নামাযে অনিচ্ছাকৃত বা ভুলে কথা বললে কি নামায নষ্ট হয়ে যায়?
প্রশ্ন (১২৩৯৫) : কিছুদিন আগে যোহরের সুন্নত আদায়কালে দ্বিতীয় রাকাতে অসতর্কতাবশত ভুলে আমার মুখ থেকে উচ্চস্বরে কিছু কথা বের হয়ে যায়। ভুলে বলে ফেলার কারণে কি আমার নামায নষ্ট হয়ে গিয়েছে?
প্রশ্ন (১২৩৯৫) : কিছুদিন আগে যোহরের সুন্নত আদায়কালে দ্বিতীয় রাকাতে অসতর্কতাবশত ভুলে আমার মুখ থেকে উচ্চস্বরে কিছু কথা বের হয়ে যায়। ভুলে বলে ফেলার কারণে কি আমার নামায নষ্ট হয়ে গিয়েছে?
প্রশ্ন (১২৩৯৪) : আমি একটি বারে চাকরি করি। ডিউটির সময় পরিবেশন করতে গিয়ে মাঝে মাঝে ইউনিফর্মে মদ লেগে যায়। একদিন ইউনিফর্মে কিছু মদ লেগে থাকা অবস্থায় নামাযের জন্য মসজিদে প্রবেশ করছিলাম। মুআযযিন সাহেব সেটা দেখে বললেন, মদ নাপাক, তা কাপড়ে লাগলে নামায হবে না। আমি জানতে চাচ্ছি, মুআযযিন সাহেবের এই কথা কি ঠিক যে, মদ নাপাক? আমার নামায কি সত্যি শুদ্ধ হয়নি? না হলে এখন আমার করণীয় কী?
প্রশ্ন (১২৩৯৩) : এক ব্যক্তি মাগরিবের নামায ওয়াক্তের ভেতর পড়তে পারেনি। এশার সময় এক মসজিদে জামাতের সাথে এশার নামায পড়ে নেয়। তখন তার মাগরিবের নামাযের কথা স্মরণ ছিল। কিন্তু যেহেতু এশার জামাত দাঁড়িয়ে যায় তাই মাগরিবের কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও সে এশার জামাতে শরিক হয়ে যায়। আর অতীতেরও তার কোনো নামায কাযা নেই। এখন ঐ ব্যক্তির করণীয় কী? সে কি এখন মাগরিবের কাযা আদায় করে নেবে? বিস্তারিত জানতে চাই।
প্রশ্ন (১২৩৯২) : সেদিন মসজিদের ইমাম সাহেব থেকে একটি হাদিস শুনেছিলাম, যার অর্থ মোটামুটি এরকম- সন্তান বাবা-মাকে বখীল বানায়। আমি হাদিসটির পূর্ণ পাঠ, হাদিসের কোন কিতাবে হাদিসটি আছে, হাদিসটির মান এবং ব্যাখ্যা জানতে চাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।
প্রশ্ন (১২৩৯১) : আমি একদিন যোহরের নামাযের ইমামতি করছিলাম। প্রথম রাকাতে ভুলে সূরা ফাতিহার ১ম আয়াত উচ্চস্বরে পড়ে ফেলি। খেয়াল হতেই পরক্ষণে ২য় আয়াত থেকে আস্তে পড়া শুরু করি। এক্ষেত্রে কি আমাকে সাহু সিজদা করতে হবে?
প্রশ্ন (১২৩৯০) : যোহরের নামাযের পর সুন্নত পড়ছিলাম। ইতিমধ্যে মসজিদে জানাযার নামায শুরু হয়ে যায়। সুন্নত শেষ করতে করতে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় তাকবীর বলে ফেলেন। সুন্নত শেষ করে দুই তাকবীর বলে ইমামের সাথে শরীক হয়েছি এবং যথারীতি ইমামের সাথে নামায শেষ করেছি। জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায কি শুদ্ধ হয়েছে? অন্যথায় এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কী? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
প্রশ্ন (১২৩৮৯) : নামায আদায় করতে গিয়ে মাঝে মাঝে আমার সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার মত ভুল হয়ে যায়। কখনো এমন ভুল একই নামাযে একাধিক হয়ে থাকে। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে ভুল একাধিক হওয়ার কারণে কি আমাকে সাহু সিজদাও একাধিকবার করতে হবে?
প্রশ্ন (১২৩৮৮) : জনৈক ব্যক্তি তার বড় পুত্রবধুর খেদমতে সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্য নির্দিষ্ট একটা জমির অসিয়ত করেন। তখন সেখানে ঐ ব্যক্তির স্ত্রী ও এক ছেলে উপস্থিত ছিল। বিষয়টি অন্য দুই পুত্রবধু জানতে পারলে তাদের মাঝে কানাঘুষা হয়। একপর্যায়ে তা পারিবারিক ঝগড়ায় রূপ নেয়। এ পরিস্থিতি দেখে বড় পুত্রবধু সবার সামনে তার শ্বশুরকে বলে আমার কোনো জমি লাগবে না। আমি আপনার জমি নিব না। তখন ঐ ব্যক্তি বলেছিল, আমি অসিয়ত করেছি, তুমি পাবে। ঐ ঘটনার পর আর এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। বর্তমানে সে ব্যক্তি বেঁচে নেই। বড় পুত্রবধু যেহেতু শ্বশুরের জীবদ্দশায় তার পক্ষে কৃত অসিয়ত প্রত্যাখ্যান করেছে তাই মৃতের ওয়ারিসরা তাকে ঐ জমি দিতে চাচ্ছে না। কিন্তু সে এখন জমিটি নিতে খুবই আগ্রহী। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত পরিস্থিতিতে ঐ ব্যক্তির কৃত অসিয়ত বহাল আছে কি না? এবং উক্ত পুত্রবধু কি অসিয়তসূত্রে ঐ জমি দাবি করতে পারবে?
প্রশ্ন (১২৩৮৭) : আমার পিতা তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছিলেন এবং আমাদেরকে মৃত্যুর সময় ওসিয়ত করেছিলেন যে, আমরা যেন এক বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে তার থেকে ঋণ উসুল না করি। এক বছর পর ধীরে ধীরে উসুল করি। আমাদের জানা ছিল যে, ঋণ পরিশোধের সময় নির্ধারণ করার পরও নির্ধারিত সময়ের আগে টাকা উসুলের দাবি করা যায়। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমরা যে কোনো সময় ঋণ উসুলের দাবি করতে পারব, নাকি পিতার ওসিয়ত অনুযায়ী এক বছর পরই ধীরে ধীরে উসুল করতে হবে? মাসআলাটির সমাধান জানালে খুবই উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১২৩৮৬) : আমাদের মসজিদে প্রতি শুক্রবার ফজরের নামাযে ইমাম সাহেব সূরা আলিফ-লাম-মিম সাজদা তিলাওয়াত করেন। গত শুক্রবার ফজরের নামায শুরু হলে আমি মসজিদের এক কোণে সুন্নত পড়ছিলাম। এ সময় ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা করেন। আমি শরীক হতে পারিনি। এরপর আমার সুন্নত পড়া শেষ হলে উক্ত রাকাতে রুকুর আগে আমি ইমামের সাথে শরীক হই। জানার বিষয় হল, আমার কি পরবর্তিতে তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে হবে?
প্রশ্ন (১২৩৮৫) : মসজিদের চত্বরে বসে নামাযের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ কবুতরের বিষ্ঠা জামায় এসে পড়ে। পরে টিস্যুপেপার দিয়ে মুছে নামায পড়েছি। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত কাপড় পরে নামায সহিহ হয়েছে, নাকি ওই নামায পুনরায় পড়তে হবে?
প্রশ্ন (১২৩৮৪) : মসজিদে যাওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে হাত ছিলে যায়। এ অবস্থায়ই নামাযে শরীক হয়ে যাই। নামায শুরু করার সময় হাতের ছিলা জায়গাটা সাদা হয়ে ছিল। যখন নামায শেষ করি তখন দেখি রক্তে চামড়াটা লাল হয়ে আছে। এখন জানার বিষয় হল, আমার এই নামায কি সহিহ হয়েছে?
প্রশ্ন (১২৩৮৩) : আমাদের প্রেসে বিভিন্ন ধরনের বইপত্র ছাপানো হয়। এর মধ্যে ইসলামী কিতাবাদিও রয়েছে। (যেমন তাফসীর, হাদীসগ্রন্থ, দ্বীনী বিষয়ে বিভিন্ন কিতাবাদি)। গ্রাহকবৃন্দ আমাদেরকে যে ছাপার কাজগুলো দেন এর মধ্যে যেমন দুনিয়াবী বইপত্র থাকে তেমনি ইসলামী কিতাবাদিও থাকে। ছাপানোর সময় বিভিন্ন কারণে (যেমন মেশিনে সমস্যা হলে বা কাটিং যন্ত্র ঠিক মতো কাজ না করলে) উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাগজ উদ্বৃত্ত হয়। গ্রাহকদেরকে তাদের অর্ডার দেওয়া বইপত্র বা কিতাবাদি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় সেই উদ্বৃত্ত কাগজগুলো দিয়ে আমরা বইগুলো বেঁধে দিই। যাতে বাঁধাইয়ের উপর দড়ির দাগ না পড়ে। এরপরও যেসব কাগজ অবশিষ্ট থাকে সেগুলো ভাঙ্গারির কাছে বিক্রি করে দিই। তারা সাধারণত ঠোঙা বানানোর কাজে এগুলো ব্যবহার করে থাকে। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, এ কাগজগুলো এসব কাজে ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা আছে? অনুরূপভাবে এগুলো বিক্রি করা কি বৈধ হবে?
প্রশ্ন (১২৩৮২) : যারা মসজিদ-মাদরাসার খেদমতে নিয়োজিত আছেন, তারা যদি বেতনের পাশে বছরের দুই ঈদে বোনাস গ্রহণ করেন তাহলে সেটা কি বৈধ হবে?
প্রশ্ন (১২৩৮১) : আজকাল বড় বড় হোটেলে বয়দেরকে বখশিশের নামে টাকা দেওয়ার প্রচলন আছে। এটা না দিলে কেমন যেন খারাপ লাগে। অবশ্য না দিলেও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এখন জানার বিষয় হল, উক্ত টাকা ঘুষের অন্তভুর্ক্ত হবে কি না?
প্রশ্ন (১২৩৮০) : রমযান মাসে একদিন বিতির নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হই। ফলে দুআ কুনূত পড়ার আর সুযোগ হয়নি। এমতাবস্থায় ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার সময় শেষ রাকাতে আমার কী করণীয়? আমি কি দুআ কুনূত পড়ব, না পড়ব না? কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছি। একেকজন একেকরকম বলেছে। ফলে বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।
প্রশ্ন (১২৩৭৯) : আমাদের ৫ সন্তান। তন্মধ্যে দুইজন ছোট। তাদের নার্সিং করতে গিয়ে আমার স্ত্রী প্রায়ই কুরআনের তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, নফল নামায ইত্যাদি ইবাদত করতে পারে না। এই বিষয়ে তার খুব মন খারাপ থাকে। আমি তাকে বলেছি, তুমি সন্তানাদি নার্সিং করার কারণে নফল ইবাদতের সওয়াব পাবে। এ ব্যাপারে আমার স্ত্রীর সান্ত্বনার জন্য কুরআন-হাদিসের আলোকে কিছু উপদেশ দিলে উপকৃত হবো।
প্রশ্ন (১২৩৭৮) : আমাদের এলাকায় কৃষকরা সেলোমেশিনের মালিকদের সাথে এই মর্মে চুক্তি করে যে, তারা পুরো সিজনে মেশিন দিয়ে কৃষকদের জমিতে পানি দেবে। এর বিনিময়ে কৃষকরা তাদেরকে বিঘা প্রতি পাঁচ হাজার টাকা দেবে। আবার কখনো কখনো কৃষকরা ঘণ্টা হিসাবে তাদের থেকে পানি ক্রয় করে। যেমন এক ঘণ্টা পানি নিলে ৫০ টাকা। দুই ঘণ্টা নিলে ১০০ টাকা। আমি জানতে চাচ্ছি , শরীয়তের আলোকে এ ধরনের লেনদেন বৈধ কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৩৭৭) : কুরবানীতে আমরা অনেক সময় গরু জবাই করার আগে অথবা গরু জবাই করার পর চামড়া ছাড়ানোর পূর্বেই চামড়া বিক্রি করে দিই। জানার বিষয় হল, এভাবে চামড়া বিক্রি করা শুদ্ধ কি না? জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।
প্রশ্ন (১২৩৭৬) : আমার বাবা-মা দুজনেই ইন্তিকাল করেছেন। একজন মেয়ে হিসাবে আমি নানীর অধীনে থাকি। আমার খাবার-দাবারসহ আনুষঙ্গিক সকল খরচ তিনিই বহন করেন। আমার জানামতে তার উপার্জনের একটা অংশ হারাম। তবে তা অর্ধেকের কম। আমি ব্যক্তিগতভাবে হালাল-হারাম মেনে চলার চেষ্টা করি। তাই হারাম উপার্জন পরিহার করার ব্যাপারে নানীকে অনেক বুঝিয়েছি। প্রতিউত্তরে তার বক্তব্য হল, গুনাহ হলে আমার হবে, তুমি এ ব্যাপারে দায়মুক্ত। এ অবস্থায় কি আমার জন্য তার পরিবারে খাওয়া ও তার থেকে ভরণ-পোষণ গ্রহণ করা জায়েয হবে? উল্লেখ্য, বর্তমানে আমার বয়স ১৮ বছর। নিজ খরচ চালানোর মত এ ছাড়া আমার অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।