সালাত বা নামাজ

দুআ কুনুত না জানলে বিতরের নামাযে কোন দুআ পড়বে?

প্রশ্ন (১৩০৭৬) : আমার ছেলে দশ বছর বয়স থেকেই নামায পড়ে। অল্প কিছু সূরা আর নামাযের অন্যান্য দুআ-দরূদ পারলেও এখনো দুআ কুনূত মুখস্থ করতে পারেনি। জানতে চাই, ও কীভাবে বিতরের নামায পড়বে? একজন বলেছে, দুআ কুনূতের জায়গায় তিনবার সূরা ইখলাস পড়বে। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

নামাযে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে কি নামায নষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১৩০৭৫) : আমরা জানি যে, নামাযে অন্যের হাঁচির জবাব দিলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হল, নিজে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললেও নামায নষ্ট হবে কি?

মাসবুক ব্যক্তির ছুটে যাওয়া রাকাতের সংখ্যা মনে না হলে পাশের মাসবুক ব্যক্তিকে অনুরণ করে বাকি নামায আদ…

প্রশ্ন (১৩০৭৩) : নামাযে মাসবুক হওয়ার পর মাঝে মাঝেই ভুলে যাই যে, ইমামের সাথে কত রাকাত পেয়েছি। তখন আমার সাথে নামাযে শরীক হয়েছে এমন কোনো মাসবুক ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করে অবশিষ্ট নামায পড়ে ফেলি। জানার বিষয় হলো, এভাবে নামায পড়ার দ্বারা নামায সহিহ হবে কি?

নামাযে শরীক হওয়ার আগে ইমাম সাহেবের সিজদার আয়াত তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩০৬৭) : ফজরের জামাত চলাকালীন আমি মসজিদে এসে ফজরের সুন্নত পড়ছিলাম। এমন সময় ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত পাঠ করেন এবং সিজদাও আদায় করেন। সুন্নত শেষে আমি ঐ রাকাতের রুকুতে শরীক হয়ে যাই। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় নামায শেষে কি আমার উক্ত সিজদা আদায় করতে হবে?

মুসল্লীরা রুকুতে শরীক হওয়ার উদ্দেশ্যে ইমাম সাহেব রুকু দীর্ঘায়িত করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৬৬) : আমি এক মসজিদের ইমাম। বিভিন্ন সময় অনেক মুসল্লী তাড়াহুড়ো করে রুকুতে শরীক হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মসজিদ বড় হওয়ার কারণে অনেকে রুকুতে শরীক হতে না পেরে মাসবুক হয়ে যায়। তাই কোনো সময় আমি রুকুকে একটু দীর্ঘ করি, যাতে মুসল্লীরা রুকুতে শরীক হতে পারে। এভাবে রুকুকে দীর্ঘ করা কি শরীয়তের দৃষ্টিতে অনুমোদিত? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

নামাযের একই রাকাতে কুরআনের বিভিন্ন জায়গা থেকে তিলাওয়াতের বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০৬৫) : রমযান মাসে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একদিন কুরআন শরীফের দুআ সম্বলিত আয়াত দ্বারা তারাবীর নামায পড়ান। এক্ষেত্রে তিনি একই রাকাতে কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন জায়গা থেকে তিলাওয়াত করেন। জানার বিষয় হল, নামাযে এভাবে একই রাকাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে তিলাওয়াত করার কী হুকুম?

মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও জামাত আদায় করলে কি আযান দেওয়া জরুরি?

প্রশ্ন (১৩০৫৭) : এক ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের পর সেখানে সবাই জামাতসহ নামায আদায় করি। উক্ত নামাযের পূর্বে আমাদের কেউ কেউ আযানের প্রস্তাব করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে কি আমাদের আযান দেওয়া জরুরি ছিল?

নফল নামায শুরু করার পর মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি তা কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৯) : একদিন শেষ রাতে নফল নামায পড়া অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে যায়। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত নফল নামায কি পবিত্র হওয়ার পর কাযা করতে হবে?

পনের দিনের বেশি থাকার নিয়তে সফরে গিয়ে এর আগেই চলে আসার নিয়ত করলে কত রাকাত নামায আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৮) : গত মাসে সফরের উদ্দেশ্যে ইন্ডিয়া গিয়েছিলাম। যাওয়ার সময় পনের দিনের বেশি অবস্থানের ইচ্ছা ছিল। ভিসাও ছিল বিশ দিনের। কিন্তু কোনো কারণে আটদিন থেকে দেশে ফেরার ইচ্ছা করি। প্রথমে তো পনের দিন থাকার ইচ্ছা ছিল, তাই মুকীম হিসেবে পূর্ণ নামাযই পড়েছি। কিন্তু আটদিন পর যখন চলে আসার সিদ্ধান্ত হলো তখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই যে, এখন কসর করব নাকি আগের মতই পূর্ণ নামায পড়ব। পরে এ কথা ভেবে পূর্ণ নামায পড়া শুরু করি যে, চার রাকাতের জায়গায় দুই রাকাত পড়লে তো নামাযই হবে না, তবে দুই রাকাতের জায়গায় চার রাকাত পড়লে অন্তত নামায হয়ে যাবে। তাই হুজুরের কাছে আমার জিজ্ঞাসা হল, পরবর্তী সময় কসর না করে পূর্ণ নামায পড়া কি ঠিক হয়েছে?

মুসাফির ব্যক্তি মাসবুক হলে ইমামের সালাম ফিরানোর পর কত রাকাত পড়বে?

প্রশ্ন (১৩০৪৭) : কয়েকজন মুসাফির মিলে আসরের নামায জামাতের সাথে আদায় করছিল। এক রাকাত হয়ে গেছে আর এক রাকাত বাকি। ইতিমধ্যে একজন মুসাফির এসে নামাযে শরীক হল। এখন কথা হল এই মুসাফির তো জানে না যে, ইমাম মুসাফির না মুকিম। এখন জানার বিষয় হলো, এই মুসাফির মুসল্লি কত রাকাত নামায পড়বে?

নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর সফরে বের হয়ে উক্ত নামায কাযা হলে কত রাকাত কাযা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৪৫) : একদিন বাড়িতে থাকা অবস্থায় যোহরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরও নামায না পড়ে সফরে বের হয়ে যাই। পরে কোনো জটিলতার কারণে সফর অবস্থায়ও নামাযটি পড়া হয়নি। জানার বিষয় হল, মুকীম অবস্থায় ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার কারণে এখন আমাকে কি চার রাকাতের কাযা করতে হবে, নাকি দুই রাকাতের কাযা করলেই চলবে?

তারাবীর নামায এক সালামে আট রাকাত পড়লে কোনো সমস্যা আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০৪৪) : গত রমযানে একদিন আমরা কয়েকজন হাফেয একসাথে তারাবীর নামায আদায় করি। প্রথম চার রাকাতে লম্বা কেরাত পড়ার কারণে অনেক রাত হয়ে যায়। এরপর বাকি ষোল রাকাত দুই সালামে আট রাকাত করে আদায় করে নেই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, এক সালামে আট রাকাত আদায় করার দ্বারা আমাদের নামায কি আদায় হয়েছে?

প্রস্রাবের চাপ নিয়ে নামায আদায় করলে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১৩০২৮) : কখনো কখনো নামাযের পূর্ব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও জামাত শুরু হওয়ার পর প্রস্রাবের প্রয়োজন দেখা দেয়। তখনো আমি প্রয়োজন দাবিয়ে জামাতসহ নামায আদায় করি। এতে কি আমার নামাযের কোনো সমস্যা হবে?

কোনো মুসল্লীর রাকাত পাওয়ার জন্য ইমাম সাহেবের রুকুতে দেরি করা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১৩০২৭) : আমি এক মসজিদে ইমামতি করি। অনেক সময় রুকুতে যাওয়ার পর কোনো কোনো মুসল্লীর দ্রুতগতিতে মসজিদে প্রবেশের শব্দ শোনা যায়। এমতাবস্থায় আমি যদি উক্ত মুসল্লীর রাকাত পাওয়ার জন্য রুকুতে একটু দেরি করি তাহলে এতে শরয়ী কোনো সমস্যা হবে কি?

নামাযরত অবস্থায় ঘড়ির দিকে তাকালে কি নামাম নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩০২৫) : এক ব্যক্তি ফজরের নামায অবস্থায় সূর্যোদয় হয়েছে কি না তা দেখার জন্য নিজের হাত ঘড়ির দিকে দেখে এবং কয়টা বাজে তাও মোটামুটি বুঝে ফেলে। এখন জানার বিষয় হল, নামাযে এভাবে ঘড়ি দেখার কারণে নামায নষ্ট হয়েছে কি?

আসরের নামাযে ভুলে তিন রাকাতের পর সালাম ফিরিয়ে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০২৪) : গতকাল আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আসরের নামাযে তিন রাকাত পড়ে ভুলে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। সাথে সাথে পিছন থেকে কিছু মুসল্লী বলে উঠল, নামায তিন রাকাত হয়েছে। তা শুনে ইমাম সাহেব সোজা দাঁড়িয়ে যান। অবশিষ্ট রাকাতটি পূর্ণ করে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরিয়ে দেন। জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেবের উক্ত নামাযটি সহিহ হয়েছে কি?

নামাযী ব্যক্তির সামনে থেকে উঠে গেলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন (১৩০১৩) : আমি জানি, নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা গুনাহ। কিন্তু কখনো এমন হয় যে, নামায শেষে বসে তাসবীহ পাঠ করছি, এর মধ্যেই পেছনে তাকিয়ে দেখি আমার সোজা বরাবর পেছনে একজন নামায পড়ছে। এখন জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় নামাযী ব্যক্তির সামনে বসা থেকে উঠে ডান বা বাম দিক দিয়ে চলে গেলে কি গুনাহ হবে?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর কি ইক্তিদা করা যাবে?

প্রশ্ন (১৩০১২) : আমি গতকাল আসরের নামাযে ইমাম সাহেবকে শেষ বৈঠকে পাই এবং ইমামের সালাম ফিরানোর পরে বাকি নামায পুরা করি। নামাযের পর এক ব্যক্তি বলল, আপনার নামায পুনরায় পড়তে হবে। কারণ ইমাম সাহেব সিজদায়ে সাহু করার পরে আপনি নামাযে শরীক হয়েছেন। এ সময় ইমামের ইক্তিদা করা সহিহ নয়। আমি জানতে চাচ্ছি, উক্ত ব্যক্তির কথা কি ঠিক? এখন আমার নামায কি পুনরায় পড়তে হবে?

খুতবা দেওয়ার সময় হাতে লাঠি রাখার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩০০৫) : অনেক মসজিদে খতীবদেরকে দেখা যায় যে, তাঁরা খুতবার সময় হাতে লাঠি ব্যবহার করেন আবার কেউ তা ব্যবহার করেন না। আমি জানতে চাচ্ছি, আসলে কোন আমলটি শরীয়তসম্মত? জানিয়ে উপকৃত করবেন।