রমযান

রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেললে কি কাযা-কাফ্ফারা উভয়টিই আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৮৪) : আমি রমযানের ২০ তারিখ বালেগ হই। প্রায়ই এমন হত যে, আমার রোযা রাখার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মায়ের পীড়াপীড়িতে রোযা রাখতাম না। আবার কয়েকদিন আমি নিজেই রোযা রাখিনি। এ দশদিনের মধ্যে কতদিন আমি রোযা রেখেছি আর কতদিন রাখিনি সেটা আমার পুরো স্মরণ নেই এখন আমি কী করব?

ভুলে ইফতারের সময় হওয়ার আগেই ইফতার করে ফেললে কি কাফ্ফারা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৬১) : এবার রমযান মাসে একদিন মুয়াযযিন সাহেব ঘড়ি দেখে মাগরিবের আযান দিয়েছেন। তার আযান শুনে মহল্লার অনেক লোক ইফতার করে ফেলেছেন। পরে মহল্লার অন্যান্য মসজিদের আযান, রেডিওর আযান ও রোযার চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে দেখা গেল যে, বাস্তবে তারা সূর্য ডোবার আগেই ইফতার করেছিলেন। জানতে চাই, যারা ইফতার করে ফেলেছেন তাদের রোযা কি ভেঙ্গে গেছে? যদি ভেঙ্গে যায় তাহলে কাযা করলেই যথেষ্ট হবে নাকি কাফফারাও দিতে হবে?

এশার ফরয না পড়ে তারাবী পড়লে কি উক্ত তারাবী আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৬২০) : আমি রমযান মাসে তারাবীর নামাযে সম্পূর্ণ খতম শোনার চেষ্টা করি। তো এবার রমযানে একদিন মসজিদে গিয়ে দেখি, ইমাম সাহেব এশার নামায শেষ করে তারাবী শুরু করে দিয়েছেন। তখন খতম পূর্ণ হবে না- এ চিন্তা করে আমি এশার ফরয না পড়েই তারাবীতে শরিক হয়ে যাই। পরে তারাবী শেষে এশার নামায পড়ে বিতির পড়ি। এখন জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত তারাবীর নামায আদায় হয়েছে কি? যদি না হয়ে থাকে তাহলে এখন আমার করণীয় কী?

অস্থায়ী নামায ঘরে ইতিকাফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৬২) : আমাদের মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে। তাই মসজিদের পাশে এক ব্যক্তির জায়গায় টিন দিয়ে একটি নামাযের ঘর বানানো হয়েছে। বর্তমানে রমযান মাসেও এখানেই নামায পড়তে হচ্ছে। এখন আমাদের জানার বিষয় হলো, রমযানের শেষ দশকে এই অস্থায়ী মসজিদটিতে ইতিকাফ করা যাবে কি?

ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা না রাখলে কি উক্ত রোযার কাফ্ফারা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৩৮) : আমার স্বাভাবিক অভ্যাস হলো প্রতি ২৭ দিন পরপর আমার স্রাব শুরু হয়। সে হিসেবে ১১ রমযান আমার স্রাব শুরু হওয়ার দিন ছিল। তাই ১০ রমযান দিবাগত রাতে আমি সাহরী খাইনি এবং পরের দিন রোযার নিয়তও করিনি। ফলে ১১ রমযান সকাল থেকে আমি স্বাভাবিকভাবেই পানাহার করতে থাকি। কিন্তু সেদিন আমার স্রাব শুরু হয় রাত থেকে। এখন জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযার হুকুম কী? শুধু কাযা করলেই হবে, নাকি কাফফারাও আদায় করতে হবে? অনুগ্রহ করে জানালে উপকৃত হব।

অগ্রীম যাকাত দিলে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৩৭) : আমার ছোট একটা ব্যবসা আছে। প্রতি রমযান মাস শুরু হওয়ার আগে আমি ব্যবসার বাৎসরিক হিসাব সম্পন্ন করে রমযানের শুরু থেকে যাকাত দেওয়া শুরু করে দেই। এ বছর ঈদের আগের দিন হিসাব শেষে দেখলাম, আমার যে পরিমাণ যাকাত ওয়াজিব হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি আদায় করা হয়েছে। আমি জানতে চাই, যাকাত হিসেবে অতিরিক্ত যে অংশ আমি আদায় করেছি তা কি আমি আগামী বছরের যাকাত হিসেবে গণ্য করতে পারব?

কাজ করে দূর্বল হয়ে পড়লে রোযা ভেঙে ফেলা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪১২) : গত রমযানে একদিন আমাদের বাড়ির অনেকগুলো গাছ কাটি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা কাজ করি। আর রোদের তেজও ছিল প্রখর। আসরের সময় হঠাৎ মাথা ঘোরানো শুরু হয়। তখন কষ্ট সহ্য করতে না পেরে রোযা ভেঙ্গে ফেলি। এখন আমার প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে আমার কী করণীয়? শুধু কাযা করলেই হবে, নাকি কাফফারাও আদায় করতে হবে? অনুগ্রহ করে জানালে উপকৃত হব।

তারাবীর বিনিময়ে হাফেয সাহেবকে হাদিয়া দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪০৪) : আমরা প্রতি রমযানে আমাদের মসজিদে খতম তারাবীর ব্যবস্থা করি। আমরা সবাই মিলে টাকা উঠিয়ে রমযানের শেষে হাফেয সাহেবকে কিছু হাদিয়া দিয়ে থাকি। এটা কি জায়েয আছে?

দুগ্ধদানকারিনী মহিলা রোযা ভাঙতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৯৪) : আমাদের সন্তান হয়েছে ১ মাস হলো। আমার স্ত্রী শারীরিকভাবে দুর্বল। রোযা অবস্থায় দুধ খাওয়ালে তার রোযা রাখতে খুব কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে সন্তান দুধই পায় না। সে দুটি রোযা রেখে ভেঙে ফেলেছিল। ডাক্তারের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বাচ্চাকে সাগু ও সেরেলাক খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু বাচ্চা এগুলো খেতে চায় না। এদিকে তার মা রোযাও রাখতে চায় ওদিকে সন্তানের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে শরয়ী সমাধান জানালে আমরা কৃতজ্ঞ হবো। আর যে দুটি রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেলেছে তার কাযা কাফফারা দিতে হবে কি?

একই সাথে রমযানের কাযা রোযা ও শাওয়ালের রোযার নিয়ত করলে তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৭৮) : কেউ যদি শাওয়াল মাসে রমযানের কাযা রোযা রাখে এবং এর সাথে শাওয়ালের ছয় রোযার নিয়তও করে তাহলে ফরযের কাযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে কি?

মহিলাদের জন্য জামাতে নামায আদায় করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৩৭২) : আমরা দুই ভাই আর বাবা মিলে প্রতি রমযানে বাসায় জামাতে তারাবীর নামায পড়ি। আগামী রমযান থেকে আমার বোন আর আম্মুও আমাদের সাথে শরীক হতে চাচ্ছেন। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আম্মু আর আপু আমাদের সাথে শরীক হলে আমরা কীভাবে কাতার করে দাঁড়াব? আর মহিলাদের জন্য বাসায় বা বাইরে জামাতে অংশগ্রহণ করার বিধান কী? বিস্তারিত দলীলসহ জানতে চাই।

রমযানে মান্নতকৃত ইতিকাফ আদায় করতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩৪৬) : গত বছর কোনো কারণে আমি রমযানে ইতিকাফের মান্নত করি। কিন্তু অসুস্থতার দরুণ গতবার তা করতে পারিনি। এবার রমযানে আমি উক্ত ইতিকাফের কাযা আদায় করতে চাচ্ছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এই রমযানে ইতিকাফ করার দ্বারা কি আমার সেই মান্নত আদায় হবে? নাকি সেই ইতিকাফ ভিন্ন করে কাযা করতে হবে?

ঔষুধ খেয়ে স্রাব বন্ধ করে রমযানের রোযা রাখলে উক্ত রোযার হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১৩৩১৯) : মহিলারা যদি রমযান মাসে কোনো ঔষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখে তাহলে ওই দিনগুলোতে রোযা রাখতে পারবে কি? আর ‍এভাবে রোযা রাখলে উক্ত রোযার হুকুম কী হবে?

অসুস্থতার দরুণ রোযা রাখতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩২৮৮) : গত রমযান মাসে আমার দাদা ইন্তেকাল করেন। অসুস্থতার দরুণ তিনি কোনো রোযা রাখতে পারেননি। আমার বাবা-চাচারা এখন তার উক্ত রোযাগুলোর ফিদয়া আদায় করতে চাচ্ছেন। তাই জানতে চাই, তার ছুটে যাওয়া প্রতি রোযার জন্য কত টাকা করে ফিদয়া আদায় করতে হবে?

রমযানের কাযা রোযা ও শাওয়ালের নফল রোযার নিয়ত একসাথে করলে কি শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১৩২৮২) : রমযানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে রাখলে উভয়টি আদায় হবে কি? এবং কাযা ও নফল রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে কি?

যাকাত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩১৯৯) : আমি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট বিভাগে কর্মরত। এ বছর সকল কর্মকর্তার জুন মাসের সেলারি রমযানের পূর্বেই (মে মাসের শেষে) একসাথে ব্যাংক থেকে উঠিয়ে আমার কাছে রাখা হয়। এর মধ্যে আমার সেলারিও ছিল। এমডি স্যারের নির্দেশ ছিল, নির্ধারিত সময়ে (জুনের ২০ তারিখে) সকল কর্মকর্তার সেলারি পরিশোধ করা হবে। এর পূর্বে কারো সেলারি দেওয়া যাবে না। সে হিসেবে ২০ তারিখেই সকলের সেলারি দেয়া হয়। আমার সেলারিও ২০ তারিখেই নিয়েছি। আমি যাকাতের হিসাব করি রমযানের ১ তারিখে। রমযানের ১ তারিখে (২৮শে মে) জুন মাসের সেলারি আমার কাছেই ছিল। এখন আমার প্রশ্ন হল, গত বছরের যাকাতের হিসাবে জুন মাসের সেলারি হিসাব হবে কি?

রমযান মাসে মহিলাদের ইতিকাফ করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩১৮৯) : রমযানের শেষ দশকে মহিলাদের ইতিকাফের কী হুকুম? তাদের কেউ ইতিকাফ শুরু করার পর নির্দিষ্ট স্থান থেকে কোনো প্রয়োজন ব্যতীত বের হতে পারবে কি? বিনা কারণেই তিন-চার ঘন্টা সময় যদি বাহিরে থাকে তাহলে কি তার ইতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে? জানালে উপকৃত হব।

সন্তানদেরকে কত বছর বয়স থেকে রোযার রাখার অভ্যাস করানো উচিত?

প্রশ্ন (১৩১৩১) : আমাদের সমাজে ধার্মিক পরিবারগুলোতে পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে ৭/৮ বছর বয়স থেকেই নামাযের প্রতি উৎসাহ দিতে শুরু করেন এবং এ ব্যাপারে তাদেরকে খুব সচেতন বলেই মনে হয়। কিন্তু রমযানের রোযার ব্যাপারে কখনো কখনো এর বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হয়। এমনকি কেউ কেউ তো সন্তানের বয়স ১১/১২ হওয়া সত্ত্বেও তাকে রোযা থেকে বিরত রাখেন। এ ব্যাপারে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, সন্তানের এখনও রোযার বয়স হয়নি। হযরতের নিকট জানার বিষয় হল, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকের রোযার ক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

রমযানের কাযা রোযা আদায় আগে শাওয়ালের নফল রোযা রাখা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৬৩) : গত রমযানে আমি অসুস্থ থাকার কারণে কয়েকটি রোযা রাখতে পারিনি। এখনও তা কাযা হিসাবে রয়ে গেছে। কিন্তু রমযানের পরে কাযা রোযা না রেখে শাওয়ালের নফল রোযা রেখেছিলাম। তাই হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, কাযা রোযা না রেখে নফল রোযা রাখলে তা কি সহিহ হবে?