পবিত্রতা

চুল কাটার কারণে কি মাথা মাসেহ বাতিল হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১১৭৫৬) : আমি যোহরের নামাযের আগে বাজারে যাই চুল কাটার জন্য। চুল কাটা শেষে ফেরার পথে জামাতের সময় হয়ে যায়। আমার পূর্বে ওযু ছিল বিধায় আর নতুন করে ওযু করি নি। আগের ওযু দিয়েই নামায আদায় করেছি। নামাযের পরে আমার মনে সন্দেহ জাগল যে, চুল কাটার আগে যেই চুলের উপর আমি মাসেহ করেছিলাম সেই চুল তো আর নেই; চুল কাটার কারণে আমার ওযু ভেঙে গেল কিনা। তাই হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, চুল কেটে ফেলার কারণে কি আমার মাসেহ ভেঙে গেছে?

সিরিঞ্জের মাধ্যমে শরীর থেকে রক্ত বের করলে কি ওযু ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১১৭৫৫) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার রক্ত পরিক্ষা করা জন্য ডাক্তার আমার শরীর থেকে রক্ত নেয়। রক্ত দেওয়ার পর যোহরের নামাযের সময় হয়ে যায়। আমার আগে থেকে ওযু ছিল। তাই আমি আর নতুন করে ওযু করি নি। আগের ওযু দিয়েই নামায আদায় করি। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে? রক্ত দেওয়ার কারণে কি আমার ওযুতে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?

নখের ভিতর মাটি থাকলে কি ওযু হবে?

প্রশ্ন (১১৭৫৪) : আমি ক্ষেতে কাজ করছিলাম। তখন মসজিদে মাগরিবের আযান হয়ে যায়। তাই দ্রুত ওযু করে মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করলাম। নামাযের পর খেয়াল করলাম যে, নখের ভিতর মাটি রয়ে গেছে। তাই আমার মনে খটকা লাগছে যে, আমার নামায সহিহ হয়েছে কিনা। আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে নাকি কাযা করতে হবে?

ওযুতে তারতীব রক্ষা করা সুন্নত।

প্রশ্ন (১১৭৪৩) : আমি মসজিদের ওযুখানায় ওযু করতে বসার পর এক লোককে দেখলাম, সে ডান পা ধোয়ার আগেই বাম পা ধুয়েছে। এবং সেই ওযু দিয়ে সে নামায আদায় করেছে। আামার জানার বিষয় হলো, তার ‍ওযু কি সহিহ হয়েছে? এবং সেই ওযু দিয়ে আদায় করা নামায কি সহিহ হয়েছে?

ওযুতে মাথা মাসেহ করতে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৭৪২) : আমি ফজরের নামাযের আগে ঘুম থেকে উঠে ওযু করতে যাই। ওযু করার সময় মাথা মাসেহ করতে ভুলে যাই। পরে নামাযের আগ মুহূর্তে আমার মনে পড়ে। আমার জানার বিষয় হলো, শুধু মাথা মাসেহ করলেই কি ‍ওযু হয়ে যাবে নাকি আবার ওযু করতে হবে?

অর্ধেক ওযু করার পর অঙ্গ শুকিয়ে গেলে কি নতুন করে ওযু করতে হবে?

প্রশ্ন (১১৭৩৭) : একবার বাসায় ওযু করার সময় ওযু শেষ হওয়ার আগেই পানি শেষ হয়ে যায়। তখন আমি মসজিদে চলে যাই। মসজিদে যেতে যেতে ধোয়া অঙ্গগুলো শুকিয়ে যায়। তখন আমি চিন্তায় পড়ে যাই যে, আগের ওযু পূর্ণ করব নাকি নতুন করে ওযু করব। পরে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করে আমি আগের ওযুই পূর্ণ করে নামায আদায় করি। হযরতের কাছে জানার বিষয় হলো, ধোয়া অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পর বাকি অঙ্গগুলো ধুয়ে অযু শেষ করা কি ঠিক হয়েছে?

হায়েয অবস্থায় যিকির করা যাবে।

প্রশ্ন (১১৭৩৪) : আমি নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করে থাকি। কিন্তু মাসিকের সময় কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকি। আমি জানতে চাচ্ছি, মাসিক অবস্থায় কি আমি যিকির-আযকার ও তাসবিহাত আদায় করতে পারব?

ছোট বাচ্চা বমি করলে সেই কাপড়ে নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৭৩৩) : আমার ছেলের বয়স পাঁচ মাস। মাঝে মাঝে দুধ খাওয়ানোর সময় আমার কোলে বমি করে দেয়। তখন আমি টিস্যু দিয়ে বমি মুছে বা হাত দিয়ে পরিষ্কার করেই ঐ কাপড়ে নামায পড়ি। কাপড় পরিবর্তন করি না। আমার জানার বিষয় হলো, দুধের শিশুর বমির বিধান কী? তা পাক, নাকি নাপাক? এই বমির কাপড়ে নামায আাদায় করলে কি আমার নামায হবে?

