ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী

লাইফ ইন্সুরেন্স কি শরীয়তে নিষিদ্ধ?

প্রশ্ন (১২১৫৫) : আমি একটি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির এজেন্ট। আমি এখানে মানুষকে দিয়ে ডিপিএস করাই। কোম্পানি তা থেকে আমাকে কিছু কমিশন দেয়। আমার জানার বিষয় হল, এখান থেকে যে টাকা পাই তা কি হালাল হবে? আর যদি হালাল না হয়, তাহলে আমি কি এই টাকা মসজিদ-মাদরাসা বা অন্যান্য সেবামূলক কাজে খরচ করতে পারব? আমি কি চাকরিটা চালিয়ে যা পাই তা যদি এইভাবে ব্যয় করি, তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে কি আমি দায়মুক্ত থাকব। আর যাদেরকে দিয়ে ডিপিএস করাই তাদের কাছে কি দায়ী থাকব? কেননা ডিপিএস করার এক বছরের ভিতরে ভাঙলে ডিপিএসকারী কোনো টাকাই পাবে না। এমনকি এক বছর পরে ভাঙলেও ডিপিএসকারীর কিছু লস হয়। যদিও আমি গ্রাহকদেরকে এই বিষয়গুলো জানিয়ে ডিপিএস করিয়ে থাকি। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমার আকুল আবেদন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শরীয়তের দলীল দ্বারা দিলে আমি অনেক উপকৃত হব এবং হারাম থেকে বাঁচতে পারব।

নাবালেগ ছেলে আযান দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২১৫৪) : আমাদের মসজিদে একটি নূরানী মকতব আছে। মাঝে মাঝে মুআযযিন সাহেব না থাকলে মকতবের ছেলেরা আযান দেয়। যাদের বয়স আট থেকে দশ বছর। এসকল নাবালেগ ছেলেরা আযান দিলে কোনো অসুবিধা আছে কি না? জানানোর অনুরোধ রইল।

রোযা রাখার পর সফর অবস্থায় তা ভেঙে ফেলা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৫৩) : গত রমযানে সকালে জরুরি এক কাজে দেশের বাড়ি পাবনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। দুপুর ১টার দিকে গাড়ি সিরাজগঞ্জে হোটেলে বিরতি দেয়। তখন মাথায় চিন্তা আসল যে, আমি তো এখন মুসাফির। আর সফর অবস্থায় তো রোযা না রাখারও অনুমতি রয়েছে। কিছুটা ক্লান্তিও লাগছিল। তাই বিষয়টি চিন্তা করে রোযা ভেঙে ফেললাম। পাবনায় পৌঁছার পর যখন আমার মামাকে উক্ত ঘটনা শোনালাম। তখন তিনি বললেন, রোযা রাখার পর তা ভেঙে ফেলা জায়েয নেই। এখন তোমাকে উক্ত রোযার কাযা-কাফফারা উভয়টিই আদায় করতে হবে। তার এই কথা শোনার পর থেকে আমি বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত। তাই এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আসলে সেই রোযার জরিমানাস্বরূপ এখন আমার করণীয় কী?

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে অর্থ-উপার্জন করা কি বৈধ?

প্রশ্ন (১২১৫২) : বর্তমানে দেখা যায় অনেকে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে অর্থ-উপার্জন করে। আর তা এভাবে যে, কারো ভিডিও এর যদি ভিউআর (Viewer) বেশি হয় তখন ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তার সাথে চুক্তি করে তার ভিডিওগুলোর সাথে বিভিন্ন কোম্পানির এ্যাড যুক্ত করে দেয় এবং এর বিনিময়ে তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেয়। জানার বিষয় হচ্ছে, এভাবে অর্থ-উপার্জন করা বৈধ হবে কি না?

ঋণের টাকা হাতে পাওয়ার পর কি সেগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৫১) : আল্লাহর রহমতে আমি বেশ কিছু সম্পদের মালিক হয়েছি। আমি প্রতি বছর রমযানের শুরুতে এই সম্পদের যাকাত আদায় করি। আমার একজন দ্বীনদার ব্যবসায়ী বন্ধু প্রায় ৩ বছর আগে আমার কাছ থেকে ৩ বছর মেয়াদে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ৩ বছর পর এই রমযানের মাস খানেক আগে তিনি সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এই পাঁচ লক্ষ টাকা তো গত তিন বছর আমার কাছে ছিল না, এখন এই বছর কি আমাকে অন্যান্য সম্পদের সাথে এই টাকারও যাকাত আদায় করতে হবে?

