সিয়াম বা রোজা

বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে রোযা রাখতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০০০) : আমাদের এলাকায় অনেক পরিবারে দেখি যে, পরিবারের কেউ বৃদ্ধ হওয়ার কারণে রোযা রাখতে না পারলে রমযান মাসে মাদরাসা থেকে একজন দরিদ্র ছাত্রকে লজিং রাখে। তাকে ভোররাতে ও সন্ধারাতে খাবার খাওয়ায়। আমার জানার বিষয় হল, বৃদ্ধ হওয়ার কারণে রোযা রাখতে অক্ষম হলে কী করবে? আর উপরোক্ত পদ্ধতিতে খাবার খাওয়ানোর দ্বারা রোযার ফিদয়া কি আদায় হবে?

আশুরার রোজা কয়টা রাখতে হয়?

প্রশ্ন (১২৯৮২) : আশুরার রোযা কি শুধু ১০ মুহাররমই রাখতে হয়? নাকি এর সাথে আগে বা পরে একদিন মিলিয়ে রাখতে হবে? একজন বলল, শুধু ১০ মুহাররম রাখলেও নাকি তা আশুরার রোযা হিসাবে আদায় হয়ে যাবে। তাই জানতে চাচ্ছি, আসলে সঠিক কোনটি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

রমযানের শুরুতে একসাথে সব রোযার ফিদইয়া আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯২৪) : জনৈক অসুস্থ মাযূর ব্যক্তি যিনি রোযা রাখতে পারেন না তিনি তার রোযার ফিদইয়া পুরা রমযানেরটা একসাথে রমযানের শুরুতেই আদায় করে দিতে পারবেন কি না?

অসুস্থ অবস্থায় রোযা কাযা হওয়ার পর মারা গেলে কি উক্ত রোযার ফিদইয়া দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৯২৩) : আমার ছোট ভাই ২৫ রমযানে অ্যাক্সিডেন্টে মারাত্মকভাবে আহত হয়। প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এবং চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায়ই সে মারা যায়। তাই শেষের পাঁচটি রোযা রাখতে পারেনি। এখন জানার বিষয় হল, অসুস্থাতার কারণে রমযানের শেষের যে রোযাগুলো সে রাখতে পারেনি সেগুলোর ফিদইয়া আদায় করা কি তার উপর ওয়াজিব ছিল? দয়া করে জানাবেন।

কানে পানি গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৯২২) : গত রমজানে একদিন গোসল করার সময় আমার কানে পানি ঢুকে যায়। আমি কানে আরেকটু পানি দিয়ে তা বের করি। এক ভাই তা দেখে বললেন, ইচ্ছাকৃত এভাবে কানের ভেতর পানি দেওয়ার কারণে আপনার রোযা নষ্ট হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, তার এ কথাটি কি ঠিক?

রমযানের দিনে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তার রোযার হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৬৩৫) : গত রমযানে আমরা একটি দাওয়াতী সফরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যাই। বৌদ্ধ-পাড়ায় দাওয়াতের কাজ করি। আলহামদুলিল্লাহ ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এক ভাই বারতম রমযানে সকাল নয়টার দিকে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে। সে যেহেতু নতুন তাই তাকে সেদিন পানাহার থেকে বিরত থাকতে বলিনি; বরং পরবর্তী দিন থেকে সে নিয়মিত রোযা রাখে। তার ইসলাম গ্রহণের দিন এবং পূর্বে অতিবাহিত হওয়া এগারো দিনের রোযা কাযা করা-না করা নিয়ে আমাদের মাঝে মতের ভিন্নতা দেখা দেয়। কেউ বলে, রমযান হল নামাযের মত। তাই এক রমযান পাওয়া পুরো রমযান পাওয়ার হুকুমে। ফলে বিগত এগারো দিনের কাযা করতে হবে। আবার কেউ ভিন্ন কথাও বলেন। তো প্রশ্ন হল- এক. যেদিন কেউ ইসলাম গ্রহণ করল, সেদিন কি সে পানাহার থেকে বিরত থাকবে? যদি এমন ক্ষেত্রে পানাহার করে ফেলে তাহলে কী পরবর্তীতে তা কাযা করতে হবে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধানটি জানালে কৃতজ্ঞ হব। দুই. রমযানের কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে বিগত দিনের রোযা কাযা করার ব্যাপারে সঠিক মাসআলাটি কী?

রোযা রাখা অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে গেলে কি উক্ত রোযার কাযা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৩৪) : আমি গত রমযান মাসে স্বাভাবিকভাবে রোযা রাখছিলাম। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতার কারণে রোযা রাখা অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে যাই এবং অজ্ঞান অবস্থায় তিন দিন হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকি। এরপর আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে জ্ঞান ফিরে পাই এবং বাকি রোযাগুলো রাখি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমি যে তিন দিন অজ্ঞান ছিলাম সে দিনগুলোর রোযার হুকুম কী হবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

রমযানের কাযা রোযা রাখার জন্য সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করা কি জরুরি?

প্রশ্ন (১২৬৩০) : গত সোমবার আমার স্ত্রীর সাথে পরের দিন রোযা রাখার ব্যাপারে কথা হয় যে, আমি নফল রোযা রাখব আর আমার স্ত্রী তার রমযানের কাযা রোযা রাখবে। কিন্তু শেষরাতে উঠতে পারিনি, ফলে সকালে কী করবো চিন্তা করতে করতে প্রায় ১১টার দিকে দুইজনই সেহরি না খেয়েই রোযা রাখার সিদ্ধান্ত নেই এবং যথারীতি দুজনই রোযা রাখি। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের ঐ দিনের রোযা সহিহ হয়েছে কিনা? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

রমযানের রোযার কাফ্ফারা বিরতিহীন রাখা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৬১৭) : আমার স্ত্রীর উপর রমযানের একটি রোযার কাফফারা ওয়াজিব হয়েছিল। কাফফারার ষাটটি রোযার মধ্যে এগারোটি রোযা লাগাতার রাখে। বারোতম দিনে একটি দূরের সফরে বের হলে পথিমধ্যে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে রোযা ভাঙ্গতে বাধ্য হয়। তিন দিনের লাগাতার অসুস্থতার পর চতুর্থ দিন থেকে আবার কাফফারার রোযা রাখতে শুরু করে। এখন প্রশ্ন হল, সে তার গণনা বারোতম রোযা থেকে করবে, না আবার শুরু থেকে শুরু করবে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? দ্রুত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

ঈদের দিন মান্নতের রোযা রাখলে কি উক্ত রোযা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২৬১৪) : আমি গত রমযানে খুব অসুস্থ ছিলাম। কোনোভাবেই আমার জ্বর কমছিল না। আমার আম্মু মান্নত করলেন যে, যদি আমার ছেলে ঈদের আগে সুস্থ হয় তাহলে আমি ঈদের দিন রোযা রাখব। আল্লাহর রহমতে আমি ঈদের আগে সুস্থ হয়ে যাই। আমার আম্মু পূর্ব মান্নত অনুযায়ী ঈদের দিন রোযা রাখলেন। পরবর্তীতে তিনি গ্রামের এক মহিলার কাছে জানতে পারলেন, ঈদের দিন রোযা রাখা নিষেধ। মুহতারামের নিকট প্রশ্ন হল, ঐ মহিলার কথা কি ঠিক? যদি ঠিক হয় তাহলে আমার আম্মু ঈদের দিন যে রোযা রেখেছেন তা কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

একাধিক ব্যক্তি মিলে ভাগাভাগি করে ইতিকাফ করলে কি সুন্নত ইতিকাফ আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২৬০০) : আমাদের এলাকার জামে মসজিদে পূর্ণ দশ দিন ইতিকাফে বসার জন্য কেউ প্রস্তুত হয়নি। অবশ্য তিন জন মিলে ভাগ করে থাকতে চেয়েছে। জানতে চাই, এতে কি সুন্নাত ইতিকাফ আদায় হবে? এবং এলাকাবাসী সুন্নাত ইতিকাফের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবে?

মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার আগেই ভুলে ইফতার করে ফেললে উক্ত রোযার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৫৯৮) : আমাদের এক ভাই মুহাররমের দশ তারিখ রোযা রেখেছিল। মাগরিবের আগে আযান শুনে তিনি ইফতার করেন। অতপর মসজিদে গিয়ে দেখেন ওয়াক্তের আগে আযান দেওয়ার কারণে কিছু লোক মুআযযিন সাহেবকে বকাঝকা করছে। মুহতারামের নিকট প্রশ্ন হল, ঐ ভাইটির রোযা কি সহিহ হয়েছে? না হলে কী করণীয়?

ওযরবশত রোযা না রাখতে পারলে কি ফিদইয়া দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৮৮) : আমার মামা আমেরিকা প্রবাসী। তার দুটো কিডনী প্রায় অচল। তাকে এক দিন পরপর ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কেবল নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণ করতে পারেন। তার হাই প্রেসারও আছে। তাকে প্রতিদিন কিডনীর জন্য এবং হাই প্রেসারের জন্য বেশ কিছু ওষুধ খেতে হয়। গত রমযান মাসে সবাই নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি প্রথম রোযা রাখেন। সারাদিন রোযা রাখায় তিনি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েন। বেশি সমস্যা হয়- নিয়ম মাফিক ওষুধ না খাওয়ার কারণে। এতে তার প্রেসার হাই হয়ে যায়। আর রমযান মাসে আমেরিকায় দিন দীর্ঘ (প্রায় ১৬/১৭ ঘণ্টা) হওয়ার কারণে কেবল রাতে ওষুধ খেলে হয় না। তাই বেশিরভাগ দিনই তার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি রোযা রাখতে পারেননি। মাঝে খুব কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ১/২টি রোযা তিনি রেখেছেন। আমার জানার বিষয় হল, তিনি কি তার রোযার পরিবর্তে ফিদইয়া দিতে পারবেন? আর ফিদইয়া দিলে কীভাবে আদায় করবেন।

রোযা রাখা অবস্থায় তরকারীর লবণ দেখার জন্য মুখে ঝোল নেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৭০) : আমি একটি হোটেলে রান্না করি। রমযান মাসে রান্নার সময় লবণ চেখে দেখার প্রয়োজন হয়। অনুমান করে দিলে মাঝে মাঝে লবণ কম-বেশি হয়ে যায়। তখন ম্যানেজার ধমক দেন। তো রমযান মাসে যদি লবণ দেখার জন্য সামান্য ঝোল মুখে নিয়ে সাথে সাথে কুলি করে ফেলি এতে রোযার কোনো ক্ষতি হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

থুথুর সাথে রক্ত দেখা গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৫৫) : গত রমযানে সেহরির পর তাড়াহুড়া করে পান খাওয়ার জন্য কামড় দিয়ে সুপারি ভাঙতে গিয়ে দাঁতে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অনেকক্ষণ কুলি করার পর রক্ত পড়া বন্ধ হয়। পরবর্তীতে বেসিনে থুথু ফেললে তাতে হালকা রক্তের ভাব দেখতে পাই। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গিয়েছে?

ইতিকাফ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৫৪) : গত রমযানে আমাদের গ্রামের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে আমরা আটজন ইতিকাফে বসি। পাশের জামে মসজিদে আমার দুই মামাও ইতিকাফে বসেন। আটাশ রমযানে সেই মসজিদে জুমার নামায পড়তে গেলে বড় মামা আমাকে জোর করে রেখে দেন। ফলে বাকি দুদিন সেখানে থেকে ইতিকাফ পূর্ণ করি। এক হুজুরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করলে ইতিকাফ হয়ে যাবে বলে মত দেন। কিন্তু এ বিষয়ে খটকা রয়ে যায়। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন হল, এ বিষয়ে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

রমযানের রোযার কাযা আদায় করার জন্য সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করা কি আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৪৪০) : এবার রমযানে অসুস্থতার কারণে আমার একটি রোযা ভাঙা পড়ে। শাওয়াল মাসে একদিন ঐ রোযার কাযা করার উদ্দেশ্যে একটি রোযা রাখতে মনস্থ করি। কিন্তু সুবহে সাদিকের আগে ঘুম না ভাঙায় আযান হওয়ার পরপরই রোযার নিয়ত করে নিই। এদিকে বেলা বাড়ার আগেই পুনরায় অসুস্থতা বোধ করতে থাকি এবং ওষুধ সেবনের প্রয়োজনে রোযাটা ভেঙ্গে ফেলি। এখন আমি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, রমযানের ঐ রোযা কাযা করতে গিয়ে ওযরবশত ভেঙ্গে ফেলার কারণে আমাকে কি অতিরিক্ত আরেকটি কাযা রোযা রাখতে হবে?

ওজরের কারণে রোজা ভাঙা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩৪৩) : রমযান মাসে একদিন দুপুরে তীব্র গরমের কারণে আমি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। তখন আমি এক গ্লাস পানি ও শরবত খেয়ে রোযা ভেঙে ফেলি। অবশ্য আমার রোযার কথা স্মরণ ছিল, আর না ভাঙলেও তেমন অসুবিধা হত না। এরপর বিকাল থেকে আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়। বিষয়টি আমাদের তালীমের আপাকে জানালে তিনি বলেছেন, ‘কাফফারা ওয়াজিব হয়নি, তবে রোযাটি কাযা করতে হবে।’ হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযার কী হুকুম? আমাদের তালিমের আপা কি সঠিক বলেছেন?