গোসল ফরয অবস্থায় শরীর থেকে বের হওয়া ঘাম নাপাক নয়।

প্রশ্ন (১১৬৭৬) : গোসল ফরয অবস্থায় শরীর থেকে যে ঘাম বের হয় তা কি নাপাক? সেই ঘাম যদি কাপড়ে লাগে তাহলে কি কাপড় নাপাক হয়ে যাবে? সেই ঘামযুক্ত কাপড় পরিধান করে নামায পড়া যাবে কি?

নাকের সর্দি নাপাক নয়।

প্রশ্ন (১১৬৬৫) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, নাকের সর্দি কি নাপাক? নামায পড়ার সময় বা অন্য কোনো সময় আমার নাকে সর্দি আসলে হাতের কাছে কোনো রুমাল না থাকলে তখন জামার আস্তিন দিয়ে ‍মুছে ফেলি। এতে কি আমার জামা নাপাক হয়ে যাবে? সেই জামা গায়ে দিয়ে নামায পড়লে কি আমার নামায হবে?

রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে ওযু ভেঙে যাবে।

প্রশ্ন (১১৬৪৮) : আমি এশার নামাযের সময় ওযু করে মসজিদের দিকে রওয়ানা দিই। মসজিদের সামনে গিয়ে দেখতে পাই, পায়ের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়ছে। সাথে সাথে আমি তা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলি। পরে রক্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি পুনরায় ওযু করে নামায আদায় করি। এই অবস্থায় কি আমার পুনরায় ওযু করা ঠিক ছিল?

হাত-পায়ের নখ কাটলে কি ওযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১১৬৪৬) : একবার আমি ওযু করে হাত পায়ের নখ কাটি। তারপর নতুন ওযু না করেই নামায আদায় করি। আমার উক্ত নামায কি সহীহ হয়েছে, নাকি ওযু করে পুনরায় আদায় করতে হবে?

নাপাক তোষক কিভাবে পাক করব?

প্রশ্ন (১১৬৪২) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার ঘুমের মধ্যে বেশখানি পেশাব বেরিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠার পর দ্রুত পেশাবের স্থান সহ আশেপাশে ধুয়ে পরিষ্কার করলাম। তারপর তোষকের যেই জায়গায় পেশাব লেগেছে সেখানেপানি ঢেলে হাত দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করলাম। এখন আমার প্রশ্ন হলো, ১. আমি এভাবে ধৌত করার পর স্থানটি শুকিয়ে গেলে কি তোষক পাক হবে? ২. তোষক কি ৩ বার ধৌত করতে হবে? ৩. পানি দিয়ে তোষক পরিষ্কার করার সময় ওই পানি অন্য কোনো কাপড়ে লাগলে ওই কাপড় কি নাপাক হয়ে যাবে?

পেশাব ঝরার ব্যপারে সন্দেহ হলে কী করণীয়?

প্রশ্ন (১১৬৪১) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা। মাঝে মাঝেই আমার প্রস্রাবের স্থান থেকে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব বের হয়। তারপর আমি তা ধুয়ে ফেলি। কিন্তু আমার সমস্যা হল, কিছুক্ষণ পর পর আমার মনে হয় যে, তা এখনো পড়ছে, কিন্তু আসলে পড়ছে না। এই অবস্থায় আমার কী করা উচিত? আমি কি প্রতি ওয়াক্ত নামাযের সময় কাপড় পাল্টিয়ে নামায আদায় করব?

পেশাব করার পর শুধু টিস্যু ব্যবহার করলে কি পবিত্রতা অর্জন হবে?

প্রশ্ন (১১৬৪০) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি প্রায় সময় পেশাব করার পর শুধু টিস্যু ব্যবহারেই ক্ষ্যান্ত থাকি। পানি ব্যবহার করি না। তো আমার জানার বিষয় হলো, পেশাব করার পর পানি ব্যবহার না করে শুধু টিস্যু ব্যবহার করলে কি পবিত্রতা অর্জন হবে?

ফজরের ওয়াক্ত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তায়াম্মুম করা যাবে না। ওযু করে নামায আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন (১১৬২৫) : সকালে আমার ঘুম ভাঙার পর দেখি ফজরের ওয়াক্তের আর অল্প সময় বাকি আছে। এই সময়ে ওযু করতে গেলে নামায কাযা হয়ে যাবে। তাই আমি নামায কাযা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে ফজরের নামায আদায় করে নিই। হযরতের কাছে জানতে চাই, এভাবে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করা কি সঠিক হয়েছে?