অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থাপনা

ফল গাছে রেখে দেওয়ার শর্তে ক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭১২) : আমার একটি আনারস বাগান আছে। আনারস যখন ছোট ছিল তখন দশ টাকা মূল্যে সমগ্র আনারস বিক্রি করেছি। তবে ক্রেতা শর্ত করে যে, আনারস পাকা পর্যন্ত আমার বাগানে রাখবে। এভাবে বিক্রয় জায়েয আছে কি? দলীল প্রমাণসহ জানালে চির কৃতজ্ঞ থাকব।

কোনো প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর তা থেকে বেঁচে যাওয়া টাকা কি ভোগ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৭১১) : আমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ফ্যাকাল্টির ডিন অফিসে চাকরি করি। আমার নিয়মিত অফিস ডিউটির বাইরে ডিন স্যার আমাকে অতিরিক্ত একটি প্রজেক্টের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ প্রজেক্টের তদারকী করা আমার নিয়মিত অফিস ডিউটির অতিরিক্ত ডিউটি। এর জন্য আমাকে অতিরিক্ত কোনো ভাতা দেওয়া হবে না। আর এ প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন করতে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এরচে’ কম খরচে কাজটি করা সম্ভব; কাজের কোনো ত্রুটি ছাড়াই। অর্থাৎ শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দরদাম করে কিছুটা কমিয়ে টাকা বাঁচানো সম্ভব। আমি জানতে চাচ্ছি, বেঁচে যাওয়া টাকাগুলো আমার জন্য নেওয়া বৈধ হবে কি না?

মুযারাবা ব্যবসার ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের জন্য মূলধন থেকে খরচ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭০৩) : আমি আমার বন্ধুর কাছ থেকে মুযারাবার ভিত্তিতে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছি। তাকে ৩০% লভ্যাংশ দেওয়ার চুক্তি করে তা দিয়ে একটি লাইব্রেরী দিয়েছি। আর বর্তমানে এ ধরণের ব্যবসার প্রচার-প্রসার না হলে দেখা যাবে ভালো ব্যবসা হবে না। তাই ব্যবসার স্বার্থেই প্রাথমিকভাবে এর পরিচিতির জন্য প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনে কিছু টাকা খরচ হয়েছে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ টাকাগুলো যেহেতু ব্যবসার স্বার্থেই খরচ হয়েছে তা ব্যবসার ব্যয় ধরে ব্যবসা থেকে নিতে পারব কি না?

ঋণ দিয়ে ঋণগ্রহিতার কাছ থেকে কোনো উপকার গ্রহণের শর্ত করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭০২) : আমার বাসা হেমায়েতপুর। বাসার পাশেই আমার একটি ছোটখাটো মুরগীর খামার আছে। খামারে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার ডিম উৎপাদন হয়। আমার একক খরচে খামার পরিচালনা সম্ভব হয়ে উঠে না বিধায় মাঝে মাঝেই ঋণ করতে হয়। ব্যাংক থেকে লোন নিতে গেলে সেখানে তো সুদের কারবার আছে। তাই সাধারণত পরিচিতজনদের থেকে স্বল্প সময়ের জন্য করয করে থাকি। কিছুদিন আগে আমার পরিচিত এক আড়ৎ মালিক আমাকে বিনা সুদে ঋণ দিতে চেয়েছে। তবে তার শর্ত হল, আমার খামারের উৎপাদিত সকল ডিম তার আড়তে বিক্রি করতে হবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার জন্য তার থেকে এ শর্তে ঋণ নেওয়া জায়েয হবে কি না?

সুদী ব্যাংকে একাউন্ট খোলা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৮৬) : সুদী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খুললে মাসে মাসে সুদ জমা হয় বলে তা হারাম। এখন কেউ যদি সুদের টাকা নিয়ে ভোগ না করে দরিদ্রদেরকে সদকা করার নিয়তে সঞ্চয়ী হিসাব খোলে তাহলে কি তার জন্য তা জায়েয হবে?

