বিয়ে

সন্তান লালন-পালন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪৪) : আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে বিয়ে করে। সাত মাসের গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে আরেক ছেলের সাথে সংসার শুরু করে। এর এক মাস পর প্রথম স্বামী ঐ মেয়েকে তালাক প্রদান করে। পালিয়ে যাওয়ার তিন মাস পর একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে মেয়েটি কাযী অফিসে গিয়ে ঐ ছেলেটিকে বিয়ে করে নেয়। সন্তানের লালন-পালন ঐ মেয়ে এবং তার দ্বিতীয় স্বামীই করে যাচ্ছে। প্রথম স্বামীকে লালন-পালন করা এমনকি দেখার সুযোগ দিতেও তারা রাজি না। এখন আমি জানতে চাই- ১. ঐ কন্যা সন্তানের পিতা হিসেবে পরিচয় কে পাবে? ২. সন্তানটির লালন-পালনের অধিকার কে রাখে? ৩. এমন অপারগতাবস্থায় সন্তানের খোঁজ-খবর না নেওয়ার দ্বারা প্রথম স্বামী গুনাহগার হবে কি না? ৪. ঐ সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্বামীর কোনো অধিকার আছে কি না?

কনে থেকে সম্মতি নেওয়ার সময় সাক্ষী থাকা কি জরুরি?

প্রশ্ন (১২৫৪৩) : গত শনিবার ধানমণ্ডি তাকওয়া মসজিদে আমার বড় ভাগ্নির বিবাহের আকদ হয়। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমার ভগ্নিপতি আমার ভাগ্নি থেকে ইযিন নিয়ে যান। এ সময় সেখানে শুধু আমার বোন ছিলেন। আকদের পূর্বে ছেলে পক্ষের কয়েকজন মুরব্বী বলে উঠলেন, বিবাহ সংঘটিত হওয়ার জন্য ইযিন নেয়ার সময়ও সাক্ষীদের উপস্থিত থাকা জরুরি। এরপর ইমাম সাহেব তাদেরকে কি যেন বলেন। তাতে তারা শান্ত হন। এরপর বিবাহ হয়। এছাড়াও এটা জরুরি কি না এ নিয়ে আরো কিছু বিবাহে জটিলতা সৃষ্টি হতে দেখেছি। এখন জানতে চাচ্ছি বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ‘ইযিন’ নেয়ার সময় সাক্ষীদের উপস্থিতি জরুরি কি না?

ছেলে তার বাবার স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৩৩) : কিছু দিন আগে আমার মায়ের ইন্তিকালের পর আমার পিতা এক বিধবা নারীকে বিবাহ করেন। তার ১৮ বছরের এক মেয়ে আছে। বর্তমানে সে আমাদের বাড়িতে অবস্থান করছে। সম্প্রতি ঐ মেয়ের মামা চাচ্ছেন আমার সঙ্গে তাকে বিবাহ দিতে। আমি কি তাকে বিবাহ করতে পারব? কেউ কেউ বলছেন, এই বিবাহ সহিহ হবে না। তাদের কথা কি ঠিক?

ফোনে বিয়ে করলে কি বিয়ে কার্যকর হবে?

প্রশ্ন (১২৫২৩) : আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে ফোনে বিয়ে করে। সে মেয়েটিকে ফোনে বলে, আমি তোমাকে এত টাকার মহরে বিবাহ করলাম, তুমি রাজী থাকলে কবুল বল। মেয়েটি তখন কবুল বলে। ফোনে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ছেলের দুজন বন্ধুও মেয়ের কবুল বলা শুনেছিল। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের অভিভাবক তাদেরকে ভিন্ন জায়গায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের উভয়ে বলে, আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী। তাই অন্য কোথাও আমরা বিয়ে করব না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? বর্তমানে তাদের বাবা-মা চাচ্ছেন তারা একে অপরকে তালাক দিয়ে দিক। এটা কি বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

স্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠিতে তালাকের কথা লিখলে কি তালাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫১৯) : আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমার ছোট ছোট দুটি ছেলে এবং একটি মেয়ে আছে। আমার স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হচ্ছিল। কিছুদিন আগে আমার বোনেরা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসলে সে তাদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করে এবং ফোনে আমার সাথে খুব কথা কাটাকাটি হয়। আমি তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং একটি চিঠিতে ঘটনার বিবরণসহ লিখি যে, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বায়েন তালাক দিলাম’। আমি মুখে উচ্চারণ করে তালাক বলিনি কিন্তু তালাকের নিয়তেই উক্ত কথা লিখেছি। পরে আমার ছেলে-মেয়ের কথা ভেবে তালাকের চিঠিটি তার কাছে না পাঠিয়ে ছিঁড়ে ফেলি। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত লেখার কারণে আমার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? এখন তার সাথে ঘর-সংসার করতে পারব কি না? উল্লেখ্য, আমি ইতিপূর্বে তাকে কোনো তালাক দেইনি। সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

‘তুই আমার মার মত’ স্ত্রীকে এই কথা বললে কি তালাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫০৪) : আমার বন্ধুর সাথে তার স্ত্রীর ঝগড়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে তার স্ত্রীকে থামানোর জন্য বলে, ‘তুই আমার মার মত’ একথা বলার সময় তার চিন্তায় তালাক বা ভিন্ন কিছুর নিয়ত ছিল না। কেবল ঝগড়া থামানোর জন্যই সে এটা বলেছিল। এখন সে একথা বলার জন্য অনুতপ্ত। সে জানতে চেয়েছে, এতে কি তাদের বিবাহে কোনো সমস্যা হয়েছে? হয়ে থাকলে তাদের করণীয় কী? তাদের কি দ্বিতীয়বার বিবাহ করতে হবে?

তালাকের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর মহর ও ভরণপোষণের ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

প্রশ্ন (১২৪৯৯) : আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন বছর হয়েছে। প্রথম দেড় বছর মোটমুটি ভালো কাটলেও এরপরই সমস্যা শুরু হয়। সমস্যার সূচনা আমার স্ত্রীর ফেইসবুক চালানো নিয়ে। সে বিভিন্ন মানুষের সাথে মেসেজ আদান-প্রদান করত। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটিও হয়। সে বারবার বলত, আমি ফেইসবুক চালালে তোমার সমস্যা কোথায়? এক মাস আগে এ নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে বলে ফেলি, ফেইসবুক চালালে আমার ঘরে আর থাকতে পারবে না। পরের দিন আমি অফিসে যাওয়ার পর সে তার বাবার বাসায় চলে যায়। আমার ও আমার পরিবারের লোকদের কয়েকবার চেষ্টার পরও সে আসেনি। পরে আমি মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে তাকে তালাক দিয়ে দিই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যেহেতু তার দোষেই আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে তাই মহর, তালাক পরবর্তী ইদ্দতের ভরণ-পোষণ এগুলো দিতে কি আমি বাধ্য? তাছাড়া আমার স্ত্রী পারিবারিকভাবে বেশ সচ্ছল।

স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর আবার ইদ্দতের মাঝে বিবাহ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৯৮) : আমার বন্ধু তার স্ত্রীকে এক তালাকে বায়েন দিয়েছে। তারপর ইদ্দত শেষ হওয়ার আগেই তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এখন জানার বিষয় হলো, ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে তাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ঠিক হয়েছে কি না?

স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর অন্যের কাছে তালাকের বর্ণনা দিলে কি নতুন করে তালাক পতিত হবে?

প্রশ্ন (১২৪৮২) : একবার ভাইয়া-ভাবির মাঝে প্রচন্ড ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ভাইয়া তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘তুমি তালাক, চুপ করো বলছি!’ একথা শুনে অবাক হয়ে আম্মা বললেন, বাবা, তুই কী বললি!? ভাইয়া বলে, বলেছি, ‘ও তালাক’ এরপর আব্বা, ভাইয়ার শ্বশুর এবং অন্যান্যরা ফোন করে আম্মার মতো প্রশ্ন করতে থাকলে ভাইয়া আগের মতই উত্তর দিয়ে যান। জানার বিষয় হল, তালাক দেওয়ার পর বিভিন্নজনের জানতে চাওয়ার প্রেক্ষিতে এভাবে একের পর এক তালাক শব্দ যে উচ্চারণ করা হল, এর দ্বারা আসলে কয় তালাক হয়েছে?

