ঈদের খুতবায় ইমাম সাহেব তাকবীর বলার সময় মুসল্লীরা কী করবে?
প্রশ্ন (১২৯৫৫) : ঈদের খুতবায় ইমামের তাকবীর বলার সময় মুসল্লীরাও কি তাকবীর বলবে না চুপ থাকবে? অনেককে তাকবীর বলতে দেখা যায়। সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৯৫৫) : ঈদের খুতবায় ইমামের তাকবীর বলার সময় মুসল্লীরাও কি তাকবীর বলবে না চুপ থাকবে? অনেককে তাকবীর বলতে দেখা যায়। সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৯৫৪) : কাঁথা-কম্বল ইত্যাদির কোনো এক কোণে যদি ছোট বাচ্চার পেশাব লাগে এবং তা শুকিয়ে যায় তাহলে কি অপর পাক অংশে নামায পড়া যাবে? তেমনি তোশক বা জাজিমের এক পিঠে নাপাকি লাগলে তা উল্টিয়ে অপর পিঠে কি নামায পড়া যাবে?
প্রশ্ন (১২৯৫৩) : আমার ফুফার একটি রাইসমিল আছে। সেখানে নতুন কিছু মেশিনারিজ কেনার জন্য ১,৩০,০০০/- টাকার প্রয়োজন। সে আমার সাথে এভাবে চুক্তি করতে চাচ্ছে যে, আমি তাকে ঐ টাকা দিলে সে প্রতি মাসে আমাকে ১৭০০/- টাকা লাভ দিবে। এর পর বাকি লাভ যা থাকবে ছয়মাস পর পর হিসাব করে বণ্টন হবে। তখন লাভের পরিমাণ দেখে ইনসাফের ভিত্তিতে শতকরা হারে একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে বাকি লাভ নেওয়া হবে। তাই মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উপরে বর্ণিত নিয়মে করা আমাদের চু্ক্তিটি কি বৈধ হবে?
প্রশ্ন (১২৯৫২) : আমার মামার একটি কাপড়ের দোকান আছে। বছর খানেক আগে সেখানে বিনিয়োগের জন্য মামাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলাম। মামা বলেছিলেন, প্রতি মাসে দুই-আড়াই হাজার টাকা করে দিবে। আর বছর শেষে যখন হিসাব হবে তখন চূড়ান্ত হিসাব করে লভ্যাংশ উভয়ে বণ্টন করে নেব। তবে কোনো অংশ উল্লেখ করা হয়নি। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে চুক্তি করা কি বৈধ হয়েছে? আর আমি যে লাভ গ্রহণ করছি তা গ্রহণ করা জায়েয হচ্ছে কি? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৯৫১) : জনৈক ব্যক্তি বললেন পর নারীর দিকে তাকানো নাকি ছগিরা গুনাহ! তিনি কোনো এক কিতাবে পড়েছেন। বিষয়টি কি আসলেই এমন? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৯৫০) : আমি একবার আমার স্ত্রীর সাথে এভাবে কসম করেছিলাম যে, ‘যাও! মক্কা মদীনার কসম করে বলছি, আমি আর কখনো ইচ্ছা করে নামায ছাড়ব না। সর্বদা নামায পড়ব।’ কিন্তু আমি এরপরও অনেকবার নামায ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমার করণীয় কী? আমাকে কি এর কাফফরা আদায় করতে হবে? কাফ্ফারা আদায় করতে হলে কীভাবে আদায় করব? বিষয়গুলো জানানোর অনুরোধ রইলো।
প্রশ্ন (১২৯৪৯) : একদিন এহরাম অবস্থায় রাত্রে ঘুমানোর সময় ঠাণ্ডার কারণে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। প্রথমদিকে মুখ খোলা রেখেই ঘুমিয়ে ছিলাম। কিন্তু ঘুমে আমার অজান্তেই মাথা ঢেকে ফেলি। দেশে আসার পর এ বিষয়ে এক হাজ্বী সাহেবের সাথে কথা বললে তিনি বললেন, আপনাকে দম দিতে হবে। অবশ্য আমি রাত ১১ টায় ঘুমিয়েছি তিনটায় উঠে পড়েছি। এখন আমি এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানতে চাই।
প্রশ্ন (১২৯৪৮) : কিছু দিন আগে আমাদের মসজিদে জুমার নামাযের পর একটি জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। তো জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব তৃতীয় তাকবীর বলার পর ভুলে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। পরে মুসল্লীগণ তাঁকে তা জানালে তিনি বললেন, ভাই! নামায তো হয়ে যাবে, তারপরও আমরা নামায আবার পড়ে নিই। জানার বিষয় হল, এভাবে জানাযার নামাযে এক তাকবীর ছুটে গেলে নামায কি হয়ে যাবে?
