হায়েয ও নিফাস

নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর নামায আদায়ের পূর্বেই হায়েয শুরু হয়ে গেলে ঐ ওয়াক্তের নামায কি কাযা করতে…

প্রশ্ন (১৩৮৩৬) : কখনো দেখা যায়, নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর নামায আদায়ের পূর্বেই হায়েয চলে আসে। জানতে চাই, পরবর্তীতে ঐ ওয়াক্তের নামায কি কাযা করা জরুরি?

হায়েযের সময় কোনো মহিলা দলিল পেশ করার উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াত পাঠ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৮৬) : হায়েযরত অবস্থায় তিলাওয়াতের নিয়ত ব্যতীত শুধু দলিল পেশ করার উদ্দেশ্যে এক শ্বাসে অথবা শ্বাস ছেড়ে ছেড়ে কুরআনের আয়াত পড়া যাবে কি?

ঔষুধ প্রয়োগ করে গর্ভস্থ সন্তানকে নষ্ট করে ফেললে কি ইদ্দত পূর্ণ হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৯৮) : আমাদের এক আত্মীয়ার বিবাহ হয় গত বছর। মেয়েটির গর্ভে সন্তান আসার পর তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেয়। এ দুঃখে ও ক্ষোভে মেয়েটি ঔষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভস্থ সন্তানকে নষ্ট করে দেয়। এখন সে ইদ্দত কীভাবে পালন করবে? এই গর্ভপাতের দ্বারা কি ইদ্দত শেষ হয়ে গেছে? নাকি ঋতুস্রাবের মাধ্যমে ইদ্দত পালন করতে হবে?

মহিলারা হায়েয আবস্থায় কি আযানের জবাব দিতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৫৮২) : আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, হায়েয অবস্থায় তো মহিলারা কুরআন পড়তে পারে না। জানার বিষয় হলো, হায়েয অবস্থায় আযানের জবাব দিতে পারবে কি?

মহিলারা রোযার কাফ্ফারা কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩৫৫৯) : আমি দুই বছর আগে শরীয়তসম্মত কোনো ওজর ছাড়াই রমযানের একটি রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেলেছিলাম। এখন আমি সে রোযার কাফফারা আদায় করতে চাচ্ছি। কিন্তু আমাদের জন্য তো ধারাবাহিক ষাটটি রোযা রাখা সম্ভব নয়। কারণ প্রতিমাসেই ছয়-সাতদিন ঋতুস্রাব হয়। এখন আমার করণীয় কী?

উমরার তাওয়াফ করার আগেই কোনো মহিলার স্রাব চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৫৫৩) : আমার ভাবি উমরাহ করতে যায়। কিন্তু উমরার তাওয়াফ করার আগেই তার মাসিক স্রাব এসে যায়। পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও স্রাব বন্ধ হয়নি। এদিকে সফরের আর মাত্র দুই দিন বাকি। দুই দিন পরই দেশে চলে আসতে হবে। এখন তার করণীয় কী? মাসআলাটি বিস্তারিত জানতে চাই।

মাসিকের সময় মহিলারা দুআ পড়তে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৫৭) : আম্মু ঋতুস্রাবের দিনগুলোতেও বিভিন্ন মাসনুন দুআ পড়েন। আম্মুর দেখাদেখি আমরাও এ সময়গুলোতে মাসনুন দুআসমূহ আদায় করি। কিন্তু একজন বলল, মেয়েদের জন্য এ সময়ের দুআ-দরূদ পড়া কিংবা যিকির-আযকার করা কোনোটিই জায়েয নেই। জানতে চাচ্ছি, এই কথা কি সঠিক?

ঔষুধ খেয়ে স্রাব বন্ধ করে রমযানের রোযা রাখলে উক্ত রোযার হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১৩৩১৯) : মহিলারা যদি রমযান মাসে কোনো ঔষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখে তাহলে ওই দিনগুলোতে রোযা রাখতে পারবে কি? আর ‍এভাবে রোযা রাখলে উক্ত রোযার হুকুম কী হবে?

ইহরাম অবস্থায় হায়েয চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩২৪৬) : আমি আমার স্বামীর সাথে হজ্বে যাই। ওখানে পৌঁছার পর উমরার তাওয়াফ করার আগেই আমার মাসিক স্রাব শুরু হয়ে যায়। কিন্তু তখন তা আমি পুরো বুঝতে পারিনি। তাওয়াফ সায়ী শেষ করার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম যে, তাওয়াফের আগেই আমার মাসিক শুরু হয়েছিল। এরপর আমি আমার মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যাই। পরে একজন আলেমকে ব্যাপারটি জানালে তিনি বলেন, এখন পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফটি করে নিতে। তাহলে আর কোনো জরিমানা দিতে হবে না। নতুবা একটি দম দিতে হবে। কিন্তু একজন সন্দেহ পোষণ করছেন যে, এখন তো আমি উমরার সব কাজ শেষ করে হালাল হয়ে গেছি। এখনো আমার এ সুযোগ আছে কি না? তাই এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী তা জানতে চাই। এখন ওই তাওয়াফ পুনরায় আদায় করলে কি জরিমানা মাফ হয়ে যাবে এবং এক্ষেত্রে সায়ীও কি আবার আদায় করতে হবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

ঔষুধের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখলে উক্ত সময়ের নামায-রোযার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩০৫০) : বর্তমানে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে মাসিক স্রাব বন্ধ করে রাখা যায়। তাই অনেকে রমযান মাসের সবগুলো রোযা রাখার জন্য ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখে। বিশেষত হ্জ্ব চলাকালীন হায়েয আসলে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই অধিকাংশ মহিলা হজ্বের সময়গুলোতে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখে, যেন হজ্বের আমলগুলো কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সম্পাদন করা যায়। এজন্য হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এভাবে ঋতুস্রাব বন্ধ করে রাখা কি জায়েয আছে? এ অবস্থায় কি সে নামায, রোযা ও তাওয়াফ ইত্যাদি আদায় করতে পারবে? যদি পারে তাহলে পরবর্তীতে এগুলো কাযা করা লাগবে কি না? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

নফল নামায শুরু করার পর মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি তা কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৯) : একদিন শেষ রাতে নফল নামায পড়া অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে যায়। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত নফল নামায কি পবিত্র হওয়ার পর কাযা করতে হবে?

তিন মাসের বাচ্চা নষ্ট হবার পর আসা রক্তের হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৮৩৫) : আমার গর্ভে তিন মাসের বাচ্চা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ময়লা পরিষ্কারের জন্য ডাক্তার ঔষুধ দিয়েছে। আমি সেই ঔষুধ খাচ্ছি। ২০ দিন হলো ব্লাড আসছে। একটুও কমে নাই। এখন কি আমি নামাজ আদায় করতে পারব?

নেফাস শেষ হওয়ার পর ১৫ দিন অতিক্রম হওয়ার আগেই স্রাব দেখা দিলে তা কি হায়েয হিসেবে গণ্য হবে?

প্রশ্ন (১২৮০৬) : দেড় মাস আগে আমার সন্তান হয়। তারপর ৩৫ দিন স্রাব থাকার পর সুস্থ হই। এর ৭ দিন পর পুনরায় নিয়মিত স্রাব শুরু হয় এবং অন্যান্য সময়ের মত স্বাভাবিকভাবেই ৬ দিন পর্যন্ত স্রাব আসে। আমি এ ৬ দিন মাসিকের সময় হিসেবে নামায আদায় করিনি। গতকাল আমার এক আত্মীয়ের কাছে এই বিষয় বললে তিনি আমাকে বললেন, দুই স্রাবের মাঝে যেহেতু ১৫ দিন ব্যবধান হয়নি তাই পরবর্তী ৬ দিন ইস্তেহাযা বলে গণ্য হবে। তাই ঐ দিনগুলোর নামায কাযা করতে হবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক? এবং ঐ ছয় দিনের নামায কাযা করতে হবে কি?

ঋতুস্রাব চলাকালীন মহিলারা শিখানোর উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৪৭) : ঋতুস্রাব চলাকালীন মহিলারা শেখানোর উদ্দেশ্যে কুরআন শরীফের এক আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করতে পারবে কি? আমি একজন থেকে শুনেছি, শেখানোর উদ্দেশ্যে এক আয়াত এক আয়াত করে তিলাওয়াত করা জায়েয হবে। কিন্তু একজন আলেম বললেন, শেখানোর উদ্দেশ্যেও এক আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করা জায়েয হবে না। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, উক্ত আলেমের কথা কি ঠিক আছে? দলীলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

রমযানের রোযার কাফ্ফারা বিরতিহীন রাখা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৬১৭) : আমার স্ত্রীর উপর রমযানের একটি রোযার কাফফারা ওয়াজিব হয়েছিল। কাফফারার ষাটটি রোযার মধ্যে এগারোটি রোযা লাগাতার রাখে। বারোতম দিনে একটি দূরের সফরে বের হলে পথিমধ্যে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে রোযা ভাঙ্গতে বাধ্য হয়। তিন দিনের লাগাতার অসুস্থতার পর চতুর্থ দিন থেকে আবার কাফফারার রোযা রাখতে শুরু করে। এখন প্রশ্ন হল, সে তার গণনা বারোতম রোযা থেকে করবে, না আবার শুরু থেকে শুরু করবে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? দ্রুত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

স্বামী মৃত্যুশয্যায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর সে মারা গেলে স্ত্রী কিভাবে ইদ্দত পালন করবে?

প্রশ্ন (১২৪৬৮) : আমি আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রী। কিছুদিন আগে আমার স্বামী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেই অবস্থায় আমার সতীনসহ তার সন্তানেরা আমাকে তালাক দেওয়ার জন্য তাকে প্ররোচিত করলে তিনি আমাকে তিন তালাক দেন। এরপর আমি তার বাড়িতেই ইদ্দত পালন শুরু করি। তার কয়েকদিন পড়েই তিনি সেই অসুস্থতায় মারা যান। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় আমার ইদ্দতের হুকুম কী? আমি কি তালাকের ইদ্দত পালন করব নাকি স্বামীর মৃত্যুর?

ওজরের কারণে রোজা ভাঙা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩৪৩) : রমযান মাসে একদিন দুপুরে তীব্র গরমের কারণে আমি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। তখন আমি এক গ্লাস পানি ও শরবত খেয়ে রোযা ভেঙে ফেলি। অবশ্য আমার রোযার কথা স্মরণ ছিল, আর না ভাঙলেও তেমন অসুবিধা হত না। এরপর বিকাল থেকে আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়। বিষয়টি আমাদের তালীমের আপাকে জানালে তিনি বলেছেন, ‘কাফফারা ওয়াজিব হয়নি, তবে রোযাটি কাযা করতে হবে।’ হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযার কী হুকুম? আমাদের তালিমের আপা কি সঠিক বলেছেন?

নফল নামাযের মাঝখানে মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি উক্ত নফঅ নামায কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৮) : একদিন সকালে আমি কুরআন তিলাওয়াত শেষে ইশরাকের নামায পড়ছিলাম। সেদিন নামায অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে গেলে আমি নামায ছেড়ে দিই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, আমার উক্ত নামায কি পুনরায় আদায় করতে হবে?