ব্যক্তি পরিবার ও সমাজ

স্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠিতে তালাকের কথা লিখলে কি তালাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫১৯) : আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমার ছোট ছোট দুটি ছেলে এবং একটি মেয়ে আছে। আমার স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হচ্ছিল। কিছুদিন আগে আমার বোনেরা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসলে সে তাদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করে এবং ফোনে আমার সাথে খুব কথা কাটাকাটি হয়। আমি তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং একটি চিঠিতে ঘটনার বিবরণসহ লিখি যে, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বায়েন তালাক দিলাম’। আমি মুখে উচ্চারণ করে তালাক বলিনি কিন্তু তালাকের নিয়তেই উক্ত কথা লিখেছি। পরে আমার ছেলে-মেয়ের কথা ভেবে তালাকের চিঠিটি তার কাছে না পাঠিয়ে ছিঁড়ে ফেলি। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত লেখার কারণে আমার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? এখন তার সাথে ঘর-সংসার করতে পারব কি না? উল্লেখ্য, আমি ইতিপূর্বে তাকে কোনো তালাক দেইনি। সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

খোলা তালাক দেওয়ার সময় স্ত্রীর কাছ থেকে কী পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা উচিত?

প্রশ্ন (১২৫১৭) : গত বছর আমার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পরই স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হয়। সে বিভিন্ন পর-পুরুষের সাথে ফোনে কথা বলে, তাদের সাথে আড্ডা দেয়। তাকে অনেক বোঝানোর পরও কাজ হয়নি; বরং সে বারবার বলে, আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে তালাক দিয়ে দাও। আমার স্ত্রীরা পারিবারিকভাবে বেশ ধনী। তাই মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে তাকে খোলা তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার এক চাচা বললেন, তুমি খোলা তালাক বাবদ তিন লাখ টাকা নাও। আমার বিয়ের মহর ছিল আড়াই লাখ টাকা। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকারের মাধ্যমে তা আদায় করে দিয়েছি। হযরতের কাছে কাছে জানতে চাই, আমি কি আমার স্ত্রী থেকে তালাক বাবদ উক্ত টাকা গ্রহণ করতে পারব?

স্ত্রীকে তালাক হওয়ার পরেও কি সে স্বামীর বাড়িতে থাকতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫০৯) : কয়েকদিন আগে আমার প্রবাসী পিতা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার আম্মাকে তিন তালাক দিয়ে দেন। বিষয়টি একজনকে জানালে তিনি দ্রুত আম্মাকে নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে বলেন। একথা শুনে তিনি বিমূর্ষ হয়ে পড়েছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে নানাবাড়িতে কীভাবে যাবেন? এ করুণ পরিস্থিতিতে জনাবের কাছে জানার বিষয় হল, ১. এখন কি বাস্তবেই আম্মাকে নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে? আমরা চাচ্ছি, তিনি আব্বুর স্ত্রী হিসাবে না থাকলেও আমাদের দেখাশুনা ও পরিবারের নিয়ন্ত্রণের জন্য আব্বুর সংসারে থাকুন। এতে শরয়ী কোনো সমস্যা আছে কি না? এক্ষেত্রে আব্বুর টাকা দিয়ে তিনি নিজের ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন কি না? ২. আম্মার তালাকের ইদ্দতেও মৃত্যু পরবর্তী ইদ্দতের ন্যায় সাজসজ্জা ত্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন বিধান কার্যকর হবে কি না?

‘তুই আমার মার মত’ স্ত্রীকে এই কথা বললে কি তালাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫০৪) : আমার বন্ধুর সাথে তার স্ত্রীর ঝগড়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে তার স্ত্রীকে থামানোর জন্য বলে, ‘তুই আমার মার মত’ একথা বলার সময় তার চিন্তায় তালাক বা ভিন্ন কিছুর নিয়ত ছিল না। কেবল ঝগড়া থামানোর জন্যই সে এটা বলেছিল। এখন সে একথা বলার জন্য অনুতপ্ত। সে জানতে চেয়েছে, এতে কি তাদের বিবাহে কোনো সমস্যা হয়েছে? হয়ে থাকলে তাদের করণীয় কী? তাদের কি দ্বিতীয়বার বিবাহ করতে হবে?

