বিবিধ

জুমার দিন খতিব সাহেব খুতবা শুরু করার আগে সুন্নত পড়ে শেষ করতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩১২) : জুমার পূর্বের চার রাকাত সুন্নত পড়া অবস্থায় অনেকসময় খতিব সাহেব খুতবা শুরু করে দেন। এক আলেম থেকে শুনেছি খুতবার সময় নামায পড়া নিষেধ। জানার বিষয় হল, এমন পরিস্থিতিতে আমার জন্য করণীয় কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

যৌথভাবে ইনভেস্ট করে লভ্যাংশ কম-বেশি ভাগ করে নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩০১) : মুহতারাম, আমার জানার বিষয় হল, আমার বন্ধু একজন ফিজিওথেরাপিস্ট। তার কাছে থেরাপির মেশিনপত্র আছে। আমি অর্থপেডিক ডাক্তার। তার সাথে আমার এই মর্মে চুক্তি হয় যে, আমি দুই লক্ষ টাকা দিব ফার্নিচার ডেকোরেশন ও ঘরের এ্যাডভান্স বাবদ। এরপর উভয়ে রোগী দেখব। লাভ যা আসবে দুইজনে অর্ধার্ধি ভাগ করে নিব। এই চুক্তিটি বৈধ কি না? এবং লভ্যাংশ বণ্টনের পদ্ধতিটি সঠিক কি না?

জামাতে শরীক হওয়ার আগে ইমামের সিজদার আয়াতের তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২২৮৯) : আমাদের মসজিদে প্রতি শুক্রবার ফজরের নামাযে ইমাম সাহেব সূরা আলিফ-লাম-মিম সাজদা তিলাওয়াত করেন। গত শুক্রবার ফজরের নামায শুরু হলে আমি মসজিদের এক কোণে সুন্নত পড়ছিলাম। এ সময় ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা করেন। আমি শরীক হতে পারিনি। এরপর আমার সুন্নত পড়া শেষ হলে উক্ত রাকাতে রুকুর আগে আমি ইমামের সাথে শরীক হই। জানার বিষয় হল, আমার কি পরবর্তিতে তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে হবে?

মুক্তাদির তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদি কি করবে?

প্রশ্ন (১২২৭৯) : জামাতে নামায আদায় করা অবস্থায় মাঝে মাঝে আমার তাশাহহুদ শেষ হওয়ার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? আমি কি তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াব, না তাশাহহুদ অসমাপ্ত রেখেই ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?

ঈদের দিন ‘ঈদ মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান কি?

প্রশ্ন (১২২৬১) : ঈদের দিন আমরা একে অপরকে ‘ঈদ মোবারক’ বলে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকি। কেউ কেউ বলেন, এটি বলা যাবে না। এটি শরীয়তসম্মত নয়। এ বিষয়ে শরীয়তের নির্দেশনা জানালে উপকৃত হতাম।

ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে ইমাম সাহেবের সাথে অতিরিক্ত তাকবীর বলতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৪৭) : গত কুরবানীর ঈদে ঈদগাহে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ঈদগাহে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে কেরাত পড়ছেন। তখন আমি তাকবীরে তাহরীমা বলে জামাতে শরীক হই। নামায শেষে পাশের মুসল্লি আমাকে বললেন, ‘আপনার ছুটে যাওয়া তাকবীরগুলো শুরুতেই আদায় করে নিতে হত।’ জানতে চাই, লোকটি কি ঠিক বলেছে? ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কেরাত অবস্থায় জামাতে শরীক হলে তাকবীর আদায়ের নিয়ম কী?

বিল্ডিংয়ের কোনো তলাকে মসজিদের জন্য স্থায়ীভাবে নির্ধারিত করার পর সেটা বাতিল করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৪২) : আমাদের মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্সটি দশ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। ভবনটি নির্মাণের পূর্বেই মুতাওয়াল্লী সাহেবসহ মসজিদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, ভবনটির দ্বিতীয় তলা স্থায়ীভাবে মসজিদ হবে এবং প্রয়োজনের সময় তাতে মাদরাসার কার্যক্রমও পরিচালিত হবে। যেমন, এখানে মাদরাসার পরীক্ষা ও বিভিন্ন জলসা অনুষ্ঠিত হওয়া ইত্যাদি। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, এ মসজিদে ইতিকাফ করা যাবে কি না? উল্লেখ্য, এ তলাটিতে বর্তমানে জুমার নামাযসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া হচ্ছে এবং তাতে সর্বসাধারণের উন্মুক্ত অংশগ্রহণও রয়েছে।

আল্লাহর নাম ছাড়া কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়?

প্রশ্ন (১২২৩৪) : আল্লাহর নাম ব্যতীত শুধু কসম শব্দ দ্বারা কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়ে যায়? যেমন, কসম, আমি যাব। অনেকে মনে করে শুধু কসম শব্দ দ্বারা কসম করলে কসম হয় না। যেমন আমিও অনেক সময় এভাবে কসম করার পর মনে মনে ভাবি যে, আমি তো আল্লাহ কসম বলিনি তাই কসম হয়নি। অনেকসময় আমরা ঈমান শব্দ দ্বারা কসম খেয়ে থাকি। ঈমান শব্দ দ্বারা কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়ে যায়? হুজুরের কাছে আরেকটি বিষয় জানতে চাই। তা হচ্ছে, আমরা অনেক সময় কারো পিছনের কোনো বিষয়ের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ঈমান বা কসম শব্দ দ্বারা কসম নিয়ে থাকি। এধরনের কসমের সময় প্রতিপক্ষ যদি মিথ্যা কসম খায় তাহলে কি তাকে কাফফারা আদায় করতে হবে?

বিল্ডিংয়ের কোনো তলা নামাযের জন্য নির্ধারন করে আবার তা বাতিল করা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২২৩৩) : আমাদের এলাকায় ঘন বসতি হওয়ায় পূর্বের ছোট মসজিদে মুসল্লী সংকুলান হয় না। ফলে নামায পড়তে বেশ কষ্ট হয়। বিষয়টা নিয়ে আমাদের মাঝে আলোচনা চলছিল। একদিন আমরা কয়েকজন মিলে এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন বশির সাহেবের বাসায় যাই। এব্যাপারে তার সাথে আলোচনা করলে তিনি বলেন যে, আমার এ বাড়ির ৫ম তলাটি খালি পড়ে রয়েছে। চাইলে তোমরা এটাকে মসজিদ বানিয়ে ফেলতে পারো। এরপর আমরা ৫ম তলাটিকে সাফাই করে তাতে নামায পড়া শুরু করি। এক সপ্তাহ পর একজন ইমামও নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা সেখানে নামায পড়ে আসছি। কিন্তু কয়েকদিন আগে উনার বড় ছেলে ৫ম তলার উপর আরো দুতলা করবে বলে সেখানে নামায পড়া বন্ধ করে দেয় এবং কাজও শুরু করে দেয়। তারা বলছে, যখন এটা আমাদের প্রয়োজন ছিল না তখন তা নামায পড়ার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের প্রয়োজন পড়েছে; বরং এটা যথেষ্ট হচ্ছে না বিধায় এর উপর আরো দু’তলা করতে হচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি, ৫ম তলাটি মসজিদের জন্য দিয়ে পুনরায় তা নিয়ে নেওয়া কি জায়েয হবে? এতে তাদের মসজিদ ভাঙার গুনাহ হবে না?

ভিক্ষুকদের সালামের উত্তর দেওয়া ক জরুরী?

প্রশ্ন (১২২২৩) : আমি একটি সরকারী হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার। প্রায় সময় হাসপাতালের গেইটে ভিক্ষুকেরা কিছুদূর পর পর বসা থাকে। তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার সময় তারা পথচারীদেরকে একের পর এক সালাম দেয়। জানতে চাই, ভিক্ষুকদের এই সালামের উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব?

বাড়ির কাজের লোক বাড়ির মালিকের অনুমতি ব্যতিত অন্য বাড়ির কাজ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২২১৯) : আমি এক বাড়িতে পাহারাদারির কাজ করি। প্রতিদিন সকালে গেটের সামনে ঝাড়ু দিই। পাশের বিল্ডিংটি ছোট হওয়ায় সে বাড়ির মালিক কোনো পাহারাদার রাখেনি। তার বাড়ির সামনে নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে ময়লা থাকে। একদিন তিনি আমাকে এ প্রস্তাব দিলেন, ‘তুমি যখন তোমাদের বাড়ির সামনে ঝাড়ু দেবে তখন আমারটাও দেবে। আমি তোমাকে প্রতি মাসে ৪০০ টাকা দিব।’ মালিককে না জানিয়ে আমি তার এই প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রতিদিন তার বাড়ির সামনে ঝাড়ু দিচ্ছি। এতে কোনো অসুবিধা আছে কি?

মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম করে হাদিয়া গ্রহণ করা বিধান কী?

প্রশ্ন (১২২০৪) : একজন আমার মাধ্যমে কবর যিয়ারত করিয়েছে এবং আমার মাধ্যমে কুরআন খতম করে সওয়াবরেসানী করেছে। পরবর্তীতে সে আমাকে বলল, আপনি অনেক কষ্ট করেছেন- এ বলে কিছু টাকা দিল। এখন আমার জন্য তা নেওয়া বৈধ হবে কি? আরেকজন উক্ত কাজ করিয়ে সে বলল, কিছু হাদিয়া দিতে চাই। আমি বললাম, তা জায়েয নেই। আমার জানার বিষয় হল, আমার কষ্টের বিনিময়ে আমাকে একজন কিছু খাওয়াল বা হাদিয়া দিল তা জায়েয না হওয়ার কারণ কী?

অসুস্থ ব্যক্তি ক্ষৌরকার্যে অন্যের সহযোগিতা নিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২১৮২) : মুহতারাম, আমাদের গ্রামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষৌরকার্যে অক্ষম অবস্থায় অসুস্থ। এখন তার কোনো স্ত্রীও বেঁচে নেই, যে তার এই খেদমতটুকু করে দেবে। আর সে নিজেও সম্পাদনা করতে অক্ষম। এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানার বিষয় হল। এই খেদমতটুকু অন্য কেউ করে দিতে পারবে কি না। দলীলসহ জানালে উপকৃত হতাম।

মান্নত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২১৭৫) : এক মহিলার ছেলে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছিল। তখন সে এ বলে মান্নত করে যে, তার ছেলে নিরাপদে বাড়িতে ফিরে এলে দশজন লোককে দাওয়াত করে খাওয়াবে। তার ছেলে নিরাপদে বাড়ি ফিরে এসেছে। এখন কি তাকে দশজন গরীবকেই খাওয়াতে হবে, নাকি খুব ভালো করে চার-পাঁচ জনকে খাওয়ালেই চলবে। আর খাওয়ার পরিবর্তে টাকা দেওয়ার সুযোগ আছে কি না। যদি থাকে তাহলে চার-পাঁচ জন বা একজনকে পুরা টাকা দেওয়া যাবে কি?

মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৭০) : আমাদের এলাকায় মসজিদে জুমার দিন বয়ানের পর দ্বিতীয় আযানের পূর্বমুহূর্তে মসজিদের মিম্বার থেকে মসজিদের দানকৃত পণ্যসমূহের নিলাম বিক্রি করা হয়। এভাবে মসজিদের ভেতর ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

বিতরের নামাযে দুআয়ে কুনূত উচ্চ স্বরে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৬৯) : আমি নিউইয়র্ক থাকি। প্রতি রমযানে সাধারণত মসজিদে তারাবীহ পড়ানো হয়। এ রমযানে যে মসজিদে তারাবীহ পড়াচ্ছি, সেখানকার অধিকাংশ মুসল্লীই বিভিন্ন আরব দেশের নাগরিক। তারা ফিকহে হানাফীর অনুসারী নয়। তাদের আবদার হচ্ছে, বিতর নামাযে দুআয়ে কুনূতটা যেন উচ্চ স্বরে পড়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, হানাফী মাযহাবের কারো মতে কী দুআয়ে কুনূত উচ্চ স্বরে পড়ার সুযোগ আছে?

স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দুষ্টুমি করে ভাই বোন বলে সম্বোধন করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২১৬৮) : স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দুষ্টুমি করে ভাই বোন বলে সম্বোধন করলে কোনো সমস্যা আছে কি? যেমন, স্ত্রী যদি তার স্বামীকে এই বলে ডাকে যে, ভাই এদিকে আসেন।

নামায পড়া অবস্থায় মাথা থেকে টুপি খুলে পড়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৬২) : নামায পড়া অবস্থায় বিভিন্ন কারণেই অনেকসময় মাথা থেকে টুপি খুলে পড়ে যায়। এক্ষেত্রে করণীয় কি? টুপি উঠিয়ে মাথায় পরে নিতে হবে, না মাথা খোলা অবস্থায়ই নামায পড়ব? সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি।