বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য

যৌথ কারবার চুক্তি।

প্রশ্ন (১২৭৬৩) : আমি মিরাছসূত্রে বাজারে একটি দোকান পেয়েছি। ব্যবসা করার মত বর্তমানে আমার কাছে তেমন কোন পুঁজি নেই। আমার এক বন্ধু কাঠমিস্ত্রীর কাজ করে। এতদিন সে অন্যের অধীনে বাইরে কাজ করত। এখন স্বতন্ত্রভাবে একটা দোকান নিতে চাচ্ছে। সে আমাকে প্রস্তাব দিয়েছে যে, সে তার সকল সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে আমার দোকানে কাজ শুরু করবে। দোকানের প্রয়োজনীয় ডেকোরেশনও সে নিজ খরচে করবে। আমাকেও তার সাথে কাজে নিবে এবং প্রয়োজনীয় কাজ শিখিয়ে নিবে। মাসে যা উপার্জন হবে খরচ বাদ দিয়ে তা দুজনের মাঝে অর্ধা অর্ধি বণ্টন করা হবে। এখন আমার প্রশ্ন হল, এভাবে চুক্তি করা কি জায়েয?

জমি ভাড়া নেওয়ার পর বন্যার কারণে চাষ করতে না পারলে কি ভাড়া দেওয়া আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৭৬২) : আমি এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ বিঘা জমি এক বছর চাষাবাদ করার জন্য ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছি। আমাদের এলাকায় এক বছরে দুইবার ফসল হয়। জমি ভাড়া নেওয়ার পর আমি প্রথমবার ঘরে ফসল উঠাই। এরপর দ্বিতীয়বার ফসল লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুত করার সময় নদীতে জোয়ার এসে জমিটি পানিতে তলিয়ে যায় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার রূপ লাভ করে। পরে দ্বিতীয়বার ফসলের মৌসুম শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগে বন্যার পানি চলে গেলে জমিটি ভেসে উঠে। ফলে আমি একটা ফসল করতে পারিনি। কিন্তু এদিকে জমির মালিক আমার কাছে পূর্ণ এক বছরের ভাড়া চাচ্ছে। তার কথা হল, আমি পূর্ণ এক বছরের জন্য জমি ভাড়া দিয়েছি। বন্যার কারণে জমিতে ফসল করতে না পারায় আমার কোনো দোষ নেই। তাই মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, শরীয়তের আলোকে সে কি আমার কাছে পূর্ণ এক বছরের ভাড়া পাবে?

চলমান ব্যবসা দিয়ে মুদারাবা চুক্তি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৫৪) : আমার এক বন্ধুর বড় একটি লাইব্রেরী রয়েছে। কিছুদিন আগে সে বিদেশ চলে যায়। যাওয়ার সময় আমাকে লাইব্রেরীর দায়িত্বশীল বানিয়ে যায়। তার সাথে আমার এভাবে চুক্তি হয় যে, লাইব্রেরী দিয়ে মুযারাবার ভিত্তিতে আমি স্বাধীনভাবে ব্যবসা করব। অর্জিত লভ্যাংশের ৪০% আমি ও ৬০% তিনি পাবেন। বিষয়টি শুনে আমার এক পরিচিত আলেম বললেন, চলমান ব্যবসা দিয়ে এভাবে কারবার করা সহিহ নয়। মুহতারামের কাছে আমার জানার বিষয় হল, তার এ কথাটি কি ঠিক? বাস্তবে এমন হলে এখন আমাদের করণীয় কী?

জীবন বীমা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭২১) : আমার বাবা রাষ্ট্রীয় একটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বাবার ইন্তেকালের পর আমরা তার থেকে একটি বাড়ি ও উক্ত বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে পেনশনের টাকা মীরাস হিসাবে পাই। তারা আমাদেরকে পেনশনের ৫০% একত্রে দেয়। আর বাকী ৫০% প্রতি মাসে সাড়ে আঠার হাজার টাকা করে দেয়। আমাদের বাড়িটি নির্মাণে মোট ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। তার মধ্যে ৫০ লাখ জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন বাবদ প্রাপ্ত টাকা। আর বাকি টাকার বেশির ভাগই বৈধভাবে উপার্জিত। বর্তমানে আমরা বাড়ি ভাড়া আর মাসিক পেনশনের টাকা দিয়ে চলি। এ ছাড়া আমাদের আর কোনো আয় নেই। তবে আমাদের পরিবারে দুজন সদস্য কর্মক্ষম। এখন আমরা জানতে চাই, বাবার ওয়ারিসদের জন্য এ বাড়িতে থাকা ও তার ভাড়া এবং পেনশনের টাকা গ্রহণ করা কি জায়েয হবে? নাজায়েয হলে করণীয় কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুযারাবা ব্যবসার ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের জন্য মূলধন থেকে খরচ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭০৩) : আমি আমার বন্ধুর কাছ থেকে মুযারাবার ভিত্তিতে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছি। তাকে ৩০% লভ্যাংশ দেওয়ার চুক্তি করে তা দিয়ে একটি লাইব্রেরী দিয়েছি। আর বর্তমানে এ ধরণের ব্যবসার প্রচার-প্রসার না হলে দেখা যাবে ভালো ব্যবসা হবে না। তাই ব্যবসার স্বার্থেই প্রাথমিকভাবে এর পরিচিতির জন্য প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনে কিছু টাকা খরচ হয়েছে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ টাকাগুলো যেহেতু ব্যবসার স্বার্থেই খরচ হয়েছে তা ব্যবসার ব্যয় ধরে ব্যবসা থেকে নিতে পারব কি না?

অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৫৫) : আমি একজনের সাথে এই মর্মে চুক্তি করেছি যে, আমি তাকে ফসল বোনার সময় ২০,০০০/- টাকা দিব। বিনিময়ে সে আমাকে ৩ মাস পর ২ মন ফসল দিবে, যার মূল্য তখন আনুমানিক ৩২,০০০/- টাকা দাঁড়ায়। এরকম চুক্তি জায়েয কি না?

বই ছাপানোর পূর্বে অগ্রিম বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৫৪) : আমার একটি লাইব্রেরী আছে। অনেক সময় কোনো বইয়ের পূর্বের সংস্করণ শেষ হয়ে যায় বা পূর্বের কোনো বই নতুন করে ছাপা হয়। ফলে তখন অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। আবার বই কী পরিমাণ বিক্রি হবে সে ব্যাপারেও ঝুঁকি থাকে। অগ্রিম বেশ কিছু কপি বিক্রয় হয়ে গেলে এ ঝুঁকি কিছুটা কমে যায়। এজাতীয় ক্ষেত্রে অনেক লাইব্রেরী কম মূল্যে অগ্রিম বই বিক্রয় করে দেয়। ৩০-৩৫% পর্যন্তও ছাড় দিয়ে থাকে তারা। গ্রাহকগণও এর প্রতি আগ্রহী থাকে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাই, এভাবে অগ্রিম বেচা-কেনা করতে কোনো সমস্যা আছে কি না? এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে এক্ষেত্রে কী কী বিষয় লক্ষণীয়?

মুদারাবা চুক্তিতে শ্রমদাতা কি পারিশ্রমিক নিতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫৬২) : আব্দুর রশিদ সাহেব ও মারুফ সাহেব একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। শ্রম তাদের উভয়ের। কিন্তু বিনিয়োগের সকল টাকা আব্দুর রশিদ সাহেবের। তাদের মাঝে এভাবে চুক্তি হয়েছে যে, আব্দুর রশিদ সাহেব ও মারুফ সাহেব চার ভাগের এক ভাগ করে মোট অর্ধেক লাভ পাবেন। আর বাকি অর্ধেক লাভ আব্দুর রশিদ সাহেবের। আর আব্দুর রশিদ সাহেব ও মারুফ সাহেব নিজ খরচের জন্য প্রতি মাসে ২০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার টাকা বেতন পাবেন। জানার বিষয় হল, তাদের এই চুক্তি বৈধ কি না? কারবারের ভেতর কোনো সমস্যা থাকলে তা এখন সমাধানের উপায় কী?

