ইতিকাফ

এতেকাফকারী ব্যক্তি জানাযার নামায পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে গেলে কি তার এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৮৭৬) : এতেকাফকারী ব্যক্তির জন্য জানাযার নামায পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যাওয়ার বিধান কী? এতে কি তার এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে?

সুন্নত ইতিকাফকারী ব্যক্তি জানাযার নামাযের জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৯২) : রমযানের শেষ দশকে সুন্নত ইতিকাফকারী ব্যক্তি জানাযার নামাযে শরিক হওয়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে কি?

বিনিময় দিয়ে কাউকে ইতিকাফে বসানো জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৭২৪) : এবার রমযান মাসে আমাদের এলাকার মসজিদে ইতিকাফের জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে মসজিদের সভাপতি সাহেব একজন দ্বীনদার দরিদ্র লোককে তার পরিবারের এই দশ দিনের খরচ বহন করার শর্তে ইতিকাফের জন্য রাজি করান। জানার বিষয় হল, এ ধরনের পরিস্থিতিতে এভাবে বিনিময় দিয়ে কাউকে ইতিকাফে বসানো জায়েয আছে কি?

ইতিকাফকারী ব্যক্তি জানাযার নামাযে শরিক হতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫১৪) : এবার রমযানের শেষ দশকে আমার দাদা আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন। একদিন মসজিদের পার্শ্ববর্তী মাঠে জানাযার নামায হচ্ছিল। তিনি তাতে শরিক হয়েছেন এবং নামায শেষ হওয়ামাত্রই মসজিদে ফিরে এসেছেন। এ কথা জানতে পেরে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেছেন, তার ইতিকাফ ভেঙ্গে গেছে। জানতে চাচ্ছি, ইমাম সাহেবের কথা কি ঠিক?

অস্থায়ী নামায ঘরে ইতিকাফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৬২) : আমাদের মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে। তাই মসজিদের পাশে এক ব্যক্তির জায়গায় টিন দিয়ে একটি নামাযের ঘর বানানো হয়েছে। বর্তমানে রমযান মাসেও এখানেই নামায পড়তে হচ্ছে। এখন আমাদের জানার বিষয় হলো, রমযানের শেষ দশকে এই অস্থায়ী মসজিদটিতে ইতিকাফ করা যাবে কি?

ইতিকাফরত অবস্থায় কাউকে সালাম দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৭৭) : ইতিকাফরত অবস্থায় শরীয়তসম্মত কোনো প্রয়োজনে কেউ যদি বাইরে যায় তাহলে সে কাউকে সালাম ও সালামের জবাব দিতে পারবে কি? কেউ কেউ বলেন যে, তার জন্য সালাম দেওয়া জায়েয নেই। আবার কেউ বলেন, সালাম দেওয়া যাবে। তাই এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা জানতে চাই।

রমযানে মান্নতকৃত ইতিকাফ আদায় করতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩৪৬) : গত বছর কোনো কারণে আমি রমযানে ইতিকাফের মান্নত করি। কিন্তু অসুস্থতার দরুণ গতবার তা করতে পারিনি। এবার রমযানে আমি উক্ত ইতিকাফের কাযা আদায় করতে চাচ্ছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এই রমযানে ইতিকাফ করার দ্বারা কি আমার সেই মান্নত আদায় হবে? নাকি সেই ইতিকাফ ভিন্ন করে কাযা করতে হবে?

ইতিকাফ আদায়কারী ব্যক্তি জানাযার নামায আদায় করার জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৯৬) : আমি যে মসজিদে ইতিকাফ করি সে মসজিদে প্রায় প্রতি বছরই একটা বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়। কেউ বলেন, ইতিকাফকারী জানাযার নামাযের জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবে না। আর কেউ বলেন, বের হতে পারবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, কোন কথাটি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

রমযান মাসে মহিলাদের ইতিকাফ করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩১৮৯) : রমযানের শেষ দশকে মহিলাদের ইতিকাফের কী হুকুম? তাদের কেউ ইতিকাফ শুরু করার পর নির্দিষ্ট স্থান থেকে কোনো প্রয়োজন ব্যতীত বের হতে পারবে কি? বিনা কারণেই তিন-চার ঘন্টা সময় যদি বাহিরে থাকে তাহলে কি তার ইতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে? জানালে উপকৃত হব।

অস্থায়ী নামাযঘর কি মসজিদের হুকুমের আওতায় আসবে?

