পোশাক ও সাজসজ্জা

নামাযী ব্যক্তির সামনে অন্য কেউ ছবিযুক্ত জামা গায়ে দিলে নামাযে দাঁড়ালে কি প্রথম ব্যক্তির নামায মাকরু…

প্রশ্ন (১২৯০৩) : মসজিদে নামায পড়তে গেলে প্রায় সময় দেখি আমার সামনের মুসল্লীর পিঠে কোনো মানুষ বা প্রাণীর ছবি থাকে। এক আলেমের কাছে শুনেছি যে, নামায পড়ার সময় সামনে, ডানে বা বামে ছবি থাকলে নামায মাকরূহ হয়। আমার জানার বিষয় হল উক্ত আলেমের কথা কি ঠিক? এমন পরিস্থিতিতে তার পেছনে নামায পড়ার কারণে কি আমার নামাযও মাকরূহ হবে?

কোনো প্রতিষ্ঠান সুদী ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ করলে উক্ত প্রতিষ্ঠারে চাকরি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৬৭) : আমি একজন আলেমের কাছে জানতে পেরেছি যে, ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা হারাম। ছেলে ব্যাংকে চাকরি করে। তাই তার উপার্জন দ্বারা মা-বাবা হজ্ব করতে পারবেন না। এই উত্তর থেকে আমার মনে সংশয় এসেছে যে- ১. বিভিন্ন বিধর্মী বিদেশী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানী করে থাকে। তারা সুদকে হারাম মনে করে না। ব্যাংক থেকে সুদী লোন নিয়ে থাকে এবং ব্যাংক থেকে সুদ দেওয়া হলে তাও গ্রহণ করে। আমি উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসাবে বাংলাদেশে তাদের অফিসে কাজ পরিচালনা করে থাকি। এক্ষেত্রে আমার কাজ পোষাকশিল্প নিয়েই। প্রস্তুত করা থেকে নিয়ে শিপমেন্ট পর্যন্ত সকল কাজের পরিচালনা আমার দায়িত্বে। তো এ বাবদ তারা যে বিনিময় প্রদান করে থাকে তা গ্রহণ করা হালাল না হারাম? ২. আমার এক দ্বীনী ভাইয়েরও প্রশ্ন হল, উপরোক্ত কোম্পানী ও এধরনের প্রতিষ্ঠানের আমদানীকৃত পণ্য সে এদেশ থেকে বিদেশে পরিবহন করে থাকে। এ বাবদ তাদের থেকে প্রাপ্ত টাকা হালাল না হারাম। তার পরিবহন সংক্রান্ত কার্যাদিও বৈধ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তার পরিবহন খরচ পরিশোধ করছে তো উক্ত ইহুদী-খ্রিস্টানদের কোম্পানী, যারা সুদী লোন নেয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে সুদ গ্রহণও করে। এ কারণে আমাদের বেতন ও পারিশ্রমিক অবৈধ গণ্য হবে কি না?

রুকু-সিজদায় যাওয়ার পর পিছনের সতর খুলে গেলে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৫) : অনেক সময় মসজিদে কিছু মুসল্লী ভাইকে দেখা যায় তারা এমন খাটো শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি পরে নামায পড়তে আসে যে, রুকু-সিজদায় গেলে পিছনের সতর খুলে যায়। এতে অনেক সময় তার পিছনের মুসল্লীদের বিব্রত হতে হয়। এখন আমি জানতে চাই, এমন কাপড় পরিধান করে নামায পড়ার কী হুকুম? এতে পিছনের মুসল্লীদের নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ফরজ গোসলে কি চুল ভিজানো আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৮০৮) : মেয়েদের ফরজ গোসলে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ভিজানো কি জরুরী? খোপা/বেণী করা থাকলে সমাধান কি? আর চুল খোলা থাকলে সমাধান কি?

ইহরাম পরিহিত ব্যক্তি নিজে হালাল হওয়ার আগে কি অন্য কারো চুল কাটতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৭৯৫) : আল্লাহর রহমতে আমি এ বছর আমার স্ত্রীসহ হজ্ব করেছি। হজ্বে যাওয়ার কিছুদিন আগে হজ্ব প্রশিক্ষণে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, উমরার সমস্ত কাজ শেষ করার পর এবং ১০ যিলহজ্ব কুরবানী করার পর হালাল হওয়ার জন্য প্রথমে কাফেলার একজন কোনো নাপিত বা হালাল ব্যক্তির কাছে মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হবেন। তারপর সেই ব্যক্তি অন্যদের মাথা মুণ্ডন করতে পারবেন। এভাবে যারা হালাল হয়ে গেছেন শুধু তারাই অন্যদের মাথা মুণ্ডন করবেন। আর হালাল হয়েছেন এমন কোনো পুরুষ তার স্ত্রী বা মাহরামের চুল কেটে দেবেন। তারপর সেই মহিলা অন্য মহিলাদের চুল কেটে দিতে পারবেন। মোটকথা প্রশিক্ষণে বলা হয়েছে, কেউ নিজে হালাল না হয়ে নিজের বা অন্য কারো চুল কাটতে পারবে না। এ কথা কি ঠিক? কেউ যদি হালাল না হয়ে নিজের বা অন্য কারো চুল কেটে দেয় তাহলে এর ফলে কি দম বা সদকা ওয়াজিব হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

অসুস্থতার কারণে মাথায় ক্ষুর ব্যবহার করতে না পারলে ইহরাম থেকে হালাল হবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১২৭৫৮) : আমি হজ্বের বিভিন্ন বইয়ে পড়েছি যে, হলকের দিন কারো মাথায় চুল না থাকলেও মাথায় ক্ষুর ঘুরাতে হয়। আমার মাথায় বিভিন্ন ধরনের গুটি থাকায় অনেক দিন যাবৎ আমি ডাক্তারের পরামর্শে ক্ষুর-কাঁচি কিছুই ব্যবহার করি না; বরং প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর ঔষধ ব্যবহার করে চুল উঠিয়ে ফেলি। এখন হুযূরের কাছে জানতে চাই, আমার উক্ত রোগের কারণে কি মাথায় ক্ষুর না লাগানোর সুযোগ আছে?

নামাযে নারীদের চুল বের হয়ে গেলে কি নামাযে ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৭৪৩) : আমার বোন যোহরের নামায পড়ার সময় কয়েকটি চুল ওড়নার পাশ দিয়ে বের হয়ে ছিল। আমার আম্মু দেখে বোনকে বললেন, তোমার নামায হয়নি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমার আম্মুর কথা কি ঠিক? বোনের নামায কি হয়নি?

ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য কতটুকু পরিমাণ চুল কাটতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৬১) : হজ্ব বা উমরাহ করার পর হালাল হওয়ার জন্য কতটুকু পরিমাণ চুল কাটা আবশ্যক? মাথার চারপাশের কয়েক জায়গা থেকে অল্প অল্প করে চুল কেটে নিলে তার দ্বারা কি হালাল হওয়া যাবে?

মায়্যিতের চুল আঁচড়ানো এবং চুল নখ কাটার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫৯২) : কিছুদিন আগে আমার এক চাচাতো ভাই ইন্তিকাল করে। আমি, আমার মামা এবং আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব মিলে গোসল দেই। গোসল শেষে মামা চাচাতো ভাইকে কাফনের কাপড় পরিয়ে সুগন্ধি লাগায়, মাথার চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে দেয় এবং বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলির বেশ বড় দুটো নখ কেটে অন্যান্য নখের সমান করে দেয়। মুয়াযযিন সাহেব চুল আঁচড়ানো এবং নখ কাটতে বাধা দিলে তিনি তা মানেননি; বরং বিভিন্ন ধরনের যুক্তির আশ্রয় নেন। তো আমার জানার বিষয় হল- ১. মৃত ব্যাক্তির মাথার চুল আঁচড়ানো এবং নখ কাটার ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী? ২. কেউ যদি ভুলে বা মাসআলা না-জানার কারণে এমনটি করে ফেলে, তবে ঐ কর্তিত নখের ব্যাপারে করণীয় কী? তা কি সাধারণ ময়লার মত ফেলে দেওয়া হবে, নাকি মৃতের কবরে দাফন করা হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম।

স্ত্রীকে তালাক হওয়ার পরেও কি সে স্বামীর বাড়িতে থাকতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫০৯) : কয়েকদিন আগে আমার প্রবাসী পিতা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার আম্মাকে তিন তালাক দিয়ে দেন। বিষয়টি একজনকে জানালে তিনি দ্রুত আম্মাকে নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে বলেন। একথা শুনে তিনি বিমূর্ষ হয়ে পড়েছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে নানাবাড়িতে কীভাবে যাবেন? এ করুণ পরিস্থিতিতে জনাবের কাছে জানার বিষয় হল, ১. এখন কি বাস্তবেই আম্মাকে নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে? আমরা চাচ্ছি, তিনি আব্বুর স্ত্রী হিসাবে না থাকলেও আমাদের দেখাশুনা ও পরিবারের নিয়ন্ত্রণের জন্য আব্বুর সংসারে থাকুন। এতে শরয়ী কোনো সমস্যা আছে কি না? এক্ষেত্রে আব্বুর টাকা দিয়ে তিনি নিজের ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন কি না? ২. আম্মার তালাকের ইদ্দতেও মৃত্যু পরবর্তী ইদ্দতের ন্যায় সাজসজ্জা ত্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন বিধান কার্যকর হবে কি না?

জামার হাতা গুটিয়ে নামায আদায় করলে মাকরুহ হবে?

প্রশ্ন (১২৪০৬) : আমি মাদরাসার ছাত্র। আমরা আমাদের মাদরাসার নিজস্ব মসজিদে নামায পড়ে থাকি। একদিন ইমাম সাহেবকে রুকুতে যেতে দেখে তাড়াহুড়া করে তার একতেদা করি। আমার পাশেই উস্তায দাঁড়িয়েছিলেন। নামায শেষে তিনি আমাকে বললেন, অযু শেষ করে জামার হাতা ঠিক কর না কেন, নামাযে হাতা গুটিয়ে রাখা মাকরূহ। জানতে চাচ্ছি- সঠিক কথা কী?

নামাযে মহিলাদের চুল খোলা থাকলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪০০) : নামাযের মধ্যে মহিলাদের চুল ঢেকে রাখার বিষয়ে বিভিন্ন রকম কথা শুনেছি। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, চুল বা মাথার কতটুকু অংশ খোলা থাকলে নামায ভাঙবে নাকি ভাঙবে না?

কালো খেজাব ব্যবহারের বিধান।

প্রশ্ন (১২২৬২) : কালো খেজাব ব্যবহার করার শরয়ী বিধান কী? কোনো ইমাম সাহেব যদি ব্যবহার করেন তাহলে তার পেছনে ইকতিদার বিধান কী হবে?

হজ্বে সেলাইকৃত জামা পরিধান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২১৫) : আমি পবিত্র হজ্ব পালন করেছি। ইহরাম অবস্থায় সতরের সতর্কতার জন্য আন্ডারপ্যান্ট পরি। তামাত্তু হজ্বের উমরা ও হজ্ব উভয়টি আদায়কালে আমি এটি পরিধান করে ছিলাম। পরবর্তীতে আলেমদের কাছে শুনেছি যে, ইহরাম অবস্থায় এগুলো পরা নিষেধ। এখন আমার কি করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

হজ্বে চুল কাটার নিয়ম।

প্রশ্ন (১২২১০) : হজ্বের মৌসুমে দেখা যায়, কয়েকজন বোরকা পরিহিতা মহিলা কেচি নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। কারো চুল ছোট করার (কছর করা) প্রয়োজন হলে তারা অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, চুল কাটার সর্বনিম্ন পরিমাণ কতটুকু? পুরো মাথা থেকে কাটতে হবে, নাকি অল্প কিছু চুল কাটলেও চলবে? এক্ষেত্রে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য উত্তম তরিকা কী? বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালে উপকৃত হতাম।

হজ্ব বা উমরায় অল্প চুল কাটার দ্বারা কি হালাল হওয়া যায়?

প্রশ্ন (১২১৮০) : পাঁচ বছর আগে আব্বুর সাথে ওমরা করার তৌফিক হয়। সেটা ছিল আমাদের প্রথম ওমরা। আমরা যখন তাওয়াফ ও সায়ী শেষ করে ইহরাম থেকে বের হওয়ার জন্য চুল কাটবো। তখন একটা বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে সংশয় দেখা দেয়। বিষয়টি হল, আমরা দুজনই তো ইহরাম অবস্থায় আছি। আর শুনেছি যে, এক মুহরিম আরেক মুহরিমের চুল কাটলে দম দিতে হয়। এজন্য আব্বু মারওয়াতে এক ব্যক্তিকে, যে আগেই হালাল হয়ে গিয়েছিল অনুরোধ করলে সে কাঁচি দ্বারা আমাদের উভয়ের অল্প কিছু চুল কেটে দেয়। পরে আমরা হোটেলে এসে পূর্ণ মাথার চুল কাটি। প্রশ্ন হল, আমাদের এভাবে হালাল হওয়া সহিহ হয়েছে কি না? অল্প চুল কাটার দ্বারাও কি হালাল হওয়া যায়?

উমরার ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতার কারণে উমরায় যেতে না পারলে হালাল হওয়ার উপায় কী?

প্রশ্ন (১২০৬৮) : কিছুদিন আগে আমার মামা ইহরাম করে উমরার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। এয়ারপোর্টে গিয়ে গাড়ি থেকে নামার পরপরই একটি বাইকের চাকা আমার বড় মামার পায়ের পাতার উপর উঠে যায়। এতে তাঁর পায়ের পাতার হাড় ভেঙ্গে যায়। আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার আমার মামাকে এক মাস বেডরেস্টে থাকতে বলেন। এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উমরায় ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওজরের কারণে উমরায় না যেতে পারলে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার উপায় কী? এব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।