। এরপর নির্ধারিত দিনে গরু জবাই করে এবং পূর্বের ওয়াদা অনুযায়ী ভাগ করে দেয়। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে অগ্রিম টাকা নিয়ে গোশত বিক্রি করা বৈধ হবে কি না?

অনেকগুলো মুরগি একসাথে জবাই করলে কি সবগুলোর ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলা জরুরি?

প্রশ্ন (১২৪২৩) : আমাদের বাসার পাশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। তাতে এক বাবুর্চি অপর আরেকজনের সহযোগিতায় সব মুরগি জবাই করে। কিন্তু সে প্রত্যেকটি মুরগি জবাই করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলেনি। শুরুতে কিছুক্ষণ বিসমিল্লাহ বলেছে, এরপর মাঝে মাঝে বলেছে। এমনটি দেখে আমি আপত্তি করলে সে বিষয়টি হালকাভাবে নেয় এবং উল্টা যুক্তি দিয়ে আমাকে বলে, ‘একজনই তো সব জবাই করছে, আর একজন সব জবাই করলে প্রতিবার ‘বিসমিল্লাহ’ না বললেও চলে।’ আমার প্রশ্ন হল, তার যুক্তিটি কি ঠিক, এক ব্যক্তি অনেক মুরগি জবাই করলে কি প্রত্যেক মুরগির জন্য বিসমিল্লাহ বলা আবশ্যক নয়, এতে কি কোনো ছাড় আছে? নতুবা যেসমস্ত মুরগি জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ বলা হয়নি, তা খাওয়ার হুকুম কী? সঠিক বিষয়টি জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

পশু জবাইকারীর জন্য বিসমিল্লাহ বলার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৪০৮) : কুরবানীর দিন কোথাও এমন দেখা যায় যে, কুরবানীর পশুর হাত, পা, মাথা ইত্যদি যারা ধরে আছে, তাদেরকে জবাই করার সময় উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ বলার জন্য বলা হয় এবং সবার এমনটি করা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কেউ না বললে তিরস্কার করা হয়। প্রশ্ন হল, যারা কুরবানীর পশু জবাই করতে বিভিন্নভাবে শরীক হয়েছে, তাদের সবার জন্যই কি বিসমিল্লাহ বলা জরুরি? এক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুমটি জানতে চাচ্ছি।

পশুর চামড়া ছিলার আগে তা বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩৭৭) : কুরবানীতে আমরা অনেক সময় গরু জবাই করার আগে অথবা গরু জবাই করার পর চামড়া ছাড়ানোর পূর্বেই চামড়া বিক্রি করে দিই। জানার বিষয় হল, এভাবে চামড়া বিক্রি করা শুদ্ধ কি না? জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।

উমরার ইহরাম করার পর কোনো কারণে উমরায় যেতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৩৯) : আমার চাচা বাড়ি থেকে উমরার ইহরাম করে বের হন এয়ারপোর্ট যাওয়ার পথে গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়। তাই তার পক্ষে এখন উমরায় যাওয়া সম্ভব না। আমার জানামতে এমন ব্যক্তিগণ কারো মাধ্যমে হেরেম এলাকার ভেতর একটি দম জবাই করে ইহরাম থেকে মুক্ত হবেন এবং পরবর্তীতে উমরাটি কাযা করে নেবেন। কিন্তু জনৈক আলেম বলছেন, এক্ষেত্রে দম না দিয়ে রোযা রাখারও সুযোগ আছে। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, তার বক্তব্য সঠিক কি না এবং উল্লেখিত অবস্থায় দম না দিয়ে সদকা করা বা রোযা রাখার মাধ্যমে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

রাতে কুরবানী দিলে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রশ্ন (১২১৮১) : কুরবানীর সময় কসাই খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই আমরা কয়েকজন মিলে নাটোর থেকে ভালো একদল জাত কসাইয়ের ব্যবস্থা করে থাকি। গরু অনেক হওয়ায় প্রায় দেখা যায়, কারো কারো গরু রাতে জবাই দিতে হচ্ছে। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি, রাতে কুরবানী দিলে কি কোনো সমস্যা আছে?

ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করলে কি কুরবানী আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১৭৭) : আমি চট্টগ্রামে থাকি। কোনো কারণে গত কুরবানীর ঈদটি ঢাকার একটি এতীমখানায় করতে হয়। মুসাফির থাকায় আমার উপর তো আর কুরবানী ওয়াজিব ছিল না। কিন্তু আমার স্ত্রী ও বড় মেয়ে ছাহেবে নেসাব হওয়ায় তাদের পক্ষ হতে কুরবানী আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি গরু ক্রয় করি এবং তাদের অনুমতিক্রমে গোশত এতীমখানায় দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা করি। ঈদের আগের রাতে শুনি যে, ফজরের আগেই একটি গরু জবাই করা হবে। কারণ অনেক ছাত্র আছে, যাদের কাছে খাবার পৌঁছানো সম্ভব নয় বিধায় আগেই তাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে হয় এবং তা পিকআপ ভ্যানে ছাত্রদের সাথে দিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ফজর নামাযের ২৫ মিনিট পূর্বে আমার গরুটি জবাই করা হয় এবং তা রান্না করে ছাত্রদের সাথে দিয়ে দেওয়া হয়। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, মুসাফির থাকা অবস্থায় ঈদের নামাযের আগে আমার গরুটি জবাই করা কি সহিহ হয়েছে এবং এর দ্বারা আমার স্ত্রী ও মেয়ের কুরবানী কি আদায় হয়েছে?

উমরার ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতার কারণে উমরায় যেতে না পারলে হালাল হওয়ার উপায় কী?

প্রশ্ন (১২০৬৮) : কিছুদিন আগে আমার মামা ইহরাম করে উমরার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। এয়ারপোর্টে গিয়ে গাড়ি থেকে নামার পরপরই একটি বাইকের চাকা আমার বড় মামার পায়ের পাতার উপর উঠে যায়। এতে তাঁর পায়ের পাতার হাড় ভেঙ্গে যায়। আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার আমার মামাকে এক মাস বেডরেস্টে থাকতে বলেন। এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উমরায় ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওজরের কারণে উমরায় না যেতে পারলে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার উপায় কী? এব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

যে প্রাণী বিসমিল্লাহ ছাড়া জবাই করা হয় তা অমুসলিমদের কাছে বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৫০) : আমার খালাতো ভাইয়ের আমেরিকাতে একটি সুপার শপ আছে। আমেরিকার একটি কোম্পানি নিয়মিত তাতে হিমায়িত মুরগি সাপ্লাই দেয়। উক্ত কোম্পানিতে ইসলামী পদ্ধতি অনুযায়ী ‘বিসমিল্লাহ’ বলে মুরগি জবাই করা হয় না। তবে সুপার শপে এ মুরগিগুলো যদি মুসলমানদের কাছে বিক্রি করা না হয়; বরং অমুসলিম ক্রেতাদের কাছে এসব মুরগি বিক্রয় করা হয়। তাহলে তা কি জায়েয আছে? এবং এ থেকে অর্জিত মুনাফা কি হালাল হবে?

ঈদের নামায পড়ে হলে কুরবানী হবে কি

প্রশ্ন (১১৮০৭) : আমি ঢাকায় থাকি। কুরবানীও ঢাকায় করি। কুরবানীর পশু কেনার পর বিশেষ কারণে চিটাগাং আসি। ঈদের দিন সকাল ৭.৩০ টায় ঈদের নামাযের পর আমার কুরবানীর পশু ঢাকায় জবাই হয়। কিন্তু চিটাগাং-এ আমি যেখানে ছিলাম সেখানে ঈদের নামায ছিল ৮ টায়। জানতে চাচ্ছি, আমার কুরবানী কি হয়েছে?

একাধিক প্রাণী একসাথে জবাই করার বিধান।

প্রশ্ন (১১৭৬১) : আমি একটি মুরগির দোকানের কর্মচারী। আমাদের দোকানে মাঝে মাঝে বড় অর্ডার আসে। একসাথে ১০০ বা তার বেশি মুরগি জবাই করে বিক্রি করতে হয়। তখন আমি প্রথম কয়েকটি ‍মুরগি জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ বলে বাকি গুলো বিসমিল্লাহ বলা ছাড়াই জবা্ই করি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, আমার এভাবে জবাই করা কি ঠিক আছে?