সালাত বা নামাজ

মুসাফির ব্যক্তি মাসবুক হলে ইমামের সালাম ফিরানোর পর কত রাকাত পড়বে?

প্রশ্ন (১৩০৪৭) : কয়েকজন মুসাফির মিলে আসরের নামায জামাতের সাথে আদায় করছিল। এক রাকাত হয়ে গেছে আর এক রাকাত বাকি। ইতিমধ্যে একজন মুসাফির এসে নামাযে শরীক হল। এখন কথা হল এই মুসাফির তো জানে না যে, ইমাম মুসাফির না মুকিম। এখন জানার বিষয় হলো, এই মুসাফির মুসল্লি কত রাকাত নামায পড়বে?

নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সফরে বের হয়ে উক্ত নামায কাযা হলে কত রাকাত কাযা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৫) : একদিন বাড়িতে থাকা অবস্থায় যোহরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরও নামায না পড়ে সফরে বের হয়ে যাই। পরে কোনো জটিলতার কারণে সফর অবস্থায়ও নামাযটি পড়া হয়নি। জানার বিষয় হল, মুকীম অবস্থায় ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার কারণে এখন আমাকে কি চার রাকাতের কাযা করতে হবে, নাকি দুই রাকাতের কাযা করলেই চলবে?

তারাবীর নামায এক সালামে আট রাকাত পড়লে কোনো সমস্যা আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০৪৪) : গত রমযানে একদিন আমরা কয়েকজন হাফেয একসাথে তারাবীর নামায আদায় করি। প্রথম চার রাকাতে লম্বা কেরাত পড়ার কারণে অনেক রাত হয়ে যায়। এরপর বাকি ষোল রাকাত দুই সালামে আট রাকাত করে আদায় করে নেই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, এক সালামে আট রাকাত আদায় করার দ্বারা আমাদের নামায কি আদায় হয়েছে?

মুসাফির ব্যক্তির উপর কি তাকবীরে তাশরীক ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১৩০৪৩) : কুরবানী ঈদে আমি তিন-চার দিনের জন্য চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আসি। আমি জানতাম মুসাফিরের উপর তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব নয়। তাই আমি মুসাফির অবস্থায় বিভিন্ন সময় মুকীম ইমামের পেছনে নামায পড়লেও তাকবীরে তাশরীক বলিনি। পরবর্তীতে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পারলাম, মুসাফির, মুকীম ইমামের একতেদা করলে তার উপরও তাকবীরে তাশরীক ওয়াজিব হয়ে যায়। জানতে চাচ্ছি, তার কথাটি কি সঠিক? সঠিক হলে আমার করণীয় কী?

অস্থায়ী মসজিদে ইতিকাফ আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৪২) : আমাদের মসজিদের ভবনটি অনেক পুরাতন। তাই পুনঃনির্মাণের জন্য গত বছর মসজিদটি ভাঙা হয়। আপাতত নামায পড়ার জন্য পাশে অবস্থিত মুতাওয়াল্লী সাহেবের জায়গায় টিনশেড দিয়ে একটি অস্থায়ী মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ঈদ-জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামায এই অস্থায়ী মসজিদেই আদায় করা হয়। এলাকার বিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত নতুন ভবনের কাজ শুরু করা যায়নি। জানার বিষয় হল, সামনের রমযানে এ অস্থায়ী মসজিদে ইতিকাফে বসা সহিহ হবে কি? সহিহ না হলে মহল্লাবাসী সুন্নত ইতিকাফ কীভাবে আদায় করবে?

প্রস্রাবের চাপ নিয়ে নামায আদায় করলে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১৩০২৮) : কখনো কখনো নামাযের পূর্ব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও জামাত শুরু হওয়ার পর প্রস্রাবের প্রয়োজন দেখা দেয়। তখনো আমি প্রয়োজন দাবিয়ে জামাতসহ নামায আদায় করি। এতে কি আমার নামাযের কোনো সমস্যা হবে?

কোনো মুসল্লীর রাকাত পাওয়ার জন্য ইমাম সাহেবের রুকুতে দেরি করা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১৩০২৭) : আমি এক মসজিদে ইমামতি করি। অনেক সময় রুকুতে যাওয়ার পর কোনো কোনো মুসল্লীর দ্রুতগতিতে মসজিদে প্রবেশের শব্দ শোনা যায়। এমতাবস্থায় আমি যদি উক্ত মুসল্লীর রাকাত পাওয়ার জন্য রুকুতে একটু দেরি করি তাহলে এতে শরয়ী কোনো সমস্যা হবে কি?

নামাযরত অবস্থায় ঘড়ির দিকে তাকালে কি নামাম নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩০২৫) : এক ব্যক্তি ফজরের নামায অবস্থায় সূর্যোদয় হয়েছে কি না তা দেখার জন্য নিজের হাত ঘড়ির দিকে দেখে এবং কয়টা বাজে তাও মোটামুটি বুঝে ফেলে। এখন জানার বিষয় হল, নামাযে এভাবে ঘড়ি দেখার কারণে নামায নষ্ট হয়েছে কি?

আসরের নামাযে ভুলে তিন রাকাতের পর সালাম ফিরিয়ে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০২৪) : গতকাল আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আসরের নামাযে তিন রাকাত পড়ে ভুলে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। সাথে সাথে পিছন থেকে কিছু মুসল্লী বলে উঠল, নামায তিন রাকাত হয়েছে। তা শুনে ইমাম সাহেব সোজা দাঁড়িয়ে যান। অবশিষ্ট রাকাতটি পূর্ণ করে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরিয়ে দেন। জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেবের উক্ত নামাযটি সহিহ হয়েছে কি?

জানাযার নামাযে ফটোসেশন করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০২৩) : প্রায়ই দেখা যায়, বিশিষ্টজনদের জানাযার নামায কিংবা ঐতিহাসিক কোনো ঈদগাহে ঈদের নামাযের দৃশ্য কাভারেজ করতে ফটোসাংবাদিকদের ফটোসেশনের হিড়িক পড়ে। এতে অজ্ঞতাবশত কিংবা অবচেতনে কোনো কোনো মুসল্লি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এখন প্রশ্ন হল, তাদের নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি?

মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০১৭) : আমাদের মসজিদের দেয়ালে ‘মসজিদে দুনিয়াবী কথা হারাম’ বাক্যটি টাইলসে খোদাই করে লেখা। জানার বিষয় হলো, নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার পর কখনো দুনিয়াবী কথাবার্তাও হয়ে যায়। একারণে কি গুনাহ হবে?

বাসায় টুপি খুলে রাখলে কি সুন্নতের খেলাফ হবে?

প্রশ্ন (১৩০১৬) : টুপি কি সবসময় পড়ে থাকা জরুরী? আমি সাধারণত বাইরে গেলে সবসময় মাথায় টুপি রাখি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু বাসায় রুমে আসলে টুপি খুলে রাখি। এটি কি সুন্নতের খেলাফ?

নামাযী ব্যক্তির সামনে থেকে উঠে গেলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন (১৩০১৩) : আমি জানি, নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা গুনাহ। কিন্তু কখনো এমন হয় যে, নামায শেষে বসে তাসবীহ পাঠ করছি, এর মধ্যেই পেছনে তাকিয়ে দেখি আমার সোজা বরাবর পেছনে একজন নামায পড়ছে। এখন জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় নামাযী ব্যক্তির সামনে বসা থেকে উঠে ডান বা বাম দিক দিয়ে চলে গেলে কি গুনাহ হবে?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর কি ইক্তিদা করা যাবে?

প্রশ্ন (১৩০১২) : আমি গতকাল আসরের নামাযে ইমাম সাহেবকে শেষ বৈঠকে পাই এবং ইমামের সালাম ফিরানোর পরে বাকি নামায পুরা করি। নামাযের পর এক ব্যক্তি বলল, আপনার নামায পুনরায় পড়তে হবে। কারণ ইমাম সাহেব সিজদায়ে সাহু করার পরে আপনি নামাযে শরীক হয়েছেন। এ সময় ইমামের ইক্তিদা করা সহিহ নয়। আমি জানতে চাচ্ছি, উক্ত ব্যক্তির কথা কি ঠিক? এখন আমার নামায কি পুনরায় পড়তে হবে?

বিতরের নামাযের দুআ কুনুত না জানলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০০৪) : এক ব্যক্তি ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা’ দুআটি জানে না। তবে সে চাইলে শিখতে পারে। কিন্তু সে তা শেখার জন্য চেষ্টাও করে না। এমতাবস্থায় বিতর নামাযে অন্য কোনো দুআ পড়লে তার নামায সহিহ হবে কি?

এক গ্রামে একাধিক মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৯৭) : আমাদের গ্রামে দুটি মসজিদ আছে। দুটি মসজিদেই জুমার নামায অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের গ্রামের সকল মুসল্লীদের জন্য এই দুইটি মসজিদই যথেষ্ট। কিন্তু এক মুরুব্বী মহল্লার একটি জুমা মসজিদের ৩০০ গজের মধ্যে তাঁর অর্থায়নে নির্মিত একটি পাঞ্জেগানা মসজিদকে জুমা মসজিদে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বাহ্যত বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে হয় না। কিন্তু এতে পার্শ্ববর্তী মসজিদের জুমার জামাতে মুসল্লী হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশ্ন হল, এমতাবস্থায় তাঁর জন্য উক্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে কি না?

ট্রেন চলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামায পড়তে কষ্ট হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯৮৮) : এখন প্রায় সব ট্রেনেই নামায আদায়ের ব্যবস্থা থাকে। তবে ট্রেন চলা অবস্থায় ঝাঁকুনির কারণে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাই দাঁড়িয়ে নামায পড়া বেশ কষ্টকর। তাছাড়া নামায পড়া অবস্থায় ট্রেন দিক পরিবর্তন করলে কেবলা ঠিক রাখা সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় সফরকালে ট্রেনে নামায পড়ব কীভাবে? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

রমজান মাসে কি বিতির নামাযের সব রাকাতেই জোরে কেরাত পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১২৯৮৭) : রমযানে বিতিরের নামাযের প্রত্যেক রাকাতে জোরে কেরাত পড়তে হবে নাকি শুধু প্রথম দুই রাকাতে? ছোটদের জন্য লেখা একটি বইয়ে শুধু প্রথম দুই রাকাতে জোরে কেরাত পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ বক্তব্যটি কি সঠিক? আশা করি দলীল-প্রমাণসহ বিস্তারিত জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।