অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থাপনা

পুরস্কার পাওয়ার আশায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে পণ্য ক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২৪১) : বাড়িতে যাওয়ার সময় যাত্রাপথে আমাদের গাড়ি একটি হোটেলের সামনে থামে। হোটেলের বাইরে একটি অস্থায়ী স্টোর বসেছিল। সেখানে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানীর পণ্য নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০ টাকা বেশিতে বিক্রি করা হচ্ছিল। সাথে ছিল স্ক্র্যাচ কার্ড। পুরস্কার হিসাবে সাজানো ছিল রেইন কোর্ট, আকর্ষণীয় ছাতা ইত্যাদি। অনেকে লাভের আসায় ১০ টাকা বেশি দিয়ে পণ্যটি ক্রয় করছিল। অথচ সে একই পণ্য পাশের দোকানগুলোতে নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান কী? এরকম ক্রয়-বিক্রয়ে অংশগ্রহণে কোনো অসুবিধা আছে?

বিল্ডিংয়ের কোনো তলা নামাযের জন্য নির্ধারন করে আবার তা বাতিল করা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২২৩৩) : আমাদের এলাকায় ঘন বসতি হওয়ায় পূর্বের ছোট মসজিদে মুসল্লী সংকুলান হয় না। ফলে নামায পড়তে বেশ কষ্ট হয়। বিষয়টা নিয়ে আমাদের মাঝে আলোচনা চলছিল। একদিন আমরা কয়েকজন মিলে এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন বশির সাহেবের বাসায় যাই। এব্যাপারে তার সাথে আলোচনা করলে তিনি বলেন যে, আমার এ বাড়ির ৫ম তলাটি খালি পড়ে রয়েছে। চাইলে তোমরা এটাকে মসজিদ বানিয়ে ফেলতে পারো। এরপর আমরা ৫ম তলাটিকে সাফাই করে তাতে নামায পড়া শুরু করি। এক সপ্তাহ পর একজন ইমামও নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা সেখানে নামায পড়ে আসছি। কিন্তু কয়েকদিন আগে উনার বড় ছেলে ৫ম তলার উপর আরো দুতলা করবে বলে সেখানে নামায পড়া বন্ধ করে দেয় এবং কাজও শুরু করে দেয়। তারা বলছে, যখন এটা আমাদের প্রয়োজন ছিল না তখন তা নামায পড়ার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের প্রয়োজন পড়েছে; বরং এটা যথেষ্ট হচ্ছে না বিধায় এর উপর আরো দু’তলা করতে হচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি, ৫ম তলাটি মসজিদের জন্য দিয়ে পুনরায় তা নিয়ে নেওয়া কি জায়েয হবে? এতে তাদের মসজিদ ভাঙার গুনাহ হবে না?

ক্রয় প্রতিনিধি কি পণ্যের মূল্যের ডিসকাউন্ট গ্রহণ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২২২৪) : অনলাইনে কিছু ওয়েবসাইট থেকে ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। বিগত কয়েক বছর যাবৎ আমি একটি সাইট থেকে পণ্য ক্রয় করে থাকি। কিছুদিন আগে সাইটটি থেকে একটি মেসেজ আসে যে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এক হাজার টাকা বা তার চেয়ে বেশি টাকার পণ্য কিনলে দশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট দেবে। এ সময়ে আমার এক বন্ধুর চার শ টাকা মূল্যের একটা পণ্যের প্রয়োজন হলে সে আমাকে তা কিনে দিতে বলে। আমি তাকে এ সাইট থেকে পণ্যটি কিনে দিই। দশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্টের কারণে চার শ টাকার বদলে আমাকে তিন শ ষাট টাকা পরিশোধ করতে হয়। ডিসকাউন্টের বিষয়টি আমার বন্ধুর জানা ছিল না। এজন্য সে আমাকে চার শ টাকাই দেয়। আমিও তা নিয়ে নিই এবং খরচ করে ফেলি। জানার বিষয় হল, আমার এ কাজটি কি ঠিক হয়েছে? আমার জন্য অতিরিক্ত চল্লিশ টাকা নেওয়া কি বৈধ হয়েছে?

অনির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাউকে বাড়ি বিক্রি করার দায়িত্ব দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২১৭) : সিরাজগঞ্জ শহরে আমাদের একটি বাড়ি আছে। ঢাকা থেকে বাবার জন্য সেটার পরিপূর্ণ দেখভাল করা সম্ভব হয় না বিধায় তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বাড়িটি বিক্রি করতে চাচ্ছেন। কিন্তু দূর থেকে তেমন সুবিধা করতে পারছিলেন না। তাই আমার মেজ চাচাকে বাবা বলেছেন যে, আমার বাড়িটা ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিন। এর অতিরিক্ত যত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন তা আপনার। চাচা এখন বাড়িটি বিক্রি করে দেয়ার জন্য বেশ তোড়জোড় শুরু করেছেন। আমরা জানতে চাচ্ছি যে, বাবার জন্য চাচার সাথে এভাবে বাড়ি বিক্রি করে দেয়ার চুক্তি করা বৈধ হয়েছে কি? না হলে সঠিক পদ্ধতি কী?

কারো কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবার তার কাছে ভাড়া দেওয়া কি জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১২২০৮) : আমার এক পরিচিত ব্যক্তির নগদ টাকার প্রয়োজন হওয়ায় আমি তার মালিকানাধীন একটি ফ্লোর ছয় মাস মেয়াদের জন্য ভাড়া গ্রহণ করি এবং পুনরায় তার কাছেই ভাড়া দিই। ভাড়া নেওয়া ও দেওয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দুটি চুক্তিপত্র করা হয়। প্রথম চুক্তিপত্রে ফ্লোরটি দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ভাড়া গ্রহণ করি এবং দুই লক্ষ টাকা ভাড়া নগদ পরিশোধ করি। দ্বিতীয় চুক্তিপত্রে ফ্লোরটি তার কাছে দুই লক্ষত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে পুনরায় ভাড়া প্রদান করি। তিনি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা কিস্তিতে ছয় মাসে মোট ত্রিশ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং ভাড়ার অবশিষ্ট দুই লক্ষ টাকা ছয় মাস পর পরিশোধ করেন। জানতে চাচ্ছি, আমাদের এ লেনদেন সহিহ হয়েছে কি না এবং এ কারবারের মাধ্যমে প্রাপ্ত অতিরিক্ত ত্রিশ হাজার টাকা আমার জন্য নেওয়া বৈধ হয়েছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

ঘুষ আদান-প্রদানের হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২২০৬) : সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন সময় চারাগাছ ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করে থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবচে’ কম রেটে যারা চারাগাছ দিতে পারবে জানিয়ে দরপত্র দাখিল করে- সরকার তাদেরকেই প্রাধান্য দেয়। এক্ষেত্রে ব্যাপারটা এরকম হয় যে, বিভিন্ন নার্সারি থেকে কাক্সিক্ষত পরিমাণ বৃক্ষচারা যদি দশ টাকা করে সংগ্রহ করার সুযোগ থাকে তাহলে লাভ হিসেবে তার সঙ্গে -ধরা যাক- আরো দুই টাকা যোগ করে প্রতিটি চারাগাছের মূল্য ১২ টাকা নির্ধারণপূর্বক আবেদনপত্র পেশ করা হয়। কিন্তু সরকারের তরফে আবেদন মঞ্জুর হওয়ার জন্য এ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাথে আরো দুই টাকা সংযুক্ত করে দরপত্রে বৃক্ষমূল্য ১৪ টাকা উল্লেখের কথা বলে। ফলে সরকার বৃক্ষ প্রতি ঠিকই ১৪ টাকা দাম পরিশোধে চুক্তিবদ্ধ থাকে। কিন্তু আমার হাতে আসে ১২ টাকা। বাকি দুই টাকা কর্মকর্তারা আনুষঙ্গিক কাজের জন্য কমিশন ফি হিসেবে কেটে রাখে। ক্ষেত্রবিশেষ দেখা যায়, অন্য যারা দরপত্র দাখিল করেছে তাদের মধ্যে আমার দেয়া ১৪ টাকাই সর্বনিম্ন রেট। বাকিদেরটা হয়ত ১৫ টাকা বা তারও ওপরে। এমতাবস্থায় প্রকৃত দামের বাইরে বৃক্ষপ্রতি ঐ দুই টাকা দিতে রাজী হলে কর্মকার্তারা আমার আবেদনকে অগ্রাধিকার দেয়ার আগ্রহ দেখায়। তো আমার জন্য কি এই শর্ত মেনে টেন্ডার গ্রহণের অবকাশ আছে? বিশেষ করে অন্যদের চেয়ে আমার রেট যখন তুলনামূলক কম। তাছাড়া আমি এই টেন্ডার না নিলেও অন্যদেরকে অনুরূপ কমিশন প্রদানের শর্তেই তো দেবে?