অর্ডার করে বানানো পণ্য মালিক ব্যতিত অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৭৩) : আমি এক দোকানির কাছে একটি স্টিলের আলমারির অর্ডার করি। সে ১৫ তারিখে ডেলিভারি দিতে চায়। পরে ৭ তারিখে সে ফোনে আমাকে বলে যে, আলমারী প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে চাইলে নিয়ে যেতে পারবেন। আমি ব্যস্ততার কারণে ঐ দিন যেতে পারিনি। ১০ তারিখ তা আনতে গেলে জানতে পারি যে, সে অতিরিক্ত দাম পেয়ে অন্যত্র তা বিক্রি করে দিয়েছে। এতে আমার খুব রাগ হয়। তখর সে ১৫ তারিখের ভিতর আরেকটি বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু আমি এতে রাজি হইনি এবং তার কাছ থেকে আর আলমারি নিব না বলে জানিয়ে দেই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমার জিজ্ঞাসা হল, দোকানির জন্য এভাবে অর্ডারী বস্তু বিক্রি করা বৈধ হয়েছে কি না? এক্ষেত্রে পূর্ব নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা কি তার জন্য হালাল হবে? আর শুধু এ কারণে তার সাথে আমার চুক্তি বাতিল করা কি ঠিক হয়েছে?

ঋণের বিনিময়ে কোনো সুবিধা গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৭১) : আমি এক ব্যক্তিকে ৩ বছরের জন্য ৫ লাখ টাকা দিয়েছি এই চুক্তি স্বাপেক্ষে যে, আমি তার বাড়িতে বিনা ভাড়ায় ৩ বছর থাকব। ৩ বছর শেষ হয়ে গেলে বাড়িওয়ালা উক্ত ৫ লাখ টাকা আমাকে ফেরত দিয়ে দিবে। অবশ্য আমার মনে এই নিয়ত ছিল যে, বাড়িওয়ালা যেহেতু আমাকে একটা সুবিধা দিচ্ছে তাই আমি তার থেকে কিছু টাকা কম নিব। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, আমাদের এই লেনদেন বৈধ হবে কি না?

ব্যাংকে জমা টাকার উপর যে সুদ আসে তার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৬৬৮) : আমার বাবার ব্যাংক একাউন্টে দশ লাখ টাকা ছিল। কিছুদিন আগে তিনি মারা যান। আমার জানার বিষয় হলো, বাবার একাউন্টে থাকা এই টাকার উপর যে সুদ জমা হয়েছে তা কি আমরা মিরাছ হিসেবে নিতে পারব?

অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৫৫) : আমি একজনের সাথে এই মর্মে চুক্তি করেছি যে, আমি তাকে ফসল বোনার সময় ২০,০০০/- টাকা দিব। বিনিময়ে সে আমাকে ৩ মাস পর ২ মন ফসল দিবে, যার মূল্য তখন আনুমানিক ৩২,০০০/- টাকা দাঁড়ায়। এরকম চুক্তি জায়েয কি না?

বই ছাপানোর পূর্বে অগ্রিম বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৫৪) : আমার একটি লাইব্রেরী আছে। অনেক সময় কোনো বইয়ের পূর্বের সংস্করণ শেষ হয়ে যায় বা পূর্বের কোনো বই নতুন করে ছাপা হয়। ফলে তখন অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। আবার বই কী পরিমাণ বিক্রি হবে সে ব্যাপারেও ঝুঁকি থাকে। অগ্রিম বেশ কিছু কপি বিক্রয় হয়ে গেলে এ ঝুঁকি কিছুটা কমে যায়। এজাতীয় ক্ষেত্রে অনেক লাইব্রেরী কম মূল্যে অগ্রিম বই বিক্রয় করে দেয়। ৩০-৩৫% পর্যন্তও ছাড় দিয়ে থাকে তারা। গ্রাহকগণও এর প্রতি আগ্রহী থাকে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাই, এভাবে অগ্রিম বেচা-কেনা করতে কোনো সমস্যা আছে কি না? এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে এক্ষেত্রে কী কী বিষয় লক্ষণীয়?

জমি বায়না করার পর চুক্তি বাতিল করা যাবি কি?

প্রশ্ন (১২৫৮৬) : কিছুদিন আগে জানতে পারি, আমাদের পাশের বাড়ির আব্দুর রহিম সাহেব চিকিৎসার খরচ যোগানোর উদ্দেশ্যে একটি ফসলের জমি বিক্রি করবে। একদিন তার সাথে জমির অবস্থান, পরিমাণ ও দাম-দস্তুর নিয়ে কথা হয়। তখন আমি জমিটি নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করি। তবে পাকা কথা দেইনি। তারপর গত ১৬-১১-২০১৮ তারিখ শুক্রবার তার বাড়িতে গিয়ে জমি কেনার ব্যাপারে তার সাথে পাকা কথা হয়। মূল্য নির্ধারণ হয় আড়াই লক্ষ টাকা। তখন বায়নাস্বরূপ ৫০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে আসি। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য পনের দিন সময় নেই। এসময়ে আমি বিভিন্নভাবে টাকা সংগ্রহ করতে থাকি। তার সাথে আমার কোনো লিখিত বায়না চুক্তি হয়নি। মৌখিক যে চুক্তি হয়েছিল নিচে উল্লেখ করছি। আমি তার বাড়িতে গিয়ে বলি, আমি আপনার ঐ জমিটি কিনতে এসেছি। তো সবশেষ আপনি কত টাকা রাখবেন? সে বলল, দুই লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। আমি বললাম, আমি আড়াই লক্ষ টাকা দিব। সে আরো ১০ হাজার দাবি করে। অনেক জোরাজুরির পর সে রাজি হল যে, আচ্ছা আড়াই লক্ষ টাকায় দিলাম। টাকা কবে দিবেন? আমি বললাম এখনই ৫০ হাজার দিয়ে বায়না করছি, বাকি টাকা পনের দিনের মধ্যে দিব। সে বলল, পূর্ণ টাকা পরিশোধের পর আমি জমি রেজিস্ট্রি করে দিব। এক সপ্তাহ পর তিনি একদিন আমার বাড়িতে এসে বলেন, আমার টাকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে। আমি আর ঐ জমি বিক্রি করব না। আপনার ৫০ হাজার টাকার সাথে আমি আরো ১০ হাজার টাকা দিব তারপরও আপনি জমিটির দাবি ছেড়ে দিন। আমার প্রশ্ন হল, এখন এভাবে তার জন্য পূর্বের চুক্তি থেকে ফিরে আসার সুযোগ আছে কি না? কেননা সেক্ষেত্রে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব। আর তার দাবি মেনে নিয়ে আমি যদি জমিটি ছেড়েও দেই তাহলে আমার জন্য অতিরিক্ত দশ হাজার টাকা নেওয়া জায়েয হবে কি না?

যে প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে লোন নেয় সেই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫৮২) : অনেকে বলে থাকেন, এখন তো সকল চাকরিতেই ঘুষ দিতে হয় এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা কারবারই সুদমুক্ত নয়। তাহলে কি তার জন্য সবধরনের প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যাংক-বীমারও চাকরি করা বৈধ হবে?

কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫৮০) : আমি সৌদি আরবের পবিত্র মাদীনাতে থাকি। একটি দোকানে কাজ করতাম। গত কয়েক বছর আগে হজ্বের মৌসুমে একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পাই। তাতে কিছু সৌদি রিয়াল ও বাংলাদেশী টাকা ছিল। উক্ত মানিব্যাগে তার মালিকের সাথে যোগাযোগ করার কোনো মাধ্যম (মোবাইল নম্বর, ইমেইল, ঠিকানা) পাওয়া যায়নি। তাই অনেক দিন সেগুলো আমার কাছে অক্ষত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমার অত্যন্ত প্রয়োজনের কারণে সেগুলো খরচ করে ফেলি। এখন আমি অপরের এই হক থেকে কীভাবে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারি? আশা করছি সম্মানিত মুফতিয়ানে কেরাম সুচিন্তিত উত্তর প্রদান করে চিরকৃতজ্ঞ করবেন।

সুদ গ্রহণের একটি কৌশল।

প্রশ্ন (১২৫৭৪) : যদি কাউকে এই শর্তে ২১ হাজার টাকা দেওয়া হয় যে, আগামী এক বছর পর আমাকে ২০ হাজার টাকা ও ১২ মন ধান দেবে, এমন চুক্তি করা বৈধ হবে কি? যদি না হয়, তাহলে তার কারণ কী? বা কীভাবে বৈধ হবে জানাবেন।

হারাম টাকায় উপার্জিত সম্পদ হালাল করার কোনো উপায় আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫৭২) : এক ব্যক্তি ব্যাংকে চাকরি করার অবৈধতা সম্পর্কে না জেনে একটি বিদেশী ব্যাংকে চাকরি নেয়। ঐ চাকরি অবস্থায় চাকরি ও লোনের টাকা দিয়ে জায়গা-জমি খরিদ করেন, বাড়ি-ঘর নির্মাণ করেন এবং নিজ ছোট-বড় ভাই-বোনদেরকে সেসকল জায়গা-জমিতে অংশিদার করেন। দলীলে তাদের নামও লিখে দেন। ভাই-বোনদের বিয়ে-শাদীতেও খরচাদি করেন। মা-বাবার অনেক খেদমত করেন। অবশ্য চাকরির শেষ পর্যায়ে এ চাকরি অবৈধ জেনেও ঈমানী দুর্বলতার কারণে বা অপারগ মনে করে শেষ পর্যন্ত চাকরিরত থাকেন। উল্লেখ্য, লোকটি ব্যক্তিগতভাবে উদার, আমলদার ও আলেমভক্ত। এখন তার ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী? কীভাবে তিনি আখেরাতে মুক্তি পেতে পারেন। আর যারা তার দান গ্রহণ করেছেন বিশেষ করে ভাই-বোন, যারা মাসে/বছরে তার থেকে লেখা-পড়ার খরচ গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন কাজে তিনি তাদেরকে আর্থিক সহায়তা করেছেন। (যার কোনো হিসাব রাখা হয়নি) এবং তিনি যে ভাই-বোনদেরকে জায়গাজমিতে অংশিদার করেছেন, ভাই-বোনদের এখন করণীয় কী? তাদের দায়মুক্ত ও বৈধ অধিকারী হওয়ারই বা কী উপায়?

সমিতির টাকা লটারীর মাধ্যমে ভাগ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫৬৬) : আমি একজন ব্যবসায়ী, আমার একটি সমিতি আছে। আমার সমিতির ৫০ জন সদস্য আছে। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে দুই কিস্তিতে ১০০০ টাকা নেই। (যার ফলে প্রতি সপ্তাহে আমার কাছে ৫০,০০০/- টাকা জমা হয়) এবং প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫০ সদস্যের নাম লটারী করি, যার নাম লটারীতে ওঠে তাকে একসাথে ৫০,০০০/-টাকা দিয়ে দিই। তার পরের সপ্তাহে যে ব্যক্তি টাকা পেয়েছে তার নাম বাদ দিয়ে বাকি ৪৯ জনের নাম লটারী করি। যার নাম লটারীতে ওঠে তাকে ৫০,০০/- টাকা দিয়ে দিই। এইভাবে ৫০ সপ্তাহে ৫০ জনই আগে বা পরে ৫০,০০০/- টাকা পেতে থাকে এবং যারা টাকা পেয়েছে তারাও ৫০ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে এক হাজার করে টাকা দিতে থাকে। এই সমিতি করার উদ্দেশ্য হল, যারা ছোট ব্যবসায়ী তারা একসাথে ৫০,০০০/- টাকা পেয়ে যাতে ব্যবসায় উন্নতি করতে পারে। উল্লেখ্য, তাদের টাকা আমার কাছে তিন-চার দিন থাকে, তখন আমি ঐ টাকা দ্বারা ব্যবসা করি এবং সকল সদস্য আমার ব্যবসা করার বিষয়টি জানে এবং এ ব্যাপারে তারা আমাকে কিছু বলে না। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার সমিতির কার্যক্রম শরীয়তসম্মত কি না? শরীয়তসম্মত না হলে কী কারণে শরীয়তসম্মত না- অনুগ্রহ করে জানাবেন। ইনশাআল্লাহ, আমি সেই কারণ দূর করব।

ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৬৪) : কিছুদিন আগে আমি এক মাছ বিক্রেতার কাছে একটি মাছের দাম জিজ্ঞাসা করলে সে তিন শত টাকা মূল্যের মাছের দাম এক হাজার টাকা বলে। বিষয়টি টের না পেয়ে আমি সাতশত টাকা বলে ফেলি। সে এতেও রাজি হয়নি। তাই আমি সেখান থেকে চলে আসি। কিছু দূর চলে আসার পর ঐ দামেই মাছটি নেয়ার জন্য সে আমাকে ডাকতে থাকে। এতক্ষণে চড়া দামের বিষয়টি আমার বুঝে আসে। তাই আমি আর তার ডাকে সাড়া দেইনি। সে আমার পিছু নেয় এবং আমাকে ধরে বলে- দরদাম করে এখন নিবেন না কেন? তার চিল্লাচিল্লিতে আশপাশের কিছু লোক জমা হলে তারাও একই কথা বলে। অবশেষে চড়া দামে মাছটি নিতে আমি বাধ্য হই। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আমার জন্য মাছটি নেয়া কি আবশ্যক ছিল? এক্ষেত্রে মাছ কিনতে আমাকে বাধ্য করা কি ঠিক হয়েছে?

মুদারাবা চুক্তিতে শ্রমদাতা কি পারিশ্রমিক নিতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫৬২) : আব্দুর রশিদ সাহেব ও মারুফ সাহেব একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। শ্রম তাদের উভয়ের। কিন্তু বিনিয়োগের সকল টাকা আব্দুর রশিদ সাহেবের। তাদের মাঝে এভাবে চুক্তি হয়েছে যে, আব্দুর রশিদ সাহেব ও মারুফ সাহেব চার ভাগের এক ভাগ করে মোট অর্ধেক লাভ পাবেন। আর বাকি অর্ধেক লাভ আব্দুর রশিদ সাহেবের। আর আব্দুর রশিদ সাহেব ও মারুফ সাহেব নিজ খরচের জন্য প্রতি মাসে ২০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার টাকা বেতন পাবেন। জানার বিষয় হল, তাদের এই চুক্তি বৈধ কি না? কারবারের ভেতর কোনো সমস্যা থাকলে তা এখন সমাধানের উপায় কী?

ব্যাংক একাউন্ট থেকে আসা সুদের টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করার নিয়তে ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৪৮) : আমার কয়েকটি বিষয় জানার ছিল, ১. আমি বিগত সময় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে সেভিংস একাউন্টে কিছু টাকা জমা রেখেছিলাম। যার লাভের হার ছিল ৪%। এই লাভের টাকা আমি কোনোদিনই ভোগ করিনি এবং কোনোদিন করবও না ইনশাআল্লাহ। এই লাভের টাকা দিয়ে বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসার টয়েলেট ও প্রস্রাব খানা তৈরি করার কাজে ব্যয় করা হয়। এখন অন্য ব্যাংকে যদি জমা রাখি তাহলে সেই ব্যাংক আমাকে ৫.৫% হারে লাভ দিবে। উল্লেখ থাকে যে, সেই টাকাও বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসার টয়লেট ও প্রস্রাব খানা তৈরি করার কাজে ব্যয় করা হবে। এখন জানাবেন যে, বেশি লাভের জন্য আমি অন্য ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে পারব কি না? ২. আমার ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোম্পানীর নামে একাধিক ব্যাংকে চলতি হিসাব বা কারেন্ট একাউন্ট চালু আছে এবং লেনদেন করছি। ঐসকল ব্যাংকগুলো তাদের ব্যাংকে লেনদেন করার কারণে বাৎসরিক সার্ভিস চার্জ বাবদ টাকা কেটে নেয়। আমি অন্য ব্যাংক থেকে যে সুদ বা লাভের টাকা পাব তা দিয়ে উক্ত সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে পারব কি না? ৩. আমার কোম্পানীর ওভেন, ডায়ার ও চুলা ব্যবহারের নতুন গ্যাস লাইন বর্ধিত করার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি বাবদ ১০ লক্ষ টাকা তিতাস গ্যাস কোম্পানীকে দিতে হবে। উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টির ১০ লক্ষ টাকা নগদ জমা দিলে আমাকে ২% হারে সুদ বা লাভ দিবে ব্যাংক এবং জামানতও দেওয়া হবে। আর যদি নগদ ৩ লক্ষ টাকা জামানত বাবদ জমা দেওয়া হয় তাহলে ব্যাংকে বছর শেষে আরো ছয় হাজার টাকা অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। এখন আমার জানার ইচ্ছা যে, উক্ত সুদ বা লাভের টাকা অন্য ব্যাংক একাউন্টের সুদ বা লাভের টাকা থেকে পরিশোধ করা যাবে কি না? মোটকথা হল, এক ব্যাংকের সুদ বা লাভের টাকা দিয়ে অন্য ব্যাংকের সুদ বা লাভের টাকা পরিশোধ করা যাবে কি না?

মুদারাবা ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৩৭) : আমি আমাদের এলাকার ‘উদয়ন সমবায় সমিতির’ একজন সদস্য। আমাদের সমিতিতে বেশ কিছু টাকা জমা হলে কোষাধ্যক্ষ সাহেবকে মুযারাবার ভিত্তিতে ব্যবসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। তিনি প্রথমে আগ্রহ দেখালেও পরে ঝামেলা হবে ভেবে রাজি হচ্ছিলেন না। তাই সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করবেন, ব্যবসার উপকারার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নিবেন- এতে কারো আপত্তি থাকবে না। তিনি (একথা ভেবে যে, ব্যবসায় তার অভিজ্ঞতা নেই তাই লাভ না হতে পারে) তার এক আমানতদার বন্ধুকে সমিতির টাকা মুদারাবা চুক্তিতে দুই বছরের জন্য দিয়ে দেন। শতকরা হারে লাভের ৩০% সে পাবে ৭০% সমিতি পাবে। এক্ষেত্রে বিষয়টি তিনি দু-একজনের সাথে মৌখিকভাবে আলোচনা করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের থেকে অনুমতি নেননি। ঘটনাটি জানাজানি হলে অনেক সদস্য এতে অসন্তুষ্ট হন। তারা টাকা ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক ঝামেলা হচ্ছে। সভাপতি চাচ্ছেন কোনোভাবে চলতি বছর শেষ করতে। কিন্তু অন্যান্যরা এখনই টাকা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, নিজে ব্যবসা না করে এভাবে অন্যের সাথে চুক্তি করা কি জায়েয হয়েছে? সদস্যদের অভিযোগের কারণে এখনই তিনি চুক্তি ভঙ্গ করতে বাধ্য কি না? এক্ষেত্রে এক বছর শেষ করার দাবি কি শরীয়তসম্মত? এ সময় ব্যবসায় কোনো লোকসান হলে এর দায়ভার কে নিবে?