সাহু সিজদা

নামাযে সূরা ফাতিহা না পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৩৬৬) : একদিন যোহরের নামাযে মসজিদে যেতে দেরি হয়ে যায়, ফলে মাসবুক হই। যখন বাকি নামায আদায় করি তখন প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা ভুলে যাই। আমার প্রশ্ন হল, এমন অবস্থায় কি আমার জন্য সাহু সিজদা করা আবশ্যক?

চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের প্রথম বৈঠকে ইমাম না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৬৩) : যোহরের নামাযে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। পিছন থেকে কয়েকজন মুকতাদী ‘আল্লাহু আকবার’ বলে লোকমা দেন। তখন ইমাম সাহেব বসে পড়েন এবং তাশাহ্হুদ পড়ার পর শেষে সাহু সিজদা করেন। আমার জানার বিষয় হল, এই নামায কি শুদ্ধ হয়েছে, নাকি তা আবার পড়তে হবে?

নামাযের শুরুতে ছানা পড়তে ভুলে গেলে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৩৫৯) : অনেক সময় নামায শুরু করার পর ছানা পড়তে ভুলে যাই। তো আমাদের এলাকায় একজনকে জিজ্ঞাসা করি; তিনি বলেন, এমন অবস্থায় সাহু সিজদা করা ওয়াজিব। হুজুরের কাছে প্রশ্ন হল, তার এ কথাটি কি ঠিক?

ফরয নামায ভুলে পাঁচ রাকাত পড়ে ফেললে উক্ত নামাযের হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৩৫৬) : আমার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে জামাত করে আসর নামায পড়ছিলাম। ভুলবশত চতুর্থ রাকাতকে তৃতীয় রাকাত মনে করে দাঁড়িয়ে যাই এবং পাঁচ রাকাতের পর সালাম ফিরাই। সালাম ফেরানোর পর সে বলল, নামায তো পাঁচ রাকাত হয়েছে; তখন আমি কথা না বলে সাহু সিজদা করি এবং পুনরায় সালাম ফিরাই। আমাদের এ নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

সুন্নত বা নফল নামাযে একাধিক রাকাতে একই সূরা পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৫৩) : কয়েকদিন আগে এশার জামাতের পর সুন্নত পড়ছিলাম। দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে গিয়ে মনে পড়ে- আমি উভয় রাকাতে একই সূরা পড়েছি। পরে সাহু সিজদাও করিনি। জানার বিষয় হল, আমার উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে এবং এ নামায কি সহিহ হয়েছে?

ফেতনা হওয়ার আশঙ্কায় সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২৩২১) : আমি ঢাকার একটি বড় মসজিদে তারাবীহ পড়াই। এবার রমযানের ২৭ তারিখে তারাবীর নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার তিন-চার আয়াত মনে মনে পড়ি, এরপর স্মরণ হলে উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা শুরু থেকে পড়ি। সেদিন মসজিদে ৩-৪ হাজার মুসল্লী ছিল। অনেক বড় জামাত ফেতনা হতে পারে- একথা ভেবে সাহু সিজদা দিইনি। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এই কাজটি কি ঠিক হয়েছে? জুমা ও ঈদের নামাযের মত তারাবীর জামাত বড় হলে সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না?

নামাযে সিজদার আয়াত পাঠ করার পর সিজদা দিতে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৪০) : নামাযের মধ্যে সিজদার আয়াত পাঠের পর ভুলে যথাসময়ে সিজদা আদায় না করলে কী করণীয়? একজন হাফেজ সাহেব বললেন যে, নামায শেষ হওয়ার আগে যদি স্মরণ হয়ে যায় তাহলে তা আদায় করে নিবে এবং পরে সাহু সিজদা করবে। তার কথাটি কি ঠিক?