স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর সন্তান লালন-পালনের হকদার কে হবে?

প্রশ্ন (১২৪৬৯) : আমার বোনকে কিছু দিন আগে তার স্বামী তালাক দিয়ে দেয় এবং দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী আমার বোন তার ইদ্দত পূর্ণ করে। এরপরই তার বিবাহের নতুন সম্বন্ধ আসতে শুরু করে। এদিকে তাদের পনেরো মাস বয়সের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এই মুহূর্তে সে তার মায়ের কাছেই অর্থাৎ আমাদের বাড়িতেই আছে। তবে তার বাবার পরিবার থেকে বলা হচ্ছে, মেয়ের মা যদি অন্যত্র বিবাহ করে তাহলে সে বা এ বাড়ির অন্য কেউ বাচ্চার লালন-পালনের অধিকার ধরে রাখতে পারবে না। বাবার পরিবারই নাকি তখন মেয়ের প্রতিপালনের একমাত্র হকদার। মুহতারামের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, শরীয়তের দৃষ্টিতে বাচ্চার প্রতিপালনের বেশি হকদার কে? মা নাকি বাবা? তাছাড়া বাচ্চার মা অন্যত্র বিবাহ করলে কি সত্যিই সে আর বাচ্চার প্রতিপালনের অধিকার রাখে না? যদি নাও রাখে তথাপি মায়ের পর বাচ্চার প্রতিপালনের বেশি হকদার কে? এবং এর কোনো সময়সীমা আছে কি না? বিস্তারিত জানতে আগ্রহী।

বিয়েতে পাত্রের বাবা ও আকদ সম্পাদনকারী কি সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১২৪৬০) : আমার এক বন্ধুর বোনকে তার স্বামী একটি বায়েন তালাক দেয়। তালাক দেয়ার কিছুদিন পর তারা উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে সম্মত হন। ১৭ দিন পরে আমার বন্ধুর বাবা ঘরোয়াভাবে তাদের বিবাহের আয়োজন করেন। আমাদের গ্রামের ইমাম সাহেবকে ডেকে বিবাহ পড়িয়ে দেন। বিবাহের মজলিসে ইমাম সাহেব আমার বন্ধুর বাবা এবং তার সেই বোন ও বোনজামাই উপস্থিত ছিলেন। ইমাম সাহেব খুতবা দিয়েছেন আর তার বাবা বিবাহ পড়িয়েছেন। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তার বাবা এবং ইমাম সাহেব সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট হবেন কি না?

স্ত্রীর মাকে বিবাহ করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৪৫০) : আমাদের গ্রামে একজন দরিদ্র বিধবা মহিলা থাকে। তার এক মেয়ে এক ছেলে। দুপুরে মেয়েটির বিবাহের আকদ সম্পন্ন হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইন্তিকাল করে। যেহেতু মেয়েটির সাথে লোকটির ঘর-সংসার হয়নি তাই কিছু দিন পর মৃত মেয়ের স্বামীর সঙ্গে বিধবা মহিলাটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আমাদের এলাকায় বিষয়টিকে সবাই বেশ খারাপ মনে করলেও কেউ কেউ তা শিথিলতার দৃষ্টিতে দেখছেন। এলাকায় এ নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমাদের আবেদন হল, এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে সবাইকে পেরেশানি মুক্ত করবেন।

বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী সম্পর্কে কিভাবে যাচাই করবে?

প্রশ্ন (১২৪২৬) : আমাদের সমাজে বিয়ের পূর্বে কিছু ব্যাপার ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে; যেমন- ১. বরপক্ষ যখন মেয়ে দেখতে যায় এবং কথা প্রসঙ্গে মেয়ের উচ্চতা সম্পর্কে জানতে চায় তখন বলা হয় যে, মেয়ের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি। যদিও বাস্তবে মেয়ের উচ্চতা চার ফুট দশ ইঞ্চি। ২. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শ্যামবর্ণের মেয়েদের বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে ফর্সা হিসেবে বরপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ৩. আবার ছেলের মাসিক বেতনের ব্যাপারে কথা উঠলে যা প্রকৃত বেতন তার থেকে অনেক বাড়িয়ে বলা হয়। হযরতের নিকট আমার জানার বিষয় হচ্ছে, উল্লিখিত বিষয়গুলো বিবাহের মত একটা পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধোঁকা বা প্রতারণার শামিল কি না এবং এই ধরনের ইস্যু নিয়ে বিয়ের পর সমস্যা দেখা দিলে কী করা উচিত?

বিয়ে পড়ানোর জন্য নির্ধারিত ওকীল অনুমতি ছাড়া কি মহর বৃদ্ধি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৩৪) : আমার বড় ভাই কুয়েতে থাকেন। আমার বড় ভগ্নিপতির ভাগ্নির সাথে তার বিবাহ ঠিক হয়। তিনি আমার ভগ্নিপতিকে ওকীল বানিয়ে দেন, যেন তিনি তার বিবাহটা পড়িয়ে দেন। ৫ লক্ষ টাকা দেন মহরের কথা হয়। কিন্তু বিবাহের মজলিসে মেয়ে পক্ষের জোরাজোরিতে আমার ভগ্নিপতি আরো দেড় লক্ষ টাকা বাড়িয়ে দেন। এক্ষেত্রে তিনি আমার ভাই থেকে পুনরায় অনুমতি নেননি এবং আমার বাবা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাকেও কিছু জিজ্ঞেস করেননি। কারণ তিনি জানতেন, আমার বাবা মহর বাড়িয়ে দিতে রাযি হবেন না। আমার ভাই এখনো কুয়েত থেকে আসেননি। আরো দুই মাস পরে আসার কথা। এখন আমার জানার বিষয় হচ্ছে, আমার বড় ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া মহর বৃদ্ধি করার কারণে তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? যদি হয় তাহলে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা কার উপর জরুরি? আমার ভাইয়ের উপর নাকি আমার ভগ্নিপতির উপর? উল্লেখ্য, ঐ মেয়ের মহরে মিসিল বর্তমান বাজারে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মতো।

বিয়েতে উপহার দিলে সেগুলোর মালিক কে হবে?

প্রশ্ন (১২৩১৭) : আমার পিতার ইন্তেকালের পর আমিই আমার ভাই-বোনদের দেখাশোনা করছি। কিছুদিন আগে আমার ছোট বোনের বিবাহ দিই। বিবাহে আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্যদের আপ্যায়ন করি। উক্ত আপ্যায়নে অলঙ্কার ছাড়া নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী মিলে প্রায় ৪০ হাজার টাকার উপঢৌকন উঠেছে। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, এ উপঢৌকনের মালিক কে? সবগুলো আমার বোনকে দিয়ে দিতে হবে নাকি আমাদের ব্যবহার করার অনুমতি আছে? মাসআলাটির সঠিক সমাধানে হুযুরের সুমর্জি কামনা করছি।

সৎ মাকে যাকাত দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২৬৯) : আমার নানীর ইন্তেকালের পর নানা আবার বিবাহ করেন। বিবাহের কয়েক মাস পরে নানাও মারা যান। এরপর থেকে সৎ নানী তার ভাইদের সাথে থাকেন। এখন তার আর্থিক অবস্থা বেশি ভাল না। তাই আমার আম্মা চাচ্ছেন যাকাতের টাকা থেকে কিছু টাকা তার সৎ মাকে দিতে। প্রশ্ন হল, এর দ্বারা কি আমার আম্মার যাকাত আদায় হবে?

খোলা তালাক।

প্রশ্ন (১২২৩৭) : আজ থেকে ছয় মাস আগে আমাদের এক প্রতিবেশী তার নিকটাত্মীয় এক মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। শুরুতে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। কিছুদিন পর থেকে মেয়ে যে কারণেই হোক স্বামীর সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে। স্বামী সর্বদা স্ত্রীর মন জয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় হঠাৎ একদিন স্ত্রী স্বামীকে কোনো কিছু বলা ছাড়াই তার বাবার বাসায় চলে যায়। স্বামী তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও সে আসতে চায় না। এমনকি এখন সে স্বামী থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক হয়ে যেতে চায়। কিন্তু স্বামী তাকে তালাক দিতে রাজি নয়। সর্বশেষ স্ত্রী মহরের বিনিময়ে খোলা করতে চাচ্ছে। জানার বিষয় হল, এভাবে অর্থের বিনিময়ে তালাক দেওয়া জায়েয হবে কি না? এক্ষেত্রে বিনিময় স্বরূপ প্রদত্ত মহরের চেয়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে কি না? পরবর্তীতে তারা উভয়ে যদি পুনরায় ঘর সংসার করতে চায় তাহলে সেটার কোনো বৈধ সুরত আছে কিনা?

মাহরাম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২২০) : হযরত আমাদের এলাকায় আজীমুদ্দিন তালুকদার নামে এক লোক আছে। সে দুটি বিবাহ করেছে। প্রথম বিবির নাম আমিরুন নেসা। তার ছেলের নাম ইসমাঈল তালুকদার। এই ইসমাঈলের বড় ছেলের নাম আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার। তার একজন মেয়ে আছে ‘মুক্তা’ নামে। আর এই আজিমুদ্দিনের অপর স্ত্রী আছে তার নাম মারিয়ম। তার ছেলের নাম ইবরাহীম তালুকদার। এই ইবরাহীম তালুকদারে সাথে ঐ মুক্তা বেগমের বিবাহ হয়েছে। এখন কথা হল, যার সাথে মুক্তার বিবাহ হয়েছে সে হল তার সৎ দাদা। অর্থাৎ মুক্তার আপন দাদা হল ইসমাঈল। আর ইসমাঈল ও ইবরাহীম হল সৎ ভাই। মা ভিন্ন বাপ এক। এখন সেই সৎ দাদা স্বীয় নাতনীকে বিবাহ করেছে। এখন প্রশ্ন হল, তাদের মধ্যকার বিবাহ বন্ধনের বিধান কী? জানালে উপকৃত হতাম।

মেয়ে সন্তানের উপর কি পিতা-মাতার ভরণপোষনের দায়িত্ব আছে?

প্রশ্ন (১২২০৯) : এক ব্যক্তির ছেলে-মেয়ে উভয়ে সামর্থ্যবান। সকলের বিবাহ হয়ে গেছে। তাদের মা-বাবা বৃদ্ধ হয়ে গেলে ছেলে মা-বাবার খরচ বহন করে। তবে ছেলে বলতে চায় যে, বোনেরও তো টাকা-পয়সা আছে। সেও যেন আমার সঙ্গে সমানভাবে মা-বাবার খরচ বহন করে। জানতে চাই, বিবাহিতা মেয়ের উপর কি বাবা-মায়ের খরচ বহন করা জরুরি?

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২০৭) : ১. আমি স্ত্রীর উপর রাগ করে ঠাণ্ডা মাথায় একবার একথা বলি, ‘আমার ছোট ছেলের ২ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে তুমি তালাক’। একথা আমি একা একা বলি শব্দ করে। আবার প্রচন্ড রাগের মাথায় একা একা শব্দ করেও ঐ জাতীয় কথা আলাদা আলাদা দিনে কয়েকদিন বলি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে কয় তালাক পতিত হবে? ২. আমার এবং আমার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি আমার স্ত্রীকে এ কথা বলি- ‘বেশি চিল্লাবা না; আর বেশি চিল্লাইলে তুমি আমার বউ থাকবা না।’ এ কথার পরও সে অনেক চিল্লিয়েছে। ঐ কথা বলার সময় দিলের নিয়ত কী ছিল তা বুঝতে পারছি না। অতএব, উপরিউক্ত কথার ভিত্তিতে মেহেরবানী করে ফতোয়া জানালে বাধিত থাকব।