রমযান

ঋণ দেওয়া টাকার উপর কি যাকাত আবশ্যক হয়?

প্রশ্ন (১২২৬৮) : আল্লাহর রহমতে আমি বেশ কিছু সম্পদের মালিক হয়েছি। আমি প্রতি বছর রমযানের শুরুতে এই সম্পদের যাকাত আদায় করি। আমার একজন বন্ধু প্রায় ৫ বছর আগে আমার কাছ থেকে ৫ বছর মেয়াদে দশ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। ৫ বছর পর এই রমযানের মাস খানেক আগে তিনি সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এই দশ লক্ষ টাকা তো গত ৫ বছর আমার কাছে ছিল না, এখন এই বছর কি আমাকে অন্যান্য সম্পদের সাথে এই টাকারও যাকাত আদায় করতে হবে?

রমযান মাসে জামাতের সাথে বিতিরের নামায আদায়কালীন দুআয়ে কুনূত পড়ে শেষ করার আগে ইমাম সাহেব রুকুতে চলে …

প্রশ্ন (১২২৪৯) : আমি রমযান মাসে বিতিরের নামাযে মাঝে মাঝে এ সমস্যার সম্মুখীন হই যে, দুআয়ে কুনূত পুরোপুরি শেষ করার পূর্বে ইমাম সাহেব তাকবীর বলে রুকুতে চলে যান। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হব, নাকি কুনূতের বাকি অংশ পূর্ণ করব?

ইতিকাফরত অবস্থায় কি জানাযার নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২২৩১) : গত রোযায় প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। অসহনীয় গরমের কারণে আমাদের পাড়ার মসজিদটিতে কেউ ইতিকাফ করতে চাচ্ছিল না। গরমে মুআযযিন সাহেব আগের থেকে অসুস্থ ছিলেন। তাই আমি একাই আল্লাহর উপর ভরসা করে ইতিকাফে বসে পড়ি। ইতিকাফে থাকা অবস্থায় পাড়ার তিন ভদ্রলোক বৈরী আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। ফলে যথাক্রমে ২৩, ২৪, ২৫ রমযানে মসজিদের পূর্ব পাশের উঠানে জানাযা পড়াই। কারণ আমাদের পাড়ার অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজ করে। ইদানীং সময়ে কিছু ছেলে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এ পরিস্থিতির মাঝেও কি জানাযা পড়ানোর কারণে উক্ত তিন দিনের ইতিকাফ ভেঙে গেছে? উল্লেখ্য, ২৫ রমযানে জানাযা পড়ানোর পর ইস্তিসকার নামাযও পড়ানো হয়। সংবাদ আসছিল, বিভিন্ন এলাকায় সালাতুল ইস্তিসকা পড়া হচ্ছে। তাই আমরা আগের থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলাম যে, জানাযার পর ইস্তিসকার নামায অনুষ্ঠিত হবে।

যাকাত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২১৯৮) : গত রজব মাসে আমার স্ত্রীর বাবা মারা গেছেন। রমযানের কয়েক দিন আগে সম্পত্তি ভাগ করা হয়। আমার স্ত্রী কিছু জমি-জমাসহ নগদ দশ লক্ষ টাকা ক্যাশ পায়। এদিকে তার আগে থেকেই বিশ ভরির মত স্বর্ণ রয়েছে। আল্লাহর রহমতে প্রতি রমযানে তার যাকাত আদায় হয়ে থাকে। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এবার সে কি শুধু অলংকারের যাকাত দেবে নাকি মীরাস বাবদ যে টাকা পেয়েছে সেগুলোরও যাকাত দেবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

বিতরের নামাযে দুআয়ে কুনূত উচ্চ স্বরে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৬৯) : আমি নিউইয়র্ক থাকি। প্রতি রমযানে সাধারণত মসজিদে তারাবীহ পড়ানো হয়। এ রমযানে যে মসজিদে তারাবীহ পড়াচ্ছি, সেখানকার অধিকাংশ মুসল্লীই বিভিন্ন আরব দেশের নাগরিক। তারা ফিকহে হানাফীর অনুসারী নয়। তাদের আবদার হচ্ছে, বিতর নামাযে দুআয়ে কুনূতটা যেন উচ্চ স্বরে পড়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, হানাফী মাযহাবের কারো মতে কী দুআয়ে কুনূত উচ্চ স্বরে পড়ার সুযোগ আছে?

তারাবীহর নামাযে কুরআন দেখে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৬৭) : আমি আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। সেখান পুরো দুইশ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র একটি মসজিদ। দূর-দূরান্ত থেকে লোক এখানে নামায পড়তে আসে। রমযান মাসে কোনো হাফেয না পাওয়াতে সূরা তারাবীহ পড়তে হয়। সেখানকার কিছু মুসল্লীর পীড়াপীড়ি, উৎসাহ প্রদান ও সাহস যোগানোর কারণে আমি এ বৎসর আল্লাহর উপর ভরসা করে কুরআন হেফজ করা শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ প্রায় আঠারো পারা মুখস্থ করা শেষ হয়েছে। আমার ইচ্ছা হল, এবারের রমযানে এ আঠারো পারা দিয়ে নামায পড়াব। কিন্তু কিছু লোক আমাকে অনুরোধ করছে, অবশিষ্ট বারো পারা কুরআন শরীফ যেন দেখে পড়ে নিই। যাতে খতম পূর্ণ হয়। প্রশ্ন হল, দেখে দেখে নামাযে এভাবে কুরআন পড়া জায়েয হবে কি না? বিশেষত এক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবের মতামত কী?

ঋণের টাকা হাতে পাওয়ার পর কি সেগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৫১) : আল্লাহর রহমতে আমি বেশ কিছু সম্পদের মালিক হয়েছি। আমি প্রতি বছর রমযানের শুরুতে এই সম্পদের যাকাত আদায় করি। আমার একজন দ্বীনদার ব্যবসায়ী বন্ধু প্রায় ৩ বছর আগে আমার কাছ থেকে ৩ বছর মেয়াদে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ৩ বছর পর এই রমযানের মাস খানেক আগে তিনি সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এই পাঁচ লক্ষ টাকা তো গত তিন বছর আমার কাছে ছিল না, এখন এই বছর কি আমাকে অন্যান্য সম্পদের সাথে এই টাকারও যাকাত আদায় করতে হবে?

ফরয রোযার কাযা করার জন্য কখন নিয়ত করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৩৫) : গত রমযানে অসুস্থতার কারণে একটি রোযা রাখতে পারিনি। আজ সকাল আটটার দিকে ঘুম থেকে জেগে কাযা রোযাটি রাখার নিয়ত করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাড়িতে মেহমান আসায় তাদের পীড়াপীড়িতে তা ভেঙে ফেলি। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কয়টি রোযা রাখতে হবে? একটি, না দুটি?

ভুলে সময় হওয়ার আগে ইফতার করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২১১৯) : আমাদের বাসায় স্বাভাবিকভাবে রমযানে সকলেই মসজিদের আযানের পরই ইফতার করি। কিন্তু আমার দাদা সাধারণত আযানের অপেক্ষা করেন না। ঘড়িতে ইফতারের নির্ধারিত সময় হলেই ইফতার শুরু করে দেন। গত রমযানে একদিন বরাবরের মতই তিনি ঘড়িতে ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ায় ইফতার করে নেন। কিন্তু পরে জানা যায় যে সেদিন দুর্ঘটনাক্রমে ঘড়ি প্রায় ১২ মিনিট ফাস্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে ভুলে তিনি ইফতারের সময় হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগেই ইফতার করে নিয়েছেন। এখন মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, দাদার সেই রোযা কি ভেঙে গিয়েছিল? ভেঙে গিয়ে থাকলে এখন তার করণীয় কী?

রমযান মাসে মান্নতের ইতিকাফ আদায় করতে না পারলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১০৯) : আমি গত রমযানে ইতিকাফ করার মান্নত করেছিলাম। কিন্তু গত বছর বিভিন্ন সমস্যার কারণে ইতিকাফ আদায় করতে পারিনি। এখন আমি চাচ্ছি, আগামী রমযানে উক্ত মান্নত ইতিকাফের কাযা করে নিতে। এভাবে কাযা করে নিলে আমার মান্নত ইতিকাফ কি আদায় হয়ে যাবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

বিগত দিনের কাযা রোযার কাফ্ফারা কিভাবে আদায় করব?

প্রশ্ন (১২০৪৬) : আমি ভার্সিটির একজন ছাত্র। আগে দ্বীনের বুঝ না থাকায় নামায-রোযা ঠিকমত আদায় করতাম না। এখন দ্বীনের বুঝ পেয়েছি। তাই পিছনের জীবনে ছেড়ে দেওয়া নামায-রোযা কাযা করা শুরু করেছি। আমি বিগত রমযানে আব্বু আম্মুর জোরাজুরির কারণে ভোর রাতে সাহরী করে রোযা রাখতাম। পরে ভার্সিটিতে এসে ভেঙ্গে ফেলতাম। আমি শুনেছি, রোযা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেললে শুধু কাযা করাই যথেষ্ট না; বরং কাফফারা আদায় করতে হয়। জানার বিষয় হল, আমি তো এভাবে অনেক রোযা ভেঙ্গেছি। এখন আমি এত কাফফারা কীভাবে আদায় করব? শরীয়তে আমার জন্য কোনো ছাড় আছে কি?

রোযার নিয়তের আগে কিছু খেলে রোযা হবে কি

প্রশ্ন (১১৯৩৩) : গত রমযানে প্রথম রোযায় সাহরীতে উঠতে পারিনি। আযানের পর ঘুম থেকে উঠে পানি পান করি। তখন রোযার কথা স্মরণ ছিল না। পানি পানের পর রোযা কথা স্মরণ হয় এবং রোযার নিয়ত করি। জানতে চাচ্ছি, আমার কি সেদিনের রোযা হয়েছিল?

ইচ্ছাকৃত ভাঙ্গার পর হায়েয আসলে গুনাহ মাফ হবে কি

প্রশ্ন (১১৯২৮) : গত রোযায় শয়তানের ধোঁকায় পরে ইচ্ছাকৃত রোযা ভাঙ্গার পর সেদিনই সূর্যাস্তের আগে হায়েয আসে। জানতে চাচ্ছি, উক্ত কারণে ইচ্ছাকৃত রোযা ভাঙ্গার গুনাহ মাফ হবে কি?

দুগ্ধদানকারিনী মহিলা কি দুধ পান করানোর কারণে রোযা ছেড়ে দিতে পারবে?

প্রশ্ন (১১৭৫৯) : রমযানের তিন মাস আগে আমার একটি সন্তানের জন্ম হয়। তো রমযান মাস আসার পরে আমি রোযা রেখেই দুধ পান করাচ্ছিলাম। কিন্তু রোযা রেখে দুধ পান করানো আমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল। শারীরিকভাবে খুব দূর্বল হয়ে পড়ি। আবার বুকে দুধও কম আসছিল। আমার সন্তান ঠিকমত দুধ পাচ্ছিল না। তারও খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাই আমি আর বাকি রোযাগুলো রাখি নি। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হলো, এই কারণে কি আমার রোযা না রাখা ঠিক হয়েছে? আর ছুটে যাওয়া রোযাগুলোর ক্ষেত্রে আমার কী করণীয়?

সদকায়ে ফিতর রমযান মাসে আদায় করলে সহিহ হবে।

প্রশ্ন (১১৬৮৮) : রমযান মাসে যেহেতু দান-সদকার সওয়াব অধিক বেশি তাই আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের যাকাত-ফিতরা সবসময় রমযান মাসেই আদায় করে থাকি। কিন্তু সেদিন এক আলেমের নিকট শুনেছি যে, রাসূল (সা.) ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকায়ে ফিতর আদায় করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তো আমরা বিগত বছরগুলোতে আমাদের পরিবারের যে সমস্ত সদকায়ে ফিতর রমযান মাসে অগ্রিম আদায় করেছি তা কি ঠিক হয়েছে?

সফর অবস্থায় রোযা কাযা করে মারা গেলে কি ঐ রোযার ফিদইয়া দিতে হবে?

প্রশ্ন (১১৫৬১) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার বাবা বৃদ্ধ ছিলেন। গত রমযানের শুরুতে তিনি ব্যবসার কাজে পাঁচ দিনের জন্য ঢাকা থেকে রাজশাহী সফরে যান। যেহেতু সফরে রোযা না রাখার অনুমতি আছে এবং শারীরিকভাবেও তার কিছুটা দুর্বলতা ছিল, তাই তিনি তিনটি রোযা রাখেননি। চতুর্থ দিন রোযা রাখেন এবং সেদিন তারাবীহের নামাযের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এ রাতেই সফরে থাকা অবস্থায় তার ইন্তেকাল হয়ে যায়। যেহেতু তিনি তিনটি রোযা রাখেন নি এক্ষেত্রে কি তিন দিনের রোযার ফিদইয়া দিতে হবে? যদি দিতে হয়, তাহলে এক রোযার পরিবর্তে কী পরিমাণ টাকা দিতে হবে?

রমযানে কোনো কারণে রোযা ভেঙে গেলে বাকি দিন কি পানাহার বন্ধ রাখবে?

প্রশ্ন (১১৫১৭) : আমি একটি মাসআলার কিতাবে পড়েছিলাম যে, রমযান মাসে কোনো কারণে কারো রোযা ভেঙে গেলে বাকি দিন তার জন্য পানাহার করা জায়েয নয়। বাকি দিন তার জন্য রোযাদারের মতো পানাহারবিহীন থাকা ওয়াজিব। কিন্তু প্রশ্ন হল, রোযাবস্থায় কোনো মহিলার মাসিক শুরু হয়ে গেলে সেও কি দিনের বেলা বাকি সময় কিছু না খেয়েই থাকবে?

যাকাতের নেসাবের সাথে যাকাতযোগ্য নতুন সম্পদ যোগ হলে কি বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে সেগুলোর যাকাত দিতে হব…

প্রশ্ন (১১৫০৬) : আমার তিন ভরি স্বর্ণের অলংকার আছে। সাথে পঞ্চাশ হাজার টাকাও আছে। প্রতি বছর রমযান মাসে আমি এগুলোর যাকাত আদায় করে থাকি। এই বছর রমযানের দুই মাস আগে আমার স্বামী আমাকে আমার মহরের পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। উক্ত পঞ্চাশ হাজারের তো যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয়নি। এখন এ বছর কি এই টাকার যাকাত আদায় করতে হবে?