তালাক

স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর আবার ইদ্দতের মাঝে বিবাহ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৯৮) : আমার বন্ধু তার স্ত্রীকে এক তালাকে বায়েন দিয়েছে। তারপর ইদ্দত শেষ হওয়ার আগেই তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এখন জানার বিষয় হলো, ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে তাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ঠিক হয়েছে কি না?

স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর স্ত্রী মারা গেলে সন্তান লালন-পালনের অধিকারী কে হবে?

প্রশ্ন (১২৪৮৬) : দেড় বছর আগে একটি বিশেষ কারণে আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিই। তখন আমাদের একটি ৫ মাসের ছেলে ছিল। ছেলেটি খুব ছোট থাকায় আমি তাকে তার মা’র কাছে রাখি এবং তার যাবতীয় খরচ বহন করি। কিছুদিন হল সে একটি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। এখন আমি ছেলেটিকে আমার কাছে নিয়ে আসতে চাচ্ছি। কিন্তু তার মায়ের পরিবার অর্থাৎ আমার শাশুড়ি বাচ্চাটি কোনোভাবেই ফেরত দিতে চাচ্ছে না। আর এই বিষয়ে তার ছেলেরা তাকে সহায়তা করছে। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় যখন মা নেই, তারাই কি সন্তানের ব্যাপারে বেশি হকদার নাকি পিতা হিসাবে আমি?

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৪৮৫) : আমার মামাতো বোনের তুলনায় ওর স্বামীর বয়স অনেক বেশি ছিল। সে কারণে ওদের মধ্যে কোনো বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলেই আমার মামাতো বোন বলত, তুমি যদি আমাকে তালাক দিয়ে দাও তাহলে আমার কোনো সমস্যা নেই। গত সপ্তাহে আবার ঝগড়া হলে আমার মামাতো বোন কথার একপর্যায়ে বলে উঠে, তাহলে তুমি আমাকে তালাক দিয়ে দাও। তখন ওর স্বামী রাগের মাথায় বলে ফেলেছে, যা দিলাম। মুখে তালাক বা এজাতীয় কোনো শব্দ উল্লেখ করেনি। এখন একথা বলার দ্বারা তালাক হয়েছে কি না? কয়েকজন থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। সঠিক মাসআলাটি মুহতারামের নিকট জানতে চাচ্ছি। আর যদি তালাক হয়ে যায় তাহলে পুনরায় একত্রে থাকতে চাইলে কী করণীয়?

স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর অন্যের কাছে তালাকের বর্ণনা দিলে কি নতুন করে তালাক পতিত হবে?

প্রশ্ন (১২৪৮২) : একবার ভাইয়া-ভাবির মাঝে প্রচন্ড ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ভাইয়া তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘তুমি তালাক, চুপ করো বলছি!’ একথা শুনে অবাক হয়ে আম্মা বললেন, বাবা, তুই কী বললি!? ভাইয়া বলে, বলেছি, ‘ও তালাক’ এরপর আব্বা, ভাইয়ার শ্বশুর এবং অন্যান্যরা ফোন করে আম্মার মতো প্রশ্ন করতে থাকলে ভাইয়া আগের মতই উত্তর দিয়ে যান। জানার বিষয় হল, তালাক দেওয়ার পর বিভিন্নজনের জানতে চাওয়ার প্রেক্ষিতে এভাবে একের পর এক তালাক শব্দ যে উচ্চারণ করা হল, এর দ্বারা আসলে কয় তালাক হয়েছে?

স্বামী মৃত্যুশয্যায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর মারা গেলে কি স্ত্রী মিরাছ পাবে?

প্রশ্ন (১২৪৭১) : কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকার একটি লোক মারা যান। লোকটি অনেক ধনী ছিলেন। তিনি দুই বিবাহ করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী থেকে তার দুই ছেলে তিন মেয়ে আর দ্বিতীয় স্ত্রী থেকে এক ছেলে। লোকটি মারা যাওয়ার পাঁচ মাস পূর্বে স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে প্রথম স্ত্রীর ঘরেই থাকতেন। তখন প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানেরা তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাদের কথা অনুযায়ী তিনি কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের সামনে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ডেকে বলেন, ‘আজ থেকে তুমি তালাক’। তালাক দেওয়ার দেড় মাস পর তিনি মারা যান। এখন তার দ্বিতীয় স্ত্রী মিরাসের সম্পত্তি পাবে কি না এ নিয়ে আমাদের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কথা চলছে। তাই মুহতারামের নিকট দুটি বিষয়ে সঠিক সমাধান চাচ্ছি : ১. লোকটির দ্বিতীয় স্ত্রী মিরাসের সম্পত্তি পাবে কি না? ২. প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানদের দাবি হল, লোকটি ‘আজ থেকে তুমি তালাক’ এ কথা বলে বায়েন তালাকের নিয়ত করেছিল। তাই সে সম্পত্তি পাবে না। জানার বিষয় হচ্ছে, ‘তুমি তালাক’- বলে বাইন তালাকের নিয়ত করা যায় কি না?

স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর সন্তান লালন-পালনের হকদার কে হবে?

প্রশ্ন (১২৪৬৯) : আমার বোনকে কিছু দিন আগে তার স্বামী তালাক দিয়ে দেয় এবং দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী আমার বোন তার ইদ্দত পূর্ণ করে। এরপরই তার বিবাহের নতুন সম্বন্ধ আসতে শুরু করে। এদিকে তাদের পনেরো মাস বয়সের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এই মুহূর্তে সে তার মায়ের কাছেই অর্থাৎ আমাদের বাড়িতেই আছে। তবে তার বাবার পরিবার থেকে বলা হচ্ছে, মেয়ের মা যদি অন্যত্র বিবাহ করে তাহলে সে বা এ বাড়ির অন্য কেউ বাচ্চার লালন-পালনের অধিকার ধরে রাখতে পারবে না। বাবার পরিবারই নাকি তখন মেয়ের প্রতিপালনের একমাত্র হকদার। মুহতারামের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, শরীয়তের দৃষ্টিতে বাচ্চার প্রতিপালনের বেশি হকদার কে? মা নাকি বাবা? তাছাড়া বাচ্চার মা অন্যত্র বিবাহ করলে কি সত্যিই সে আর বাচ্চার প্রতিপালনের অধিকার রাখে না? যদি নাও রাখে তথাপি মায়ের পর বাচ্চার প্রতিপালনের বেশি হকদার কে? এবং এর কোনো সময়সীমা আছে কি না? বিস্তারিত জানতে আগ্রহী।

স্বামী মৃত্যুশয্যায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর সে মারা গেলে স্ত্রী কিভাবে ইদ্দত পালন করবে?

প্রশ্ন (১২৪৬৮) : আমি আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রী। কিছুদিন আগে আমার স্বামী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেই অবস্থায় আমার সতীনসহ তার সন্তানেরা আমাকে তালাক দেওয়ার জন্য তাকে প্ররোচিত করলে তিনি আমাকে তিন তালাক দেন। এরপর আমি তার বাড়িতেই ইদ্দত পালন শুরু করি। তার কয়েকদিন পড়েই তিনি সেই অসুস্থতায় মারা যান। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় আমার ইদ্দতের হুকুম কী? আমি কি তালাকের ইদ্দত পালন করব নাকি স্বামীর মৃত্যুর?

বিয়েতে পাত্রের বাবা ও আকদ সম্পাদনকারী কি সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১২৪৬০) : আমার এক বন্ধুর বোনকে তার স্বামী একটি বায়েন তালাক দেয়। তালাক দেয়ার কিছুদিন পর তারা উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে সম্মত হন। ১৭ দিন পরে আমার বন্ধুর বাবা ঘরোয়াভাবে তাদের বিবাহের আয়োজন করেন। আমাদের গ্রামের ইমাম সাহেবকে ডেকে বিবাহ পড়িয়ে দেন। বিবাহের মজলিসে ইমাম সাহেব আমার বন্ধুর বাবা এবং তার সেই বোন ও বোনজামাই উপস্থিত ছিলেন। ইমাম সাহেব খুতবা দিয়েছেন আর তার বাবা বিবাহ পড়িয়েছেন। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তার বাবা এবং ইমাম সাহেব সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট হবেন কি না?

নামাযে মহিলাদের চুল খোলা থাকলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪০০) : নামাযের মধ্যে মহিলাদের চুল ঢেকে রাখার বিষয়ে বিভিন্ন রকম কথা শুনেছি। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, চুল বা মাথার কতটুকু অংশ খোলা থাকলে নামায ভাঙবে নাকি ভাঙবে না?

মিরাছ বণ্টনের পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২৩২৯) : আমরা তিন বোন দুই ভাই। বেশ কয়েক বছর যাবৎ আমাদের মাতা-পিতার মাঝে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছিল। কিছুদিন আগে এই ঝগড়া আরো প্রকট আকার ধারণ করে এবং আমার পিতা আমার মাকে এক তালাকে বায়েন দিয়ে দেন। তালাকের কয়েকদিন পর আমার মা খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তায় গাড়ি এক্সিডেন্টে আমার মা ইন্তেকাল করেন, আমরাও গুরুতর আহত হই। ইন্তেকালের সময় আমার মায়ের মালিকানাধীন বেশ কিছু জমি, কিছু নগদ অর্থ আর কিছু স্বর্ণালঙ্কার ছিল। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে আমরা তিন বোন, দুই ভাই এবং আমাদের পিতা কে কতটুকু করে অংশ পাবে? মাসআলাটির সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

খোলা তালাক।

প্রশ্ন (১২২৩৭) : আজ থেকে ছয় মাস আগে আমাদের এক প্রতিবেশী তার নিকটাত্মীয় এক মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। শুরুতে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। কিছুদিন পর থেকে মেয়ে যে কারণেই হোক স্বামীর সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে। স্বামী সর্বদা স্ত্রীর মন জয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় হঠাৎ একদিন স্ত্রী স্বামীকে কোনো কিছু বলা ছাড়াই তার বাবার বাসায় চলে যায়। স্বামী তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও সে আসতে চায় না। এমনকি এখন সে স্বামী থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক হয়ে যেতে চায়। কিন্তু স্বামী তাকে তালাক দিতে রাজি নয়। সর্বশেষ স্ত্রী মহরের বিনিময়ে খোলা করতে চাচ্ছে। জানার বিষয় হল, এভাবে অর্থের বিনিময়ে তালাক দেওয়া জায়েয হবে কি না? এক্ষেত্রে বিনিময় স্বরূপ প্রদত্ত মহরের চেয়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে কি না? পরবর্তীতে তারা উভয়ে যদি পুনরায় ঘর সংসার করতে চায় তাহলে সেটার কোনো বৈধ সুরত আছে কিনা?

মাগরিবের আযানের পর ফরযের আগে কোনো নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২২৮) : মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, মাগরিবের আযানের পরে ফরয নামাযের আগে নফল নামায পড়ার হুকুম কী? এবিষয়ে কোনো এক আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, পড়া যাবে। কেননা বিভিন্ন সাহাবীরা পড়েছেন। অন্য একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মাকরূহে তানযিহী-এর সাথে হবে; কেননা খুলাফায়ে আরবাআসহ উল্লেখযোগ্য কোনো সাহাবী পড়েননি। এ বিষয়ে শরয়ী সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২০৭) : ১. আমি স্ত্রীর উপর রাগ করে ঠাণ্ডা মাথায় একবার একথা বলি, ‘আমার ছোট ছেলের ২ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে তুমি তালাক’। একথা আমি একা একা বলি শব্দ করে। আবার প্রচন্ড রাগের মাথায় একা একা শব্দ করেও ঐ জাতীয় কথা আলাদা আলাদা দিনে কয়েকদিন বলি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে কয় তালাক পতিত হবে? ২. আমার এবং আমার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি আমার স্ত্রীকে এ কথা বলি- ‘বেশি চিল্লাবা না; আর বেশি চিল্লাইলে তুমি আমার বউ থাকবা না।’ এ কথার পরও সে অনেক চিল্লিয়েছে। ঐ কথা বলার সময় দিলের নিয়ত কী ছিল তা বুঝতে পারছি না। অতএব, উপরিউক্ত কথার ভিত্তিতে মেহেরবানী করে ফতোয়া জানালে বাধিত থাকব।

নামায পড়া অবস্থায় মাথা থেকে টুপি খুলে পড়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৬২) : নামায পড়া অবস্থায় বিভিন্ন কারণেই অনেকসময় মাথা থেকে টুপি খুলে পড়ে যায়। এক্ষেত্রে করণীয় কি? টুপি উঠিয়ে মাথায় পরে নিতে হবে, না মাথা খোলা অবস্থায়ই নামায পড়ব? সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি।

পেনশনের টাকা কি সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকে রাখতে পারব?

প্রশ্ন (১২১৫০) : আমি পেনশন পেয়েছি। টাকাটা উঠানোর পর তা দিয়ে জমি বন্ধক রাখতে পারছি না, আবার গরু কিনে বর্গাও দিতে পারছি না। কারণ, উভয়টাই নাকি নাজায়েয। আমি কি সংরক্ষণের জন্য টাকাটা ব্যাংকে রাখতে পারব? যদি রাখা যায় তাহলে কোন ধরনের হিসাবে রাখা জায়েয হবে? জানালে অনেক উপকার হয়।

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২১০৫) : আমার ও আমার স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক কিছু বিষয়ে ঝগড়া হয়েছিল। তখন আমি তাকে রাগের মাথায় বলেছিলাম, ‘আজ থেকে তোকে তালাক দিয়ে দিলাম।’ প্রতি উত্তরে সে বলেছিল, ‘তালাক দিয়ে লাভ কী? কিছুদিন পর আবার তো ফিরিয়ে নেবেন।’ একথা শুনে আমার রাগ আরো বেড়ে যায় এবং তার কথার জবাবে বলে ফেলি, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে তোকে আর ফিরিয়ে নেব না।’ তখন তার বাবা এসে তাকে বাপের বাড়ি নিয়ে যায়। তখন থেকে এ পর্যন্ত (প্রায় ২৫/২৬ দিন) তার সাথে আমার আর কোনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। অবশ্য প্রয়োজনে ফোনে এক-দুবার কথা হয়েছে। কিন্তু ইদানীং ফোন করে সে আমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছে এবং তার কৃতকর্মের ওপর অনুশোচনা প্রকাশ করছে। আমারও তার সাথে আবার সংসার করার ইচ্ছা আছে। তাই জানতে চাচ্ছি, উক্ত অবস্থায় তার ওপর কয় তালাক এবং কোন ধরনের তালাক পতিত হয়েছে? পুনরায় সংসার করতে চাইলে কীভাবে কী করতে হবে? আশা করি সবিস্তারে জানাবেন।

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৯২) : এলাকার এক মেয়ের সাথে আমার দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল। প্রায় সময়ই ফোনে তার সাথে কথাবার্তা হত। নিয়ত ছিল তাকে বিয়ে করব। তাই এ ব্যাপারে তাকে আশ্বস্ত করার জন্য একদিন বলেছিলাম, ‘আমি তোকে ছাড়া যদি অন্য কাউকে বিয়ে করি, তাহলে সে তিন তালাক।’ কিন্তু গত সপ্তাহে তার বাবা-মা তাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়। এখন তার সাথে আমার সম্পর্কও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। উক্ত বিষয়টি জানালে কেউ কেউ বলেছেন, আমি নাকি আর বিবাহ করতে পারব না। অন্য কাউকে বিয়ে করলে তার ওপর নাকি সাথে সাথেই তিন তালাক পড়ে যাবে। এ নিয়ে আমি খুব পেরেশানিতে আছি। হুজুরের কাছে অনুরোধ, সামনে গুনাহের পথ থেকে যেন বাঁচতে পারি তাই শরীয়াহসম্মত বিবাহের কোনো সমাধান দেবেন।

মাতাল অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিলেকি তালাক পতিত হয়?

প্রশ্ন (১২০৭৩) : আমার এক প্রতিবেশী প্রায়ই মদ খায়। এক রাতে সে মাতাল হয়ে বাড়ি আসে এবং তার স্ত্রীকে খুব মারধর করে তাকে বলে, ‘যা আজ থেকে তুই তালাক?’ পরের দিন সে ঘুম থেকে উঠে লজ্জিত হয়। তার স্ত্রী এখন তার থেকে আলাদা থাকছে। এখন তারা পুনরায় ঘর-সংসার করতে চায়। হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় তার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? পতিত হলে তাদের ঘর-সংসার করার কোনো সুযোগ আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার পর কি তা ফিরিয়ে নেওয়া যায়?

প্রশ্ন (১২০৭২) : এক বছর হল আমার বিবাহ হয়েছে। বিয়ের সময় আমার স্বামী আমাকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে (আমি যখনই চাই তখনই) তালাক গ্রহণ করার অধিকার দিয়েছিলেন। বিয়ের পর আমি নিজেকে শ্বশুর বাড়ির সাথে কোনভাবেই মানিয়ে নিতে পারছি না। আর অন্যদিকে আমার স্বামীর আচার-আচরণও ভালো নয়। তাই আমি তালাক গ্রহণের প্রাপ্ত অধিকার বলে তালাক গ্রহণ করতে চাইলে তিনি বলেন-আমি তোমাকে যে অধিকার দিয়েছিলাম তা ফিরিয়ে নিলাম। এখন তোমার তালাক গ্রহণের অধিকার নেই, আর আমিও তোমাকে তালাক দেব না। জানার বিষয় হল, আমার তালাক গ্রহণের অধিকার কি শেষ হয়ে গেছে? এখন বিবাহ বিচ্ছেদের উপায় কী? সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

মজার ছলে ইজাব কবুল বলে ফেললে কি বিয়ে সংঘটিত হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২০৬৭) : আমাদের কলেজে বন্ধুদের মধ্যে মজার ছলে একটি ঘটনা ঘটে যায়। ঘটনাটি হচ্ছে, আমার এক বন্ধু আমাদের কয়েকজন বন্ধুদের সামনে তার এক বান্ধবীকে মজা করে বলল, আমি তোকে বিবাহ করলাম। তার বান্ধবীও বলল, আমি কবুল করলাম। এরপর আর তাদের মধ্যে কোনোকিছু হয়নি; বরং দু’জনই স্বাভাবিকভাবে আলাদা আলাদা থাকে। পড়াশোনা শেষ করে আমার বন্ধু অন্য জায়গায় বিয়ে করে। এখন ঐ মেয়েটির বিবাহ ঠিক হয়েছে। মেয়ের বাবা উক্ত ঘটনা জানতে পেরে আমার বন্ধুকে তালাক দিতে বলছে। আর আমার বন্ধু বলছে আমি তো ঠাট্টা করে বলেছিলাম। তালাক দেয়ার কী প্রয়োজন? এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, ঠাট্টাচ্ছলে ইজাব কবুলের দ্বারা তাদের ঐ বিবাহ কী হয়েছিল? এই মেয়েকে বিবাহ দেয়ার জন্য কী তালাক নেয়া জরুরি?