কুরবানী

কুরবানীর পশু ক্রয় করার পর কুরবানী করার আগেই মারা গেলে উক্ত পশুর হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৭০৬) : আমার বাবার উপর কুরবানী ওয়াজিব ছিল। তিনি কুরবানীর জন্য একটি খাসি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু ঈদের আগের দিন রাতে কার এক্সিডেন্টে মারাত্মকভাবে আহত হন। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু পরদিন বিকাল ৫টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। বাবার মৃত্যুতে পুরো পরিবার শোকাহত থাকায় পশু কুরবানী করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে আর তা কুরবানী করা হয়নি। একজন বললেন, এটা সদকা করে দিতে হবে। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, এ খাসিটি আমরা কী করব?

কুরবানীর কাযা কিভাবে আদায় করতে হয়?

প্রশ্ন (১২৭০০) : আমি কয়েক বছর যাবৎ নিয়মিত কুরবানী আদায় করছি। কিন্তু এর আগে কয়েক বছর কুরবানী আবশ্যক হওয়া সত্ত্বেও না জানার কারণে তা আদায় করতে পারিনি। তাই জানার বিষয় হল, এখন কি অনাদায়ী কুরবানীগুলো আদায় করা লাগবে? এবং তা করার শরীয়তসম্মত পদ্ধতি কী?

নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও হাতে টাকা না থাকলে কি ঋণ করে কুরবানী দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৭০) : আমি ভার্সিটিতে পড়াশোনা করি। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করি। টিউশনি থেকে প্রাপ্ত টাকার একটা অংশ আমি ব্যাংকে জমা করি। এভাবে ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে। গত তিন মাস আগে আমার এক বন্ধুর একটি বিপদে সে টাকাগুলো তাকে ঋণ দিয়েছি। বর্তমানে আমার কাছে অতিরিক্ত কোনো সম্পদ নেই। আমি একজন হুজুরের কাছে শুনেছিলাম যে, কেউ যদি ৪০ হাজার টাকা বা সে পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। তার কাছে যদি নগদ টাকা না থাকে তাহলে কিছু সম্পদ বিক্রি করে বা ঋণ নিয়ে হলেও কুরবানী দিতে হবে। এখন আমার প্রশ্ন হল, এ অবস্থায় আমার উপর কি কুরবানী ওয়াজিব হয়েছে? দ্রুত মাসআলাটির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।

ইনসিওরেন্সের টাকা কি হালাল?

প্রশ্ন (১২৫৩৪) : আমার আম্মা প্রগতি লাইফ ইনসিওরেন্স দশ বছর মেয়াদী একটি বীমা করেন। মাসে ২০০ টাকা করে দশ বছরে ২৪০০০ টাকা জমা হয়। ইনসিওরেন্স কোম্পানি এ টাকার সাথে আরোও ১৬০০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৪০০০০ টাকা দিয়েছে। যা একটি ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে। তিনি এখন জানতে চাচ্ছেন যে, তার এ টাকার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে কি না? কেউ কেউ বলেছে, ইনসিওরেন্স ডিভিডেন্ড হারাম। তাই তার উপর কুরবানী আসবে না। আবার কেউ বলেছে, যেহেতু অধিকাংশ টাকা হালাল, তাই এর উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কুরবানী করার মান্নত করলে কি দুইটা কুরবানী করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৪৮৯) : কিছুদিন আগে আমার ছেলে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন আমি মান্নত করেছিলাম, আল্লাহ যদি আমার ছেলেকে সুস্থ করে দেন তাহলে আমি আগামী কুরবানীর ঈদে একটি কুরবানী করব। আল্লাহর রহমতে আমার ছেলে এখন সুস্থ। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, প্রত্যেক বছর তো আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়। এখন আমার কি দুটো কুরবানী করতে হবে, নাকি একটি করলেই চলবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কুরবানীর নেসাব।

প্রশ্ন (১২৪৬৬) : কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে একজনের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

কুরবানীর পশুতে কোনো শরীকের অংশ এক সপ্তমাংশের কম হলে কি কুরবানী সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৪৬৫) : কুরবানীর পশুতে কোনো শরীকের অংশ এক সপ্তমাংশের কম হলে সকল শরীকের কুরবানীই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের এলাকায় একজন মুফতী সাহেব এমন একটি ঘটনায় ফতোয়া দিয়েছেন যে, শুধু ঐ শরীকের কুরবানীই নষ্ট হবে। অন্য শরীকের কুরবানী সহিহ হয়ে যাবে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, অন্য শরীকদের কুরবানী কেবল ঐ ক্ষেত্রেই নষ্ট হয়, যেক্ষেত্রে কোনো শরীক হারাম মাল দ্বারা কুরবানী করে অথবা দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে শরীক হয়। মুফতী সাহেবের কাছে বিনীত নিবেদন, হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদির হাওয়ালাসহ মাসআলাটির সঠিক সমাধান জানাবেন।

কংকর নিক্ষেপ, কুরবানী ও হলক করার আগে তাওয়াফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৮) : আমি আমার মাকে নিয়ে গত বছর হজ্বে যাই। মক্কায় পৌঁছে প্রথমে উমরা করি। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে পুনরায় ইহরাম বেঁধে হজ্বের কাজগুলো করতে থাকি। দশম তারিখে তাওয়াফের সময় প্রচন্ড ভিড়ের আশংকা করে কংকর নিক্ষেপ না করে সরাসরি মক্কায় চলে যাই এবং তাওয়াফ করে নেই। তারপর ঐ দিনের বাকি আমলগুলো যথানিয়মে আদায় করি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফ কি কংকর নিক্ষেপ, কুরবানী ও হলকের পরই করতে হবে? কংকর নিক্ষেপ করার আগে তাওয়াফ করা যাবে কি? যদি তাওয়াফ করা না যায় তাহলে আমরা যে তাওয়াফ করেছি তার কারণে কোনো জরিমানা আদায় করতে হবে কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

বন্য ছাগল-ভেড়া কিছু দিনের জন্য খামারে আটকে কুরবানী করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৪) : আমি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। আমার জানার বিষয় হল, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বন-জঙ্গলে ও পাহাড়ী এলাকায় মালিকানাহীন অনেক বন্য ছাগল-ভেড়া থাকে। কুরবানীর কিছু আগে খামারীরা সে সমস্ত বন্য ছাগল-ভেড়া ধরে এনে কিছু দিন খামারে রাখে। এই ছাগল-ভেড়াগুলো সাধারণ ছাগল-ভেড়া থেকে আকারে একটু বড় হয়। এগুলো খামারীদের যেহেতু কিনতে হয় না তাই এগুলো তারা সস্তা দামে বিক্রি করে দেয়। জানতে চাই, এই বন্য ছাগল-ভেড়া দ্বারা কুরবানী করা কি সহিহ হবে?

কুরবানীর গরু ক্রয় করার পর তাতে কাউকে শরীক করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৪৬) : আমরা পাঁচ ভাই-বোন। কুরবানীর উদ্দেশ্যে আমরা একটি গরু ক্রয় করি। ক্রয় করার সময় আমাদের নিয়ত ছিল, আমরা নিজেরাই গরুটি কুরবানী করব। বাইরের কাউকে শরীক করব না। আমাদের প্রতিবেশী এক ভাই আমাদের এই গরুতে শরীক হতে চাচ্ছে। আমরা কি তাকে শরীক করতে পারব? আমাদের এই গরুর এক ভাগ আমরা মরহুম আব্বাজানের নামে দিব। প্রশ্ন হল, এই ভাগের গোশত কি পুরোটা গরীব-মিসকীনদের সদকা করে দিতে হবে? নাকি আমরা নিজেরাও খেতে পারব? এই এক ভাগ কি আমরা পাঁচ জন মিলে দিতে পারব? নাকি একজনের দেওয়া আবশ্যক? বিষয়গুলো জানালে কৃতজ্ঞ হব।

বিগত বছরের কুরবানীর কাযা কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২৪২২) : আমি গত কয়েক বছর যাবৎ কুরবানী ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও কুরবানী করিনি। এখন বিগত কাযা কুরবানীগুলো আদায় করতে চাচ্ছি। হুজুরের কাছে আমার প্রশ্ন হল, আমি যদি প্রতি বছরের জন্য গরুর সাত ভাগের এক ভাগের যে মূল্য আসে, সেই মূল্য সদকা করি, তাহলে কি আমার কাযা কুরবানী আদায় হবে? নাকি প্রতি বছরের জন্য একটি ছাগলের মূল্য সদকা করতে হবে? উদাহরণ সরূপ, একটি গরুর দাম ৪২ হাজার টাকা। আর সাতটি ছাগলের দাম ৭০ হাজার টাকা। এখন আমি যদি ৭ বছরের জন্য ৪২ হাজার টাকা সদকা করি। তাহলে কুরবানী আদায় হবে কি না? নাকি ৭০ হাজার টাকা সদকা করতে হবে? দলীলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

পশু জবাইকারীর জন্য বিসমিল্লাহ বলার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৪০৮) : কুরবানীর দিন কোথাও এমন দেখা যায় যে, কুরবানীর পশুর হাত, পা, মাথা ইত্যদি যারা ধরে আছে, তাদেরকে জবাই করার সময় উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ বলার জন্য বলা হয় এবং সবার এমনটি করা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কেউ না বললে তিরস্কার করা হয়। প্রশ্ন হল, যারা কুরবানীর পশু জবাই করতে বিভিন্নভাবে শরীক হয়েছে, তাদের সবার জন্যই কি বিসমিল্লাহ বলা জরুরি? এক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুমটি জানতে চাচ্ছি।

বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার কত দিন পর আকীকা করা সুন্নত?

প্রশ্ন (১২৪০৩) : কুরবানী ঈদের দুদিন আগে আমার ছেলে ভূমিষ্ঠ হয়। ঈদের দিন কুরবানীর সঙ্গে তার আকীকা আদায় করি। এক লোক বললেন, ‘আমার এই আকীকা আদায় করা সহিহ হয়নি। কেননা আকীকা করতে হয় বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাত দিন পর। এর আগে করলে আদায় হয় না।’ তার এই কথা কি ঠিক?

পশুর চামড়া ছিলার আগে তা বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩৭৭) : কুরবানীতে আমরা অনেক সময় গরু জবাই করার আগে অথবা গরু জবাই করার পর চামড়া ছাড়ানোর পূর্বেই চামড়া বিক্রি করে দিই। জানার বিষয় হল, এভাবে চামড়া বিক্রি করা শুদ্ধ কি না? জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।

কুরবানী সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩০৮) : গত কুরবানীর ঈদে আমার বড় ভাই দুটি গরু কুরবানী দেন। একটি রাসূল (সা.)-এর পক্ষ থেকে। অপরটি নিজের পক্ষ থেকে। রাসূল (সা.)-এর পক্ষ থেকে দেওয়া কুরবানীর গোস্ত পুরোটা গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেন। জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির নামে দেওয়া কুরবানীর গোস্ত নিজেরা খাওয়া যায় না। গরীবদেরকে দিয়ে দিতে হয়। জানার বিষয় হল, আমার বড় ভাইয়ের কথা কি ঠিক? অন্যথায় সঠিক মাসআলা কী?

কুরবানীর পশু ক্রয় করার পর আহত হলে বা মারা গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৩৮) : আমাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। কিন্তু গত বছর আফতাবনগরে গরুর দাম পড়ে যাওয়ায় আমি ও এক ভাই দুইটি গরু ক্রয় করি। পরে তা পিকআপ ভ্যানে করে এলাকায় নিয়ে আসি। ভ্যান থেকে গরু নামানোর সময় দুটি গরুই পায়ে প্রচন্ড আঘাত পায়। ব্যাথার কারণে আমার গরুটির গায়ে জ্বর এসে যায় এবং একপর্যায়ে ঈদের আগের দিন সকালে মারা যায়। আর ভাইয়ের গরুটি কুরবানী করা গেলেও বাসায় নিয়ে কুরবানী করা সম্ভব হয়নি। কারণ ব্যাথায় গরুটি হাঁটতে সক্ষম ছিল না। তাই উক্ত স্থানেই ঈদের দিন পর্যন্ত গরুটিকে বেঁধে রাখা হয়। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, এ অবস্থায় আমার জন্য কি নতুন একটি পশু ক্রয় করা উচিত ছিল? আর অপর ভাইয়ের উক্ত গরু দ্বারা কি কুরবানী সহিহ হয়েছে?

কুরবানীর পশুর চামড়া কি নিজে ব্যবহার করা জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১২২২২) : কিছুদিন আগে আমি আমার বড় খালামণির বাসায় গিয়েছিলাম। বাসায় যাওয়ার পর খালাতো ভাই বড় একটি চামড়া এনে তাতে বসতে বলল। আমি বললাম, এটা কিসের চামড়া? কোত্থেকে কিনেছ? সে বলল, এটা আমাদের গত কুরবানীর গরুর চামড়া। আমি বললাম, কুরবানীর চামড়া তো গরীবদের দিয়ে দিতে হয়। এটা তাদেরই হক। সে বলল, নিজরাও ব্যবহার করা যায়। হুজুরের কাছে কুরবানীর চামড়ার বিষয়টি বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি।

নিজের জমাকৃত টাকা অন্যকে ধার দিয়ে দিলে কি কুরবানী করতে হবে?

প্রশ্ন (১২২০৫) : আমি পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করি। টিউশনি থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে প্রয়োজন পূর্ণ করার পর অবশিষ্ট টাকা ব্যাংকে জমা রাখি। এভাবে ৫৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। তিন মাস আগে এক বন্ধুর একটি বিপদে এই টাকাগুলো তাকে ঋণ দিয়েছি। বর্তমানে আমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো সম্পদ নেই। আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমার উপর কি কুরবানী ওয়াজিব? কুরবানী করতে হলে আমাকে ঋণ নিয়ে কুরবানী করতে হবে। এখন আমার করণীয় কী? মাসআলাটির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।

রাতে কুরবানী দিলে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রশ্ন (১২১৮১) : কুরবানীর সময় কসাই খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই আমরা কয়েকজন মিলে নাটোর থেকে ভালো একদল জাত কসাইয়ের ব্যবস্থা করে থাকি। গরু অনেক হওয়ায় প্রায় দেখা যায়, কারো কারো গরু রাতে জবাই দিতে হচ্ছে। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি, রাতে কুরবানী দিলে কি কোনো সমস্যা আছে?