ফরজ নামাজ

একাকী ফরয নামায আদায় করার সময় কি কেরাত জোরে পাঠ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৬) : আমার বাবা ঘরে একাকী ফরয নামায পড়ার সময় যোহর আসরসহ সকল নামাযে স্বশব্দে ইকামত দেন ও স্বশব্দে কেরাত পড়েন। যেসকল নামাযে ইমাম সাহেব নিম্নস্বরে কেরাত পড়ে থাকেন ঐসকল নামাযেও জোরে পড়েন। এসব নামাযেও তার জন্য উচ্চস্বরে কিরাত পড়া কি ঠিক হচ্ছে? আর ঠিক না হলে তার আদায়কৃত নামাযগুলোর বিধান কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুসাফিরের জন্য কি সফর অবস্থায় কসর করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৮১২) : সফর অবস্থায় নামায কসর করা কি জরুরি? কেউ কেউ বলে কসর করা জরুরি নয়। কেউ চাইলে পুরো নামাযও পড়তে পারে আবার কসরও করতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ কথার পর বিষয়টি নিয়ে আমি সংশয়ে পড়ে যাই। দয়া করে আমাকে এর সমাধান জানাবেন।

ফরয নামাযের তৃতীয়-চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে ফেললে কি সিজদায়ে সাহু আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৭৪২) : কিছুদিন আগে এক বয়ানের মজলিসে এক ভাই নামাযের মাসায়েলের আলোচনা করতে গিয়ে বললেন- ‘ভুলবশত ফরয নামাযের তৃতীয়-চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে সূরা মিলিয়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু করা আবশ্যক হয় না।’ জানার বিষয় হল, তার এই কথা কি ঠিক?

ফরয নামায দাঁড়িয়ে শুরু করার পর বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৩২) : আমার কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা। তাই আমি সাধারণত বসে নামায পড়ি। একদিন এশার নামাযে ব্যাথা কিছুটা কমে। তাই মনে করলাম নামায হয়ত দাঁড়িয়ে পড়তে পারব। সে হিসেবে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করি। কিন্তু নামাযের মধ্যে ব্যাথা বেড়ে যায়। ফলে বাকি নামায আর দাঁড়িয়ে পড়া সম্ভব হয়নি। বসেই শেষ করতে হয়েছে। এখন হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর ওজরের কারণে বসে পড়ার সুযোগ আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

জামাতে নামায আদায় করার গুরুত্ব।

প্রশ্ন (১২৫৬০) : আমার জানামতে আমাদের সমাজে কিছু মানুষ যে কোনো ফরয নামায (বিশেষ করে ফজরের ফরয নামায)-এর জামাতে অনুপস্থিত থাকে। কারণ হিসাবে তারা বলেন, নবী কারীম (সা.) সবসময় নামায আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করতেন এবং আবু দাউদ শরীফের একটি হাদিসে আছে, ‘যখন তোমাদের ইমামগণ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে তখন তোমরা নিজেরা উক্ত নামায ঘরে আদায় করবে। পরে তাদের সাথে মিলিত হলে পুনরায় জামাতে শরীক হবে। তা তোমাদের জন্য নফল।’ তাদের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক এবং উক্ত কারণে জামাতে অনুপস্থিত থাকার গুনাহ হবে কি না?

মসজিদে একাকী ফরয নামায শুরু করার পর জামাত শুরু হয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৪৯১) : আমাদের গ্রামের বাজার মসজিদে প্রায়ই জামাতের নির্ধারিত সময় থেকে পাঁচ-দশ মিনিট দেরি করে জামাত শুরু করে। তাই অনেক মুসল্লীই জামাতের অপেক্ষা না করে একাকী নামায পড়তে দাঁড়িয়ে যায়। পরে দেখা যায় জামাত শুরু হয়ে যায়। আমিও প্রায় সময় একাকী দাঁড়িয়ে যাই। একবার এশার নামাযে একাকী দাঁড়িয়ে গেলে এক রাকাত শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতে যখন কেরাত আরম্ভ করেছি তখন জামাত আরম্ভ হয়ে যায়। এ অবস্থায় আমি বুঝতে পারছিলাম না- আমার কী করণীয়। আমি কি নামায ছেড়ে দিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করব, নাকি পুরো নামায একাকী শেষ করে ফেলব- যেমনটা সাধারণত করে থাকে এখানকার অন্য মুসল্লীরা- নাকি দুই রাকাত পূর্ণ করে জামাতে অংশ নেব। অবশেষে চিন্তা করে দ্বিতীয় রাকাত সমাপ্ত করে জামাতে শরীক হয়ে গেলাম। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে আসলে কী করা উচিত? তাছাড়া আমি যা করেছি তা কি ঠিক হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন। বিস্তারিত বললে ভালো হয়।

চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের প্রথম বৈঠকে ইমাম না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৬৩) : যোহরের নামাযে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। পিছন থেকে কয়েকজন মুকতাদী ‘আল্লাহু আকবার’ বলে লোকমা দেন। তখন ইমাম সাহেব বসে পড়েন এবং তাশাহ্হুদ পড়ার পর শেষে সাহু সিজদা করেন। আমার জানার বিষয় হল, এই নামায কি শুদ্ধ হয়েছে, নাকি তা আবার পড়তে হবে?

ফরয নামায ভুলে পাঁচ রাকাত পড়ে ফেললে উক্ত নামাযের হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৩৫৬) : আমার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে জামাত করে আসর নামায পড়ছিলাম। ভুলবশত চতুর্থ রাকাতকে তৃতীয় রাকাত মনে করে দাঁড়িয়ে যাই এবং পাঁচ রাকাতের পর সালাম ফিরাই। সালাম ফেরানোর পর সে বলল, নামায তো পাঁচ রাকাত হয়েছে; তখন আমি কথা না বলে সাহু সিজদা করি এবং পুনরায় সালাম ফিরাই। আমাদের এ নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

ফরয নামাযের পর ইমাম সাহেব কোন জায়গায় সুন্নত আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২৩৪৪) : আমি মকতব বিভাগের একজন শিক্ষক। আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব কখনো না থাকলে আমি নামায পড়িয়ে থাকি। আমার একটি বিষয় জানার ছিল। তা হল, কোনো কোনো মসজিদে দেখি যে, ইমাম সাহেব যোহর, মাগরিব, এশা এই ওয়াক্তগুলোতে ফরয নামাযের পর সুন্নত পড়ার জন্য মেহরাব থেকে পিছনে চলে আসেন। আবার কেউ জায়নামাযের একপাশে দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়েন। আর কেউ নিজের জায়গায় দাঁড়িয়েই সুন্নত পড়েন। এক্ষেত্রে আসলে সঠিক নিয়ম কী?

নফল নামাযের মাঝখানে মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি উক্ত নফঅ নামায কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৮) : একদিন সকালে আমি কুরআন তিলাওয়াত শেষে ইশরাকের নামায পড়ছিলাম। সেদিন নামায অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে গেলে আমি নামায ছেড়ে দিই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, আমার উক্ত নামায কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

নামায কাযা করার সময় কি ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৭৩) : আমি শৈশব থেকেই নামাযের প্রতি খুব যত্নবান ছিলাম। তাই কখনো কোনো কারণে নামায ছুটে গেলেও সাথে সাথে তা কাযা করে নিতাম। কিছুদিন হল, আমি এক কোম্পানিতে সেলসম্যান হিসাবে চাকরি শুরু করেছি। ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় মাঝেমাঝেই যোহর, আসর ও মাগরিব নামায কাযা হয়ে যায়। তবে আমি প্রতিদিন নিয়মিতই রাতে বাসায় এসে উক্ত নামাযগুলোর কাযা পড়ে নিই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি যে, রাতে কাযা করার সময় আমাকে কি উক্ত নামাযগুলোর নির্ধারিত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পড়তে হবে?

ফরয নামায শুরু করার পর হায়েয চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৮৬) : ফরয নামায শুরু করার পর দ্বিতীয় রাকাতে আমার হায়েয চলে আসে। ফলে সে নামাযটি আমি পূর্ণ করতে পারিনি। এখন উক্ত নামাযের হুকুম কী? তা কি পবিত্র হওয়ার পর কাযা করতে হবে? এমনটি যদি নফল নামাযে হয়, তাহলে বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুন্নত নামাযে দাঁড়ানোর পর জামাত শুরু হয়ে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৬১) : আমি মসজিদে যোহরের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত পড়ছিলাম, এমতাবস্থায় ইকামাত শুরু হয়। তখন আমি চার রাকাত পূর্ণ না করে দুই রাকাত পড়েই সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হই। জানার বিষয় হল, চার রাকাতের নিয়ত করে দুই রাকাতে সালাম ফিরিয়ে ফেলাটা কি সঠিক ছিল,নাকি চার রাকাত পূর্ণ করে জামাতে শরীক হওয়া উচিত ছিল?

একাকী নামায আদায় করার সময় কি ইকামত বলতে হবে?

প্রশ্ন (১২০০৫) : আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার মাঝে মাঝেই অফিস থেকে বের হতে দেরি হয়ে যায়। তখন আমি বাসায় এসে নামায আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমি বাসায় নামায আদায় করার সময় কি ফরযের পূর্বে ইকামত বলব নাকি ইকামত ছাড়াই নামায শুরু করব?

ফরয নামাযের তৃতীয় রাকাতে ভুলে সূরা ফাতিহার পরে অন্য কোন সূরা পড়ে ফেললে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৭৩৯) : আমি এশার নামাযের তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ভুলে অন্য একটি সূরা পড়ে ফেলি। নামায শেষে আর সাহু সিজদা করি নি। আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে?

চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের শেষ বৈঠকে না বসে ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৭২৮) : একবার আমি একাকী যোহরের নামায আদায় করছিলাম। তখন চতুর্থ রাকাত শেষে বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে যাই। পরে পঞ্চম রাকাতে রুকুতে গিয়ে মনে পড়ে যে, আমি চতু্র্থ রাকাত শেষে বৈঠক করি নি। তখন মাসআলা না জানা থাকার কারণে আমি নামায ছেড়ে দিয়ে পুনরায় আবার নামায আদায় করি। হযরতের কাছে জানতে চাই, এ ক্ষেত্রে আমার করণীয় কী ছিল?

ইমাম সাহেব যেখানে দাঁড়িয়ে ইমামতি করেছেন সেখানে দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়া অনুত্তম।

প্রশ্ন (১১৬৫২) : একদিন যোহরের নামাযের সময় আমাদের মসজিদে ইমাম সাহেব না থাকায় আমি ইমামতি করি। নামায শেষে ইমামতির জায়গায় দাঁড়িয়েই আমি নামায পরবর্তী সুন্নত আদায় করি। নামায শেষে একজন আলেম আমাকে বললেন, যেখানে দাঁড়িয়ে আপনি ইমামতি করেছেন সেখানে দাঁড়িয়ে পরবর্তী সুন্নত আদায় করা অনুত্তম হয়েছে। সেই আলেমের কথা ঠিক আছে?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে ভুলে অন্য সূরা পড়ে ফেললে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৪৭) : মাঝেমধ্যে আমি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে ভুলে অন্য সূরা পড়ে ফেলি। এর কারণে আমাকে সাহু সিজদা করতে হবে? আমাকে একজন বলল, সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মিলানোর কারণে রুকু করতে বিলম্ব হয়েছে। তাই সাহু সিজদা করতে হবে। তার কথা কি ঠিক আছে?

একাকী নামায আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথম রাকাতে সূরা নাস পড়ে ফেললে দ্বিতীয় রাকাতে কোন সূরা পড়বে?

প্রশ্ন (১১৫৭৪) : একাকী ফরয নামায আদায় করার ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে প্রথমে রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পরে ভুলে ‘সূরা নাস’ পড়ে ফেলি। শুনেছি, এক্ষেত্রে নাকি দ্বিতীয় রাকাতেও ‘সূরা নাস’ পড়তে হবে। তাই এমন ভুল হয়ে গেলে এর ওপর আমল করে থাকি। জানার বিষয় হল, উক্ত পদ্ধতি কি ঠিক?