অনুসন্ধান

দোকানে মোবাইল সার্ভিস করানোর জন্য দেওয়ার পর দোকানদার তা নষ্ট করে ফেললে কি তার থেকে জরিমানা আদায় করা…

প্রশ্ন (১৩৪৩৫) : আমি এক দোকানে আমার মোবাইলটি সার্ভিসের জন্য দেই। দোকানদার নিজেই মেরামত করে। সে মোবাইল খুলতে গিয়ে মোবাইলের একটি পার্ট নষ্ট করে ফেলে। যার মূল্য দেড় হাজার টাকা। আমি তার কাছে এর জরিমানা চাইলে সে বলল, আমি তো ইচ্ছা করে নষ্ট করিনি। হঠাৎ হয়ে গেছে। আমার প্রশ্ন হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে এর ক্ষতিপূরণ নেওয়া আমার জন্য বৈধ হবে কি?

নামাযের বৈঠকে সূরা ফাতিহা পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হয়?

প্রশ্ন (১৩৪৩৪) : আমি একদিন যোহরের চার রাকাত সুন্নতের প্রথম বৈঠকে বসে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়তে শুরু করি। কয়েক আয়াত পড়ার পর আমার মনে পড়ে। তখন সাথে সাথেই তাশাহহুদ পড়ে নেই এবং যথানিয়মে বাকি নামায শেষে সাহু সিজদা করি। জানার বিষয় হল, উক্ত ভুলের কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব ছিল? এবং সাহু সিজদা করার দ্বারা কি আমার নামায হয়ে গেছে?

বিতরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেবকে পেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৪৩৩) : রমযান মাসে আমি একদিন তারাবীর নামায শেষ করে ইস্তিঞ্জার প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হই। অযু করে ফিরে এসে আমি ইমাম সাহেবকে বিতরের তৃতীয় রাকাতে পাই। আমি তখন জামাতে শরিক হই। ইমাম সাহেব যখন তাকবীর বলে দুআ কুনূত পড়েন তখন আমিও তার সাথে দুআ কুনূত পড়ি। এরপর ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাত শেষ করে সালাম ফিরালে আমি দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট দু রাকাত পূর্ণ করি। তাতে পুনরায় আর দুআ কুনূত পড়িনি। নামায শেষে একজন ব্যক্তি আমাকে বলল, আপনার নামায আদায় হয়নি। কেননা প্রথমবার আপনি যখন ইমামের সাথে দুআ কুনূত পড়েছেন তা ছিল আপনার প্রথম রাকাত। তাই আপনার তৃতীয় রাকাতে দুআ কুনূত পড়া আপনার জন্য ওয়াজিব ছিল। সুতরাং ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব ত্যাগ করার কারণে আপনার নামায নষ্ট হয়ে গেছে। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঐ ব্যক্তির কথা কি ঠিক আছে?

মুসাফির ব্যক্তি কি মুকিমদের জুমার ইমামতি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৪৩২) : কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন বরিশাল থেকে ঢাকায় আসি। এখানে আমার ভগ্নিপতির মাদরাসা আছে। জুমআর দিন তিনি উপস্থিত না থাকায় আমাদের সাথে আসা একজন জুমার নামায পড়িয়ে দেন। পরে আমার মনে হল, তিনি তো মুসাফির। তার নিজের উপরই যখন জুমা ওয়াজিব নয় তখন তিনি মুকীমদের ইমাম হবেন কীভাবে? তাই জানতে চাই, মুসাফিরের জন্য জুমার ইমামতি করার বিধান কী?

নামাযের নিয়ত করার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩৪৩১) : আমি একজন আলেমের কাছে জানতে পেরেছি যে, নামাযের জন্য মনে মনে নিয়ত করাই যথেষ্ট। মৌখিক নিয়্ত করা জরুরি নয়। কিন্তু ফরয ওয়াজিব সুন্নত ও নফল এগুলোর ক্ষেত্রে কীভাবে নিয়ত করতে হবে তা আমার জানা নেই। এ সব ক্ষেত্রে শুধু নামায পড়ছি এমন নিয়ত করা কি যথেষ্ট না কি ফরয-ওয়াজিব নিয়ত করতে হবে? আর কাযা নামায আদায়ের সময় কাযা কথা কি উল্লেখ করতে হবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

ইশার নামায বিলম্ব করে আদায় করলে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রশ্ন (১৩৪২৯) : আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমার ডিউটি রাত ৮টা পর্যন্ত। ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় দশটা বেজে যায়। এরপর খাবার-দাবার ও অন্যান্য কাজ শেষ করে ইশার নামায পড়তে পড়তে প্রায় বারোটা, সাড়ে বারোটা বেজে যায়। এর আগে পড়াটা একটু কঠিন হয়। জানতে চাই, আমার জন্য এত দেরি করে নামায আদায় করায় কোনো সমস্যা আছে কি?