স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর আবার ইদ্দতের মাঝে বিবাহ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৯৮) : আমার বন্ধু তার স্ত্রীকে এক তালাকে বায়েন দিয়েছে। তারপর ইদ্দত শেষ হওয়ার আগেই তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এখন জানার বিষয় হলো, ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে তাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ঠিক হয়েছে কি না?

স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর স্ত্রী মারা গেলে সন্তান লালন-পালনের অধিকারী কে হবে?

প্রশ্ন (১২৪৮৬) : দেড় বছর আগে একটি বিশেষ কারণে আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিই। তখন আমাদের একটি ৫ মাসের ছেলে ছিল। ছেলেটি খুব ছোট থাকায় আমি তাকে তার মা’র কাছে রাখি এবং তার যাবতীয় খরচ বহন করি। কিছুদিন হল সে একটি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। এখন আমি ছেলেটিকে আমার কাছে নিয়ে আসতে চাচ্ছি। কিন্তু তার মায়ের পরিবার অর্থাৎ আমার শাশুড়ি বাচ্চাটি কোনোভাবেই ফেরত দিতে চাচ্ছে না। আর এই বিষয়ে তার ছেলেরা তাকে সহায়তা করছে। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় যখন মা নেই, তারাই কি সন্তানের ব্যাপারে বেশি হকদার নাকি পিতা হিসাবে আমি?

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৪৮৫) : আমার মামাতো বোনের তুলনায় ওর স্বামীর বয়স অনেক বেশি ছিল। সে কারণে ওদের মধ্যে কোনো বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলেই আমার মামাতো বোন বলত, তুমি যদি আমাকে তালাক দিয়ে দাও তাহলে আমার কোনো সমস্যা নেই। গত সপ্তাহে আবার ঝগড়া হলে আমার মামাতো বোন কথার একপর্যায়ে বলে উঠে, তাহলে তুমি আমাকে তালাক দিয়ে দাও। তখন ওর স্বামী রাগের মাথায় বলে ফেলেছে, যা দিলাম। মুখে তালাক বা এজাতীয় কোনো শব্দ উল্লেখ করেনি। এখন একথা বলার দ্বারা তালাক হয়েছে কি না? কয়েকজন থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। সঠিক মাসআলাটি মুহতারামের নিকট জানতে চাচ্ছি। আর যদি তালাক হয়ে যায় তাহলে পুনরায় একত্রে থাকতে চাইলে কী করণীয়?

স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর অন্যের কাছে তালাকের বর্ণনা দিলে কি নতুন করে তালাক পতিত হবে?

প্রশ্ন (১২৪৮২) : একবার ভাইয়া-ভাবির মাঝে প্রচন্ড ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ভাইয়া তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘তুমি তালাক, চুপ করো বলছি!’ একথা শুনে অবাক হয়ে আম্মা বললেন, বাবা, তুই কী বললি!? ভাইয়া বলে, বলেছি, ‘ও তালাক’ এরপর আব্বা, ভাইয়ার শ্বশুর এবং অন্যান্যরা ফোন করে আম্মার মতো প্রশ্ন করতে থাকলে ভাইয়া আগের মতই উত্তর দিয়ে যান। জানার বিষয় হল, তালাক দেওয়ার পর বিভিন্নজনের জানতে চাওয়ার প্রেক্ষিতে এভাবে একের পর এক তালাক শব্দ যে উচ্চারণ করা হল, এর দ্বারা আসলে কয় তালাক হয়েছে?

স্ত্রীর জন্য বিনা প্রয়োজনে পৃথক বাসা নেওয়া কি জরুরি?

প্রশ্ন (১২৪৮১) : আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে মায়ের সঙ্গে এক বাড়িতে থাকি। বাড়িটি আমার বাবা তার জীবদ্দশায় মায়ের নামে লিখে দিয়েছেন। এখানে মায়ের ও আমাদের রুম ভিন্ন এবং ওয়াশরুমও ভিন্ন। বিয়ের পর থেকে আমার স্ত্রী আলাদা বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। তার যুক্তি হল, ‘তোমার বড় ভাই যদি তোমার ভাবিকে নিয়ে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারে তাহলে তুমি কেন পারবে না।’ কিন্তু একে তো আমার এই পরিমাণ সামর্থ্য নেই যে, আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকব। তাছাড়া আলাদা হয়ে যাবার মতো কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে হয় না। অর্থাৎ কারণে অকারণে ঝগড়া-বিবাদ, মনোমালিন্য বা একে অন্যের খুঁত ধরা- এজাতীয় কিছু তাদের মাঝে সাধারণত হয় না। শুধু বড় ভাইয়ের স্ত্রীর প্রতি ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে সে এরকম আলাদা বাসা ভাড়া নেওয়ার আবদার করছে। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে তার এই আবদার কি ঠিক আছে?

স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর সন্তান লালন-পালনের হকদার কে হবে?

প্রশ্ন (১২৪৬৯) : আমার বোনকে কিছু দিন আগে তার স্বামী তালাক দিয়ে দেয় এবং দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী আমার বোন তার ইদ্দত পূর্ণ করে। এরপরই তার বিবাহের নতুন সম্বন্ধ আসতে শুরু করে। এদিকে তাদের পনেরো মাস বয়সের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এই মুহূর্তে সে তার মায়ের কাছেই অর্থাৎ আমাদের বাড়িতেই আছে। তবে তার বাবার পরিবার থেকে বলা হচ্ছে, মেয়ের মা যদি অন্যত্র বিবাহ করে তাহলে সে বা এ বাড়ির অন্য কেউ বাচ্চার লালন-পালনের অধিকার ধরে রাখতে পারবে না। বাবার পরিবারই নাকি তখন মেয়ের প্রতিপালনের একমাত্র হকদার। মুহতারামের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, শরীয়তের দৃষ্টিতে বাচ্চার প্রতিপালনের বেশি হকদার কে? মা নাকি বাবা? তাছাড়া বাচ্চার মা অন্যত্র বিবাহ করলে কি সত্যিই সে আর বাচ্চার প্রতিপালনের অধিকার রাখে না? যদি নাও রাখে তথাপি মায়ের পর বাচ্চার প্রতিপালনের বেশি হকদার কে? এবং এর কোনো সময়সীমা আছে কি না? বিস্তারিত জানতে আগ্রহী।

বাচ্চাকে দুই বছরের বেশি দুধ পান করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৬২) : আমি জানতাম, বাচ্চাকে দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো যায়। আমার বাচ্চার বয়স দুই বছর এক মাস। কিন্তু এখনও দুধ ছাড়াতে পারিনি। সেদিন এক বোন থেকে শুনলাম, আড়াই বছর পর্যন্ত নাকি দুধ পান করানো যায়। এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলাটি জানতে চাচ্ছি।

বিয়েতে পাত্রের বাবা ও আকদ সম্পাদনকারী কি সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১২৪৬০) : আমার এক বন্ধুর বোনকে তার স্বামী একটি বায়েন তালাক দেয়। তালাক দেয়ার কিছুদিন পর তারা উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে সম্মত হন। ১৭ দিন পরে আমার বন্ধুর বাবা ঘরোয়াভাবে তাদের বিবাহের আয়োজন করেন। আমাদের গ্রামের ইমাম সাহেবকে ডেকে বিবাহ পড়িয়ে দেন। বিবাহের মজলিসে ইমাম সাহেব আমার বন্ধুর বাবা এবং তার সেই বোন ও বোনজামাই উপস্থিত ছিলেন। ইমাম সাহেব খুতবা দিয়েছেন আর তার বাবা বিবাহ পড়িয়েছেন। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তার বাবা এবং ইমাম সাহেব সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট হবেন কি না?