ব্যাংক একাউন্ট থেকে আসা সুদের টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করার নিয়তে ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৪৮) : আমার কয়েকটি বিষয় জানার ছিল, ১. আমি বিগত সময় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে সেভিংস একাউন্টে কিছু টাকা জমা রেখেছিলাম। যার লাভের হার ছিল ৪%। এই লাভের টাকা আমি কোনোদিনই ভোগ করিনি এবং কোনোদিন করবও না ইনশাআল্লাহ। এই লাভের টাকা দিয়ে বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসার টয়েলেট ও প্রস্রাব খানা তৈরি করার কাজে ব্যয় করা হয়। এখন অন্য ব্যাংকে যদি জমা রাখি তাহলে সেই ব্যাংক আমাকে ৫.৫% হারে লাভ দিবে। উল্লেখ থাকে যে, সেই টাকাও বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসার টয়লেট ও প্রস্রাব খানা তৈরি করার কাজে ব্যয় করা হবে। এখন জানাবেন যে, বেশি লাভের জন্য আমি অন্য ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে পারব কি না? ২. আমার ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোম্পানীর নামে একাধিক ব্যাংকে চলতি হিসাব বা কারেন্ট একাউন্ট চালু আছে এবং লেনদেন করছি। ঐসকল ব্যাংকগুলো তাদের ব্যাংকে লেনদেন করার কারণে বাৎসরিক সার্ভিস চার্জ বাবদ টাকা কেটে নেয়। আমি অন্য ব্যাংক থেকে যে সুদ বা লাভের টাকা পাব তা দিয়ে উক্ত সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে পারব কি না? ৩. আমার কোম্পানীর ওভেন, ডায়ার ও চুলা ব্যবহারের নতুন গ্যাস লাইন বর্ধিত করার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি বাবদ ১০ লক্ষ টাকা তিতাস গ্যাস কোম্পানীকে দিতে হবে। উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টির ১০ লক্ষ টাকা নগদ জমা দিলে আমাকে ২% হারে সুদ বা লাভ দিবে ব্যাংক এবং জামানতও দেওয়া হবে। আর যদি নগদ ৩ লক্ষ টাকা জামানত বাবদ জমা দেওয়া হয় তাহলে ব্যাংকে বছর শেষে আরো ছয় হাজার টাকা অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। এখন আমার জানার ইচ্ছা যে, উক্ত সুদ বা লাভের টাকা অন্য ব্যাংক একাউন্টের সুদ বা লাভের টাকা থেকে পরিশোধ করা যাবে কি না? মোটকথা হল, এক ব্যাংকের সুদ বা লাভের টাকা দিয়ে অন্য ব্যাংকের সুদ বা লাভের টাকা পরিশোধ করা যাবে কি না?

মুদারাবা ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৩৭) : আমি আমাদের এলাকার ‘উদয়ন সমবায় সমিতির’ একজন সদস্য। আমাদের সমিতিতে বেশ কিছু টাকা জমা হলে কোষাধ্যক্ষ সাহেবকে মুযারাবার ভিত্তিতে ব্যবসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। তিনি প্রথমে আগ্রহ দেখালেও পরে ঝামেলা হবে ভেবে রাজি হচ্ছিলেন না। তাই সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করবেন, ব্যবসার উপকারার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নিবেন- এতে কারো আপত্তি থাকবে না। তিনি (একথা ভেবে যে, ব্যবসায় তার অভিজ্ঞতা নেই তাই লাভ না হতে পারে) তার এক আমানতদার বন্ধুকে সমিতির টাকা মুদারাবা চুক্তিতে দুই বছরের জন্য দিয়ে দেন। শতকরা হারে লাভের ৩০% সে পাবে ৭০% সমিতি পাবে। এক্ষেত্রে বিষয়টি তিনি দু-একজনের সাথে মৌখিকভাবে আলোচনা করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের থেকে অনুমতি নেননি। ঘটনাটি জানাজানি হলে অনেক সদস্য এতে অসন্তুষ্ট হন। তারা টাকা ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক ঝামেলা হচ্ছে। সভাপতি চাচ্ছেন কোনোভাবে চলতি বছর শেষ করতে। কিন্তু অন্যান্যরা এখনই টাকা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, নিজে ব্যবসা না করে এভাবে অন্যের সাথে চুক্তি করা কি জায়েয হয়েছে? সদস্যদের অভিযোগের কারণে এখনই তিনি চুক্তি ভঙ্গ করতে বাধ্য কি না? এক্ষেত্রে এক বছর শেষ করার দাবি কি শরীয়তসম্মত? এ সময় ব্যবসায় কোনো লোকসান হলে এর দায়ভার কে নিবে?

ইনসিওরেন্সের টাকা কি হালাল?

প্রশ্ন (১২৫৩৪) : আমার আম্মা প্রগতি লাইফ ইনসিওরেন্স দশ বছর মেয়াদী একটি বীমা করেন। মাসে ২০০ টাকা করে দশ বছরে ২৪০০০ টাকা জমা হয়। ইনসিওরেন্স কোম্পানি এ টাকার সাথে আরোও ১৬০০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৪০০০০ টাকা দিয়েছে। যা একটি ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে। তিনি এখন জানতে চাচ্ছেন যে, তার এ টাকার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে কি না? কেউ কেউ বলেছে, ইনসিওরেন্স ডিভিডেন্ড হারাম। তাই তার উপর কুরবানী আসবে না। আবার কেউ বলেছে, যেহেতু অধিকাংশ টাকা হালাল, তাই এর উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

লটারির টাকা কি হালাল হবে?

প্রশ্ন (১২৫০১) : আমি সাধারণ চাকরিজীবী। সাংসারিক ব্যয়ের পর যে অতিরিক্ত টাকা হাতে থাকে তা আমি হজ্বের উদ্দেশ্যে একটু একটু করে জমাতে থাকি। এভাবে হজ্ব কাফেলায় জমা দেওয়ার মতো অর্থ জোগাড় হয়ে যায়। এদিকে আমার একটি লটারি ড্র হওয়ায় আরো কিছু টাকা হাতে আসে। আগের জমানো অর্থগুলো হজ্ব কাফেলায় দিয়ে লটারি থেকে পাওয়া অর্থ নিজের সঙ্গে রাখি এবং গোটা সফরে ব্যক্তিগত বেশ কিছু খরচ তা দিয়ে নির্বাহ করি। হজ্ব শেষে মক্কায় আমার এক প্রবাসী বন্ধুর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি আমাকে জানালেন, লটারির টাকা হারাম! আর হারাম টাকা দিয়ে হজ্ব করলে হজ্ব হয় না। এতে আমি ভীষণ চিন্তিত হলাম। লটারির ঐ টাকা যে কেন সঙ্গে নিয়েছিলাম সেজন্য অনুতপ্ত হলাম। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার হজ্ব কি একেবারেই হয়নি? নাকি হলেও অসম্পূর্ণ হয়েছে? সেক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? আমার খটকার মূল কারণ, আমার হজ্ব সফরের মৌলিক খরচ, যা কিনা আমি হজ্ব কাফেলায় জমা দিয়েছি তা তো নিঃসন্দেহে হালাল। প্রাসঙ্গিক খরচ সন্দেহযুক্ত হওয়াতে কি হজ্বের উপরে তার প্রভাব পড়বে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

অগ্রিম টাকা নিয়ে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪৩৭) : আমাদের এলাকায় সাধারণত শবে বরাত, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের দিন গরু জবাই হয়ে থাকে। যারা জবাই করেন তারা পেশাদার কসাই নয়; বরং অন্যান্য পেশার হয়ে থাকেন। তারা গরু কেনার পর এলাকার লোকজন থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে নেয়। আবার কারো থেকে শুধু গোস্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নেয়। সে সময় তারা শুধু এতটুকু বলে যে, ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। ৮০ ভাগ করব। প্রতি ভাগ এক হাজার টাকা করে। এরপর নির্ধারিত দিনে গরু জবাই করে এবং পূর্বের ওয়াদা অনুযায়ী ভাগ করে দেয়। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে অগ্রিম টাকা নিয়ে গোশত বিক্রি করা বৈধ হবে কি না?

যৌথ কারবারের ক্ষেত্রে মেয়াদ নির্দিষ্ট করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪২৮) : যশোর শহরে আমার একটি মুদি দোকান আছে। দোকান করার সময় একজনের সাথে এই মর্মে চুক্তি করি যে, সে দেড় লাখ টাকা দিয়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত আমার সাথে যৌথ কারবার করবে। পাঁচ বছর পর আর যৌথ লেনদেন থাকবে না। পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ব্যবসায় উন্নতি দেখে সে অংশীদারিত্ব ছাড়তে সম্মত হচ্ছে না। সে বলছে, যৌথ কারবারে এরকম শর্তারোপ করা ঠিক নয়। মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, যৌথ কারবারে নির্দিষ্ট মেয়াদের শর্ত করা বৈধ কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুযারাবা চুক্তিতে মুযারাবার সম্পদ থেকে কী কী কাজে খরচ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৩৯৮) : বাইয়ে মুযারাবার মাঝে মুযারিব যদি মুযারাবা ব্যবসার মালামাল রাখার উদ্দেশ্যে কোনো ঘর ভাড়া নেয় কিংবা ব্যবসার প্রয়োজনে নিজের জন্য কোনো ঘর ভাড়া নেয় কিংবা ব্যবসায়িক কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে সে ঘরের ভাড়া বাবদ বা চিকিৎসা বাবদ মুযারাবার সম্পদ থেকে ব্যয় করতে পারবে কি না? আর মুযারিবের জন্য আর কী কী সুবিধা আছে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৩২) : আমি বিকাশের একজন এজেন্ট। অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে আমার দোকানে আসে। কেউ ক্যাশ আউট করতে আসলে বিকাশ এজেন্টগণ সাধারণত প্রতি হাজারে খরচ বাবদ ২০ টাকা রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে নির্ধারিত চার্জ হল ১৮.৫০। এখানে এজেন্টগণ ১.৫০ অতিরিক্ত লাভ গ্রহণ করে। আবার কারো ক্যাশ আউটের পরিমাণ বেশি হলে তাকে সেন্ড মানি করতে বলা হয়। এখানেও খরচ হিসেবে প্রতি হাজারে ২০ টাকা করে রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে সেন্ড মানির জন্য নির্ধারিত চার্জ হল পাঁচ টাকা। এক্ষেত্রে ২০ টাকা পুরোটাই অতিরিক্ত গ্রহণ করে থাকে। আর বলে- আমাদের তো টাকা ওঠাতে এত টাকা খরচ হবে। তাই আপনার থেকে রাখলাম। এক্ষেত্রে অনেকেই পরবর্তীতে ক্যাশ আউট না করে অন্যভাবে উক্ত টাকা ব্যবহার করে থাকে। অতএব হুযুরের কাছে উক্ত কারবারদুটির শরয়ী বিধান জানতে চাচ্ছি।

মুদারাবা ব্যবসা।

প্রশ্ন (১২২৮৩) : আমার কয়েক বিঘা জমি আছে। এতে যে ধান হয় তার বেশিরভাগ অংশ সেদ্ধ করে শুকিয়ে বিক্রি করি। তাতে ভাল লাভ হয়। কিছু দিন আগে এক লোক আমাকে ২০,০০০/- টাকা দিয়ে বলেন টাকাগুলো দিয়ে আপনি নিজের মনমত ব্যবসা করেন। ব্যবসায় যে লাভ হবে তার অর্ধেক আমাকে দেবেন। আমি এই টাকাগুলো দিয়ে ধান কিনে আমার ধানের সাথে সেদ্ধ করে ব্যবসা করতে চাচ্ছি। এক লোক আমাদের চুক্তিটি জানার পর বলল, তার ধানগুলো নিজের ধানের সাথে মিশিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন না। এদিকে অন্য কোনো ব্যবসায় আমি অভ্যস্ত নই। তাই মুফতি সাহেবের কাছে উক্ত বিষয়টির শরঈ সমাধান জানতে চাচ্ছি।

কারো কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবার তার কাছে ভাড়া দেওয়া কি জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১২২০৮) : আমার এক পরিচিত ব্যক্তির নগদ টাকার প্রয়োজন হওয়ায় আমি তার মালিকানাধীন একটি ফ্লোর ছয় মাস মেয়াদের জন্য ভাড়া গ্রহণ করি এবং পুনরায় তার কাছেই ভাড়া দিই। ভাড়া নেওয়া ও দেওয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দুটি চুক্তিপত্র করা হয়। প্রথম চুক্তিপত্রে ফ্লোরটি দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ভাড়া গ্রহণ করি এবং দুই লক্ষ টাকা ভাড়া নগদ পরিশোধ করি। দ্বিতীয় চুক্তিপত্রে ফ্লোরটি তার কাছে দুই লক্ষত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে পুনরায় ভাড়া প্রদান করি। তিনি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা কিস্তিতে ছয় মাসে মোট ত্রিশ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং ভাড়ার অবশিষ্ট দুই লক্ষ টাকা ছয় মাস পর পরিশোধ করেন। জানতে চাচ্ছি, আমাদের এ লেনদেন সহিহ হয়েছে কি না এবং এ কারবারের মাধ্যমে প্রাপ্ত অতিরিক্ত ত্রিশ হাজার টাকা আমার জন্য নেওয়া বৈধ হয়েছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

কাউকে ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১১৬) : মুহতারাম! আমার জানার বিষয় হল, আমাদের এলাকায় প্রচলিত আছে, কাউকে ঋণ দেওয়ার সময় এভাবে চুক্তি করা হয় যে, ঋণদাতা ঋণগ্রহীতাকে বলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আপনার কাছ থেকে ১০ মন ধান কিনলাম। ধানের মৌসুমে ধান না দিয়ে ধানের মূল্য দিয়ে দিবেন। এক্ষেত্রে তারা ধানের পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারণ করে, যাতে ধানের মৌসুমে ঐ পরিমাণ ধানের মূল্য ঋণের টাকার থেকে বেশি হয়। এভাবে চুক্তি করা শরীয়তসম্মত কি না?

যৌথ কারবারে লাভ-লোকসান নির্ধারণের পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২০১০) : আমি ও আমার এক বন্ধু দুজনে মিলে মাছ চাষ করি। মূলধন হিসেবে আমাদের উভয়েরই দুই লক্ষ টাকা করে রয়েছে। এই ব্যবসায় আমার বন্ধুর দক্ষতা বেশি থাকায় তার জন্য ৬০% এবং আমার জন্য ৪০% লভ্যাংশ নির্ধারণ করি। এবং ব্যবসায় লোকসান হলে প্রত্যেকে উক্ত হার অনুযায়ী লোকসান বহন করার চুক্তি করি। আমাদের জানার বিষয় হল, উক্ত কারবারে লাভ-লোকসান উভয় ক্ষেত্রে তার জন্য ৬০% আর আমার জন্য ৪০% নির্ধারণ করা কী শরীয়তসম্মত হয়েছে?