মৃত ব্যক্তিকে তার মৃত্যুস্থল থেকে দূরে নিয়ে দাফন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪২৮) : আমার নানা ঢাকায় থাকতেন। তিনি কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেন। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট। গ্রামে তিনি একটি মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেগুলোর মুতাওয়াল্লি তিনিই ছিলেন। তাই কিছুদিন পরপরই সেখানে যেতেন। এবং কয়েক দিন সেখানে থেকে আসতেন। তার খুব আশা ছিল, উক্ত মাদরাসা-মসজিদের কাছেই তার কবর হবে। সন্তানদেরকে এ কথা বলেছেনও বিভিন্ন সময়। তো তার ইন্তিকালের পর তার দাফনের বিষয় নিয়ে মতভেদ হয়। গ্রামের লোকদের দ্বীনী মুরুব্বি হওয়ায় তাদের চাওয়া ছিল তাকে গ্রামে দাফন করা হোক। তাই তাকে সিলেটে নিয়েই দাফন করা হয়। কিন্তু আমি জানতাম, লাশ এত দূর নিয়ে দাফন করা মাকরূহে তাহরীমী ও নাজায়েয। এখন জানার বিষয় হল, উপরোক্ত অবস্থায় তাকে গ্রামে নিয়ে দাফন করাটা শরীয়তের দৃষ্টিতে ঠিক হয়েছে কি?

কোনো ব্যক্তির নামে মসজিদের নামকরণ করলে কোনো সমস্যা আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৪২৭) : আব্দুল গনী সাহেব আমাদের এলাকার একজন ধনী মানুষ। তিনি একজন ধার্মিক ব্যক্তি। তিনি আমাদের এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। মসজিদের নাম দিয়েছেন আব্দুল গনী জামে মসজিদ। এখন এলাকার কিছু মানুষ বলছে যে, মসজিদ আল্লাহর ঘর। আর আল্লাহর ঘর দুনিয়ার কোনো মানুষের নামে রাখা যাবে না। যদি রাখা হয় তাহলে ঐ মসজিদে নামায সহিহ হবে না। এ নিয়ে মসজিদে খুব বিতর্ক হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হল, মানুষের নামে মসজিদের নামকরণ করা জায়েয আছে কি?

রাতে কুরবানী করলে কোনো অসুবিধা আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৪২৪) : এ বছর কুরবানী করতে আমার একটু দেরি হয়ে যায়। ঈদের পরের দিন রাতে আমার কুরবানীর পশু জবাই করি। প্রশ্ন হল, রাতে কুরবানী করা কি সহিহ হয়েছে? যদি সহিহ না হয় তাহলে এখন আমার করণীয় কী?

খুতবা দেওয়ার সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩৪২২) : আমাদের মসজিদের খতীব সাহেব জুমার বয়ানের সময় প্রসঙ্গক্রমে বলেন যে, জুমা ও ঈদের সময় খতীব সাহেবের জন্য ডান-বাম দিকে চেহারা ফিরিয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত তরীকা নয়। সুন্নত তরীকা হল সামনের মুসল্লিদের দিকে ফিরে খুতবা দেওয়া। জানার বিষয় হল, খতীব সাহেবের উক্ত কথা কি ঠিক?

রুকুতে গিয়ে ভুলে তিলাওয়াত করলে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৪২১) : আমি একদিন একাকী নামায পড়ার সময় রুকুতে গিয়ে ভুলে কিরাত পড়তে শুরু করি। দুয়েক আয়াত পড়ার পর মনে হয় যে আমি রুকুতে আছি। তখন সাথে সাথেই রুকুর তাসবীহ পড়ে যথানিয়মে বাকি নামায শেষে সাহু সিজদা করি। জানার বিষয় হল, উক্ত ভুলের কারণে সাহু সিজদা করে কি আমি ঠিক করেছি?