স্ত্রীর মাকে বিবাহ করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৪৫০) : আমাদের গ্রামে একজন দরিদ্র বিধবা মহিলা থাকে। তার এক মেয়ে এক ছেলে। দুপুরে মেয়েটির বিবাহের আকদ সম্পন্ন হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইন্তিকাল করে। যেহেতু মেয়েটির সাথে লোকটির ঘর-সংসার হয়নি তাই কিছু দিন পর মৃত মেয়ের স্বামীর সঙ্গে বিধবা মহিলাটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আমাদের এলাকায় বিষয়টিকে সবাই বেশ খারাপ মনে করলেও কেউ কেউ তা শিথিলতার দৃষ্টিতে দেখছেন। এলাকায় এ নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমাদের আবেদন হল, এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে সবাইকে পেরেশানি মুক্ত করবেন।

আপন ভাইয়ের দুধ মাকে বিয়ে করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৪৯) : কিছু দিন আগে আমার স্ত্রী একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তিকাল করে। আমার ছোট দুটি সন্তান আছে। তাদের লালন-পালনের জন্য একজন বিধবা নারীর প্রয়োজন। এক বিধবা নারীর সঙ্গে আমার বিয়ের কথা চলছে, যে আমার ছোট ভাইকে দুধ পান করিয়েছিল। এলাকার কিছু লোক বলছে, এ মহিলা যেহেতু আমার ছোট ভাইয়ের দুধ মা, তাই এ দুধ সম্পর্কের সব বিধিনিষেধ আমার সাথেও কার্যকর হবে। অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন কথাও অনেকে বলেছে, যা আমার কাছে শক্তিশালী মনে হয়েছে। সার্বিকভাবে ঐ বিধবাকে পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও শুধু এই আপত্তির কারণে বিয়েটি আটকে আছে। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি মহিলাটি আমার ছোট ভাইয়ের দুধ মা হওয়ার কারণে তার সাথে আমারও দুধের সম্পর্ক হয়ে গেছে, ফলে তাকে বিয়ে করা আমার জন্য বৈধ নয়? এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে পেরেশানি থেকে মুক্ত করবেন।

বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী সম্পর্কে কিভাবে যাচাই করবে?

প্রশ্ন (১২৪২৬) : আমাদের সমাজে বিয়ের পূর্বে কিছু ব্যাপার ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে; যেমন- ১. বরপক্ষ যখন মেয়ে দেখতে যায় এবং কথা প্রসঙ্গে মেয়ের উচ্চতা সম্পর্কে জানতে চায় তখন বলা হয় যে, মেয়ের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি। যদিও বাস্তবে মেয়ের উচ্চতা চার ফুট দশ ইঞ্চি। ২. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শ্যামবর্ণের মেয়েদের বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে ফর্সা হিসেবে বরপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ৩. আবার ছেলের মাসিক বেতনের ব্যাপারে কথা উঠলে যা প্রকৃত বেতন তার থেকে অনেক বাড়িয়ে বলা হয়। হযরতের নিকট আমার জানার বিষয় হচ্ছে, উল্লিখিত বিষয়গুলো বিবাহের মত একটা পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধোঁকা বা প্রতারণার শামিল কি না এবং এই ধরনের ইস্যু নিয়ে বিয়ের পর সমস্যা দেখা দিলে কী করা উচিত?

বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার কত দিন পর আকীকা করা সুন্নত?

প্রশ্ন (১২৪০৩) : কুরবানী ঈদের দুদিন আগে আমার ছেলে ভূমিষ্ঠ হয়। ঈদের দিন কুরবানীর সঙ্গে তার আকীকা আদায় করি। এক লোক বললেন, ‘আমার এই আকীকা আদায় করা সহিহ হয়নি। কেননা আকীকা করতে হয় বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাত দিন পর। এর আগে করলে আদায় হয় না।’ তার এই কথা কি ঠিক?

জন্মের পর পর বাচ্চাদের খতনা করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৯৭) : আমাদের দেশে সাধারণত খতনা করা হয় একটু বয়স হওয়ার পর। কিন্তু আমেরিকার হাসপাতালগুলোতে জন্মের এক সপ্তাহের ভিতরেই খতনা করে ফেলা হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এত ছোট বয়সে খতনা করতে শরীয়তের পক্ষ হতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে নফল ইবাদত ছুটে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৭৯) : আমাদের ৫ সন্তান। তন্মধ্যে দুইজন ছোট। তাদের নার্সিং করতে গিয়ে আমার স্ত্রী প্রায়ই কুরআনের তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, নফল নামায ইত্যাদি ইবাদত করতে পারে না। এই বিষয়ে তার খুব মন খারাপ থাকে। আমি তাকে বলেছি, তুমি সন্তানাদি নার্সিং করার কারণে নফল ইবাদতের সওয়াব পাবে। এ ব্যাপারে আমার স্ত্রীর সান্ত্বনার জন্য কুরআন-হাদিসের আলোকে কিছু উপদেশ দিলে উপকৃত হবো।

বিয়ে পড়ানোর জন্য নির্ধারিত ওকীল অনুমতি ছাড়া কি মহর বৃদ্ধি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৩৪) : আমার বড় ভাই কুয়েতে থাকেন। আমার বড় ভগ্নিপতির ভাগ্নির সাথে তার বিবাহ ঠিক হয়। তিনি আমার ভগ্নিপতিকে ওকীল বানিয়ে দেন, যেন তিনি তার বিবাহটা পড়িয়ে দেন। ৫ লক্ষ টাকা দেন মহরের কথা হয়। কিন্তু বিবাহের মজলিসে মেয়ে পক্ষের জোরাজোরিতে আমার ভগ্নিপতি আরো দেড় লক্ষ টাকা বাড়িয়ে দেন। এক্ষেত্রে তিনি আমার ভাই থেকে পুনরায় অনুমতি নেননি এবং আমার বাবা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাকেও কিছু জিজ্ঞেস করেননি। কারণ তিনি জানতেন, আমার বাবা মহর বাড়িয়ে দিতে রাযি হবেন না। আমার ভাই এখনো কুয়েত থেকে আসেননি। আরো দুই মাস পরে আসার কথা। এখন আমার জানার বিষয় হচ্ছে, আমার বড় ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া মহর বৃদ্ধি করার কারণে তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? যদি হয় তাহলে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা কার উপর জরুরি? আমার ভাইয়ের উপর নাকি আমার ভগ্নিপতির উপর? উল্লেখ্য, ঐ মেয়ের মহরে মিসিল বর্তমান বাজারে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মতো।

বিয়েতে উপহার দিলে সেগুলোর মালিক কে হবে?

প্রশ্ন (১২৩১৭) : আমার পিতার ইন্তেকালের পর আমিই আমার ভাই-বোনদের দেখাশোনা করছি। কিছুদিন আগে আমার ছোট বোনের বিবাহ দিই। বিবাহে আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্যদের আপ্যায়ন করি। উক্ত আপ্যায়নে অলঙ্কার ছাড়া নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী মিলে প্রায় ৪০ হাজার টাকার উপঢৌকন উঠেছে। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, এ উপঢৌকনের মালিক কে? সবগুলো আমার বোনকে দিয়ে দিতে হবে নাকি আমাদের ব্যবহার করার অনুমতি আছে? মাসআলাটির সঠিক সমাধানে হুযুরের সুমর্জি কামনা করছি।