নামাযে ইশারা করে কিছু বললে কি নামায ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১২২২৭) : আমি ও আমার বন্ধু একদিন তার ইমামতিতে আছরের নামায পড়ছিলাম। সালাম ফেরানোর পর রাকাত নিয়ে তার সন্দেহ হয়। তাই সে আমাকে হাতের ইশারায় জিজ্ঞেস করে যে, নামায তিন রাকাত হয়েছে, না চার রাকাত? আমি হাত ও মাথা দিয়ে ইশারা করে বুঝাই যে তিন রাকাত হয়েছে। সে দাঁড়িয়ে আরেক রাকাত পড়ে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করে। কিন্তু আমার সন্দেহ হয় যে, এভাবে ইশারা করার পর এ নামায সহিহ হয়েছে কি না? তাই আমি পুনরায় নামাযটি পড়ে নিই। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামায সহিহ হয়েছিল কি না? পুনরায় নামায পড়া কি আমার ঠিক হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাসবুক ব্যক্তি বৈঠক করতে ভুলে গেলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১৮৮) : গতকাল মাগরিবের নামাযে মসজিদে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ইমামকে তৃতীয় রাকাতে পাই। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আমি ছুটে যাওয়া দুই রাকাত নামায পড়তে দাঁড়াই। অন্য মুসল্লিরাও সুন্নত পড়তে দাঁড়ায়। আমি সুন্নত পড়ার মত দুই রাকাত পড়ি। আমার প্রথম রাকাতের পর বৈঠক করার কথা ভুলে যাই। সাহু-সিজাদও করিনি। এরপর সুন্নাত পড়ার সময় বিষয়টি মনে পড়ে। আমার উক্ত নামায কি হয়েছে?

মাসবুক ব্যক্তির নামায।

প্রশ্ন (১২১৬১) : একদিন যোহরের নামাযে সময় আমি মাসবুক হই। যখন বাকি নামায আদায় করি তখন প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়তে ভুলে যাই। তবে অন্য একটি সূরা তিলাওয়াত করেছি। প্রশ্ন হল, এমন অবস্থায়ও কি আমার জন্য সাহু সিজদা করা আবশ্যক?

ভুলবশত কোনো রাকাতে একটি সিজদা ছেড়ে দিলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৭) : একদিন যোহরের আদায় করার সময় প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সিজদাটি ভুলে ছেড়ে দেই। তৃতীয় রাকাতের সিজদা আদায় করার পর স্মরণ হলে সাথে সাথে ভুলে যাওয়া সিজদাটি আদায় করে নিই। প্রশ্ন হচ্ছে, এরপর কি এ ভুলের কারণে আমার উপর সিজদায়ে সাহু করা জরুরি ছিল?

মুক্তাদী নামাযে ভুল করলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১২৬) : একদিন এশার নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে বসার সময় ইমাম সাহেব কিছুটা দীর্ঘ করে তাকবীর বলেন। একারণে আমরা কয়েকজন মুক্তাদি দাঁড়িয়ে যাই। এরপর অন্যদের দেখে আবার বসে পড়ি এবং শেষে ইমামের সাথেই সালাম ফিরাই। জানার বিষয় হল, এভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে কি আমাদের উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হয়েছে?

ইমাম সাহেব ভুলে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১২১) : একদিন যোহরের নামাযের ইমাম সাহেব মসজিদে ছিলেন না। তখন মুসল্লিদের থেকে একজন নামায পড়ালেন। তিনি ভুলক্রমে প্রথম বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। পেছন থেকে লোকমা দিলেও তিনি বসলেন না এবং শেষে সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করেন। তো আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে ?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর জামাতে শরীক হলে কি ইক্তিদা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৮) : গতকাল এশার নামাযে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর আমি জামাতে শরীক হয়েছি। নামায শেষ করার পর আমার সন্দেহ হয় যে, ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করার পর আমার ইক্তেদা করা সহিহ হল কি না? দয়া করে বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