কাউকে ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১১৬) : মুহতারাম! আমার জানার বিষয় হল, আমাদের এলাকায় প্রচলিত আছে, কাউকে ঋণ দেওয়ার সময় এভাবে চুক্তি করা হয় যে, ঋণদাতা ঋণগ্রহীতাকে বলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আপনার কাছ থেকে ১০ মন ধান কিনলাম। ধানের মৌসুমে ধান না দিয়ে ধানের মূল্য দিয়ে দিবেন। এক্ষেত্রে তারা ধানের পরিমাণ এমনভাবে নির্ধারণ করে, যাতে ধানের মৌসুমে ঐ পরিমাণ ধানের মূল্য ঋণের টাকার থেকে বেশি হয়। এভাবে চুক্তি করা শরীয়তসম্মত কি না?

আমাদের দেশে জমি বন্ধক দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১১৫) : আমাদের দেশে জমি বন্ধক দেয়ার যে পদ্ধতি প্রচলিত আছে যে, কোনো ব্যক্তি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে কারো কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি বন্ধক নিয়ে থাকে। সাধরণত কত বছরের জন্য বন্ধক নেয়া হল তা উল্লেখ থাকে না। টাকা প্রদানকারী জমি ভোগ করতে থাকে। এভাবে দু-চার বছর চলে যায়। এরপর জমির মালিক টাকা প্রদানকারীর মূল টাকা ফিরিয়ে দিয়ে নিজের জমি ফিরিয়ে নেয়। এ পদ্ধতি জায়েয আছে কি? যদি টাকা প্রদানকারী এরূপ শর্ত করে নেয় যে, বছরে বছরে তার টাকা থেকে ৫০০/১০০০ টাকা বা ৫% কিংবা ১০% টাকা কাটা যাবে তাহলে কি জায়েয হবে?

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৯৩) : আমার এক বন্ধু আমার থেকে এক বছরের জন্য দেড় লাখ টাকা ঋণ নেয়। আমার টাকার সংকট থাকায় আমি তাকে প্রথমে ঋণ দিতে চাচ্ছিলাম না। পরে সে আমার কাছে তার একটি পুরাতন ফোন মর্গেজ হিসাবে রাখলে আমি তাকে ঋণ দেই। আমি আমার বন্ধুর ফোনটা মাঝে মাঝে ব্যবহার করতাম। এটা আমার বন্ধু জানত না। কিছুদিন আগে বাসে বসে ফোনটা চালাচ্ছিলাম, হঠাৎ জানালা দিয়ে ফোনটা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ফোনটা যখন আমার বন্ধু আমাকে দেয় তখন এর দাম ছিল ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু যখন তা ছিনতাই হয় তখন এই মডেলের ফোনের বাজারমূল্য ২০% কমে গেছে। এদিকে ফোনটি ছিনতাই হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই পাওনা পরিশোধের সময় শেষ হয়ে গেছে। ফোনটি হাতছাড়া হওয়ায় আমার বন্ধু বলছে, সে ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করবে না। জানার বিষয় হল, এখন আমি কি আমার বন্ধু থেকে জোরপূর্বক পুরো টাকা ফেরত নিতে পারব?

হেবা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৯০) : আমার আম্মা গত কয়েক মাস আগে মারা গেছেন। মারা যাওয়ার দুই মাস আগে তিনি তার সব জায়গা-সম্পত্তি আমার ছোট ভাইকে হেবা করে গেছেন এবং আমার ছোট ভাই আম্মার মৃত্যুর আগেই সেগুলো আম্মার কাছ থেকে বুঝে নিয়েছে। কিন্তু বিষয়টা আমরা জানতাম না, শুধু আব্বা জানতেন। তাই আম্মার মৃত্যুর পর আমরা জায়গা-সম্পত্তি ভাগ করে নিতে চাইলে আব্বা বাধা দিয়ে বলেন, তোর মা তার জায়গা-সম্পত্তি তোর ছোট ভাইকে হেবা করে গেছে। বিষয়টা আমরা সবাই আব্বার দিকে তাকিয়ে মেনে নিলেও বড় ভাই মানতে পারছেন না। বরং আব্বার সাথে একরকম ঝগড়া করে গ্রামের বাড়িতে আম্মার রেখে যাওয়া একটা জমি দখল করে নেন এবং টিনশেড ঘর বানিয়ে পরিবারসহ তাতে থাকা শুরু করেন। উল্লেখ্য, আমার আম্মা মৃত্যুর আগে কয়েক বছর প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং এ রোগে আক্রান্ত অবস্থায়ই তিনি মারা গেছেন। তবে দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসে আক্রান্ত থাকলেও এ কারণে তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যায়নি। বরং মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় এক অবস্থায় ছিল। তা ছাড়া মৃত্যুর আগে তিনি প্যারালাইসিস ছাড়া ভিন্ন কোনো রোগে আক্রান্ত হননি। এখন মুহতারামের কাছে প্রশ্ন হল, আমার আম্মা তো মৃত্যুর আগে তার ছোট ছেলেকে জায়গা-সম্পত্তি হেবা করার সময় প্যারালাইজড ছিলেন। সুতরাং এ অবস্থায় তিনি যে হেবা করেছেন, তা কি কার্যকর হয়েছে? দয়া করে সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন শর্ত করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২০৫৪) : আমাদের পোল্ট্রি ফিডের ব্যবসা আছে। আমরা বেশির ভাগ খামারিদের কাছে বাকি বিক্রয় করে থাকি। ফলে তারা আমাদের টাকা পরিশোধ করতে দেরি করে। এ কারণে তাদের কাছে বাকি বিক্রয়ের সময় বলে দিই যে, ‘ডিম বা মুরগি সব আমাদের কাছেই বিক্রয় করতে হবে।’ তারা তা মেনে নেয়। এরপর আমরা এ ডিম ও মুরগী নিয়ে বাহিরের পার্টির কাছে বিক্রি করি। এক্ষেত্রে আমাদের একটি সুবিধা হল, সে সময় আমরা আমাদের পাওনা টাকা কেটে নিতে পারি। আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের এই ক্রয়-বিক্রয় শরীয়তের দৃষ্টিতে ঠিক আছে কি না?

ঋণদাতার কাছে কোনো পণ্য বিক্রি করার শর্তে ঋণ প্রদান করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০৫২) : ধান-পাটের সিজনে আমাদের এলাকায় চাষীরা উৎপাদন খরচ যোগান দিতে প্রায়ই হিমশিম খেয়ে যায়। তখন বাজারে যে সমস্ত গুদাম ব্যবসায়ীরা আছে তারা চাষীদেরকে সুদ-মুক্ত ঋণ সুবিধা দেয়। এর পদ্ধতি হলো, চাষী তার ধান-পাট উৎপাদনের খরচ অনুযায়ী ঋণ নিবে; তবে শর্ত হল, ‘উৎপাদিত ধান-পাট সবই তার (উক্ত ব্যবসায়ীর) দোকানে বিক্রি করতে হবে।’ সাধারণত চাষীরা এই শর্ত মেনেই ব্যাপকভাবে এই ঋণ-সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। আমি জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে এই পদ্ধতিতে ঋণ নেওয়া জায়েয আছে কি? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

যৌথ মালিকানাধীন জমির অংশ ওয়াকফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২০৪৯) : আমরা দুই বন্ধু মিলে যৌথ একটি জমি ক্রয় করি। আমার বন্ধু তার অংশ একটি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করতে চেয়েছিল; কিন্তু তা আর করা হয়নি। কিছুদিন পর আমার অংশটুকু উক্ত মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে দিই। কিন্তু জমি এখনো ভাগ করা হয়নি। তখন একজন আলেম শুনে বললেন যে, বণ্টনের পূর্বে আপনার ওয়াকফ করা সহিহ হয়নি। তাই জানতে চাচ্ছি, ঐ আলেমের কথা কি সঠিক? আমি যদি ভাগ করে আমার অংশটুকু মসজিদ কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিই, তা কি যথেষ্ট হবে?

মাদকের টাকা ভোগ করা এবং সেই টাকা দিয়ে গাড়ি ও বাড়ি করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২০৪১) : আমাদের গ্রামে এক লোক মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত। এটাই তার একমাত্র উপার্জনের পথ। তিনি এই উপার্জনের টাকা থেকেই একটি বাড়ি বানিয়েছেন এবং একটি গাড়ি ক্রয় করেছেন। তাই জানতে চাচ্ছি, সেই গাড়ি এবং বাড়ি কি অবৈধ? অবৈধ হলে কি চিরকালের জন্য না সাময়িক? এগুলোকে বৈধ করার কোনো পদ্ধতি আছে কি?

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৩৮) : কিছুদিন আগে একটি অনলাইন শপ অফার দিয়েছিল যে, একমাস পূর্বে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করলে ১৫ হাজার টাকা মূল্যের পণ্যে ২০% ডিসকাউন্ট দেবে। আর সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করলে আরো ৪৪% ডিসকাউন্ট দেবে। তাই আমি ১৫ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল ক্রয় করি। এবং সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৪% ডিসকাউন্টের পর অগ্রিম ৮ হাজার চারশত টাকা পরিশোধ করি। কিন্তু ডেলিভারির দুই দিন পূর্বে তারা জানিয়েছে যে, দুঃখিত, আমরা আপনার মোবাইলটি কিনে দিতে পারলাম না। বাকি আপনি যেন মোবাইলটি কিনে নিতে পারেন এজন্য আমরা আপনাকে মোবাইলের মূল্য ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দিচ্ছি। অবশ্য আপনি চাইলে ১৫ হাজার টাকা মূল্যের অন্য কোনো পণ্যও নিতে পারবেন। আমার জানার বিষয় হল : ক) এখন মোবাইল না নিয়ে মোবাইলের মূল্য ১৫ হাজার টাকা বা ১৫ হাজার টাকা মূল্যের অন্য কোনো পণ্য নেওয়া আমার জন্য বৈধ হবে কি না? খ) যদি পুরো টাকা নেওয়া বৈধ না হয় তাহলে সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করার কারণে যে ২৪% ডিসকাউন্ট পেয়েছি, তা নেওয়া বৈধ হবে কি না? যেহেতু এই ডিসকাউন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করার কারণে আমি পেয়েছি।

যৌথ কারবারে লাভ-লোকসান নির্ধারণের পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২০১০) : আমি ও আমার এক বন্ধু দুজনে মিলে মাছ চাষ করি। মূলধন হিসেবে আমাদের উভয়েরই দুই লক্ষ টাকা করে রয়েছে। এই ব্যবসায় আমার বন্ধুর দক্ষতা বেশি থাকায় তার জন্য ৬০% এবং আমার জন্য ৪০% লভ্যাংশ নির্ধারণ করি। এবং ব্যবসায় লোকসান হলে প্রত্যেকে উক্ত হার অনুযায়ী লোকসান বহন করার চুক্তি করি। আমাদের জানার বিষয় হল, উক্ত কারবারে লাভ-লোকসান উভয় ক্ষেত্রে তার জন্য ৬০% আর আমার জন্য ৪০% নির্ধারণ করা কী শরীয়তসম্মত হয়েছে?

ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১১৮৯৮) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একটি মটরসাইকেল কিনতে আমাদের এলাকার একটি দোকানে যাই। কিন্তু আমার পছন্দের মডেলের মটরসাইকেলটি তাদের স্টকে না থাকায় দোকান মালিক আমাকে বললেন, আপনি আমাকে অগ্রিম মূল্য প্রদান করলে দুই মাস পরে আমি আপনাকে মটরসাইকেলটি এনে দিতে পারব। এক্ষেত্রে আপনাকে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করলেই হবে। কিন্তু দুই মাস পরও দোকানের মালিক ঐ মটরসাইকেলটি আনতে পারেন নি। তাই তিনি বললেন, মটরসাইকেলটি পেতে হলে আরও এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে আপনি চাইলে আমি আপনাকে এর বাজার মুল্য ২ লক্ষ্য টাকা আপনাকে দিয়ে দিব। আমার জানার বিষয় হলো, এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া কি আমার জন্য জায়েয হবে?

সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে কি

প্রশ্ন (১১৭৮৯) : একজন আলেম বললেন, যদি টাকা পয়সা সংরক্ষণের কোন নিরাপদ পথ না থাকে, তাহলে ব্যাংকে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা রাখা জায়েজ আছে। কিন্তু বর্তমানে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ব্যাংকগুলো কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয় না। জানতে চাচ্ছি, সেক্ষেত্রে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে কি?

সাইকেলের হেফাজত না হলে করণীয় কী

প্রশ্ন (১১৭৮৮) : ভুলে এক দোকানে সাইকেল রেখে চলে আসি। দোকানদার সেই সাইকেল নিজের জিম্মায় রেখে দেয়। কিন্তু তার পক্ষ থেকে পূর্ণ হেফাজত পাওয়া যায়নি। সে নিজেই তা স্বীকার করেছে। ফলে উক্ত সাইকেল হারিয়ে যায়। জানতে চাচ্ছি, তার থেকে জরিমানা নেওয়া যাবে কি?