প্রশ্ন (১২৯৪৭) : আমার আম্মুর হাই প্রেসার। ফলে মাথা সবসময় গরম হয়ে থাকে। তাই সর্বদা মাথায় কাপড় রাখতে কষ্ট হয়। জানতে চাচ্ছি, তিনি আমাদের সামনে এবং অন্য মাহরাম পুরুষদের সামনে মাথা খোলা রাখতে পারবেন কি? এবং মাথা খোলা রেখে কুরআন শরীফ ও হাদিসের কিতাব পড়তে পারবেন কি? দয়া করে জানালে উপকার হবে।
প্রশ্ন (১২৯৪৬) : আমরা সাধারণত আমাদের দেশে দেখি শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা বলে সম্বোধন করা হয়। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, শ্বশুরকে আব্বু ও শাশুড়িকে আম্মু বলে ডাকা যাবে কি?
প্রশ্ন (১২৯৪৫) : আমাদের কাফেলার এক ব্যক্তি ভুলে উমরার সায়ী না করে মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। স্মরণ হওয়ামাত্রই হেরেমে গিয়ে সায়ী করে নেয়। জানতে চাই, তার এই উমরা কি সহিহ হয়েছে? যদি না হয়ে থাকে তাহলে করণীয় কী?
প্রশ্ন (১২৯৪৪) : নামাযে ভুলের কারণে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দিলে মাসবুক ব্যক্তি কি ঐ সিজদায় ও সালামে শরীক হবে, নাকি হবে না? এ সম্পর্কে সঠিক পদ্ধতি জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৯৪৩) : আমি কানাডা থাকি। দেশে আমার মা বোনদের সাথে আমার স্ত্রীর ঝগড়া হওয়াতে সে তার পিত্রালয়ে চলে যায়। পরিবারের লোকেরা তাকে তালাক দিতে বলে। কিন্তু আমি দেইনি। এর কিছু দিন পর আমি দেশে আসলে পরিবারের লোকেরা আবারো তালাক দিতে চাপ দিতে থাকে। এমনকি একদিন রাতে কয়েকজন আমাকে নিয়ে বসে স্ত্রীকে তালাক দিব কি না জানতে চায়। আমি কোনো উত্তর না দেওয়াতে তারা আমার উপর ক্ষেপে যায়। এক পর্যায়ে আমার ছোট ভাই (বেয়াদবীর সব সীমা অতিক্রম করে) পূর্ব থেকে সংগৃহীত একটি তালাকনামা আমার হাতে দিয়ে বলে যে তালাক না দিলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিবে, বিদেশে যেতে দিবে না ইত্যাদি। অন্যান্যরাও তার কথার সমর্থন করে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। আচমকা এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে আমি তালাকনামা পূর্ণ করি। যাতে ‘আমি তোমাকে তিন তালাক দিলাম’ উল্লেখ করে নিচে দস্তখত করি। পুরো ঘটনায় আমি মুখ দিয়ে কিছুই বলিনি; বরং মনে মনে বলি ‘তালাক না তালাক না।’ এরপর তারা তালাকনামাটি আমার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেয়। ছুটি শেষে আমি আবারো বিদেশ চলে আসি। এখনো আমি আমার স্ত্রীর উপর সন্তুষ্ট। তার সাথে সংসার করতে চাই। জানার বিষয় হল, কোনো সুযোগ আছে কি না?
প্রশ্ন (১২৯৪২) : আমাদের মহল্লার মসজিদে নামায পড়তে গেলে আমার একটা সমস্যা হয়। তা হলো, কখনো তাশাহ্হুদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। আবার কখনো আখেরী বৈঠকে দরূদ ও দুআ পড়ার আগে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। উল্লেখিত দুটি ক্ষেত্রে আমার করণীয় কী হবে? জানানোর অনুরোধ রইল।
প্রশ্ন (১২৯৪১) : একজন বিবাহিত মেয়ের উপর তার বাবা-মা'র প্রতি এমন কী কী হক রয়েছে যা আদায় করা আবশ্যক? এবং সেই হক গুলো আদায় না করলে আল্লাহ তায়ালা কি কোনো শাস্তি দিবেন?
প্রশ্ন (১২৯৪০) : আমার বড় ভাইয়ের সাথে একটি বিষয়ে লেনদেন করার সময় আমার নিকট ১০০০/- টাকা বেশি আসে। আমি তা জানা সত্ত্বেও ফিরিয়ে দেইনি এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলে আমি বলেছি, হিসাব সব ঠিকঠাক আছে। বর্তমানে ঐ বিষয়টি নিয়ে আমার অনুশোচনা হচ্ছে। কিন্তু কী বলে ফিরিয়ে দিব- বুঝতে পারছি না। ঐ ঘটনা বললে তো অনেক লজ্জার বিষয়। এক্ষেত্রে আমার কোনো এক বন্ধুকে বলতে শুনেছিলাম যে, হাদিয়ার কথা বলে দিলেও নাকি সেই টাকা পরিশোধ হয়ে যাবে। জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে হাদিয়ার কথা বলে দিলেও কি আদায় হয়ে যাবে?
প্রশ্ন (১২৯৩৯) : আমি একজন মাইক্রোবাস চালক। আমি ভাড়ায় মাইক্রোবাস চালাই। আমি আগে যে গাড়িটি চালাতাম তার মালিক গাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ায় এখন আমি আর গাড়ি চালাচ্ছি না। আমার এক বন্ধুর একটি মাইক্রোবাস আছে। সে একদিন আমাকে বলল যে, তুমি আমার মাইক্রোটা চালাও। গাড়ীর প্রয়োজনীয় খরচ ব্যতীত যা আয় হবে তার ৩০% তোমার আর ৭০% আমার। আমাদের উক্ত চুক্তিটি কি সহিহ হয়েছে? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৯৩৮) : আমি একজনকে ২,০০০/- টাকা কর্জ দিলাম। বর্তমান বাজারমূল্য হিসেবে এ দ্বারা ৪০ কেজি খাদ্যশস্য পাওয়া যায়। আমি তাকে বললাম, ১ বছর পর ফেরত দিলেই চলবে। ইত্যবসরে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় উক্ত টাকায় ২৫ কেজি খাদ্যশস্য পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। এখানে যদি আমি ৩,২০০ টাকা পেতাম তাহলে পূর্বের ন্যায় ৪০ কেজি শস্য কিনতে পারতাম। এক্ষেত্রে শরীয়তের ফয়সালা কী? আমি এহসান করব? তার কাছ থেকে সুদ হিসেবে অতিরিক্ত কিছু নেব এমন আগ্রহ আমার নেই; কিন্তু আমি ক্ষতিগ্রস্ত কেন হব? আবার দাম যদি কমে যায় সেক্ষেত্রে ধরা যাক উক্ত টাকায় ৫০ কেজি শস্য পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার জন্য (২,০০০/- টাকার কম) ৪০ কেজির দাম ১,৬০০ টাকা দেওয়া ঠিক হবে কি না?
প্রশ্ন (১২৯৩৭) : আমার চাচা মৃত্যুর পূর্বে তিন মাস ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। সে সময় তার ব্যবহারের মোটরসাইকেলটি তার এক বন্ধুর জন্য অসিয়ত করেন। ইতিমধ্যে চাচার বন্ধু হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেছেন। এর কিছুদিন পর আমার চাচাও ইন্তেকাল করেছেন। এখন চাচার বন্ধুর ছেলেরা সেই মোটরসাইকেলটি দাবি করছে। কিন্তু আমার চাচাতো ভাই বলছেন, বাবা তো মোটরসাইকেলটি তার বন্ধুর জন্য অসিয়ত করেছিলেন, তার ছেলেদের জন্য নয়। আর তিনি তো বাবার আগেই ইন্তেকাল করেছেন। তাই তার ছেলেদের এটা পাওয়ার কথা না। জানতে চাচ্ছি, এখন এটি কাদের প্রাপ্য? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৯৩৬) : একদম অপরিচিত কারও সাথে বাজার বা রাস্তায় কোন বিষয়ে একেবারেই অনাকাঙ্খিত ভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে তর্কাতর্কি,ধমক দেয়া বা দূর্ব্যবহার করে ফেললে তার সাথে যদি দেখা সাক্ষাৎ করার কোন সম্ভাবনাই জীবনে না থাকে তখন এই কৃত গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় জানালে উপকৃত হতাম। এবং ভবিষৎ এ যাতে এরকম অনাকাঙ্খিত অপমান হবার ঘটনায় যেন মাথা ঠান্ডা রাখতে পারি সেক্ষেত্রে নিজেকে শোধরানো বদলানোর জন্য করণীয় কি কি? জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।