কখন থেকে যাকাত আবশ্যক হয়?

প্রশ্ন (১২৬৫৯) : আমার স্বর্ণের দোকান আছে। প্রতি বছর রমযানের ১০ তারিখে আমার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয়। এ বছর মুহাররম মাসে আমার দোকানের সব স্বর্ণ চুরি হয়ে যায়। ফলে আমি অনেক অসহায় ও মানুষের কাছে ঋণী হয়ে যাই। আমার বড় মামা আমেরিকায় থাকেন। তিনি এ সংবাদ শুনে আমাকে কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন। আমি সেই টাকা দিয়ে পুনরায় ব্যবসা শুরু করি। আল্লাহর রহমতে বছর শেষে আমি আবার নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে যাই। উক্ত সম্পদ ছাড়া আমার কাছে যাকাতযোগ্য অন্য কোনো সম্পদ নাই এখন হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় কি আমার উপর যাকাত ফরয? নাকি পরবর্তী বছরে ফরয হবে?

যাকাতের টাকা দিয়ে কারো ঋণ আদায় করে দিলে কি যাকাত আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২৬২৫) : আমার ফুফাত ভাই খুব গরীব। সে অনেকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিল। কিন্তু এখন তা পরিশোধ করতে পারছে না। গত বছর ফুফু বলেছিলেন, আমি যেন গত বছরের যাকাতের টাকাটা ফুফাত ভাইকে দিই, যাতে সে ঋণগুলো পরিশোধ করতে পারে। আমি তখন তাঁর কথা অনুযায়ী তাকে যাকাতের টাকা দিয়ে দিই। পরে জানতে পারলাম, ফুফাত ভাই তা দিয়ে ঋণ আদায় না করে অন্য জায়গায় খরচ করে ফেলেছে। এবছর ফুফু আমাকে অনুরোধ করেছেন, আমি যেন যাকাতের টাকাটা ফুফাত ভাইয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি পাওনাদারদের দিই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ফুফাত ভাইয়ের হাতে না দিয়ে সরাসরি পাওনাদারদের দিলে কি আমার যাকাত আদায় হবে?

সুদ গ্রহণের একটি কৌশল।

প্রশ্ন (১২৫৭৪) : যদি কাউকে এই শর্তে ২১ হাজার টাকা দেওয়া হয় যে, আগামী এক বছর পর আমাকে ২০ হাজার টাকা ও ১২ মন ধান দেবে, এমন চুক্তি করা বৈধ হবে কি? যদি না হয়, তাহলে তার কারণ কী? বা কীভাবে বৈধ হবে জানাবেন।

সমিতির টাকা লটারীর মাধ্যমে ভাগ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫৬৬) : আমি একজন ব্যবসায়ী, আমার একটি সমিতি আছে। আমার সমিতির ৫০ জন সদস্য আছে। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে দুই কিস্তিতে ১০০০ টাকা নেই। (যার ফলে প্রতি সপ্তাহে আমার কাছে ৫০,০০০/- টাকা জমা হয়) এবং প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫০ সদস্যের নাম লটারী করি, যার নাম লটারীতে ওঠে তাকে একসাথে ৫০,০০০/-টাকা দিয়ে দিই। তার পরের সপ্তাহে যে ব্যক্তি টাকা পেয়েছে তার নাম বাদ দিয়ে বাকি ৪৯ জনের নাম লটারী করি। যার নাম লটারীতে ওঠে তাকে ৫০,০০/- টাকা দিয়ে দিই। এইভাবে ৫০ সপ্তাহে ৫০ জনই আগে বা পরে ৫০,০০০/- টাকা পেতে থাকে এবং যারা টাকা পেয়েছে তারাও ৫০ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে এক হাজার করে টাকা দিতে থাকে। এই সমিতি করার উদ্দেশ্য হল, যারা ছোট ব্যবসায়ী তারা একসাথে ৫০,০০০/- টাকা পেয়ে যাতে ব্যবসায় উন্নতি করতে পারে। উল্লেখ্য, তাদের টাকা আমার কাছে তিন-চার দিন থাকে, তখন আমি ঐ টাকা দ্বারা ব্যবসা করি এবং সকল সদস্য আমার ব্যবসা করার বিষয়টি জানে এবং এ ব্যাপারে তারা আমাকে কিছু বলে না। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার সমিতির কার্যক্রম শরীয়তসম্মত কি না? শরীয়তসম্মত না হলে কী কারণে শরীয়তসম্মত না- অনুগ্রহ করে জানাবেন। ইনশাআল্লাহ, আমি সেই কারণ দূর করব।

বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫২৯) : আমি শুনেছি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে চাকরি করা হারাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রেও কি একই বিধান? বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম অন্যান্য ব্যাংকের মত নয়। এরা কাউকে (ব্যক্তিগতভাবে) ঋণ দেয় না, আমানতও নেয় না। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেয় অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কাজ ও প্রতিষ্ঠার কারণ দেশের আর্থিক ব্যবস্থা ঠিক রাখা ও ভারসাম্য রক্ষা করা। এক্ষেত্রে এখানে চাকরি করা কি হারাম হবে? যদি উত্তর দেয়া হয় তাহলে খুব উপকৃত হব।

জমি বন্ধক নেওয়া সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫২৪) : আমাদের এলাকায় লোকজন বিভিন্ন পদ্ধতিতে জমি চাষাবাদ করে। যার মধ্যে একটি পদ্ধতি উদাহরণ স্বরূপ- একজন ব্যক্তি অপরজন থেকে এক বিঘা জমি ৫ বছরের জন্য নেয় এবং অগ্রিম বাবদ দেড় লক্ষ টাকা দেয় এবং চুক্তি হয় যে, সে জমিওয়ালাকে প্রতি বছর ৫৬০ টাকা করে ভাড়া দিবে এবং নির্ধারিত বছরের পর পূর্ণ টাকা জমিওয়ালা থেকে ফেরত নিবে। অথবা প্রতি বছর ৫৬০ টাকা করে ভাড়া না দিয়ে নির্ধারিত বছরের পর মূল টাকা থেকে ৫৬০ টাকা করে প্রতি বছরে বাদ দিয়ে বাকি টাকা জমিওয়ালা ফেরত দিবে। যেমনটি দোকানের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, উল্লেখিত পদ্ধতিতে জমি চাষাবাদ করা জায়েয হবে কি না?

আমানতের জিনিস কি বন্ধক রাখা যায়?

প্রশ্ন (১২৫১৪) : আমাদের পাশের গ্রামের এক লোকের টাকার প্রয়োজন হলে সে আমার কাছ থেকে তিন মাসের জন্য ১৫ হাজার টাকা নেয় এবং তার সাথে থাকা সাইকেলটি বন্ধক রেখে যায়। আমার এক পরিচিত ব্যক্তি সাইকেলটি দেখে বলে, এটা তো আমার সাইকেল, তুমি কোথায় পেলে? আমি বিষয়টি বললে সে বলে, আমি তাকে সাইকেলটি কয়েকদিন ব্যবহারের জন্য দিয়েছিলাম। তুমি সাইকেলটি আমাকে দিয়ে দাও। ঋণের গ্যারান্টি শেষ হয়ে যাবে বলে তাকে সাইকেলটি দেইনি। জানার বিষয় হল, এভাবে সাইকেলটি বন্ধক রাখা ঠিক হয়েছে কি না? তার মালিক আমার থেকে সাইকেলটি নিয়ে যেতে পারবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ঋণদাতা বন্দকী বস্তু থেকে উপকৃত হতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৪৩) : আমার এক প্রতিবেশী আমার কাছ থেকে বড় অংকের টাকা ঋণস্বরূপ গ্রহণ করেন। ঋণের জামানত স্বরূপ তার একটি গরু আমার কাছে বন্ধক রাখেন। গরুটি আমার কাছে হস্তান্তরের সময় তিনি বললেন, এর যা দুধ হয় আপনি নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। তিনি এবং আমি দুজনেই আমরা শরীয়ত মেনে চলার চেষ্টা করি। আমি যতদূর জানি। ঋণ দিয়ে তার বিপরীতে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা গ্রহণ করলে সেটা সুদ হয়ে যায়। তো আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, এই যে বন্ধকী গরুটির দুধ তিনি আমাকে খাওয়ার কথা বললেন এটা সুদের পর্যায়ে চলে যায় কি না? নাকি এতে কোনো অসুবিধা নেই? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

অসিয়ত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৮৭) : আমার পিতা তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছিলেন এবং আমাদেরকে মৃত্যুর সময় ওসিয়ত করেছিলেন যে, আমরা যেন এক বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে তার থেকে ঋণ উসুল না করি। এক বছর পর ধীরে ধীরে উসুল করি। আমাদের জানা ছিল যে, ঋণ পরিশোধের সময় নির্ধারণ করার পরও নির্ধারিত সময়ের আগে টাকা উসুলের দাবি করা যায়। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমরা যে কোনো সময় ঋণ উসুলের দাবি করতে পারব, নাকি পিতার ওসিয়ত অনুযায়ী এক বছর পরই ধীরে ধীরে উসুল করতে হবে? মাসআলাটির সমাধান জানালে খুবই উপকৃত হব।

কাউকে ঋণ দেওয়া টাকার উপর যাকাত আবশ্যক হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৪২) : আমার এক বন্ধুকে আমি ২ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছি প্রায় দুই বছর হয়ে যায়। সে দেবে বলে বিভিন্ন সমস্যার কারণে এখনো দিতে পারেনি। হুযূরের নিকট জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত বন্ধুকে দেওয়া ঐ ঋণের যাকাত আদায় করতে হবে কি?

যাকাতের উপযুক্ত ব্যক্তিকে নেসাব পরিমাণ বা তার থেকে বেশি সম্পদ যাকাত দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩০৫) : আমার উপর প্রতিবছর যে পরিমাণ যাকাত আসে তার অর্ধেক আমি ঢাকায় নিজ এলাকায় বিতরণ করি। আর বাকি অর্ধেক আমার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। বাড়ির মসজিদের ইমাম সাহেব তা গ্রামে যাকাতের উপযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। গতবার যখন যাকাতের টাকা গ্রামে পাঠাই তখন এক ব্যক্তিকে (যিনি নিজ প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়ার জন্য আমার কাছে ঢাকায় এসেছিলেন) ৭৫ হাজার টাকা দিতে বলি। এটা শুনে ইমাম সাহেব বলেন, একজনকে ৪০ হাজার টাকার বেশি যাকাত দেয়া জায়েয নেই। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি আমার না বুঝে আসায় আমি তাকীদ করলে তিনি সেই ব্যক্তিকে ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে দেন। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, কোনো ব্যক্তিকে (যদিও সে যাকাতের উপযুক্ত হয়) ৪০ হাজার টাকার বেশি যাকাত দেওয়া কি আদৌ জায়েয নেই? আমার উপরোক্ত ৭৫ হাজার টাকার যাকাত কি আদায় হয়েছে?

ঋণ দেওয়া টাকার উপর কি যাকাত আবশ্যক হয়?

প্রশ্ন (১২২৬৮) : আল্লাহর রহমতে আমি বেশ কিছু সম্পদের মালিক হয়েছি। আমি প্রতি বছর রমযানের শুরুতে এই সম্পদের যাকাত আদায় করি। আমার একজন বন্ধু প্রায় ৫ বছর আগে আমার কাছ থেকে ৫ বছর মেয়াদে দশ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। ৫ বছর পর এই রমযানের মাস খানেক আগে তিনি সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এই দশ লক্ষ টাকা তো গত ৫ বছর আমার কাছে ছিল না, এখন এই বছর কি আমাকে অন্যান্য সম্পদের সাথে এই টাকারও যাকাত আদায় করতে হবে?

কারো কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবার তার কাছে ভাড়া দেওয়া কি জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১২২০৮) : আমার এক পরিচিত ব্যক্তির নগদ টাকার প্রয়োজন হওয়ায় আমি তার মালিকানাধীন একটি ফ্লোর ছয় মাস মেয়াদের জন্য ভাড়া গ্রহণ করি এবং পুনরায় তার কাছেই ভাড়া দিই। ভাড়া নেওয়া ও দেওয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দুটি চুক্তিপত্র করা হয়। প্রথম চুক্তিপত্রে ফ্লোরটি দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ভাড়া গ্রহণ করি এবং দুই লক্ষ টাকা ভাড়া নগদ পরিশোধ করি। দ্বিতীয় চুক্তিপত্রে ফ্লোরটি তার কাছে দুই লক্ষত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে পুনরায় ভাড়া প্রদান করি। তিনি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা কিস্তিতে ছয় মাসে মোট ত্রিশ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং ভাড়ার অবশিষ্ট দুই লক্ষ টাকা ছয় মাস পর পরিশোধ করেন। জানতে চাচ্ছি, আমাদের এ লেনদেন সহিহ হয়েছে কি না এবং এ কারবারের মাধ্যমে প্রাপ্ত অতিরিক্ত ত্রিশ হাজার টাকা আমার জন্য নেওয়া বৈধ হয়েছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

নিজের জমাকৃত টাকা অন্যকে ধার দিয়ে দিলে কি কুরবানী করতে হবে?

প্রশ্ন (১২২০৫) : আমি পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করি। টিউশনি থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে প্রয়োজন পূর্ণ করার পর অবশিষ্ট টাকা ব্যাংকে জমা রাখি। এভাবে ৫৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। তিন মাস আগে এক বন্ধুর একটি বিপদে এই টাকাগুলো তাকে ঋণ দিয়েছি। বর্তমানে আমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো সম্পদ নেই। আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমার উপর কি কুরবানী ওয়াজিব? কুরবানী করতে হলে আমাকে ঋণ নিয়ে কুরবানী করতে হবে। এখন আমার করণীয় কী? মাসআলাটির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।

ঋণের টাকা হাতে পাওয়ার পর কি সেগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৫১) : আল্লাহর রহমতে আমি বেশ কিছু সম্পদের মালিক হয়েছি। আমি প্রতি বছর রমযানের শুরুতে এই সম্পদের যাকাত আদায় করি। আমার একজন দ্বীনদার ব্যবসায়ী বন্ধু প্রায় ৩ বছর আগে আমার কাছ থেকে ৩ বছর মেয়াদে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ৩ বছর পর এই রমযানের মাস খানেক আগে তিনি সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এই পাঁচ লক্ষ টাকা তো গত তিন বছর আমার কাছে ছিল না, এখন এই বছর কি আমাকে অন্যান্য সম্পদের সাথে এই টাকারও যাকাত আদায় করতে হবে?

বিকাশে ঋণের টাকা আদান প্রদান করলে সেক্ষেত্রে খরচ কে বহন করবে?

প্রশ্ন (১২১২৯) : আমি আমার এক বন্ধু থেকে বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা ঋণ নিয়েছি। সে টাকা ক্যাশআউট করার কোনো খরচ সে দেয়নি। আমি খরচ দিয়ে ক্যাশআউট করেছি। এখন টাকা ফেরত দেওয়ার সময় উক্ত খরচের টাকা কেটে রাখতে পারব কি না? আর ঋণ পরিশোধের সময় আমি যদি টাকাগুলো পুনরায় বিকাশের মাধ্যমে পাঠাই তাহলে সেক্ষেত্রে ক্যাশআউট করার খরচ আমাকে দিতে হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কাউকে ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১১৬) : মুহতারাম! আমার জানার বিষয় হল, আমাদের এলাকায় প্রচলিত আছে, কাউকে ঋণ দেওয়ার সময় এভাবে চুক্তি করা হয় যে, ঋণদাতা ঋণগ্রহীতাকে বলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আপনার কাছ থেকে ১০ মন ধান কিনলাম। ধানের মৌসুমে ধান না দিয়ে ধানের মূল্য দিয়ে দিবেন। এক্ষেত্রে তারা ধানের পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারণ করে, যাতে ধানের মৌসুমে ঐ পরিমাণ ধানের মূল্য ঋণের টাকার থেকে বেশি হয়। এভাবে চুক্তি করা শরীয়তসম্মত কি না?

আমাদের দেশে জমি বন্ধক দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১১৫) : আমাদের দেশে জমি বন্ধক দেয়ার যে পদ্ধতি প্রচলিত আছে যে, কোনো ব্যক্তি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে কারো কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি বন্ধক নিয়ে থাকে। সাধরণত কত বছরের জন্য বন্ধক নেয়া হল তা উল্লেখ থাকে না। টাকা প্রদানকারী জমি ভোগ করতে থাকে। এভাবে দু-চার বছর চলে যায়। এরপর জমির মালিক টাকা প্রদানকারীর মূল টাকা ফিরিয়ে দিয়ে নিজের জমি ফিরিয়ে নেয়। এ পদ্ধতি জায়েয আছে কি? যদি টাকা প্রদানকারী এরূপ শর্ত করে নেয় যে, বছরে বছরে তার টাকা থেকে ৫০০/১০০০ টাকা বা ৫% কিংবা ১০% টাকা কাটা যাবে তাহলে কি জায়েয হবে?

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৯৩) : আমার এক বন্ধু আমার থেকে এক বছরের জন্য দেড় লাখ টাকা ঋণ নেয়। আমার টাকার সংকট থাকায় আমি তাকে প্রথমে ঋণ দিতে চাচ্ছিলাম না। পরে সে আমার কাছে তার একটি পুরাতন ফোন মর্গেজ হিসাবে রাখলে আমি তাকে ঋণ দেই। আমি আমার বন্ধুর ফোনটা মাঝে মাঝে ব্যবহার করতাম। এটা আমার বন্ধু জানত না। কিছুদিন আগে বাসে বসে ফোনটা চালাচ্ছিলাম, হঠাৎ জানালা দিয়ে ফোনটা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ফোনটা যখন আমার বন্ধু আমাকে দেয় তখন এর দাম ছিল ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু যখন তা ছিনতাই হয় তখন এই মডেলের ফোনের বাজারমূল্য ২০% কমে গেছে। এদিকে ফোনটি ছিনতাই হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই পাওনা পরিশোধের সময় শেষ হয়ে গেছে। ফোনটি হাতছাড়া হওয়ায় আমার বন্ধু বলছে, সে ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করবে না। জানার বিষয় হল, এখন আমি কি আমার বন্ধু থেকে জোরপূর্বক পুরো টাকা ফেরত নিতে পারব?