কোনো কারণে ইমাম সাহেবের আগে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪২০) : রমযানের পূর্বে ট্রেনে এক জায়গায় যাচ্ছিলাম। মাঝে ফজরের সময় এক স্টেশনে ট্রেনটি থামে। ঐ স্টেশনে ট্রেন সাধারণত একটু দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। তাই আমি প্লাটফর্মের এক কামরায় ফজরের জামাতে শরিক হই। আমরা যখন বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ছি তখন ট্রেন ছাড়ার জান্য সংকেত দেওয়া হয়। তাই আমি তাড়াহুড়ো করে ইমামের আগেই সালাম ফিরিয়ে ট্রেনে উঠি। ইমামের আগে সালাম ফিরানোর কারণে কি আমার ঐ নামায নষ্ট হয়ে গেছে? ঐ নামায কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

ডায়ালাইসিস চলাকালীন রোগী নামায আদায় করবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১৩৪১৯) : আমার বাবার উভয় কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডায়ালাইসিসের জন্য অনেক সিরিয়াল থাকে। তাই প্রচুর সময় লাগে। এ কারণে ডাক্তার যে সময় দেয় সে সময়ই করতে হয়। কোনো কোনো সময় মাগরিবের কিছু আগে শুরু হয়। একেবারে ইশার সময় শেষ হয়। কিংবা আসরের আগে শুরু হয় মাগরিবে শেষ হয়। এখন জানার বিষয় হল, ডায়ালাইসিস চলাকালীন তিনি নামায পড়বেন কিভাবে? নাকি নামায না পড়ে পরবর্তীতে কাযা করে নিবেন? তাছাড়া ডায়ালাইসিস চলাকালীন শুয়ে থাকতে হয়। অযু করাও সম্ভব নয়। আবার কেবলাও ঠিক থাকে না। তবে তায়াম্মুম করা যায়। এক দিক দিয়ে শরীরের রক্ত বের করা হয়। আর অন্য দিক দিয়ে রক্ত প্রবেশ হয়। সুতরাং সে কিভাবে নামায আদায় করবে? দয়া করে সঠিক সমাধান জানাবেন।

চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের শেষ বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গিয়ে পঞ্চম রাকাত পড়ে নামায শেষ করলে কি উক্ত …

প্রশ্ন (১৩৪১৮) : আমাদের মসজিদে একদিন ইশার জামাতে ইমাম সাহেব চতুর্থ রাকাতের পর না বসে দাঁড়িয়ে যান। মুসল্লিরা লোকমা দিলেও তিনি ফিরে আসেননি। অতপর পঞ্চম রাকাতের সিজদা করে বৈঠক করেন এবং সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করেন। আমরা সবাই মনে করেছি নামায হয়ে গেছে। কিন্তু পরে জানতে পারলাম যে, আমাদের নামায হয়নি। আমাদের ইমাম সাহেবকে এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, সাহু সিজদার কারণে নামায সহিহ হয়ে গেছে। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, আমাদের সেদিনের ইশার নামায কি সহিহ হয়েছিল? যদি না হয়ে থাকে তবে ঐ দিনের ইশা, সুন্নত ও বিতর সবাইকে কি কাযা করতে হবে?

ফজরের জামাতের আগে সুন্নত পড়তে না পারলে কি তা কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৪১৭) : ফজরের ওয়াক্তে প্রায় সময় ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেলে মসজিদে গিয়ে দেখি ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেছে। তখন সুন্নত না পড়েই জামাতে শরিক হয়ে যাই। জানার বিষয় হলো, এই সুন্নত কি পরে কাযা করতে হবে?

বিতরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ভুলে দুআয়ে কুনুত না পরে রুকুতে সামান্য ঝুঁকে আবার উঠে গেলে কি সাহু সিজদ…

প্রশ্ন (১৩৪১৬) : একবার বিতরের নামাযের ৩য় রাকাতে ভুলে দুআয়ে কুনূত না পড়েই রুকু করতে যাচ্ছিলাম। সামান্য ঝুঁকামাত্রই দুআর কথা স্মরণ হয়। তাই দাঁড়িয়ে দুআয়ে কুনূত পড়ি। এরপর সিজদায়ে সাহু ছাড়াই নামায শেষ করি। জানতে চাই, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে?