তাওয়াফের সময় উচ্চস্বরে দুআ-দরূদ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫২২) : আল্লাহ তাআলার রহমতে গত বছর হজ্বে গিয়েছিলাম। আগামীতেও যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তো হজ্বে গিয়ে দেখলাম, অনেক মানুষ তাওয়াফের সময় জোরে জোরে বিভিন্ন দুআ-দরূদ পড়ে। এতে অন্যের তাওয়াফে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। একবার তো তাওয়াফের সংখ্যাই ভুলে গিয়েছিলাম। পাশে এক আলেমের কাছ থেকে মাসআলা জেনে নিয়ে আমল করেছি। এ সময় আরো কিছু লোককে দেখলাম সারি বেঁধে তাওয়াফ করছে। তাদের মধ্যে একজন ছোট মাইকে দুআ পড়ছে আর অন্যরা তার অনুসরণ করেছে। এখন আমার জানার বিষয় হল, তাওয়াফের সময় এভাবে উচ্চস্বরে দুআ-দরূদ পড়ার বিধান কী? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

নফল হজ্ব করা বেশি উত্তম নামি দান-সদকা?

প্রশ্ন (১২৫১৮) : আল্লাহর অশেষ দয়ায় আমি একাধিকবার বাইতুল্লাহর হজ্ব করতে পেরেছি এবং সবসময় চেষ্টা করি, প্রতি বছর না হলেও অন্তত তিন বছরে যেন একবার যাওয়া হয়। সে হিসাবে আমি আগামী বছরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করি। কিন্তু দেশের কিছু অঞ্চলে বন্যা হওয়ায় শত শত পরিবার বিপদের সম্মুখীন হয়। সেখানে আমার কিছু আত্মীয়-স্বজনও আছে। এ অবস্থায় আমাদের ইমাম সাহেব আমাকে পরামর্শ দেন এবারের হজ্বের জন্য জমা করা অর্থগুলো মানবতার সেবায় দান করে দিতে। তিনি বলেন, নফল হজ্বের চেয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বেশি ফযীলতের। তার কথামতো সে অর্থ আমি ঐ খাতে দান করে দেই। এখন চিন্তা হচ্ছে, আসলে কোনটা উত্তম ছিল, দান করে দেয়া, নাকি হজ্বে যাওয়া। এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানিয়ে আমাকে আশ্বস্ত করবেন।

অসুস্থতার কারণে তাওয়াফ না করে দেশে চলে আসলে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৫০২) : আমি গত বছর স্বপরিবারে হজ্বে যাই। আমাদের সাথে আমার দশ বছর বয়সী ছোট ছেলেটিও ছিল। সে হজ্বের কাজগুলো করতে সক্ষম ছিল। সে আমাদের সাথে হজ্বের প্রথম দুই দিনের কাজগুলো যথাযথভাবে করার পর আরাফায় অসুস্থ হয়ে যায়। এরপরও আমরা তাকে নিয়ে দশই যিলহজ্বের কাজগুলো করেছি। এদিন তার অসুস্থতা এত বেড়ে যায় যে, তার পক্ষে বা তাকে নিয়ে তাওয়াফ করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। আমরা দেশের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে চলে আসি। আসার আগেও সে তাওয়াফ করতে পারেনি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফ না করে চলে আসার কারণে তার উপর কিংবা আমাদের উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি না? সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

লটারির টাকা কি হালাল হবে?

প্রশ্ন (১২৫০১) : আমি সাধারণ চাকরিজীবী। সাংসারিক ব্যয়ের পর যে অতিরিক্ত টাকা হাতে থাকে তা আমি হজ্বের উদ্দেশ্যে একটু একটু করে জমাতে থাকি। এভাবে হজ্ব কাফেলায় জমা দেওয়ার মতো অর্থ জোগাড় হয়ে যায়। এদিকে আমার একটি লটারি ড্র হওয়ায় আরো কিছু টাকা হাতে আসে। আগের জমানো অর্থগুলো হজ্ব কাফেলায় দিয়ে লটারি থেকে পাওয়া অর্থ নিজের সঙ্গে রাখি এবং গোটা সফরে ব্যক্তিগত বেশ কিছু খরচ তা দিয়ে নির্বাহ করি। হজ্ব শেষে মক্কায় আমার এক প্রবাসী বন্ধুর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি আমাকে জানালেন, লটারির টাকা হারাম! আর হারাম টাকা দিয়ে হজ্ব করলে হজ্ব হয় না। এতে আমি ভীষণ চিন্তিত হলাম। লটারির ঐ টাকা যে কেন সঙ্গে নিয়েছিলাম সেজন্য অনুতপ্ত হলাম। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার হজ্ব কি একেবারেই হয়নি? নাকি হলেও অসম্পূর্ণ হয়েছে? সেক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? আমার খটকার মূল কারণ, আমার হজ্ব সফরের মৌলিক খরচ, যা কিনা আমি হজ্ব কাফেলায় জমা দিয়েছি তা তো নিঃসন্দেহে হালাল। প্রাসঙ্গিক খরচ সন্দেহযুক্ত হওয়াতে কি হজ্বের উপরে তার প্রভাব পড়বে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

নারীরা মাহরাম ছাড়া হজ্বে যেতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০০) : আমি শুনেছি যে, মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে বেশি দূরত্বের সফর একাকী করতে পারে না। যে পরিমাণ অর্থ থাকলে হজ্ব ফরয হয় তা আমার আছে। কিন্তু মাহরামকে সঙ্গে নেয়ার মতো পথ খরচ ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের মতো সামর্থ্য আমার নেই। এদিকে আমার পড়শী এক দম্পতি এ বছরই হজ্বে যাচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রতিবেশী মহিলার সাথে আমি কি হজ্বের সফরে যেতে পারি? কারণ আমার না হলেও তার তো মাহরাম আছে এবং এতে করে মাহরামের যে প্রয়োজনীয়তা, তথা নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত হওয়া- তা তো হয়েই যাচ্ছে। আর যদি এভাবেও আমার যাওয়ার অনুমতি না থাকে শরীয়তে তাহলে ফরয হজ্ব আদায়ে আমার করণীয় কী?

কংকর নিক্ষেপের সময় কখন থেকে শুরু হয়?

প্রশ্ন (১২৪৫৯) : আমার ভগ্নিপতি গত বছর হজ্বে গিয়েছিলেন। হজ্বে যাওয়ার আগে দেশেই আমি হজ্বের বিভিন্ন বিষয়ে তাকে দিকনিদের্শনা দিয়েছিলাম। যেন হজ্বের হুকুম-আহকাম পালনে কোনো ধরনের ত্রুটি না হয়। ১২ তারিখে তাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলাম, কোথায় আছেন? তিনি বললেন, এই তো কেবলমাত্র কংকর মেরে মক্কায় আসলাম। আমি বললাম, সূর্য ঢলার আগেই কংকর মেরেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। এখানকার অনেকেই বলেছে ১১ ও ১২ তারিখে সূর্য ঢলার আগেও কংকর নিক্ষেপ করা যায়। আমি বললাম, আপনি পুনরায় মিনায় গিয়ে কংকর মেরে আসেন। ফলে তিনি আবার মিনায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করেন। এখন হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, যারা বলে, ১১ ও ১২ তারিখে সূর্য ঢলার আগেও কংকর মারা যাবে। তাদের কথা শুদ্ধ কি না? বিষয়টি নির্ভরযোগ্য দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

কংকর নিক্ষেপ, কুরবানী ও হলক করার আগে তাওয়াফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৮) : আমি আমার মাকে নিয়ে গত বছর হজ্বে যাই। মক্কায় পৌঁছে প্রথমে উমরা করি। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে পুনরায় ইহরাম বেঁধে হজ্বের কাজগুলো করতে থাকি। দশম তারিখে তাওয়াফের সময় প্রচন্ড ভিড়ের আশংকা করে কংকর নিক্ষেপ না করে সরাসরি মক্কায় চলে যাই এবং তাওয়াফ করে নেই। তারপর ঐ দিনের বাকি আমলগুলো যথানিয়মে আদায় করি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফ কি কংকর নিক্ষেপ, কুরবানী ও হলকের পরই করতে হবে? কংকর নিক্ষেপ করার আগে তাওয়াফ করা যাবে কি? যদি তাওয়াফ করা না যায় তাহলে আমরা যে তাওয়াফ করেছি তার কারণে কোনো জরিমানা আদায় করতে হবে কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

এজেন্সির মুআল্লিমকে দিয়ে বদলী হজ্ব করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪১৯) : আমার মামা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তার উপর হজ্ব ফরয। কিন্তু হজ্বে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। অন্যকে দিয়ে বদলী হজ্ব করাতে চান। মামার এক প্রতিবেশী সরকারি মুআল্লিম। তিনি বাংলাদেশ থেকে সরকারি খরচে মক্কা যান। হাজ্বীদের খেদমত করে এবং নিজেও হজ্ব করে। তিনি মামাকে বললেন, আমি আপনার বদলী হজ্ব করে দিব। পুরো খরচ দিতে হবে না। ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিলেই চলবে। কেননা আমার তো খরচ নেই। তাই আপনার থেকে কম নিব। এখন আমার মামা কি তাকে দিয়ে বদলী হজ্ব করাতে পারবে?

বিধবা মহিলা কি ইদ্দত চলাকলীন স্বামীর গৃহের বাইরে রাত্রী যাপন করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৪০) : আড়াই মাস আগে আমার স্বামী রোড এক্সিডেন্টে মারা যান। বর্তমানে আমি স্বামীর বাড়িতে ইদ্দত পালন করছি। দু’সপ্তাহ পর আমার ছোট বোন ও তার স্বামী হজ্বে যাবেন। তাদের বাসা আমাদের গ্রামেই, খুব নিকটে। হজ্বে যাওয়া উপলক্ষে তারা সকল নিকট আত্মীয়কে দাওয়াত করেছেন। যাদের মাঝে আমিও আছি। আমি কি এ দাওয়াতে যেতে পারব?

বদলি হজ্ব করার পর বেঁচে যাওয়া টাকার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২২৮৫) : আমি মসজিদের ইমাম। এক মুসল্লি তার বাবার বদলি হজ্বের জন্য আমাকে নির্বাচন করেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, স্বাভাবিকভাবে হজ্ব করতে এখন কত খরচ হয়? আমি একজন ট্রাভেলস মালিকের কাছ থেকে খরচের পরিমাণ জানার পর উক্ত মুসল্লিকে তা জানিয়ে দিই। তিনি আমাকে সে পরিমাণ টাকা দিয়ে দেন। আল্লাহর রহমতে আমি হজ্বে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে সব খরচ করার পর তার দেওয়া কিছু টাকা আমার কাছে থেকে গিয়েছে। জানার বিষয় হল, আমি এই উদ্বৃত্ত টাকাগুলো কি আমার প্রয়োজনে খরচ করতে পরব? নাকি তার কাছে ফেরত দিতে হবে?

অন্যকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করালে কি তা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২২৬৩) : আমি এবছর আমার মাকে নিয়ে হজ্ব করতে গিয়েছিলাম। প্রথম দুই দিন প্রচুর ভিড়ের ভেতর মাকে সাথে নিয়ে কংকর মেরেছি। ১২ই যিলহজ্ব কাফেলার মুআল্লিম আমাকে বললেন, কংকর মারার সময় তো প্রচুর ভির থাকে তাই আজ আপনার মাকে কষ্ট না দিয়ে নিজেই তার পক্ষ থেকে কংকর মেরে দিন। এতে তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। মুআল্লিমের কথা অনুযায়ী আমি নিজে সেদিন মায়ের পক্ষ থেকে কংকর মেরেছি। হজ্ব থেকে দেশে ফেরার পর একজন আলেমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘নিজে কংকর মারতে পারলে অন্যকে দিয়ে কংকর মারানো জায়েয নেই।’ তার কথা কি ঠিক? ঠিক হলে এখন করণীয় কী?

মাজুর ব্যক্তি কাউকে দিয়ে বদলি হজ্ব করানোর পর সুস্থ হয়ে গেলে আবার হজ্ব করা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২২৩৬) : আমার নানাজানের উপর আগে থেকে হজ্ব ফরয ছিল। তিনি হজ্বে যাবেন যাবেন করতে করতে দেরী হয়ে যায়। এর মাঝে হঠাৎ করে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। যার দরুন তিনি হাঁটতে পারছিলেন না। নানা চাচ্ছেন তাড়াতাড়ি তার হজ্ব যেন আদায় করা হয়। তাই এক ব্যক্তিকে তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করার জন্য পাঠান। সে নানাজানের পক্ষ থেকে হজ্ব আদায় করে আসে। এর প্রায় বছর খানেক পর আল্লাহর রহমতে নানা প্রায় পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। এখন তিনি একা একা চলা-ফেরা করতে সক্ষম। জানার বিষয় হল, নানা সুস্থ হওয়ার পর কি আবার হজ্ব করা লাগবে, নাকি ঐ হজ্ব যথেষ্ট হবে? তিনি চাচ্ছেন, আবার নিজে গিয়ে হজ্ব করবেন। এটা কি তার ফরয হিসেবে গণ্য হবে না নফল হিসেবে?

হজ্বে সেলাইকৃত জামা পরিধান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২১৫) : আমি পবিত্র হজ্ব পালন করেছি। ইহরাম অবস্থায় সতরের সতর্কতার জন্য আন্ডারপ্যান্ট পরি। তামাত্তু হজ্বের উমরা ও হজ্ব উভয়টি আদায়কালে আমি এটি পরিধান করে ছিলাম। পরবর্তীতে আলেমদের কাছে শুনেছি যে, ইহরাম অবস্থায় এগুলো পরা নিষেধ। এখন আমার কি করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

হজ্বে চুল কাটার নিয়ম।

প্রশ্ন (১২২১০) : হজ্বের মৌসুমে দেখা যায়, কয়েকজন বোরকা পরিহিতা মহিলা কেচি নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। কারো চুল ছোট করার (কছর করা) প্রয়োজন হলে তারা অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, চুল কাটার সর্বনিম্ন পরিমাণ কতটুকু? পুরো মাথা থেকে কাটতে হবে, নাকি অল্প কিছু চুল কাটলেও চলবে? এক্ষেত্রে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য উত্তম তরিকা কী? বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালে উপকৃত হতাম।

হজ্ব বা উমরায় অল্প চুল কাটার দ্বারা কি হালাল হওয়া যায়?

প্রশ্ন (১২১৮০) : পাঁচ বছর আগে আব্বুর সাথে ওমরা করার তৌফিক হয়। সেটা ছিল আমাদের প্রথম ওমরা। আমরা যখন তাওয়াফ ও সায়ী শেষ করে ইহরাম থেকে বের হওয়ার জন্য চুল কাটবো। তখন একটা বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে সংশয় দেখা দেয়। বিষয়টি হল, আমরা দুজনই তো ইহরাম অবস্থায় আছি। আর শুনেছি যে, এক মুহরিম আরেক মুহরিমের চুল কাটলে দম দিতে হয়। এজন্য আব্বু মারওয়াতে এক ব্যক্তিকে, যে আগেই হালাল হয়ে গিয়েছিল অনুরোধ করলে সে কাঁচি দ্বারা আমাদের উভয়ের অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। পরে আমরা হোটেলে এসে পূর্ণ মাথার চুল কাটি। প্রশ্ন হল, আমাদের এভাবে হালাল হওয়া সহিহ হয়েছে কি না? অল্প চুল কাটার দ্বারাও কি হালাল হওয়া যায়?

শাওয়াল মাসে মক্কায় অবস্থান করলে কি হজ্ব ফরয হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২১৭৬) : এক রমযানে আমি উমরার সফর করি। শাওয়ালের দশ তারিখ দেশে ফিরি। তখন অনেক পরিচিতজনই আমাকে বলেছে যে, আমার উপর নাকি হজ্ব ফরয হয়ে গেছে। কেননা হজের মাসে উমরাহ করলে নাকি হজ্ব ফরয হয়ে যায়। কারো কারো বক্তব্য হল, কাবা দেখলে বা যে কোনো সময়ই ওমরা করলে হজ্ব ফরয হয়ে যায়। তাদের এ কথাগুলো সঠিক কি না? আমি একজন আলেমকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কিতাবাদীতে আছে যে, হজ্বের মৌসুমে মক্কায় অবস্থান করলে হজ্ব ফরজ হয়ে যায়। এখানে কোন বক্তব্যটি সঠিক?

বদলি হজ্ব করার পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২১৬৬) : আমার ফুফুর উপর হজ্ব ফরয। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তার হজ্ব করার শারীরিক সক্ষমতা নেই। তিনি অন্য কাউকে দিয়ে তার হজ্বটি করাতে চাচ্ছেন এবং এর জন্য আমাকে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু আমি নিজের ফরয হজ্ব আদায় করলেও কখনো অন্যের বদলি হজ্ব করিনি। তাই হযরতের কাছে আবেদন, বদলি হজ্বের পদ্ধতিটা সংক্ষেপে একটু বলবেন। এক্ষেত্রে কী কী বিষয়গুলো বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে?

মান্নতের নিয়তে হজ্ব আদায় করলে কি ফরয হজ্ব আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১৫৮) : আমার মামা অনেক দিন যাবৎ মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে জেলখানায় আটক ছিলেন। তখন তিনি মান্নত করেন যে, যদি আল্লাহ তাকে জেলখানা থেকে মুক্তি দান করেন তাহলে তিনি হজ্ব করবেন। আল্লাহর মেহেরবানীতে কিছুদিন আগে তিনি মুক্তি পেয়েছেন এবং মান্নত পূর্ণ করার জন্য আগামী বছর হজ্ব করার ইচ্ছা করেছেন। এর আগে কখনো তিনি হজ্ব করেননি। কিন্তু আগে থেকেই তার উপর হজ্ব ফরয ছিল। জানার বিষয় হল, এই হজ্বের মাধ্যমে কি তার ফরয হজ্ব আদায় হবে, নাকি ফরয হজ্ব আদায়ের জন্য পৃথকভাবে আরেকটি হজ্ব করতে হবে?

সৌদি প্রবাসীকে দিয়ে বদলি হজ্ব করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৩৩) : আমার নানার উপর হজ্ব ফরয ছিল। হজ্বে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। হজ্বের টাকা-পয়সাও চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়ে যায়। মৃত্যুর সময় তিনি বদলি-হজ্ব করানোর অসীয়ত করে যান। কিন্তু মৃত্যুর পর তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ ৫০ হাজার টাকার বেশি নয়। এ দিয়ে হজ্ব করানো অসম্ভব। আমাদের এক আত্মীয় সৌদিতে থাকেন। তিনি উক্ত টাকায় বদলি হজ্ব করতে রাজি হয়েছেন। জানতে চাই উক্ত সৌদি প্রবাসীকে দিয়ে হজ্ব করানো যাবে কি না?

সুস্থ ব্যক্তি কি নিজের পক্ষ থেকে নফল হজ্বের বদলি হজ্ব করাতে পারবে?

প্রশ্ন (১২১০৭) : আমি একটি বাড়িতে কাজ করি। বাড়ির মালিত অনেক সম্পদশালী। তিনি নিজে কয়েকবার হজ্ব করেছেন। কয়েক বছর যাবৎ তিনি তার পরিচিত মানুষকে তার পক্ষ থেকে নফল বদলি হজ্বে পাঠান। আলহামদু লিল্লাহ, এবছর হজ্বে যাওয়ার জন্য তিনি আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। আমার ওপর হজ্ব ফরয নয়। কিন্তু আমার একটি খটকা আছে, আমি একটি মাসআলা শুনেছি, নিজে হজ্ব করতে একেবারে অক্ষম হয়ে গেলেই নাকি বদলি হজ্ব করানো যায়? তিনি সুস্থ সবল মানুষ, তাঁর জন্য কি বদলি হজ্ব করানো জায়েয হবে; যদিও তা নফলই হোক না কেন? জানিয়ে বাধিত করবেন।