ঈসালে সাওয়াব

মৃত ব্যক্তির ইসালে সওয়াবের জন্য কুরবানী করলে কি উক্ত কুরবানী গোশত সদকা করে দিতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৮৫৭) : আমি কুরবানীর সময় আমার কুরবানীর সাথে আমার মরহুম বাবার পক্ষ থেকেও কুরবানী করতে চাচ্ছি। জানার বিষয় হলো, এ কুরবানীর গোশত কি সদকা করে দিতে হবে?

কুরআন খতম করার মান্নত করলে কি তা করা আবশ্যক হয়ে যা্য়?

প্রশ্ন (১৩৮২৪) : আমি খুব জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছি। তাই আমি মান্নত করি যে, আমি সুস্থ হলে এক খতম কুরআন পড়ব। হুজুরের কাছে জানতে চাই এমতাবস্থায় কি এক খতম কুরআন শরীফ পড়া আমার উপর ওয়াজিব?

মৃত ব্যক্তির ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানী করলে কি উক্ত কুরবানীর গোশত খাওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১৩৬৬৭) : গত বছর আমার বাবা একবার বিপদে পড়েন। তখন এক ব্যক্তি বাবাকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি মারা যান। তার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বাবা তার নামে একটি কুরবানী দিয়ে করেন। প্রশ্ন হল, ঐ ব্যক্তির নামে বাবা যে কুরবানী করেছেন তা থেকে কি আমরা খেতে পারবো, নাকি পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে?

একটি ভিত্তিহীন বর্ণনা।

প্রশ্ন (১৩৬৬৩) : আমাদের মহল্লার মসজিদে কয়েকজন মুসল্লি নিম্নোক্ত হাদিসটি মানুষের নিকট বর্ণনা করছে। তারা এটি ছাপিয়ে মসজিদে লাগিয়ে দিয়েছে। এবং তারা উক্ত হাদিসটি এলাকা জুড়েও ব্যাপক প্রচার করছে। তাই হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, নিম্নোক্ত হাদিসটি সহিহ ও আমলযোগ্য কি না? হাদিসটি হল, রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী (রা.)-কে বলেছেন, হে আলী! প্রত্যেক রাতে পাঁচ কাজ করে ঘুমাও। যথা : ১. চার হাজার দিনার সদকা করে ঘুমাও। ২. এক খতম কুরআন পড়ে ঘুমাও। ৩. জান্নাতের মূল্য আদায় করে ঘুমাও। ৪. দুজনের মাঝে বিবাদ মিটিয়ে ঘুমাও। ৫. একটি হজ্ব আদায় করে ঘুমাও। আলী (রা.) বললেন, এটা তো অসম্ভব। কীভাবে আমি তা আদায় করব? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, চার বার সূরা ফাতিহা পড়ে ঘুমাও তাহলে চার হাজার দিনার সদকার সওয়াব পাবে। তিন মর্তবা সূরা ইখলাস পড়ে ঘুমাও তাহলে একবার কুরআন খতম করার সওয়াব পাবে। তিন বার দুরূদ পড়ে ঘুমাও তাহলে জান্নাতের মূল্য আদায় হয়ে যাবে। দশবার ইস্তেগফার পড়ে ঘুমাও তাহলে দুজনের বিবাদ মিটানোর সওয়াব পাবে। চারবার কালিমায়ে তামজীদ পড়ে ঘুমাও তাহলে একটি হজ্বের সওয়াব পাবে। হযরত আলী (রা.) বলেন, আমি প্রত্যহ রাতে এ আমল করে ঘুমাব।

এশার ফরয না পড়ে তারাবী পড়লে কি উক্ত তারাবী আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৬২০) : আমি রমযান মাসে তারাবীর নামাযে সম্পূর্ণ খতম শোনার চেষ্টা করি। তো এবার রমযানে একদিন মসজিদে গিয়ে দেখি, ইমাম সাহেব এশার নামায শেষ করে তারাবী শুরু করে দিয়েছেন। তখন খতম পূর্ণ হবে না- এ চিন্তা করে আমি এশার ফরয না পড়েই তারাবীতে শরিক হয়ে যাই। পরে তারাবী শেষে এশার নামায পড়ে বিতির পড়ি। এখন জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত তারাবীর নামায আদায় হয়েছে কি? যদি না হয়ে থাকে তাহলে এখন আমার করণীয় কী?

তারাবীহর নামায পড়িয়ে হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫০৬) : আমি তিন বছর যাবৎ গ্রামের একটি মসজিদে তারাবীহ পড়াই। মসজিদের কমিটি আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে অল্প কিছু হাদিয়া দিয়েছে। আর আমার ছোট ভাইও দু’বছর একটি বাসায় তারাবীহ পড়িয়েছে এবং একইভাবে তাকেও হাদিয়া দেওয়া হয়। আর একজন মুসল্লি তাকে একটি পাঞ্জাবির কাপড়ও দিয়েছেন। জানার বিষয় হল, এই হাদিয়া কি আমাদের জন্য বৈধ হবে?

খতম তারাবীতে কোনো একটি সূরার শুরুতে উঁচু আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬৬) : আমাদের দেশে যে সকল মসজিদে তারাবীতে খতমে কুরআন হয় সেখানে দেখা যায় যে, কোনো একটি সূরার শুরুতে বড় আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া সুন্নত। আবার সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া মুস্তাহাব। অনুগ্রহপূর্বক এই দুই মাসআলার বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ফয়সালা জানানোর অনুরোধ রইল।

তারাবীর বিনিময়ে হাফেয সাহেবকে হাদিয়া দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪০৪) : আমরা প্রতি রমযানে আমাদের মসজিদে খতম তারাবীর ব্যবস্থা করি। আমরা সবাই মিলে টাকা উঠিয়ে রমযানের শেষে হাফেয সাহেবকে কিছু হাদিয়া দিয়ে থাকি। এটা কি জায়েয আছে?

তারাবির নামাযের শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফ ও দুআ মাছূরা না পড়লে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রশ্ন (১৩১১৩) : আমাদের মসজিদে দুইজন হাফেজ খতম তারাবি পড়ান। তারা অধিকাংশ সময় কেবল আত্তাহিয়্যাতু পড়ে সালাম ফিরিয়ে দেন। একবার জিজ্ঞাসা করা হলে তাদের একজন বললেন, খতম তারাবিতে দরূদ শরীফ ও দুআ মাছূরা না পড়ার অনুমতি আছে। জানতে চাচ্ছি, তাদের এ কথা কি সঠিক?

নামাযের একই রাকাতে কুরআনের বিভিন্ন জায়গা থেকে তিলাওয়াতের বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০৬৫) : রমযান মাসে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একদিন কুরআন শরীফের দুআ সম্বলিত আয়াত দ্বারা তারাবীর নামায পড়ান। এক্ষেত্রে তিনি একই রাকাতে কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন জায়গা থেকে তিলাওয়াত করেন। জানার বিষয় হল, নামাযে এভাবে একই রাকাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে তিলাওয়াত করার কী হুকুম?

মোবাইলে কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য কি অযু করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৮০৭) : মোবাইলে কুরআন পড়তে চাইলে কি ওযু করা আবশ্যক? কুরআন শুধু বাংলায় পড়ছি বোঝার জন্য, খতমেরও উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু অর্ধেক পড়ার পর জানতে পারলাম বাংলায় পড়লে খতম হয় না, আরবীতে পড়া আবশ্যক। এটা কতটুকু সত্য?

মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম করে বা দুআ করে বিনিময় গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭১০) : একজন আমার মাধ্যমে কবর যিয়ারত করিয়েছে এবং আমার মাধ্যমে কুরআন খতম করে সওয়াবরেসানী করেছে। এবং সে আমাকে এর বিনিময়ে কিছু টাকা দিল। এখন আমার জন্য তা নেওয়া বৈধ হবে কি?

মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম করে হাদিয়া গ্রহণ করা বিধান কী?

প্রশ্ন (১২২০৪) : একজন আমার মাধ্যমে কবর যিয়ারত করিয়েছে এবং আমার মাধ্যমে কুরআন খতম করে সওয়াবরেসানী করেছে। পরবর্তীতে সে আমাকে বলল, আপনি অনেক কষ্ট করেছেন- এ বলে কিছু টাকা দিল। এখন আমার জন্য তা নেওয়া বৈধ হবে কি? আরেকজন উক্ত কাজ করিয়ে সে বলল, কিছু হাদিয়া দিতে চাই। আমি বললাম, তা জায়েয নেই। আমার জানার বিষয় হল, আমার কষ্টের বিনিময়ে আমাকে একজন কিছু খাওয়াল বা হাদিয়া দিল তা জায়েয না হওয়ার কারণ কী?

কোনো মহিলা কি ইমামতি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২১৪২) : আমার মেয়ে এ বছর হিফয শেষ করেছে। আমরা কয়েকজন মহিলা মিলে নিয়ত করেছি, আমার মেয়ের পেছনে খতম তারাবীহ পড়ব। যাতে ওর হিফ্জ মজবুত হয়ে যায় এবং আমাদেরও খতম হয়ে যায়। কিন্তু আমার এক ভাশুর বলেছেন, মহিলাদের পেছনে তারাবীহ পড়া যায় না। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

তারাবীর নামায ভুলে একসাথে চার রাকাত আদায় করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৯৭) : আমি আমাদের গ্রামের মসজিদে খতম তারাবী পড়াই। কয়েকদিন আগে তারাবী নামাযে দুই রাকাতের পর বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে যাই এবং একসঙ্গে চার রাকাত পড়ে সাহু সিজদা করে সালাম ফেরাই। নামায শেষে একজন বললেন, তারাবী নামাযে প্রত্যেক দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ফরয। আপনি যেহেতু ফরয তরক করেছেন, তাই সাহু সিজদা করলেও নামায সহিহ হয়নি। সুতরাং আগামীকাল তারাবী নামায শুরু হওয়ার আগে এই চার রাকাত নামায পুনরায় পড়িয়ে দেবেন। আমি ইমাম সাহেবের নির্দেশ অনুযায়ী ঐ চার রাকাত নামায পরদিন রাতে তারাবীর নামায শুরু হওয়ার আগে ছোট ছোট সূরা দিয়ে পড়িয়ে দেই। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হল, বাস্তবেই কি তারাবী নামাযে দুই রাকাতের পর ভুলে বৈঠক না করে একসঙ্গে চার রাকাত পড়ে নিলে (শেষে সাহু সিজদা করলেও) পুরো নামায ফাসেদ হয়ে যায়, নাকি এক্ষেত্রে সাহু সিজদা করাই যথেষ্ট?

একই রাকাতে কি কুরআনের বিভিন্ন সূরা থেকে তিলাওয়াত করা যাবে?

প্রশ্ন (১১৫৫২) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একজন হাফেয। সুন্নত ও নফল নামাযে কুরআন কারীম খতম করার নিয়ত করেছি। মাঝে মাঝে এমন হয় যে, সূরা ফাতেহা পড়ার পর কোনো একটা সূরা পড়া শুরু করি। এক দুই আয়াত তিলাওয়াত করার পর খতমের কথা মনে হলে ঐ সূরা ছেড়ে খতমের জায়গা থেকে পড়ি। এটা করা কি ঠিক আছে?

খতম করানোর খানা খাওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (১১২১৩) : বর্তমানে দেখা যায়, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে কুরআন খতমের আয়োজন করে। যারা খতম করে তাদেরকে খানা খাওয়ানো হয়। জানতে চাচ্ছি, উক্ত খাবার খাওয়া বৈধ হবে কি?