প্রশ্ন (১৩১৫৮) : আমি মসজিদ নির্মাণের জন্য আমার একটি জায়গা ওয়াক্ফ করেছি। জায়গাটি অনেক নিচু হওয়ার কারণে এখন সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তাই অস্থায়ীভাবে নামায চালিয়ে নেয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী উচুঁ জায়গাতে একটি ঘর বানিয়েছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এ ঘরটিও সাধারণ মসজিদের মতই কি? এটাতে পাঞ্জেগানা নামায, জুমা, এতেকাফ সবকিছু আদায় করা যাবে কি?

ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হলে কি ইতিকাফ ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১৩০৮৫) : আমাদের মহল্লার মসজিদে আমার চাচা প্রতি বছর রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করেন। গত বছর একদিন ইতিকাফ অবস্থায় চাচার এক আত্মীয়ের সাথে কথা বলতে বলতে ভুলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যান। পরে ইতিকাফের কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই মসজিদে প্রবেশ করেন। তখন কেউ বলেছে, মসজিদ থেকে বের হওয়ার কারণে তার ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কেউ বলেছে, সে যেহেতু ভুলে বের হয়ে গেছে তাই তার ইতিকাফ নষ্ট হয়নি। যেমন ভুলে খেয়ে ফেললে রোযা ভাঙ্গে না। জানার বিষয় হলো, আসলেই কি চাচার ইতিকাফ ভেঙে গেছে?

অস্থায়ী মসজিদে ইতিকাফ আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৪২) : আমাদের মসজিদের ভবনটি অনেক পুরাতন। তাই পুনঃনির্মাণের জন্য গত বছর মসজিদটি ভাঙা হয়। আপাতত নামায পড়ার জন্য পাশে অবস্থিত মুতাওয়াল্লী সাহেবের জায়গায় টিনশেড দিয়ে একটি অস্থায়ী মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ঈদ-জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামায এই অস্থায়ী মসজিদেই আদায় করা হয়। এলাকার বিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত নতুন ভবনের কাজ শুরু করা যায়নি। জানার বিষয় হল, সামনের রমযানে এ অস্থায়ী মসজিদে ইতিকাফে বসা সহিহ হবে কি? সহিহ না হলে মহল্লাবাসী সুন্নত ইতিকাফ কীভাবে আদায় করবে?

ইতিকাফ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২৬২৯) : আমি আমাদের এলাকার বড় মসজিদে সাত দিন ইতেকাফ করার মান্নত করেছিলাম। কিন্তু ইতেকাফ শুরু করার পর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে বাকি দিনগুলোর ইতেকাফ পুরা করতে পারিনি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, ১. এখন আমার কয় দিনের ইতেকাফ করতে হবে? ২. ইতেকাফ কি বড় মসজিদেই করতে হবে? নাকি অন্য কোনো মসজিদেও করতে পারব? ৩. এ ইতেকাফের সময় কি আমাকে রোযা রাখতে হবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

একাধিক ব্যক্তি মিলে ভাগাভাগি করে ইতিকাফ করলে কি সুন্নত ইতিকাফ আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২৬০০) : আমাদের এলাকার জামে মসজিদে পূর্ণ দশ দিন ইতিকাফে বসার জন্য কেউ প্রস্তুত হয়নি। অবশ্য তিন জন মিলে ভাগ করে থাকতে চেয়েছে। জানতে চাই, এতে কি সুন্নাত ইতিকাফ আদায় হবে? এবং এলাকাবাসী সুন্নাত ইতিকাফের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবে?

ইতিকাফ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৫৪) : গত রমযানে আমাদের গ্রামের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে আমরা আটজন ইতিকাফে বসি। পাশের জামে মসজিদে আমার দুই মামাও ইতিকাফে বসেন। আটাশ রমযানে সেই মসজিদে জুমার নামায পড়তে গেলে বড় মামা আমাকে জোর করে রেখে দেন। ফলে বাকি দুদিন সেখানে থেকে ইতিকাফ পূর্ণ করি। এক হুজুরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করলে ইতিকাফ হয়ে যাবে বলে মত দেন। কিন্তু এ বিষয়ে খটকা রয়ে যায়। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন হল, এ বিষয়ে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

ইতিকাফ ভেঙে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৮৮) : গত রমযানে আমি মহল্লার মসজিদে সুন্নত ইতিকাফ করেছিলাম। পঁচিশ রোযার দিন এক ভাইয়ের সাথে কথা বলতে বলতে বেখেয়ালে মসজিদের বাইরে চলে যাই। পরে ইমাম সাহেব হুযূরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আপনার ইতিকাফ ভেঙে গেছে। আপনাকে এখন পূর্ণ দশ দিনের ইতিকাফ কাযা করতে হবে। জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেবের কথা কি সঠিক? সুন্নত ইতিকাফ ভেঙে গেলে কি পূর্ণ দশ দিনের ইতিকাফই কাযা করতে হয়?

বিল্ডিংয়ের কোনো তলাকে মসজিদের জন্য স্থায়ীভাবে নির্ধারিত করার পর সেটা বাতিল করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৪২) : আমাদের মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্সটি দশ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। ভবনটি নির্মাণের পূর্বেই মুতাওয়াল্লী সাহেবসহ মসজিদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, ভবনটির দ্বিতীয় তলা স্থায়ীভাবে মসজিদ হবে এবং প্রয়োজনের সময় তাতে মাদরাসার কার্যক্রমও পরিচালিত হবে। যেমন, এখানে মাদরাসার পরীক্ষা ও বিভিন্ন জলসা অনুষ্ঠিত হওয়া ইত্যাদি। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, এ মসজিদে ইতিকাফ করা যাবে কি না? উল্লেখ্য, এ তলাটিতে বর্তমানে জুমার নামাযসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া হচ্ছে এবং তাতে সর্বসাধারণের উন্মুক্ত অংশগ্রহণও রয়েছে।

ইতিকাফরত অবস্থায় কি জানাযার নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২২৩১) : গত রোযায় প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। অসহনীয় গরমের কারণে আমাদের পাড়ার মসজিদটিতে কেউ ইতিকাফ করতে চাচ্ছিল না। গরমে মুআযযিন সাহেব আগের থেকে অসুস্থ ছিলেন। তাই আমি একাই আল্লাহর উপর ভরসা করে ইতিকাফে বসে পড়ি। ইতিকাফে থাকা অবস্থায় পাড়ার তিন ভদ্রলোক বৈরী আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। ফলে যথাক্রমে ২৩, ২৪, ২৫ রমযানে মসজিদের পূর্ব পাশের উঠানে জানাযা পড়াই। কারণ আমাদের পাড়ার অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজ করে। ইদানীং সময়ে কিছু ছেলে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এ পরিস্থিতির মাঝেও কি জানাযা পড়ানোর কারণে উক্ত তিন দিনের ইতিকাফ ভেঙে গেছে? উল্লেখ্য, ২৫ রমযানে জানাযা পড়ানোর পর ইস্তিসকার নামাযও পড়ানো হয়। সংবাদ আসছিল, বিভিন্ন এলাকায় সালাতুল ইস্তিসকা পড়া হচ্ছে। তাই আমরা আগের থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলাম যে, জানাযার পর ইস্তিসকার নামায অনুষ্ঠিত হবে।

ইতিকাফ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২১৮) : গত রোযায় আমি এলাকার মসজিদে ইতিকাফে বসেছিলাম। মসজিদের বাথরুম অনেক নোংরা হওয়ায় তা ব্যবহারের অযোগ্য ছিল। ফলে টয়লেটের জন্য বাসায় আসতে হত। একদিন ঘরে এসে জরুরত পূর্ণ করার পর বেগম সাহেবের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় লিপ্ত হই। চার পাঁচ মিনিট পর সে আমাকে ইতিকাফের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তৎক্ষণাৎ আমি মসজিদে চলে আসি। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, একান্ত আলাপচারিতা দ্বারা কি আমার ইতিকাফটি ভেঙে গেছে?

ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদের বাহিরে গিয়ে আযান দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৪৩) : আমি মসজিদের মুআযযিন। গত রমযানে মসজিদে ইতিকাফ করেছিলাম। ইতিকাফের সময়ও আমাকে আযান দিতে হত। আযান দেওয়ার স্থানটি মসজিদের একটু বাইরে একটা রুমে। মসজিদ থেকে একটু বের হয়ে সেখানে যেতে হয়। এক ভাই আমার এ অবস্থা দেখে বললেন, আমার মসজিদ থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়ে আযান দেওয়া বৈধ হয়নি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, মসজিদের বাইরে কামরায় গিয়ে আযান দেওয়ার কারণে কি আমার ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে?