সালাত বা নামাজ

প্রাণীর ছবিযুক্ত জামা গায়ে দিয়ে নামায পড়া মাকরুহে তাহরিমী।

প্রশ্ন (১১৬৫৩) : আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রত্যেক কর্মচারিকে বিড়ালের ছবিযু্ক্ত গেঞ্জি দেওয়া হয় । অফিস টাইমে আমরা সেই গেঞ্জি পড়ে থাকি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, বিড়ালের ছবিযুক্ত গেঞ্জি পরিধান করে নামায পড়লে কি নামাযের কোনো ক্ষতি হবে?

ইমাম সাহেব যেখানে দাঁড়িয়ে ইমামতি করেছেন সেখানে দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়া অনুত্তম।

প্রশ্ন (১১৬৫২) : একদিন যোহরের নামাযের সময় আমাদের মসজিদে ইমাম সাহেব না থাকায় আমি ইমামতি করি। নামায শেষে ইমামতির জায়গায় দাঁড়িয়েই আমি নামায পরবর্তী সুন্নত আদায় করি। নামায শেষে একজন আলেম আমাকে বললেন, যেখানে দাঁড়িয়ে আপনি ইমামতি করেছেন সেখানে দাঁড়িয়ে পরবর্তী সুন্নত আদায় করা অনুত্তম হয়েছে। সেই আলেমের কথা ঠিক আছে?

নাবালেগের পিছনে বালেগ ব্যক্তির ইক্তিদা সহিহ নয়।

প্রশ্ন (১১৬৫০) : আমার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে হিফয বিভাগও আছে। তো রমযান মাসে ছাত্রদের ইয়াদ মজবুত করার উদ্দেশ্যে তারাবীর নামায পড়ানোর জন্য ছাত্রদের কয়েকটা গ্রুপ করা হয়ে থাকে। কোনো কোনো গ্রুপে নাবালেগ ছাত্র ইমামতি করে এবং তার পিছনে বালেগ ছাত্র বা উস্তাদ ইক্তিদা করে। তো আমার জানার বিষয় হলো, নাবালেগের পিছেনে বালেগ ব্যক্তির ইক্তিদা সহিহ আছে?

প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দুরুদ শরিফ পড়লে সাহু সিজদা আবশ্যক হবে।

প্রশ্ন (১১৬৪৯) : আমি প্রায় সময়ই নামাযের প্রতম বৈঠকে তাশাহহুদের পরে ভুলে দুরুদ শরিফ পড়ে ফেলি। কখনো দুরুদ পড়ার মাঝে আবার কখনো শেষে দাঁড়ানোর কথা মনে পড়ে। মনে পড়ার সাথে সাথে আমি দাঁড়িয়ে যাই। আমার জানার বিষয় হলো, ভুলে দুরুদ শরিফ পড়ার কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে ওযু ভেঙে যাবে।

প্রশ্ন (১১৬৪৮) : আমি এশার নামাযের সময় ওযু করে মসজিদের দিকে রওয়ানা দিই। মসজিদের সামনে গিয়ে দেখতে পাই, পায়ের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়ছে। সাথে সাথে আমি তা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলি। পরে রক্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি পুনরায় ওযু করে নামায আদায় করি। এই অবস্থায় কি আমার পুনরায় ওযু করা ঠিক ছিল?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে ভুলে অন্য সূরা পড়ে ফেললে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৪৭) : মাঝেমধ্যে আমি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে ভুলে অন্য সূরা পড়ে ফেলি। এর কারণে আমাকে সাহু সিজদা করতে হবে? আমাকে একজন বলল, সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মিলানোর কারণে রুকু করতে বিলম্ব হয়েছে। তাই সাহু সিজদা করতে হবে। তার কথা কি ঠিক আছে?

হাত-পায়ের নখ কাটলে কি ওযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১১৬৪৬) : একবার আমি ওযু করে হাত পায়ের নখ কাটি। তারপর নতুন ওযু না করেই নামায আদায় করি। আমার উক্ত নামায কি সহীহ হয়েছে, নাকি ওযু করে পুনরায় আদায় করতে হবে?

হায়েয সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১১৬৪৩) : আমার প্রতি মাসে সাধারণত হায়েয আসে সাত দিন । কখনো কখনো ষষ্ঠ দিনে বন্ধ হয়ে যায়। প্রশ্ন হল, কোনো মাসে ষষ্ঠ দিনে রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে কবে থেকে নামায শুরু করব? আদত হলো ৭ দিন।

পেশাব ঝরার ব্যপারে সন্দেহ হলে কী করণীয়?

প্রশ্ন (১১৬৪১) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা। মাঝে মাঝেই আমার প্রস্রাবের স্থান থেকে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব বের হয়। তারপর আমি তা ধুয়ে ফেলি। কিন্তু আমার সমস্যা হল, কিছুক্ষণ পর পর আমার মনে হয় যে, তা এখনো পড়ছে, কিন্তু আসলে পড়ছে না। এই অবস্থায় আমার কী করা উচিত? আমি কি প্রতি ওয়াক্ত নামাযের সময় কাপড় পাল্টিয়ে নামায আদায় করব?

মেয়েদের নাক-কান ফুঁড়ানোর বিধান

প্রশ্ন (১১৬৩৬) : মেয়েরা নাক-কানে অলংকার পড়ে থাকে। এজন্য তাদের নাক-কান ‍ফুঁড়াতে হয়। তো একজন বলল, মেয়েদের নাক-কান ফোঁড়ানো নাকি জায়েয নেই। ওই লোকের কথা কি ঠিক আছে? এব্যাপারে শরীয়ত কী বলে?

সুন্নত নামায কাযা করা আবশ্যক নয়।

প্রশ্ন (১১৬৩১) : আমি যোহরের নামাযের আগের চার রাকাত সুন্নতে দাঁড়ানোর পর জামাত শুরু হয়ে যায়। তাই আমি দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হই। নামাযের পর আর সেই সুন্নত নামাযটি পুনরায় পড়া হয়নি। এখন কি আমাকে ঐ চার রাকাত সুন্নতের কাযা করতে হবে? কারণ আমি শুনেছি, নফল ও সুন্নত নামায শুরু করলে তা ওয়াজিব হয়ে যায়।

ইমাম সাহেব কেরাতে ভুল করলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৩০) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব এশার নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ‘লাইল’ পড়ার সময়- وَ سَیُجَنَّبُهَا الْاَتْقَی،الَّذِیْ یُؤْتِیْ مَالَهٗ یَتَزَكّٰی. আয়াতের الْاَتْقَی -এর জায়গায় الْاَشْقَی পড়ে ফেলেন এবং ওভাবেই নামায শেষ করেন। নামাযের পরে একজন আলেম বললেন, নামাযের কেরাতে ভুল হয়েছে; তাই নামায হয়নি। সুতরাং পুনরায় পড়তে হবে। ফলে নামায পুনরায় পড়া । সেই আলেমের কথা কি ঠিক আছে? পুনরায় নামায পড়া কি দরকার ছিল?

ইমাম সাহেব নামাযের মাঝে কেরাতে আটকে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬২৭) : আমি মাঝে মাঝে আমাদের এলাকার মসজিদে ইমামতি করি। নামাযে কেরাত পড়ার সময় কখনো আয়াতের মাঝে আটকে যাই, আবার কখনো পরবর্তী আয়াত স্মরণ করতে পারি না। এমন পরিস্থিতিতে পড়লে আমার করণীয় কি?

ইমাম সাহেব ভুলবশত জোরে ছানা পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১১৬২৬) : ইমাম সাহেব মাগরিবের নামাযে ভুলবশত জোরে ছানা পড়ে ফেলেছেন। কিন্তু তিনি নামায শেষে সাহু সিজদা করেন নি। আমার জানার বিষয় হলো, ইমাম সাহেবের সাহু ‍সিজদা না করা কি ঠিক আছে? নাকি এখানে সাহু সিজদা করা জরুরি ছিল?

ফজরের ওয়াক্ত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তায়াম্মুম করা যাবে না। ওযু করে নামায আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন (১১৬২৫) : সকালে আমার ঘুম ভাঙার পর দেখি ফজরের ওয়াক্তের আর অল্প সময় বাকি আছে। এই সময়ে ওযু করতে গেলে নামায কাযা হয়ে যাবে। তাই আমি নামায কাযা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে ফজরের নামায আদায় করে নিই। হযরতের কাছে জানতে চাই, এভাবে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করা কি সঠিক হয়েছে?

শব্দ বা গন্ধ ছাড়া বায়ু বের হলেও ওযু ভেঙে যাবে।

প্রশ্ন (১১৬২৪) : আমি জানি বায়ু নির্গত হলে ওযু ভেঙে যায়। কিন্তু একজনের কাছে শুনেছি আওয়াজ বা গন্ধ ছাড়া বায়ু বের হলে নাকি ‍ওযু ভাঙে না। তার কথা কি ঠিক আছে? দয়া করে হাদিসের আলোকে জানাবেন।

জুমার খুতবার আযানের জবাব দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৬২৩) : জুমার খুতবার আজানের কি জবাব দিতে হবে নাকি হবে না? এক আলেমের কাছে শুনেছি, এই আযানের জবাব দেওয়া যাবে না। তার কথা কি ঠিক আছে? এক্ষেত্রে শরীয়ত কি বলে?

তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজে প্রথম বৈঠকে না বসে ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়

প্রশ্ন (১১৬১৫) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমাদের মসজিদের ইমামা সাহেব গতকাল মাগরিবের নামাযে প্রথম বৈঠকে না বসে ভুলে দাঁড়িয়ে যান। পরে মুসল্লিদের লোকমা শুনে বৈঠকে ফিরে আসেন। তারপর সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করেন। নামায শেষে একজন বলল দাঁড়ানো থেকে ফিরে এসে বৈঠকে বসার কারণে নামাজ নষ্ট হয়ে গেছে। তাই ইমাম সাহেব দ্বিতীয়বার নামাজ পড়ান। তো প্রথমবার নামাজ কি হয়নি? না হলে কেন? আর দ্বিতীয়বার নামাজ পড়া কি ঠিক হয়েছে?