তারাবীর নামায ভুলে একসাথে চার রাকাত আদায় করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৯৭) : আমি আমাদের গ্রামের মসজিদে খতম তারাবী পড়াই। কয়েকদিন আগে তারাবী নামাযে দুই রাকাতের পর বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে যাই এবং একসঙ্গে চার রাকাত পড়ে সাহু সিজদা করে সালাম ফেরাই। নামায শেষে একজন বললেন, তারাবী নামাযে প্রত্যেক দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ফরয। আপনি যেহেতু ফরয তরক করেছেন, তাই সাহু সিজদা করলেও নামায সহিহ হয়নি। সুতরাং আগামীকাল তারাবী নামায শুরু হওয়ার আগে এই চার রাকাত নামায পুনরায় পড়িয়ে দেবেন। আমি ইমাম সাহেবের নির্দেশ অনুযায়ী ঐ চার রাকাত নামায পরদিন রাতে তারাবীর নামায শুরু হওয়ার আগে ছোট ছোট সূরা দিয়ে পড়িয়ে দেই। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হল, বাস্তবেই কি তারাবী নামাযে দুই রাকাতের পর ভুলে বৈঠক না করে একসঙ্গে চার রাকাত পড়ে নিলে (শেষে সাহু সিজদা করলেও) পুরো নামায ফাসেদ হয়ে যায়, নাকি এক্ষেত্রে সাহু সিজদা করাই যথেষ্ট?

মাসবুক ব্যক্তি ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি তার নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৬) : কখনো কখনো মাসবুক হলে শেষ বৈঠকে তা স্মরণ থাকে না। ভুলে ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলি। প্রথম সালাম ফিরিয়ে নেওয়ার পর মাসবুক হওয়ার বিষয়টি মনে পড়ে। এক্ষেত্রে কি আমার নামায ভেঙে যাবে। আর যদি না ভাঙে, তাহলে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

সুন্নত নামাযে কি উচ্চৈঃস্বরে কেরাত পাঠ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২০৮০) : একদিন আমি মাগরিবের ফরয নামায মসজিদে পড়ে বাসায় এসে সুন্নতের নিয়ত বাঁধি। বাইরে থেকে অনেক আওয়াজ আসছিল। তাই নামাযে একাগ্রতা আনার জন্য আমি উচ্চৈঃস্বরে কেরাত পড়ি। নামায শেষে খটকা লাগে, এভাবে জোরে কেরাত পড়ার কারণে নামাযে কোনো অসুবিধা হয়নি তো? তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার ওপর কি সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছিল? আমি সাহু সিজদা করিনি; আমার নামাযের কী হুকুম

নামাযে ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার পর সাহু সিজদা দিতে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৯৯২) : আমার মাঝে মাঝেই নামাযে ওয়াজিব ছুটে যায়। কিন্তু বৈঠক শেষে আমি সাহু সিজদা দিতে ভুলে যাই। ফলে উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেলি। এমতাবস্থায় আমি কী করতে পারি?

নামাযের প্রথম বৈঠকে না বসে ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৮৯৩) : আমি একদিন একাকী আসরের নামায আদায় করছিলাম। তখন প্রথম বৈঠকে না বসে ভুলে দাঁড়িয়ে যাই এবং নামায শেষে সাহু সিজদা আদায় করে নেই। তো আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে নাকি পুনরায় আদায় করতে হবে?

ইমাম সাহেব প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেল করণীয়।

প্রশ্ন (১১৮৯০) : ইমাম সাহেব মাগরিবের নামাযে প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যান। মুক্তাদীরা পেছন থেকে লোকমা দিলে ইমাম সাহেব বসে যান। তারপর নামায শেষে সাহু-সিজদা করেন। নামাযের পরে কয়েকজন মুসল্লি বলল, ইমাম সাহেবের দাঁড়ানো থেকে বসে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। এতে নামায নষ্ট হয়ে গেছে। আমি জানতে চাচ্ছি, আসলেই কি আমাদের ওই নামায নষ্ট হয়ে গেছে, নাকি সহিহ হয়েছে?