পেনশনের টাকা কি সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকে রাখতে পারব?

প্রশ্ন (১২১৫০) : আমি পেনশন পেয়েছি। টাকাটা উঠানোর পর তা দিয়ে জমি বন্ধক রাখতে পারছি না, আবার গরু কিনে বর্গাও দিতে পারছি না। কারণ, উভয়টাই নাকি নাজায়েয। আমি কি সংরক্ষণের জন্য টাকাটা ব্যাংকে রাখতে পারব? যদি রাখা যায় তাহলে কোন ধরনের হিসাবে রাখা জায়েয হবে? জানালে অনেক উপকার হয়।

খৎনা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২১৪৯) : আমার ছেলের বয়স চার বছর। একদিন রাতে সে ঘুমিয়ে ছিল। ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা সাথে লক্ষ্য করলাম, ঘুমন্ত অবস্থায় কীভাবে যেন তার খৎনা করা হয়ে গেছে। কিন্তু খৎনা করার জন্য যে অতিরিক্ত চামড়াটুকু কেটে ফেলতে হয় তা পুরোপুরি কাটেনি; কিছু অংশ এখনো রয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আমার ছেলের কি খৎনা আদায় হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ঈদের নামাযের পূর্ব মুহূর্তে ওযু ছুটে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৮) : এবার ঈদের সময় ঈদগাহে অনেক মানুষ হয়েছিল। ইমাম সাহেবের বয়ানের পর নামায শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে আমার ওযু ভেঙে যায়। আমি ঈদগাহের মাঝখানে ছিলাম। তো মনে হল যে, এখন যদি ওযু করতে যাই তাহলে নামায হয়তো আর পাব না। তাই আমি নামাযের নিয়ত ছাড়া সবার সাথে এমনি রুকু সিজদা করি। প্রশ্ন হল, আমার এ কাজটি কি ঠিক হয়েছে? এমন অবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?

ভুলবশত কোনো রাকাতে একটি সিজদা ছেড়ে দিলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৭) : একদিন যোহরের আদায় করার সময় প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সিজদাটি ভুলে ছেড়ে দেই। তৃতীয় রাকাতের সিজদা আদায় করার পর স্মরণ হলে সাথে সাথে ভুলে যাওয়া সিজদাটি আদায় করে নিই। প্রশ্ন হচ্ছে, এরপর কি এ ভুলের কারণে আমার উপর সিজদায়ে সাহু করা জরুরি ছিল?

প্রাণীর ছবিযুক্ত জামা গায়ে দিয়ে নামায পড়লে কি নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১৪৬) : শীতকালে আমাদের এলাকায় কোনো কোনো যুবক এমন কাপড় পরিধান করে, যাতে বিভিন্ন প্রাণীর ছবি থাকে। কখনো কখনো এ ধরনের কাপড় নিয়ে তারা নামাযও পড়ে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ কারণে নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি না?

একাকী নামায পড়া অবস্থায় কেউ পিছনে এসে ইকতেদা করলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৫) : একদিন আমি মাদরাসায় একাকী ফযরের নামায পড়ছিলাম। সেখানে দু’জন ছাত্র এসে আমার পিছেনে ইকতেদা করে। আমি একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি যেভাবে নামায পড়ে সেভাবেই নামায শেষ করি। নামায শেষে এদের একজন বলল, আপনার জন্য উচ্চ স্বরে কিরাত পড়া জরুরি ছিল। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে সঠিক নিয়মটা কী? কেউ যদি উঁচু আওয়াজে না পড়ে, তাহলে কি তার নামায হবে?

নামাযের মধ্যে হাই আসলে কি করবে?

প্রশ্ন (১২১৪৪) : নামাযের মধ্যে যদি কারো হাই আসে তাহলে নিজের হাত মুখের উপর রাখা কি যথেষ্ট? নাকি হাই আটকানোরও চেষ্টা করতে হবে? গতকাল জুমআর বয়ানে খতীব সাহেব বললেন যে, হাই আসার পর আটকানো সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি মুখের উপর হাত রাখে তাহলে সেটা মাকরূহ হবে। তার কথাটি কি সহিহ?

ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদের বাহিরে গিয়ে আযান দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৪৩) : আমি মসজিদের মুআযযিন। গত রমযানে মসজিদে ইতিকাফ করেছিলাম। ইতিকাফের সময়ও আমাকে আযান দিতে হত। আযান দেওয়ার স্থানটি মসজিদের একটু বাইরে একটা রুমে। মসজিদ থেকে একটু বের হয়ে সেখানে যেতে হয়। এক ভাই আমার এ অবস্থা দেখে বললেন, আমার মসজিদ থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়ে আযান দেওয়া বৈধ হয়নি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, মসজিদের বাইরে কামরায় গিয়ে আযান দেওয়ার কারণে কি আমার ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে?

কোনো মহিলা কি ইমামতি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২১৪২) : আমার মেয়ে এ বছর হিফয শেষ করেছে। আমরা কয়েকজন মহিলা মিলে নিয়ত করেছি, আমার মেয়ের পেছনে খতম তারাবীহ পড়ব। যাতে ওর হিফ্জ মজবুত হয়ে যায় এবং আমাদেরও খতম হয়ে যায়। কিন্তু আমার এক ভাশুর বলেছেন, মহিলাদের পেছনে তারাবীহ পড়া যায় না। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

ফজরের নামায একাকী আদায় করলে কি কিরাত উচ্চস্বরে পড়া জরুরী?

প্রশ্ন (১২১৪১) : আমাদের বাড়ির সাথেই মসজিদ। আলহামদুলিল্লাহ সর্বদা মসজিদে জামাতের সাথে নামায আদায় করি। কিন্তু একদিন ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে যায়। তাই ফজরের নামাযটি ঘরেই একাকী পড়ি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, একাকী ফজরের নামায পড়লে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া কি জরুরি নাকি আস্তে আস্তে পড়া যাবে?

জুমার নামায় পড়তে না পারলে যোহরের নামায জামাতের সাথে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৩৯) : আমরা কয়েকজন বন্ধু একবার সফরে গিয়েছিলাম। আমরা গাড়িতে থাকায় জুমার নামায জামাতের সাথে পড়তে পারিনি। পরবর্তীতে আমরা গাড়ি থেকে নেমে এক মসজিদের বারান্দায় যোহরের নামায জামাতের সাথে আদায় করি। আমাদের এক সাথী বললেন, এমতাবস্থায় যোহরের নামায একাকী পড়তে হয়। জানার বিষয় হচ্ছে, আমাদের যোহরের নামায পড়া কি সহিহ হয়েছে?

জুমা ও ঈদের খুতবা চলাকালীন মুসল্লীরা দুরুদ শরীফ পড়তে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২১৩৮) : আমাদের দেশে সাধারণত খতীবগণ জুমার দ্বিতীয় খুতবায় কুরআনুল কারীমের আয়াত- اِنَّ اللّٰهَ وَ مَلٰٓىِٕكَتَهٗ یُصَلُّوْنَ عَلَی النَّبِیِّ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَیْهِ وَ سَلِّمُوْا تَسْلِیْمًا তিলাওয়াত করে থাকেন। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আমরা তো জানি, খুতবা চলাকালীন মুসল্লীদের জন্য নীরব থাকা আবশ্যক। কিন্তু খতীব সাহেব যদি খুতবার মধ্যে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন তারপরও তারা নীরবই থাকবেন, না খতীবের ন্যায় দরূদ শরীফ পাঠ করবেন? সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

সিজদার আয়াত টাইপ করলে কি সিজদা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২১৩৭) : আমি দেশের একটি স্বনামধন্য অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে টাইপিস্টের চাকরি করি। মাঝেমাঝে আমাকে টাইপ করতে গিয়ে কুরআন শরীফের অন্যান্য আয়াতের পাশাপাশি সিজদার আয়াতও টাইপ করতে হয়। তাই হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, দেখে দেখে সিজদার আয়াত টাইপ করার কারণে কি আমাকে সিজদা করতে হবে?

কবর যিয়ারতের সময় কোন দিকে ফিরে দুআ করবে?

প্রশ্ন (১২১৩৬) : কবর যিয়ারতের ক্ষেত্রে অনেককে দেখা যায় কবরের দিকে ফিরেই দুআ করেন। আবার অনেক লোককে দেখা যায় কেবলামুখী হয়ে দুআ করেন। আসলে এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কোনটি?